২০২৬-এর নির্বাচন-পরবর্তী হিংসা মামলায়: পুলিশ কে বাস্তুচ্যুতদের নিরাপদে ফেরানোর নির্দেশ হাইকোর্টের

নিজস্ব প্রতিনিধি: ২০২৬ এর বিধানসভা  নির্বাচন-পরবর্তী হিংসার অভিযোগে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট রাজ্য পুলিশকে অন্তর্বর্তী নির্দেশে জানিয়েছে, রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে যারা দোকান, বাড়ি বা সম্পত্তি থেকে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে অভিযোগ, তাদের নিরাপদে ফেরানোর ব্যবস্থা করতে হবে।প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশে জানিয়েছে, "নির্বাচন-পরবর্তী হিংসার কারণে কোনো নাগরিককে যদি তাঁর দলীয় পরিচয় নির্বিশেষে বেআইনিভাবে দোকান,বাড়ি,সম্পত্তি ইত্যাদি থেকে বের করে দেওয়া হয়, তবে পুলিশকে নিশ্চিত করতে হবে যাতে তিনি নিরাপদে তাঁর দোকান,বাড়ি,সম্পত্তিতে ফিরতে পারেন।"পুলিশকে আগামী ৩ সপ্তাহের মধ্যে এই অভিযোগের উত্তর দিতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। তার প্রতিলিপি মামলাকারীদেরও দিতে হবে। আদালতের আসা, নাগরিক সুরক্ষায় পুলিশ নিরপেক্ষ পদক্ষেপ করবে। তবে মামলাটি বৃহত্তর বেঞ্চে যাবে কিনা সেটা পরে বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ।পুলিশের উপরই আস্থা রাখল কলকাতা হাইকোর্ট।
ভাটপাড়া পৌরসভায় শ্রমিক বিক্ষোভে উপস্থিত অর্জুন সিং
প্রবীর রায়: বিজেপি নেতা তথা বিধায়ক অর্জুন সিং ভাটপাড়া পৌরসভায় উপস্থিত হয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন। তিনি বলেন, “২০১৯ সালের পর এই প্রথম ভাটপাড়া পৌরসভায় এলাম। এই পৌরসভায় উন্নয়নের কাজ আটকে গেছে, শ্রমিকদের বেতন হচ্ছে না। কেন্দ্রীয় সরকারের যেসব প্রকল্প রয়েছে, সেগুলির সুবিধাও দেওয়া হচ্ছে না। ফলে উন্নয়নের কাজ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।”পৌরসভার দুর্নীতি নিয়ে কড়া সুরে অর্জুন সিং জানান, পৌরসভাকে থানায় অভিযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তিনি বলেন, “পৌরসভায় যে দুর্নীতি হয়েছে, তার বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর করা হবে।”চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। এই প্রসঙ্গে অর্জুন সিংয়ের মন্তব্য, “আমরা কিছু করব না। কিন্তু রাস্তায় সাধারণ মানুষ যদি কিছু বলে বা করে, তার দায়িত্ব আমরা নিতে পারি না। এতোদিন মানুষের টাকা লুট হয়েছে, মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে রয়েছে।”
যদিও ভাটপাড়া পুরসভার উপ-পৌরপ্রধান ও তৃণমূল নেতা দেবজ্যোতি ঘোষও একই সুরে বলেন ,"এর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা দরকার এবং তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।"
রাজ্যের উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফল প্রকাশ,প্রথম ১০ এ ৬৪ জন

নিজস্ব প্রতিনিধি: আজ রাজ্যে প্রকাশিত হয়েছে উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফল। সকাল সাড়ে ১০টায় সাংবাদিক বৈঠক করে ফলপ্রকাশ করলেন উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ সভাপতি পার্থ কর্মকার। এবারে পরীক্ষার ৭৬ দিনের মাথায় ফলপ্রকাশ করা হল। চলতি বছর পাশের হার ৯১.২৩। সবথেকে বেশি পাশের হার পূর্ব মেদিনীপুর জেলায়। প্রথম ১০ জনের মেধাতালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন ৬৪ জন। তাঁদের মধ্যে ছাত্র হলেন ৫৬ জন ও ছাত্রী ৮ জন। দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকেই মেধাতালিকায় রয়েছেন ১৯ জন। পুরুলিয়া থেকে ১৭ জন। উচ্চ মাধ্যমিকে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন আদৃত পাল। নরেন্দ্রনপুর রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র। প্রাপ্ত নম্বব ৪৯৬। সফল পরীক্ষার্থী আদৃত পাল কে মুখ্যমন্ত্রী টেলিফোনে শুভেচ্ছা জানান। উত্তর ২৪ পরগনা জেলা প্রসাশন মুখ্যমন্ত্রীর তরফে তার হাতে সম্বর্ধনা তুলে দেয়। আদৃতের বাড়ি বরানগরে। ছবি সৌজন্যে: তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগ উত্তর ২৪ পরগনা।
ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনার মামলার শুনানি শেষে রায়দান স্থগিত ,হাইকোর্টে সওয়ালে মমতা
নিজস্ব প্রতিনিধি: ২০২৬ এর বিধানসভা ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনাক্রম ও কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকায় হকার উচ্ছেদ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে এবার সওয়াল করতে আদালতে হাজির হন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের এজলাসে তার সঙ্গ দিলেন সাংসদ আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আদালতে মমতা বিরোধীদের সামাল দিতে হিমশিম খেল পুলিশ। এজলাসে শুনানির মাঝে আইনজীবীদের একাংশ নাটক নাটক বলে সোরগোল ফেলে দেয়। মাত্র ঘণ্টা খানেক থেকে মমতা বেরিয়ে যাওয়ার সময় তাকে ঘিরে জয় শ্রী রাম ও চোর চোর স্লোগান ওঠে। শুনানির অন্যতম ম্যামলাকারীদের হয়ে আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকায় হকারদের অস্থায়ী দোকান বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এদের আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হোক। এরপরই কল্যাণ বলেন, খেজুরি, ডোমজুর সহ একাধিক জায়গায় পার্টি অফিস, দোকান ভেঙে দেওয়া হয়েছে। ১০ জন তৃণমূল কর্মী খুন হয়েছে। হুগলির গোঘাট এলাকাতেও তৃণমূল কর্মীদের খুন করা হয়েছে বলেন কল্যাণ। কল্যাণের দাবি,১৫০-১৬০ পার্টি অফিসে আগুন লাগানো হয়েছে। গোটা রাজ্য জুড়ে ভাঙচুর চালানো হচ্ছে। মহিলাদের সম্মানহানি করা হচ্ছে।বুলডোজার দিয়ে বাড়ি ভাঙ্গা হচ্ছে। এভাবে বাড়ি ভাঙ্গা সম্পূর্ণ বেআইনি। হগ মার্কেট নিয়ে কল্যাণ বলেন, ৪০০ বছরের পুরানো. বর্তমানে শাসক দলের দুষ্কৃতীরা গিয়ে ভেঙে দিয়েছে।অবিলম্বে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হোক। তার যুক্তি, রাজ্যের কোথাও যেন আদালতের নির্দেশ ছাড়া বুলডোজার চালানো না হয়। আমরা পশ্চিমবঙ্গে আছি, উত্তরপ্রদেশে নেই। এর মাঝেই মমতা সওয়াল করতে অনুমতি চান। এখানে নাটক করবেন না বলে মমতাকে উদ্দেশ্য করে মন্তব্য করেন জনৈক আইনজীবী। মমতা বলেন, আমি ১৯৮৫ সাল থেকে আইনজীবী। এবং সেই হিসাবেই আমি সওয়াল করতে চাই। ৯২ বছরের বৃদ্ধ, ১৮ বছরের দম্পতিকেও বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে। তপশিলি জাতি, সংখ্যালঘুদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমাকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পুলিশের কাছে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। অনলাইনে অভিযোগ জানাতে হচ্ছে। ১২ বছরের কিশোরীকে ধর্ষনের হুমকি দেয়া হচ্ছে। মাছ - মাংসের দোকান বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এরপরই ডিভিশন বেঞ্চের উদ্দেশ্যে মমতা বলেন, বাংলার মানুষকে বাঁচান। এটা বাংলা, উত্তরপ্রদেশ নয়। এটা বুলডোজার রাজ্য নয়। পাল্টা পুলিশের আইনজীবী ধীরাজ ত্রিবেদি বলেন, এই মামলাটি পুরানো ভোট পরবর্তী সন্ত্রাসের মামলার সঙ্গে যুক্ত করে বৃহত্তর বেঞ্চে পাঠিয়ে দেওয়া হোক। কোথায় কোথায় অশান্তি হয়েছে সেগুলি নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। পুলিশ জানায়, ২০০০ টি গন্ডগোলের কথা বলা হচ্ছে। পুলিশ কাজ করছে, কেউ অপরাধ করে থাকলে পুলিশ নিশ্চই ব্যবস্থা নেবে এবং নিচ্ছে। যেখানে যা গন্ডগোল হচ্ছে তার সবটাই ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস নয়। আমরা তদন্ত করে দেখছি। হগ মার্কেটের ঘটনায় যুক্তদের মধ্যে ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সরকার ওই অস্থায়ী কাঠামো ভাঙেনি বলেন পুলিশের আইনজীবী। পাল্টা কল্যাণ বলেন, সব তথ্য দেওয়া আছে, পুলিশ কি ঘুমাচ্ছে। এরপরই শুনানি শেষে রায়দান স্থগিত রাখে ডিভিশন বেঞ্চ।দয়া করে রাজ্যের মানুষকে নিরাপত্তা দিন।ফের মমতা এরপর প্রধান বিচারপতিকে হাতজোড় করে অনুরোধ করেন একটু দেখুন।এদিন সকাল ১০.৩০টার কিছু আগে হঠাৎ কলকাতা হাইকোর্ট চত্বরে পৌঁছে যান রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি আইনজীবীদের মতো কালো শামলা পরে হাইকোর্টে চত্বরে উপস্থিত হন। বৃহস্পতিবার ভোট-পরবর্তী অশান্তির একটি মামলার শুনানি ছিল প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চে এর এজলাসে। সেখানে সওয়াল করেন তিনি। তার যুক্তি ১৯৮৫ সালে তার নাম আইনজীবী হিসাবে নথিভুক্ত হয়েছে। তিনি সদস্য পদ নবিকরণ করিয়ে আসছেন।

এর আগে রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন সংক্রান্ত মামলার শুনানির জন্য সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলেন মমতা। শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের এজলাসে গিয়ে সওয়াল করেছিলেন তৃণমূলনেত্রী। এ বার ভোটের পরে অশান্তির অভিযোগ নিয়ে দায়ের হওয়া মামলায় সওয়াল করার জন্য হাইকোর্টে হাজির হলেন তিনি।

তবে এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এজলাসে থেকে বের হওয়ার সময় হাইকোর্ট চত্বরে অদ্ভুত পরিস্থিতি তৈরি হয়। আইনজীবী সহ প্রচুর মানুষ তাঁকে দেখে চোর চোর শ্লোগান দিতে থাকে। তাকে ওখান থেকে বের করে নিয়ে যেতে নিরাপত্তা রক্ষীদের হিমসিম খেতে হয়।
ভবানীপুর বাসীকে শুভেচ্ছা জানালেন শুভেন্দু অধিকারী
বুধবার কলকাতার ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে বিধানসভায় শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। এদিন সন্ধ্যায় একটি হুড খোলা জিপে ভবানীপুর বাসীকে শুভেচ্ছা জানালেন শুভেন্দু অধিকারী।
চোখের জল, সান্ত্বনা আর গর্ব: ভারতের মহিলা ইয়ং টাইগ্রেসদের ঐতিহাসিক U17 এশিয়ান কাপের যাত্রা শেষ
*খেলা*
*স্পোর্টস ডেস্ক:* শেষ বাঁশি বাজার পর চিনের সুজৌ স্পোর্টস সেন্টার স্টেডিয়ামের একটি ডাগআউটে চোখের জল বাঁধ মানেনি। হতাশায় মাঠেই বসে পড়েন বেশ কয়েকজন ভারতীয় খেলোয়াড়, কেউ কেউ নিথর হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন।আর কোচ ও সতীর্থরা একে অপরকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। ইয়ং টাইগ্রেসরা ঐতিহাসিক ফিফা U17 মহিলা বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জনের মাত্র এক ম্যাচ দূরে এসে থেমে গেল।আর সেই স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার যন্ত্রণা সোমবার আয়োজক দেশ চিনের কাছে ০-৩ গোলে কোয়ার্টার ফাইনালে হারের পর প্রতিটি মুখে স্পষ্ট ছিল।ম্যাচে হারের পর ব ভারতের সেন্টার-ব্যাক অভিষ্ঠা বসনেট বলেন,“আমার পক্ষে কথা বলা কঠিন, কারণ আমরা এই ফল আশা করিনি।আমরা অন্য মানসিকতা নিয়ে ম্যাচে নেমেছিলাম, কিন্তু ফুটবল মাঝে মাঝে এমনই হয়। তবুও, গোটা টুর্নামেন্টে আমরা যেভাবে খেলেছি এবং দল হিসেবে যে ঐক্য দেখিয়েছি, তাতে আমি খুশি ও গর্বিত। এটা দুঃখের যে আমরা আমাদের স্বপ্ন থেকে মাত্র এক ধাপ দূরে ছিলাম, কিন্তু আমি সত্যিই এই দলের জন্য গর্বিত।”

ভারতের এএফসি U17 মহিলা এশিয়ান কাপ চিন ২০২৬-এর অভিযান শেষ পর্যন্ত কোয়ার্টার ফাইনালেই থেমে গেল। তবে এটি টুর্নামেন্টে দেশের সর্বকালের সেরা পারফরম্যান্স। ইয়ং টাইগ্রেসরাই প্রথম ভারতীয় দল যারা U17 মহিলা পর্যায়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল।

হেড কোচ পামেলা কন্টির কাছে, চিন ম্যাচের পর হতাশা শুধু ফলাফলের জন্য নয়, যেভাবে গোলগুলি হজম করতে হয়েছে তার জন্যও।“এটা এমন একটা ম্যাচ ছিল যেখানে চিন আমাদের চেয়ে এগিয়ে ছিল। তাদের শক্তি বেশি ছিল এবং তারা জয়ের যোগ্য,” বললেন কন্টি। “কিন্তু যেটা সত্যিই আমাকে হতাশ করেছে তা হল আমরা ৪৫ মিনিটে এবং আবার ৯০ মিনিটে গোল খেয়েছি, যখন আমি খেলোয়াড়দের মনে করিয়ে দিয়েছিলাম প্রতিটি অর্ধের শেষ মিনিটগুলোয় মনোযোগ ধরে রাখতে, কারণ এই বয়সে তখনই মনোযোগ সবচেয়ে বেশি কমে যায়। এটাই আমাকে হতাশ করেছে।”

চিন ৩৮ মিনিটে এগিয়ে যায়, এরপর প্রথমার্ধের স্টপেজ টাইমে পেনাল্টি থেকে আরও একটি গোল করে। বিরতির পর ভারত লড়াই চালিয়ে গেলেও নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে আরও একটি গোল হজম করে।

হারের পরও, গোটা টুর্নামেন্ট নিয়ে প্রচণ্ড গর্বিত কন্টি, বিশেষ করে ভারত যে মানের প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হয়েছে তা বিবেচনা করে। ইয়ং টাইগ্রেসরা গ্রুপ পর্বে অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের মুখোমুখি হয়েছিল, যারা দুজনেই সেমিফাইনালে উঠে বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন করেছে।

“আমার মনে হয় এই খেলোয়াড়দের নিয়ে আমাদের গর্বিত হওয়া উচিত। ব্যক্তিগতভাবে, আমরা যে টুর্নামেন্ট খেলেছি তা নিয়ে আমি খুব গর্বিত। আমরা চার সেমিফাইনালিস্টের মধ্যে তিনজনের বিরুদ্ধে খেলেছি, চিন সহ, তাদেরই মাঠে। তবুও, এই মেয়েদের আমি হৃদয়ে রাখব কারণ তারা এই টুর্নামেন্টে আমাকে সত্যিই একটা সুন্দর অভিজ্ঞতা দিয়েছে।”

২১ বছর পর ভারত এএফসি U17 মহিলা এশিয়ান কাপে ফিরে এসে গ্রুপের শেষ ম্যাচে লেবাননের বিরুদ্ধে ৪-০ গোলে দুর্দান্ত জয় পেয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়েছিল। সেই ফলাফল তাদের ফিফা বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জনকারী প্রথম ভারতীয় মহিলা দল হওয়া থেকে মাত্র এক জয় দূরে রেখেছিল।

অভিষ্ঠা মনে করেন, এমন পর্যায়ে পৌঁছে হতাশ হওয়াটাও দেখায় যে দলটি অভিযানে কতদূর এগিয়েছে।

“হ্যাঁ, এটা একটা বিশাল অর্জন,” ১৫ বছর বয়সী এই খেলোয়াড় বললেন। “এত বছর পর, আমরাই প্রথম ব্যাচ যারা এশিয়ান কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছি। যেমনটা বললাম, আমি এই দলের জন্য খুব, খুব গর্বিত। আমরা দীর্ঘ সময় ধরে একসঙ্গে কাজ করেছি, এবং আমাদের বন্ধন একটা পরিবারের মতো হয়ে গেছে। এখন আমরা আমাদের পরবর্তী যাত্রার দিকে তাকিয়ে আছি এবং আরও ভালো পারফর্ম করতে চাই।”

জানুয়ারিতে দলের দায়িত্ব নেওয়া কন্টি জোর দিয়ে বলেছেন, টুর্নামেন্টটি খেলোয়াড়দের এশিয়ার সেরাদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে কী লাগে তা বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

“ম্যাচের পর ড্রেসিং রুমে আমি ওদের বলেছি যে এখন তারা এশিয়ার মান জানে এবং এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে কী লাগে। তাদের খুব কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যেতে হবে কারণ কঠোর পরিশ্রম ছাড়া সাফল্যের আর কোনো পথ নেই।”
রাতের অন্ধকারে বিজেপি কর্মীর বাড়িতে ভাঙচুর,

নিজস্ব সংবাদদাতা, বসিরহাট: রাতের অন্ধকারে বসিরহাটের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের শংকর সেন নামে এক বিজেপি কর্মীর বাড়িতে ভাঙচুর চালায় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ছড়িয়েছে ব্যাপক উত্তেজনা ‌‌। গভীর রাতে ওই বিজেপি কর্মীর বাড়িতে আগ্নেয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় একদল তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা। বাড়ির তালা ও দরজা ভেঙে বাড়ির ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করে তারা। বাড়িতে ঢুকতে না পেরে ঘরের ছাউনি ভেঙে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করে। রাতে বসিরহাট থানার পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ গিয়ে ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করে। অবিলম্বে এই সমস্ত তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক বলে দাবি করেছেন বিজেপির কর্মী। এখনো পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ দায়ের না করা হলেও মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে।
*খেলা* *আই এস এল*


*বর্ণহীন ফুটবল* *ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে গোললেস ড্র মোহনবাগানের* ছবি: সঞ্জয় হাজরা
এক বছর সোনা না কেনার বার্তা প্রধানমন্ত্রীর ক্ষতির আশঙ্কায় বসিরহাটের স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা

বসিরহাট : জাতীর স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আগামী এক বছর সোনা কেনায় দেশবাসীকে লাগাম টানার অনুরোধ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যে স্বর্ণ ব্যবসায়ী মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের স্বর্ণ ব্যবসায়ীরাদের কাছ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া উঠে এসেছে এই প্রসঙ্গে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে সমর্থন জানালেও স্বর্ণ ব্যবসায় কিছুটা হলেও ধাক্কা লাগবে বলেই আশঙ্কা করছেন অনেকে। স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের দাবি, সোনার দাম আকাশছোঁয়া হতেই সাধারণ মানুষের হলুদ ধাতু কেনার প্রবণতা এমনিতেই কমেছে। মানুষ গচ্ছিত সোনা ভেঙে নতুন মডেলের গয়না গড়তে শুরু করেছেন। এবার সেই প্রবণতা আরও বাড়বে। তবে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে স্বর্ণশিল্পীরা চরম আতঙ্কিত হয়েপড়ছেন। শিল্পীদের দাবি, সোনার দাম বাড়ায় কাজের অভাবে তাদের রুজিরোজগারে টান পড়েছে। এবার সমস্যা আরও জটিলতার দিকেই গড়াচ্ছে।
ডলারের মাধ্যমে ভারতকে বিদেশ থেকে সোনা আমদানি করতে হয়। যার জেরে বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে অবিশ্বাস্য হারে সোনার দাম বেড়ে যাওয়ায় হলুদ ধাতুর আমদানিতে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রার অপচয় হচ্ছে দাবি করে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় স্বার্থে দেশবাসীর সোনা কেনায় রাশ টানতে বলেছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য স্বর্ণ ব্যবসায়ী মহলে তোলপাড় ফেলেছে। ব্যবসায়ীরা দেশের স্বার্থে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য মানতে বাধ্য হলেও অনেকেই আবার স্বর্ণ ব্যবসায় জোর ধাক্কার
আশঙ্কা করছেন। কারও কারও দাবি, সোনার বাজার যে উচ্চতায় উঠেছে সাধারণ মানুষ বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া এই হলুদ ধাতু থেকে মুখ ফিরিয়েছেন। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যবসায় তেমন প্রভাব পড়বে না।
বাদুড়িয়ার এক স্বর্ণ ব‍্যবসায়ী স্নেহাশীষ বন্দ‍্যোপাধ‍্যায় বলেন, "দেশের ভবিষ্যতের ভালোর জন্যই প্রধানমন্ত্রী একেবারে কিনতে নিষেধ না করে কম সোনা কিনতে বলেছেন। সোনার দাম বাড়ায় মানুষের মধ্যে গচ্ছিত সোনা ভেঙে নতুন গয়না তৈরির প্রবণতা বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানের পর এই প্রবণতা আরও বাড়বে বলেই আমার ধারনা। সব ব্যবসায়ী সহমত হবেন বলেই মনে করছি।" টাকির জুয়েলারি দোকানের মালিক প্রকাশ রায়চৌধুরী বলেন, "দেশের স্বার্থে সমর্থন করছি কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তকে। তবে একজন ব্যবসায়ী হিসাবে এটা স্বর্ণ ব্যবসার ক্ষেত্রে মঙ্গলজনক বলে মনে করছি না।" সন্দেশখালি থেকে বাবার সঙ্গে নিজের বিয়ের জন‍্য বসিরহাটে গয়না কিনতে এসেছিলেন অনিন্দিতা আগুয়ান। তিনি বলেন, "সার্বিক স্বার্থে বিয়ের জন্য ন্যূনতম যেটুকু প্রয়োজন তার বেশি সোনা কিনবো না। পুরাতন সোনা দিয়েই কাজ চালিয়ে নেব।" তবে প্রধানমন্ত্রীর এহেন বক্তব্যে শিল্পীরা কাজ হারানোর আতঙ্কে ভুগতে শুরু করেছেন। স্বর্ণশিল্পী বৈদ‍্যনাথ মিশ্র বলেন, "সোনার দাম বাড়ায় এমনিতে কাজ কমেছে। এখন মানুষ সোনা কিনতে হাত গুটিয়ে নিলে আমাদের রুজিরোজগারে টান পড়বে। কাজ হারানোর সম্ভাবনা বাড়বে।"
সেতুবন্ধনেই বদলাবে সন্দেশখালি, জয়ের পর উন্নয়নের রূপরেখা দিলেন বিধায়ক
বসিরহাট : উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালির মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই যোগাযোগ ব্যবস্থা, নদীপথ নির্ভর যাতায়াত এবং উন্নয়নের অভাব নিয়ে সমস্যার মুখোমুখি। এবার সেই সমস্যার সমাধানকে সামনে রেখেই কাজ শুরু করার বার্তা দিলেন সদ্য নির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক সনৎ সরদার। জয়ের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, সন্দেশখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপাঞ্চলগুলিকে সংযুক্ত করাই হবে তার প্রধান লক্ষ্য।
তিনি বলেন, "এই জয় শুধুমাত্র তার ব্যক্তিগত জয় নয়, বরং সন্দেশখালীর বিজেপি কর্মী-সমর্থক এবং সাধারণ মানুষের জয়।" ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই এলাকাবাসীর মধ্যে উন্নয়ন নিয়ে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তবে সেই প্রত্যাশাকে বাস্তবতার মাটিতেই রাখতে চান নবনির্বাচিত বিধায়ক। তাই শুরুতেই তিনি জানিয়ে দেন, মানুষের কাছে কোনও অবাস্তব বা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিতে চান না। তার কথায়, “আমি যদি বলি সমস্ত কাজ এক্ষুনি হয়ে যাবে, সেটা সম্ভব নয়। ধীরে ধীরে কাজ করতে হবে। মানুষের পাশে থেকে তাদের সমস্যার সমাধান করাই আমার লক্ষ্য।”
সন্দেশখালি মূলত নদীবেষ্টিত এলাকা হওয়ায় এখানকার মানুষের জীবনযাত্রা এখনও অনেকাংশে নৌপথের উপর নির্ভরশীল। বর্ষাকালে কিংবা দুর্যোগের সময় সেই দুর্ভোগ আরও চরম আকার নেয়। বহু জায়গায় পর্যাপ্ত সেতু না থাকায় ছাত্রছাত্রী, রোগী, শ্রমজীবী মানুষদের প্রতিদিনই সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। সেই বাস্তব পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই সনৎ সরদার সেতুবন্ধন প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছেন। তিনি জানান, নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে তিনি বিশেষ আবেদন জানাবেন যাতে সন্দেশখালীর বিভিন্ন প্রান্তকে সেতুর মাধ্যমে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তার মতে, সেতুবন্ধন সম্পূর্ণ হলে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হবে না, বদলে যাবে গোটা এলাকার আর্থ-সামাজিক চিত্রও। নদী পেরিয়ে যাতায়াতের ঝুঁকি কমবে, ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ হবে এবং জরুরি পরিষেবাও দ্রুত পৌঁছানো সম্ভব হবে।
প্রথম পর্যায়ে তিনি সন্দেশখালি ১নং ব্লকের ন‍্যাজাট-কালিনগর এবং সন্দেশখালি ২নং ব্লকের রামপুর-জেলিয়াখালি অঞ্চলের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ দুটি সেতু নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানান। তার দাবি, এই দুটি সেতু তৈরি হলে বহু মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত সহজ হবে এবং এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও গতি পাবে। এরপর ধাপে ধাপে সন্দেশখালীর অন্যান্য দ্বীপাঞ্চলগুলিকেও মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করা হবে বলে তিনি জানান।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সন্দেশখালীর মতো ভৌগোলিকভাবে দুর্গম এলাকায় উন্নয়নের মূল চাবিকাঠিই হল যোগাযোগ ব্যবস্থা। দীর্ঘদিন ধরেই এলাকাবাসীর দাবি ছিল স্থায়ী সেতু নির্মাণ ও আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলা। নির্বাচনের পর সনৎ সরদারের এই বক্তব্য সেই দাবিকেই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। এখন দেখার, প্রশাসনিক স্তরে কত দ্রুত এই পরিকল্পনা বাস্তব রূপ পায় এবং আদৌ সন্দেশখালির বহু প্রতীক্ষিত সেতুবন্ধনের স্বপ্ন পূরণ হয় কি না।