বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী আটক হিঙ্গলগঞ্জে, তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে আশ্রয় ও ভুয়ো নথি তৈরির অভিযোগ
বসিরহাট : সীমান্তবর্তী হিঙ্গলগঞ্জে এক বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বসবাস করা ওই ব্যক্তিকে শনিবার গভীর রাতে আটক করে হিঙ্গলগঞ্জ থানার পুলিশের হাতে তুলে দেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। অভিযোগের তির শাসকদলের এক পঞ্চায়েত সদস্যের দিকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানার বাসিন্দা শহিদুল গাজী কয়েক বছর আগে অবৈধভাবে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করেন। অভিযোগ, বসিরহাটের হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকের সাণ্ডেলেরবিল গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার প্রাক্তন উপপ্রধান ও বর্তমান তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য জয়নাল আবেদীন তাকে সীমান্ত পেরিয়ে এ রাজ্যে নিয়ে আসেন। এরপর তাকে স্থানীয়ভাবে আশ্রয় দেওয়া হয় এবং ধীরে ধীরে এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাসের ব্যবস্থাও করে দেওয়া হয়।
অভিযোগ আরও গুরুতর। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অনুপ্রবেশকারীকে বৈধ নাগরিক হিসেবে পরিচয় দেওয়ার জন্য ভুয়ো নথিপত্র তৈরি করা হয়। এমনকি জয়নাল আবেদীনের বাবাকে ওই ব্যক্তির বাবা পরিচয় দিয়ে ভোটার কার্ড সহ একাধিক সরকারি নথিও তৈরি করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে ওই ব্যক্তি স্থানীয় এক মহিলাকে বিয়ে করে এলাকাতেই সংসার শুরু করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছিলেন।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, বিষয়টি নিয়ে বহুবার পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হলেও কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেই প্রশাসন নীরব ছিল। তবে সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ বাড়তে থাকে। অবশেষে শনিবার গভীর রাতে এলাকার বাসিন্দারাই উদ্যোগ নিয়ে ওই ব্যক্তিকে আটক করেন। পরে তাকে হিঙ্গলগঞ্জ থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ঘটনার পর সাংবাদিকদের সামনে ধৃত ব্যক্তি স্বীকার করেন যে তিনি অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে এ দেশে এসেছেন। তার এই স্বীকারোক্তির পর ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। যদিও অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা জয়নাল আবেদীনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত ব্যক্তির নথিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কীভাবে তিনি এ দেশে প্রবেশ করলেন, কারা তাকে আশ্রয় দিল এবং সরকারি নথি কীভাবে তৈরি হলো সেই সমস্ত বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
সীমান্তবর্তী হিঙ্গলগঞ্জ এলাকায় এর আগেও অনুপ্রবেশের অভিযোগ উঠেছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, এই ঘটনায় রাজনৈতিক ছত্রছায়ার অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। এখন দেখার, তদন্ত কতদূর এগোয় এবং প্রশাসন এই ঘটনায় কাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করে।
38 min ago
- Whatsapp
- Facebook
- Linkedin
- Google Plus
1