ভাটপাড়া পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে শিবু দাসের বাড়িতে  আগুন
নিজস্ব প্রতিনিধি: উত্তর ২৪ পরগনার ভাটপাড়া পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে শিবু দাসের বাড়িতে হঠাৎই আগুন লেগে যায়।আগুনের তীব্রতা এতই ছিল যে পরপর আরো দুটি বাড়িতে আগুন লাগে। প্রথমে দমকলের একটি ইঞ্জিন আসে। যেহেতু রাস্তার দৈর্ঘ্য অনেক কম সেহেতু আর ইঞ্জিন আসার সম্ভব হয়নি। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দারা দেখা গেছে ওই দমকলে ইঞ্জিনের মধ্যে বাড়ি থেকে বালতিতে করে জল ঢালতে ।কিছুক্ষণের মধ্যে আরেকটি ইঞ্জিন এসে উপস্থিত হয়। সেখান থেকে জল পাইপ দিয়ে জল আনা হয়। এখন অবশ্য আগুন নিয়ন্ত্রণে। বাড়ি সহ তাদের অন্যান্য সামগ্রী সরানো সম্ভব হয়নি।ঘটনাস্থলে আসেন ভাটপাড়ার বিজেপি প্রার্থী পবন কুমার সিং। তিনি পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

ছবি: প্রবীর রায়
ফোনে হুমকির অভিযোগে তোলপাড় বসিরহাট দক্ষিণ, বিজেপি প্রার্থীর থানায় লিখিত অভিযোগ
বসিরহাট : বসিরহাট দক্ষিণে নির্বাচনী আবহের মধ্যেই বিজেপি প্রার্থী শৌর্য্য ব্যানার্জিকে ফোনে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, বুধবার বিকেল প্রায় পাঁচটা নাগাদ তিনি বসিরহাটের ঘোজাডাঙ্গা এলাকায় একটি দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার সময় তার ফেসবুক মেসেঞ্জারের মাধ্যমে একটি কল আসে। সেই কলেই দীপ্তেশ দে নামে পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। শুধু তাই নয়, তার পরিবারকেও ক্ষতির হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি প্রার্থীর। ঘটনার পরই বিষয়টি নিয়ে বসিরহাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন শৌর্য্য ব্যানার্জি। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের কাছেও বিষয়টি জানানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া, পাশাপাশি এলাকাজুড়ে নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অন্যদিকে, এই ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বসিরহাট দক্ষিণের তৃণমূল প্রার্থী সুরজিৎ মিত্র ওরফে বাদল বলেন, "এই ধরনের ঘটনা কোনওভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।" গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কোনও প্রার্থীকে হুমকি দেওয়া সম্পূর্ণ অন্যায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার বক্তব্য, যে বা যারা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত, তাদের উচিত নিজেদের ভুল স্বীকার করা এবং এই ধরনের আচরণ থেকে বিরত থাকা।
পুরো ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর বাড়তে শুরু করেছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয় ও অবস্থান খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নির্বাচনকে ঘিরে উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে এই ধরনের অভিযোগ নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে প্রশাসনের।
বিজেপি কর্মী ও সাধারণ মানুষের উপর হামলার অভিযোগে থানায় রেখা পাত্র, পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন
সৌমাভ মন্ডল,বসিরহাট : উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভা এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ল বিজেপি প্রার্থী রেখা পাত্রের থানায় যাওয়াকে কেন্দ্র করে। এলাকার সাধারণ মানুষ ও বিজেপি কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ তুলে পুনরায় হাসনাবাদ থানায় অভিযোগ জানাতে হাজির হন তিনি।
অভিযোগের সূত্রপাত কয়েকদিন আগের একটি ঘটনাকে ঘিরে। হিঙ্গলগঞ্জের হাসনাবাদ থানার বালিয়াডাঙ্গা এলাকায় সুব্রত মন্ডল নামে এক স্থানীয় বাসিন্দাকে মারধরের অভিযোগ ওঠে তৃণমূল প্রার্থী আনন্দ সরকারের অনুগামীদের বিরুদ্ধে। জানা যায়, ওই এলাকায় দলীয় প্রচারে গিয়েছিলেন আনন্দ সরকার। সেই সময় তার সমর্থকরা সুব্রত মন্ডলকে তৃণমূলের পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে বলে অভিযোগ।
সুব্রত মন্ডল সেই সময় এলাকার বেহাল রাস্তার অবস্থা নিয়ে প্রতিবাদ জানালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, এরপরই তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। ঘটনায় আহত সুব্রত মন্ডল হাসনাবাদ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তবে অভিযোগ, এতদিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ কোনও দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
এছাড়াও বিজেপির অভিযোগ, ওই এলাকায় তাদের কর্মীদের দলীয় প্রচার চালাতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। বিজেপি কর্মীদের উপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এই দুই অভিযোগকে সামনে রেখেই হাসনাবাদ থানায় যান বিজেপি প্রার্থী রেখা পাত্র।
থানায় গিয়ে তিনি জানতে চান, সুব্রত মন্ডলের উপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত কেন কোনও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পাশাপাশি বিজেপি কর্মীদের উপর হামলার ঘটনায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে উঠেছে এলাকায়, আর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
শর্ট সার্কিটে বিএসএফ ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ড, হিঙ্গলগঞ্জে পেট্রোল পাম্পে প্রাণ গেল জওয়ানের
বসিরহাট : বসিরহাটের হিঙ্গলগঞ্জ থানার বাঁকড়া এলাকার ৭৭ নম্বর ব্যাটেলিয়ন বিএসএফ ক্যাম্পে হঠাৎই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ালো। জানা গিয়েছে, ক্যাম্পের পেট্রোল পাম্প সংলগ্ন একটি ঘরে শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। সেই সময় বিএসএফের বোটে তেল ভরার কাজ চলছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে। ফলে মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনায় গুরুতরভাবে আহত হন বিএসএফ জওয়ান রাম সিং। আগুনের তীব্রতায় তিনি ঘরের ভেতরেই আটকে পড়েন বলে অনুমান। সহকর্মীরা দ্রুত উদ্ধার করার চেষ্টা করলেও শেষরক্ষা হয়নি। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে খবর।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বসিরহাট দমকলের একটি ইঞ্জিন এবং হিঙ্গলগঞ্জ থানার পুলিশ। দমকল কর্মীদের তৎপরতায় কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। তবে ততক্ষণে পাম্পঘরের ভেতরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়ে যায়। পরে মৃত জওয়ানের দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য দেহটি বসিরহাট জেলা হাসপাতালের পুলিশ মর্গে পাঠানো হবে বলে জানা গিয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে বিএসএফ ক্যাম্পে।
প্রাথমিক তদন্তে শর্ট সার্কিটকেই আগুন লাগার মূল কারণ হিসেবে মনে করা হলেও, গোটা ঘটনার বিস্তারিত খতিয়ে দেখছে পুলিশ ও বিএসএফ কর্তৃপক্ষ। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রতিজ্ঞা স্তম্ভে ১০ দফা উন্নয়ন রূপরেখা, বসিরহাট দক্ষিণকে নতুনভাবে গড়ার বার্তা তৃণমূল প্রার্থী সুরজিৎ মিত্রের
বসিরহাট : বসিরহাট দক্ষিণ বিধানসভাকে “নতুন রূপে গড়ে তোলার” লক্ষ্য নিয়ে এবার বিস্তৃত উন্নয়ন রূপরেখা সামনে আনলেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সুরজিৎ মিত্র ওরফে বাদল। দলীয় “প্রতিজ্ঞা স্তম্ভ” কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি এলাকার সার্বিক উন্নয়নের জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছেন, যা আগামী দিনে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনার কেন্দ্রে রয়েছে বসিরহাট শহরের দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা। প্রার্থী জানিয়েছেন, বিকল্প রাস্তা তৈরি করে শহরের চাপ কমানো হবে, যাতে সাধারণ মানুষের যাতায়াত আরও স্বস্তিদায়ক হয়। পাশাপাশি নিকাশি ব্যবস্থাকে আধুনিক রূপ দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ইছামতি নদীর নাব্যতা বাড়িয়ে জল জমার সমস্যা কমানো এবং সামগ্রিক ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটানোর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ক্রীড়া ও শিক্ষার ক্ষেত্রেও বড় উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে। বসিরহাট ও টাকিতে আধুনিক মানের খেলার মাঠ গড়ে তোলা এবং সরকারি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে নতুন প্রজন্ম আরও উন্নত সুযোগ পায়। একইসঙ্গে পর্যটন শিল্পকে বাড়াতে বসিরহাট ও টাকির সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর কথা বলা হয়েছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ও কর্মসংস্থানে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা। এলাকার সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলকে আরও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যেও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কার্যক্রম ও পরিকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে স্থানীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহ বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে। যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বড় স্বস্তি আনবে।
স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। বসিরহাট দক্ষিণের অধীনস্থ হাসপাতালগুলিকে আধুনিকীকরণ করা হবে এবং পরিষেবার মান বাড়ানো হবে। জরুরি পরিষেবা আরও সহজলভ্য করতে বসিরহাট ও টাকি এলাকায় ভ্রাম্যমাণ অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা চালু করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে ভ্যাবলা রেল স্টেশন সংলগ্ন মালঞ্চ রোডের ওপর দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার সমাধানে রেল গেটের পরিবর্তে রেল ওভারব্রিজ বা আন্ডারপাস তৈরির ঘোষণা করা হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেকটাই সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি ও পর্যটন প্রতিটি ক্ষেত্রকে সমান গুরুত্ব দিয়ে একটি সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনার ছবি তুলে ধরেছেন প্রার্থী। এখন দেখার বিষয়, এই প্রতিশ্রুতিগুলি কত দ্রুত বাস্তবে রূপ পায় এবং বসিরহাট দক্ষিণের মানুষের জীবনে কতটা পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়।
তরুণ শিল্পীদের রঙিন ‘বৈশাখী’ উদযাপনে পয়লা বৈশাখ ২০২৬ বরণ

কলকাতা: কলকাতার সাউথ সিটি ইন্টারন্যাশনাল স্কুল সাউথ সিটি মলে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ‘বৈশাখী’র মাধ্যমে পয়লা বৈশাখ ১৪৩৩ উদযাপন করল।

বাংলা নববর্ষের সুরের সঙ্গে ভারতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে তুলে ধরে অনুষ্ঠানটি রং, ঐতিহ্য আর শৈল্পিক প্রকাশের এক মন ছুঁয়ে যাওয়া মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপহার দিল। দেশের নানা প্রান্তের উৎসবের অনুপ্রেরণায় তৈরি নৃত্যশৈলীর মনোমুগ্ধকর মিশেল পরিবেশিত হয় এই অনুষ্ঠানে।

প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণির প্রায় ৬৫-৭০ জন খুদে পড়ুয়া এই উদযাপনে অংশ নেয়। তাদের উচ্ছ্বাস আর প্রতিভায় মঞ্চ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। নাচ, গান, আবৃত্তি ও বাদ্যযন্ত্রের পরিবেশনায় শুধু শৈল্পিক দক্ষতাই নয়, ফুটে ওঠে শিশুদের সরলতা, প্রাণশক্তি আর উৎসবের আমেজ।

ছবি: অম্লান বিশ্বাস

"এখন সঠিকভাবে সংবিধান পালন করা হচ্ছে"- অর্জুন সিং

প্রবীর রায়: ভারতবর্ষের সংবিধান রচয়িতা ভীমরাও রামজি আম্বেদকরের আজ শুভ জন্মদিন। দেশের বিভিন্ন জায়গায় এই শুভ দিনটিকে পালন করা হচ্ছে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে। এদিন উত্তর ২৪ পরগনার মনিরামপুরে

সংবিধানের রচয়িতা আম্বেদকরের মূর্তিতে মাল্যদান করে দিনটি পালন করল বাল্মিকী সমাজ। এদিন তাদের এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন নোয়াপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিং। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিজেপি নেতৃত্ব সহ বাল্মিকী সমাজের অন্যান্য সদস্যরা।সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অর্জুন সিং বলেন,"এখন সঠিকভাবে সংবিধান পালন করা হচ্ছে"। ভারতবর্ষের সংবিধান নিয়ে যখন বিরোধীরা বিজেপিকে আক্রমণ করছে সেই সময় অর্জুন সিং একথা বললেন ।

হিঙ্গলগঞ্জে তৃণমূল প্রার্থীর প্রতিজ্ঞা স্তম্ভ’ উন্মোচন
বসিরহাট : সুন্দরবনের প্রান্তিক জনপদ হিঙ্গলগঞ্জ। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরেই লড়াই করছে ভাঙন, জলোচ্ছ্বাস, দুর্বল পরিকাঠামো এবং জীবিকার অনিশ্চয়তার সঙ্গে। এই বাস্তবতার মধ্যেই একগুচ্ছ উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা সামনে রেখে হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভাকে নতুনভাবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করলেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী আনন্দ সরকার। সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে ‘প্রতিজ্ঞা স্তম্ভ’ উন্মোচন করে তিনি জানান, জয়ী হলে হিঙ্গলগঞ্জের সার্বিক উন্নয়নই হবে তার প্রথম লক্ষ্য। বিশেষ করে সুন্দরবনের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে যে সমস্যাগুলি প্রতি বছর প্রকট হয়ে ওঠে। যেমন নদী ভাঙন, লবণাক্ত জলের অনুপ্রবেশ, কৃষিজমির ক্ষতি সেগুলিকে স্থায়ীভাবে মোকাবিলা করার জন্য পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আনন্দ সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, নদী বাঁধ সংস্কার এই অঞ্চলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকায় এখনও বহু জায়গায় কাঁচা বা দুর্বল বাঁধ রয়েছে, যা বর্ষাকাল বা কোটালের সময় ভেঙে পড়ে। এর ফলে গ্রাম প্লাবিত হয়, ক্ষতিগ্রস্ত হয় ঘরবাড়ি ও চাষের জমি। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে শক্তিশালী ও টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা হবে, যাতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি অনেকটাই কমানো যায়।
এর পাশাপাশি ম্যানগ্রোভ রোপণের ওপরও জোর দেন তিনি। সুন্দরবনের প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে ম্যানগ্রোভ বনভূমির গুরুত্ব অপরিসীম। এই গাছগুলি জলোচ্ছ্বাসের ধাক্কা কমায় এবং মাটি ধরে রাখতে সাহায্য করে। আনন্দ সরকার জানান, পরিকল্পিতভাবে বৃহৎ পরিসরে ম্যানগ্রোভ রোপণ করা হবে, যাতে পরিবেশ রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তাও নিশ্চিত হয়। হিঙ্গলগঞ্জের মানুষের জীবিকা মূলত কৃষি, মৎস্যচাষ এবং বনজ সম্পদের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার কারণে এই সব ক্ষেত্রেই অনিশ্চয়তা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি, মৎস্যচাষে আধুনিকীকরণ এবং ক্ষুদ্র উদ্যোগ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। বিশেষ করে যুব সমাজের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি চালু করার কথা বলেন, যাতে তারা স্থানীয়ভাবে কাজের সুযোগ পায়।
পরিকাঠামোগত উন্নয়নের ক্ষেত্রেও একাধিক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন আনন্দ সরকার। গ্রামীণ রাস্তা সংস্কার, সেতু নির্মাণ, বিদ্যুৎ ও পানীয় জলের পরিষেবা আরও উন্নত করা, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিকাঠামো শক্তিশালী করা এই সব বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে তিনি জানান। তাঁর দাবি, এই উন্নয়ন প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে হিঙ্গলগঞ্জ শুধু সমস্যামুক্তই হবে না, বরং একটি টেকসই ও উন্নত জনপদ হিসেবে গড়ে উঠবে। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, সুন্দরবনের মতো সংবেদনশীল অঞ্চলে উন্নয়ন মানেই শুধু নির্মাণ নয়, পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে এগিয়ে চলা। তাই প্রতিটি প্রকল্পই পরিবেশবান্ধব হবে এবং স্থানীয় মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দিয়েই তা বাস্তবায়ন করা হবে। সব মিলিয়ে, প্রতিজ্ঞা স্তম্ভ উন্মোচনের মধ্য দিয়ে হিঙ্গলগঞ্জের উন্নয়নের যে রূপরেখা সামনে আনলেন আনন্দ সরকার, তা এই প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। এখন দেখার, নির্বাচনের ফলাফল তার এই প্রতিশ্রুতিগুলিকে বাস্তবায়নের সুযোগ এনে দেয় কি না।
প্রচারে বাধার অভিযোগ, বসিরহাটে রাস্তা অবরোধে বিজেপির
বসিরহাট : বসিরহাটের পিফা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় নির্বাচনী প্রচারকে ঘিরে চরম উত্তেজনা ছড়ালো মঙ্গলবার। পিফার সাহাপাড়া এলাকায় বাড়ি বাড়ি প্রচারে গিয়েছিলেন জাগরণ মঞ্চের কর্মী-সমর্থকরা। তারা বিজেপির হয়ে প্রচার করছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় একদল দুষ্কৃতী গিয়ে প্রচারে বাধা দেয়। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রাণভয়ে এলাকা ছেড়ে সরে এসে জাগরণ মঞ্চের কর্মীরা বিষয়টি বসিরহাট দক্ষিণের প্রার্থী শৌর্য্য ব্যানার্জিকে জানান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান বসিরহাট দক্ষিণ বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী শৌর্য্য ব্যানার্জি। তিনি কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে রাস্তায় বসে অবরোধ করে বিক্ষোভে সামিল হন। অবরোধের জেরে মালঞ্চ রোডে যান চলাচল সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে পড়ে, ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করে প্রচারে বেরিয়েছিলেন তাদের কর্মীরা। অথচ তৃণমূলের আশ্রিত দুষ্কৃতীরা পরিকল্পিতভাবে বাধা দিয়ে সেই অধিকার খর্ব করেছে। দোষীদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত অবরোধ তুলে নেওয়া হবে না বলেই সাফ জানিয়ে দেন তারা। এদিকে, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় বসিরহাট থানার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। পুলিশ প্রথমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে এবং বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনায় বসে অবরোধ তোলার আবেদন জানায়। কিন্তু তাতে সাড়া দেননি আন্দোলনকারীরা।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন পিফা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধানের নেতৃত্বে তৃণমূলের একদল সমর্থক ঘটনাস্থলে হাজির হন। বিজেপির ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগানের পাল্টা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান তুলতে শুরু করেন তারা। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি স্লোগানে এলাকা কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ক্রমশ উত্তেজনা বাড়তে থাকায় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। পুরো মালঞ্চ রোড অবরুদ্ধ থাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
রেখা পাত্রকে ঘিরে কান্নার রোল! হিঙ্গলগঞ্জে জনসংযোগ ঘিরে
বসিরহাট : রেখা পাত্রকে ঘিরে আবেগের ঢেউ, চোখের জলে ভাসলেন এলাকার মহিলারা। একসময় রাজ্যের অন্যতম চর্চিত কেন্দ্র ছিল সন্দেশখালি। সেই আন্দোলনের অন্যতম মুখ হিসেবে উঠে এসেছিলেন রেখা পাত্র। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে লড়াই করেও বড় ব্যবধানে পরাজয়ের মুখ দেখতে হয়েছিল তাকে। তবে রাজনৈতিক লড়াই থেকে সরে না গিয়ে এবার নতুন করে ময়দানে নেমেছেন তিনি।
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে হিঙ্গলগঞ্জ কেন্দ্র থেকে বিজেপি প্রার্থী হয়েছেন রেখা পাত্র। সেই প্রেক্ষিতে এদিন হিঙ্গলগঞ্জে জনসংযোগ কর্মসূচি ও পদযাত্রায় অংশ নেন তিনি। কাঠারবাড়ি মোড় থেকে শুরু হয়ে ৮ নম্বর, ৯ নম্বর এলাকা ঘুরে হিঙ্গলগঞ্জ পর্যন্ত দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে এই প্রচার কর্মসূচি।
এই পদযাত্রার মাঝেই এক আবেগঘন দৃশ্যের সাক্ষী থাকলেন স্থানীয়রা। বহু মহিলা রেখা পাত্রকে সামনে পেয়ে আবেগে ভেঙে পড়েন। কেউ তাকে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন, আবার কেউ নিজেদের দুঃখ-কষ্ট, অভাব-অভিযোগ জানাতে গিয়ে অশ্রুসিক্ত হয়ে ওঠেন। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিনের সমস্যা, নিরাপত্তাহীনতা ও দৈনন্দিন জীবনের নানা সংকট তাদেরকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। সেই পরিস্থিতিতে রেখা পাত্রকে সামনে পেয়ে তাঁরা যেন নিজের মনের কথা উজাড় করে দিতে চেয়েছেন। অনেকের মতে, এই ধরনের আবেগঘন মুহূর্ত নির্বাচনের আগে জনমতের ইঙ্গিত বহন করে। সন্দেশখালির আন্দোলনের পর রেখা পাত্র এখনও অনেকের কাছে এক প্রতিবাদের প্রতীক। এই ছবি যেন তারই প্রতিফলন।