রাজ্যে পালাবদলের পর হাড়োয়ায় মেছোভেঁড়ি দখলের অভিযোগ, বিজেপি নেতা রাজেন্দ্র সাহাকে ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে
বসিরহাট : উত্তর ২৪ পরগনার হাড়োয়ার রাজনীতিতে ফের সামনে এলো মেছোভেঁড়ি দখলের রাজনীতির পুরনো ছবি। এক সময় বাম আমল থেকে শুরু করে তৃণমূল জমানাতেও ভেঁড়ি ও জলকর দখলকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত থেকেছে হাড়োয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা। রাজনৈতিক পালাবদলের পর আবারও সেই একই অভিযোগকে ঘিরে সরগরম গোপালপুর অঞ্চল। এবার অভিযোগের কেন্দ্রে বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার বিজেপির সহ-সভাপতি রাজেন্দ্র সাহা।
স্থানীয় মৎস্যজীবী ও ভেঁড়ি মালিকদের অভিযোগ, রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের আবহ তৈরি হওয়ার পর থেকেই বসিরহাটের হাড়োয়া বিধানসভার গোপালপুর ১নং গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় একাধিক মেছোভেঁড়ি ও জলকর জোর করে দখল করা হচ্ছে। অভিযোগ, বিজেপি নেতা রাজেন্দ্র সাহা তার অনুগামীদের নিয়ে বিভিন্ন ভেঁড়ির আলা ঘরে বিজেপির দলীয় পতাকা টাঙিয়ে কার্যত দখলের বার্তা দেন। এরপর জমির মালিক ও ভেঁড়ি ব্যবসায়ীদের উপর শুরু হয় চাপ সৃষ্টি, হুমকি ও ভয় দেখানোর রাজনীতি। ভুক্তভোগীদের দাবি, বহু বছরের লিজে পরিচালিত এই জলকরগুলিতে রাতারাতি দখল বসিয়ে মাছ বিক্রির পুরো নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেন অভিযুক্তরা। ভেড়ি মালিকদের অভিযোগ, মাছ বিক্রির টাকা বা জমির লিজ বাবদ পাওনা অর্থ দেওয়া তো দূরের কথা, উল্টে টাকা চাইতে গেলে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে এলাকা ছাড়া করারও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। স্থানীয় সূত্রের দাবি, নতুন সরকার গঠনের পর থেকে গোপালপুর এলাকার বিভিন্ন ভেড়ি থেকে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার মাছ বিক্রি হয়েছে। কিন্তু সেই টাকার এক টাকাও প্রকৃত জমি বা ভেঁড়ির মালিকদের হাতে পৌঁছায়নি। অভিযোগ, পুরো অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। এর ফলে আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন বহু ছোট ও মাঝারি মৎস্যচাষি। তাদের অনেকেরই সংসার এই ভেড়ির আয়ের উপর নির্ভরশীল। এলাকার একাধিক মৎস্যজীবীর বক্তব্য, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ভেঁড়ি দখলের এই সংস্কৃতি নতুন নয়, তবে এবার তা আরও প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। দখলের পাশাপাশি এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ। অনেকে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছেন।
যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিজেপি নেতা রাজেন্দ্র সাহা। তার দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল কংগ্রেস বেআইনিভাবে বিভিন্ন ভেঁড়ি ও জলকর দখল করে রেখেছিল। এখন সেগুলি প্রকৃত মালিকদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার কাজ চলছে। তার বিরুদ্ধে ওঠা টাকা আত্মসাৎ, দখল ও হুমকির অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন তিনি। রাজেন্দ্র সাহার বক্তব্য, কয়েকজন ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে তার ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছেন।
তবে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মাঝেই প্রশ্ন উঠছে, রাজনৈতিক পালাবদল হলেই কেন হাড়োয়ার জলকর, ভেঁড়ি ও জমিকে কেন্দ্র করে নতুন করে দখলদারির লড়াই শুরু হয়? প্রকৃত মালিকানা, লিজ এবং ব্যবসায়িক স্বার্থের আড়ালে রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রদর্শন কতটা প্রভাব ফেলছে এলাকার সাধারণ মানুষের জীবনে, তা নিয়েই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে হাড়োয়ার রাজনৈতিক মহলে। গোপালপুরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। ভুক্তভোগীরা প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
1 hour and 6 min ago
- Whatsapp
- Facebook
- Linkedin
- Google Plus
1