*খেলা* *আই এস এল*
*বর্ণহীন ফুটবল**ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে গোললেস ড্র মোহনবাগানের*
![]()
![]()
ছবি: সঞ্জয় হাজরা
এক বছর সোনা না কেনার বার্তা প্রধানমন্ত্রীর ক্ষতির আশঙ্কায় বসিরহাটের স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা
![]()
বসিরহাট : জাতীর স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আগামী এক বছর সোনা কেনায় দেশবাসীকে লাগাম টানার অনুরোধ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যে স্বর্ণ ব্যবসায়ী মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের স্বর্ণ ব্যবসায়ীরাদের কাছ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া উঠে এসেছে এই প্রসঙ্গে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে সমর্থন জানালেও স্বর্ণ ব্যবসায় কিছুটা হলেও ধাক্কা লাগবে বলেই আশঙ্কা করছেন অনেকে। স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের দাবি, সোনার দাম আকাশছোঁয়া হতেই সাধারণ মানুষের হলুদ ধাতু কেনার প্রবণতা এমনিতেই কমেছে। মানুষ গচ্ছিত সোনা ভেঙে নতুন মডেলের গয়না গড়তে শুরু করেছেন। এবার সেই প্রবণতা আরও বাড়বে। তবে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে স্বর্ণশিল্পীরা চরম আতঙ্কিত হয়েপড়ছেন। শিল্পীদের দাবি, সোনার দাম বাড়ায় কাজের অভাবে তাদের রুজিরোজগারে টান পড়েছে। এবার সমস্যা আরও জটিলতার দিকেই গড়াচ্ছে।
ডলারের মাধ্যমে ভারতকে বিদেশ থেকে সোনা আমদানি করতে হয়। যার জেরে বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে অবিশ্বাস্য হারে সোনার দাম বেড়ে যাওয়ায় হলুদ ধাতুর আমদানিতে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রার অপচয় হচ্ছে দাবি করে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় স্বার্থে দেশবাসীর সোনা কেনায় রাশ টানতে বলেছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য স্বর্ণ ব্যবসায়ী মহলে তোলপাড় ফেলেছে। ব্যবসায়ীরা দেশের স্বার্থে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য মানতে বাধ্য হলেও অনেকেই আবার স্বর্ণ ব্যবসায় জোর ধাক্কার
আশঙ্কা করছেন। কারও কারও দাবি, সোনার বাজার যে উচ্চতায় উঠেছে সাধারণ মানুষ বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া এই হলুদ ধাতু থেকে মুখ ফিরিয়েছেন। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যবসায় তেমন প্রভাব পড়বে না।
বাদুড়িয়ার এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্নেহাশীষ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "দেশের ভবিষ্যতের ভালোর জন্যই প্রধানমন্ত্রী একেবারে কিনতে নিষেধ না করে কম সোনা কিনতে বলেছেন। সোনার দাম বাড়ায় মানুষের মধ্যে গচ্ছিত সোনা ভেঙে নতুন গয়না তৈরির প্রবণতা বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানের পর এই প্রবণতা আরও বাড়বে বলেই আমার ধারনা। সব ব্যবসায়ী সহমত হবেন বলেই মনে করছি।" টাকির জুয়েলারি দোকানের মালিক প্রকাশ রায়চৌধুরী বলেন, "দেশের স্বার্থে সমর্থন করছি কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তকে। তবে একজন ব্যবসায়ী হিসাবে এটা স্বর্ণ ব্যবসার ক্ষেত্রে মঙ্গলজনক বলে মনে করছি না।" সন্দেশখালি থেকে বাবার সঙ্গে নিজের বিয়ের জন্য বসিরহাটে গয়না কিনতে এসেছিলেন অনিন্দিতা আগুয়ান। তিনি বলেন, "সার্বিক স্বার্থে বিয়ের জন্য ন্যূনতম যেটুকু প্রয়োজন তার বেশি সোনা কিনবো না। পুরাতন সোনা দিয়েই কাজ চালিয়ে নেব।" তবে প্রধানমন্ত্রীর এহেন বক্তব্যে শিল্পীরা কাজ হারানোর আতঙ্কে ভুগতে শুরু করেছেন। স্বর্ণশিল্পী বৈদ্যনাথ মিশ্র বলেন, "সোনার দাম বাড়ায় এমনিতে কাজ কমেছে। এখন মানুষ সোনা কিনতে হাত গুটিয়ে নিলে আমাদের রুজিরোজগারে টান পড়বে। কাজ হারানোর সম্ভাবনা বাড়বে।"
সেতুবন্ধনেই বদলাবে সন্দেশখালি, জয়ের পর উন্নয়নের রূপরেখা দিলেন বিধায়ক
বসিরহাট : উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালির মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই যোগাযোগ ব্যবস্থা, নদীপথ নির্ভর যাতায়াত এবং উন্নয়নের অভাব নিয়ে সমস্যার মুখোমুখি। এবার সেই সমস্যার সমাধানকে সামনে রেখেই কাজ শুরু করার বার্তা দিলেন সদ্য নির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক সনৎ সরদার। জয়ের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, সন্দেশখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপাঞ্চলগুলিকে সংযুক্ত করাই হবে তার প্রধান লক্ষ্য।
তিনি বলেন, "এই জয় শুধুমাত্র তার ব্যক্তিগত জয় নয়, বরং সন্দেশখালীর বিজেপি কর্মী-সমর্থক এবং সাধারণ মানুষের জয়।" ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই এলাকাবাসীর মধ্যে উন্নয়ন নিয়ে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তবে সেই প্রত্যাশাকে বাস্তবতার মাটিতেই রাখতে চান নবনির্বাচিত বিধায়ক। তাই শুরুতেই তিনি জানিয়ে দেন, মানুষের কাছে কোনও অবাস্তব বা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিতে চান না। তার কথায়, “আমি যদি বলি সমস্ত কাজ এক্ষুনি হয়ে যাবে, সেটা সম্ভব নয়। ধীরে ধীরে কাজ করতে হবে। মানুষের পাশে থেকে তাদের সমস্যার সমাধান করাই আমার লক্ষ্য।”
সন্দেশখালি মূলত নদীবেষ্টিত এলাকা হওয়ায় এখানকার মানুষের জীবনযাত্রা এখনও অনেকাংশে নৌপথের উপর নির্ভরশীল। বর্ষাকালে কিংবা দুর্যোগের সময় সেই দুর্ভোগ আরও চরম আকার নেয়। বহু জায়গায় পর্যাপ্ত সেতু না থাকায় ছাত্রছাত্রী, রোগী, শ্রমজীবী মানুষদের প্রতিদিনই সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। সেই বাস্তব পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই সনৎ সরদার সেতুবন্ধন প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছেন। তিনি জানান, নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে তিনি বিশেষ আবেদন জানাবেন যাতে সন্দেশখালীর বিভিন্ন প্রান্তকে সেতুর মাধ্যমে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তার মতে, সেতুবন্ধন সম্পূর্ণ হলে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হবে না, বদলে যাবে গোটা এলাকার আর্থ-সামাজিক চিত্রও। নদী পেরিয়ে যাতায়াতের ঝুঁকি কমবে, ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ হবে এবং জরুরি পরিষেবাও দ্রুত পৌঁছানো সম্ভব হবে।
প্রথম পর্যায়ে তিনি সন্দেশখালি ১নং ব্লকের ন্যাজাট-কালিনগর এবং সন্দেশখালি ২নং ব্লকের রামপুর-জেলিয়াখালি অঞ্চলের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ দুটি সেতু নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানান। তার দাবি, এই দুটি সেতু তৈরি হলে বহু মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত সহজ হবে এবং এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও গতি পাবে। এরপর ধাপে ধাপে সন্দেশখালীর অন্যান্য দ্বীপাঞ্চলগুলিকেও মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করা হবে বলে তিনি জানান।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সন্দেশখালীর মতো ভৌগোলিকভাবে দুর্গম এলাকায় উন্নয়নের মূল চাবিকাঠিই হল যোগাযোগ ব্যবস্থা। দীর্ঘদিন ধরেই এলাকাবাসীর দাবি ছিল স্থায়ী সেতু নির্মাণ ও আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলা। নির্বাচনের পর সনৎ সরদারের এই বক্তব্য সেই দাবিকেই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। এখন দেখার, প্রশাসনিক স্তরে কত দ্রুত এই পরিকল্পনা বাস্তব রূপ পায় এবং আদৌ সন্দেশখালির বহু প্রতীক্ষিত সেতুবন্ধনের স্বপ্ন পূরণ হয় কি না।![]()
কলকাতা ক্রিকেটের প্রথম ডিভিশন লিগ ফাইনালের প্রথম দিনে টাউন ক্লাবের দাপুটে ব্যাট
*খেলা*![]()
*স্পোর্টস ডেস্ক:* জেইউ সেকেন্ড ক্যাম্পাস গ্রাউন্ড সল্টলেকে মঙ্গলবার কলকাতা ক্রিকেটের প্রথম ডিভিশন চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে মোহনবাগান এসি-র বিরুদ্ধে প্রথম দিনের খেলা শেষে টাউন ক্লাব ৪ উইকেটে ২১৭ রান তুলেছে।এদিন টাউন ক্লাবের পক্ষেসচিন যাদব (১০০) এবংঅ্যাভিলিন ঘোষ (৭৫) অনবদ্য ব্যাট করেন।*ছবি সৌজন্যে: সিএবি।*
মুখ্যমন্ত্রীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথের হত্যাকাণ্ডে জড়িত ধৃতদের মাফিয়াদের যোগসূত্র ধরা পড়ল
![]()
*ডেস্ক :* শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথের হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্ত রাজ সিং-কে নিয়ে একের পর এক চমকপ্রদ তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে জানা গিয়েছে, রাজ সিং-এর সঙ্গে বেশ কয়েকজন বড় নেতা এবং কথিত মাফিয়ার সম্পর্ক ছিল। সে নিজেকে অখিল ভারতীয় ক্ষত্রিয় মহাসভার প্রদেশ মহাসচিব বলে দাবি করত এবং উত্তরপ্রদেশের অনেক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার সংস্পর্শে ছিল সে।
কলকাতা পুলিশ হত্যা মামলায় উত্তরপ্রদেশের বলিয়ার বাসিন্দা রাজ সিং-কে অযোধ্যা-বস্তি হাইওয়ে থেকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেফতার হয়েছে তার দুই সঙ্গী ময়ঙ্ক রাজ মিশ্র এবং ভিকি মৌর্য।ভিকি কে বিহারের বক্সার থেকে ধরা হয়েছে। পুলিশি তদন্তে রাজ সিং-এর ভূমিকা ছিল শুটারদের রসদ জোগানো এবং পুরো ষড়যন্ত্রে সহযোগিতা করা।
তদন্তকারী সংস্থাগুলির সূত্রে জানা গিয়েছে, হত্যার পর পলাতক অভিযুক্তদের কাছে পৌঁছতে একটি ইউপিআই পেমেন্ট গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে ওঠে। অযোধ্যা-বস্তি রুটের টোল প্লাজায় করা ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে পুলিশ অভিযুক্তদের সন্ধান পায়। জানা যাচ্ছে, রাজ সিং ৭ মে লখনউয়ের একটি রাজনৈতিক পরিবারের বিয়েতে যোগ দিতে এসেছিল। এরপর সে আম্বেদকর নগর এবং অযোধ্যায় যায়। সেখান থেকে ফেরার সময় পুলিশ তার লোকেশন ট্রেস করে।
তদন্তে এটাও সামনে এসেছে যে রাজ সিং কাউন্সিলর নির্বাচনে লড়েছিল এবং বলিয়ার চিলকহর এলাকা থেকে ব্লক প্রমুখের নির্বাচনে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তার বিরুদ্ধে আগেও একটি খুনের মামলা দায়ের আছে বলে জানা যাচ্ছে। যদিও তার মা ছেলেকে নির্দোষ দাবি করে মামলার সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
কলকাতা পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল সিট-এর সন্দেহ, চন্দ্রনাথ রথের হত্যার ষড়যন্ত্র প্রায় দেড় মাস আগে থেকেই করা হচ্ছিল। তদন্তকারীদের মতে, হামলাকারীরা ঘটনার আগে রেকি করেছিল এবং নিজেদের পরিচয় গোপন রাখতে অত্যন্ত পেশাদার ভাবে পরিকল্পনা করেছিল। পুলিশের ধারণা, এই পুরো ষড়যন্ত্রে কমপক্ষে ৮জন জড়িত ছিল, যাদের মধ্যে একজন পেশাদার শুটারও থাকতে পারে।
গ্রেপ্তার হওয়া তিন অভিযুক্তকে সোমবার উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাত আদালতে পেশ করা হয়, বিচারক তাদের ১৩ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। মামলায় এখন রাজনৈতিক ও অপরাধমূলক আঁতাতের দিক থেকেও তদন্ত জোরদার হয়েছে। মঙ্গলবার সিবিআইয়ের বিশেষ তদন্তকারী সিট এই ঘটনার তদন্ত ভার নিয়েছে।
ISL এ ফের ড্র করল ইস্টবেঙ্গল
![]()
নিজস্ব প্রতিনিধি: ISL এ দুটো ম্যাচে জয়ের পর ফের ড্র করল ইস্টবেঙ্গল। সোমবার কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে পাঞ্জাব এফসির বিরুদ্ধে ম্যাচটা গোলশূন্য ড্র করে লাল হলুদ। পুরো ম্যাচে ইস্টবেঙ্গল উল্লেখ্যযোগ্য সে রকম কোন আক্রমণ করতে পারেনি। কয়েকটা পজ়িটিভ মুভ দলের ভরসা। লাল হলুদের পরের ম্যাচ ডার্বি। তার আগে পয়েন্ট নষ্টের পর প্রশ্ন উঠছে কোন অঙ্কে ISL চ্যাম্পিয়ন হতে পারবে লাল হলুদ?
এ বার সংক্ষিপ্ত ISL-এ প্রতিটা দল ১৩টা করে ম্যাচ খেলবে। সেই হিসেবে ইস্টবেঙ্গল খেলেছে ১১টা। বাকি আর দুটো— মোহনবাগান (১৭ মে), ইন্টার কাশী (দিন ঘোষণা হয়নি)। পয়েন্ট টেবলে ইস্টবেঙ্গল ১১ ম্যাচে ২২ পয়েন্টে আছে।![]()
ছ
বি: সঞ্জয় হাজরা (খবর কলকাতা)।
আইএস এল জয়ের অন্যতম দাবিদার মোহনবাগান, ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে জয়ে ফিরতে মরিয়া
*খেলা*
*আইএস এল*![]()
স্পোর্টস ডেস্ক: ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (আইএসএল) ২০২৫-২৬-এ মঙ্গলবার, কলকাতার বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে জয়ে ফিরতে মরিয়া
মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট।
মঙ্গলবারের এই ম্যাচটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে থাকা মোহনবাগানের জন্য। এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে ১-১ গোলে ড্র করে ম্যাচে খেলতে নামবে মেরিনার্সরা। প্রধান কোচ সার্জিও লোবেরার অধীনে, দলটি গোটা মরসুম জুড়ে আক্রমণাত্মক মানসিকতার সঙ্গে রক্ষণাত্মক সংগঠনও বজায় রেখেছে। যদিও শেষ ৭টি আইএসএল ম্যাচের মধ্যে ৫টিতেই পয়েন্ট খুইয়েছে তারা।
বর্তমানে ১০ ম্যাচে ২১ পয়েন্ট নিয়ে তারা টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। জিতলে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে উঠে যাবে তারা, তবে সেটা নির্ভর করছে প্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গলের ম্যাচের ফলাফলের ওপর।
ম্যাচের আগে সার্জিও লোবেরা খেলোয়াড়দের আরও ক্লিনিক্যাল হতে এবং প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন,“আমরা যদি ভাবি এটা সহজ জয় হবে, তাহলে সেটা বড় ভুল হবে। আমি নিশ্চিত, আমরা যদি ১০০ শতাংশ না দিই, তাহলে ম্যাচ জিততে পারব না”।
“আমাদের পয়েন্টের ওপর ফোকাস রাখতে হবে, গোল পার্থক্য নিয়ে ভাবার দরকার নেই। শেষ ধাপে আমাদের আরও ক্লিনিক্যাল হতে হবে। আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল অপুইয়া, কারণ সে এমন একজন খেলোয়াড় যে আমাদের ভারসাম্য দেয়।”
আক্রমণভাগে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন ফরোয়ার্ড জেমি ম্যাকলারেন, এই মরসুমে করেছেন ৯টি গোল। তাঁকে সহায়তা করেছেন শুভাশিস বসু, যিনি দলের হয়ে সবচেয়ে বেশি অ্যাসিস্ট করেছেন। এছাড়া উইংয়ে রয়েছেন লিস্টন কোলাসো এবং রবিনহো। মিডফিল্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন লালেংমাওইয়া রালতে (অপুইয়া), অনিরুধ থাপা এবং সাহাল আব্দুল সামাদ। গোলে ভরসা দিয়েছেন বিশাল কাইথ।![]()
বসিরহাট সীমান্তে কাঁটাতার পরিকল্পনা, নিরাপত্তা বাড়লেও জমি ও জীবিকা হারানোর আশঙ্কা সীমান্তবাসীর
বসিরহাট : বসিরহাটের সীমান্তবর্তী এলাকায় নতুন করে কাঁটাতার নির্মাণ এবং সীমান্তবর্তী জমি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দপ্তর ও বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়ার সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে স্বরূপনগর, বাদুড়িয়া, হিঙ্গলগঞ্জ, বসিরহাট ১নং ব্লক, বসিরহাট ও টাকি পৌর এলাকা এবং হাসনাবাদ ব্লকের নদী ও স্থল সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে এই সিদ্ধান্ত মানুষের জীবনযাত্রা, কৃষিকাজ, মৎস্যজীবী পেশা এবং নিরাপত্তা সব কিছুর উপরই সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
স্বরূপনগরের সীমান্তবর্তী হাকিমপুর, বালতি, গোবিন্দপুর ও তারালি সহ একাধিক গ্রামের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সীমান্তে নিরাপত্তা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাদের শেখ বলেন, “রাতে অনেক সময় সীমান্তের ওপার থেকে সন্দেহজনক যাতায়াত হয়। কাঁটাতার হলে অন্তত অনুপ্রবেশ আর সোনা-রুপো পাচার অনেকটা কমবে।” তার মতে, এলাকায় বহুবার চোরাচালান ও দুষ্কৃতীদের আনাগোনা নিয়ে সাধারণ মানুষ আতঙ্কে থাকেন। তবে একই সঙ্গে কৃষকদের একাংশের আশঙ্কা, নতুন ফেন্সিং হলে তাদের চাষের জমি কাঁটাতারের ওপারে চলে যেতে পারে। স্বরূপনগরের এক কৃষক নারায়ণ মণ্ডল বলেন, “আমার তিন বিঘে জমি সীমান্ত লাগোয়া। যদি কাঁটাতারের বাইরে পড়ে যায়, তাহলে প্রতিদিন চাষ করতে যেতে বিএসএফের অনুমতি নিতে হবে। এতে সময় নষ্ট হবে, ঝামেলাও বাড়বে।”
হাসনাবাদ ও টাকি অঞ্চলে পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা। এখানে ইছামতী নদী আন্তর্জাতিক সীমারেখা হওয়ায় পুরোপুরি কাঁটাতার সম্ভব নয়। ফলে নদীপথে নজরদারি, স্পিডবোট টহল, নদীঘাটে কড়াকড়ি বাড়ানোর কথা ভাবা হচ্ছে। টাকির ঘাট এলাকার এক নৌকাচালক সঞ্জয় দাস বলেন, “নিরাপত্তা বাড়ুক, তাতে আপত্তি নেই। কিন্তু নদীতে পর্যটক নিয়ে যাওয়া বা মাছ ধরা যদি অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণে পড়ে, তাহলে আমাদের আয় কমে যাবে।” হাসনাবাদের এক মৎস্যজীবী নুরুল গাজী বলেন, “আমরা নদীর উপর নির্ভর করে বাঁচি। বেশি কড়াকড়ি হলে কখন কোথায় যেতে পারবো, সেটাই অনিশ্চিত হয়ে যাবে।” স্থানীয়দের মতে, নিরাপত্তার কারণে নদীপথে নির্দিষ্ট সময়সীমা বা জোন নির্ধারণ হলে মৎস্যজীবীদের জীবিকা সংকটে পড়তে পারে। বসিরহাট ১নং ব্লকের ঘোজাডাঙা সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় অনেকেই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী প্রবীর ঘোষ বলেন, “ঘোজাডাঙা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার। সীমান্ত সুরক্ষা মজবুত হলে ব্যবসা আরও নিয়মতান্ত্রিক হবে, অবৈধ পণ্য যাতায়াত কমবে।” তবে কিছু পরিবার জানিয়েছেন, জমি অধিগ্রহণ হলে ক্ষতিপূরণ কতটা দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে মিলবে, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। টাকি পৌর এলাকার বাসিন্দারা আবার পর্যটনের বিষয়টিকেও সামনে আনছেন। এক হোটেল ব্যবসায়ী জানান, “টাকি পর্যটনের বড় আকর্ষণ ইছামতী নদী ও সীমান্তের ওপারে বাংলাদেশের দৃশ্য। অতিরিক্ত বিধিনিষেধ আরোপ হলে পর্যটনের উপর প্রভাব পড়তে পারে।” তবে নিরাপত্তা জোরদার হলে পর্যটকদের আস্থাও বাড়তে পারে বলে অনেকে মনে করছেন।
হিঙ্গলগঞ্জে চিত্র আরও জটিল। সুন্দরবন ঘেরা জলসীমান্ত, খাঁড়ি ও নদীনির্ভর এই অঞ্চলে স্থল ফেন্সিংয়ের সুযোগ সীমিত। ফলে এখানে নৌ টহল, নজরদারি ক্যামেরা, অস্থায়ী আউটপোস্ট ও জলপথ পর্যবেক্ষণ বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। হিঙ্গলগঞ্জের সামশেরনগরের বাসিন্দা তথা মৎস্যজীবী রহিম সরদার বলেন, “রাতের নদীপথে অনেক অবৈধ কাজ হয়, সেটা বন্ধ হওয়া দরকার। কিন্তু আমরা যারা মাছ ধরি, তাদের জন্য আলাদা পরিচয়পত্র বা সহজ পারমিট ব্যবস্থা দরকার।”
স্থানীয় স্কুলশিক্ষক প্রদীপ হালদার মনে করেন, সীমান্ত সুরক্ষা বাড়ানো জরুরি হলেও মানবিক দিকটি সমান গুরুত্বপূর্ণ। তার কথায়, “শুধু নিরাপত্তা দেখলে হবে না। সীমান্তের মানুষদের জমি, জীবিকা, যাতায়াত, শিক্ষা ও চিকিৎসার বিষয়গুলোও একসঙ্গে ভাবতে হবে।”
সীমান্তবর্তী বহু পরিবারের অভিজ্ঞতা বলছে, আগেও কাঁটাতারের কারণে অনেকে নিজেদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে স্কুল, বাজার বা হাসপাতালে যেতে দীর্ঘ পথ ঘুরতে বাধ্য হয়েছেন। ফলে নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানীয়দের মতামত, সঠিক ক্ষতিপূরণ, বিকল্প রাস্তা এবং কৃষক-মৎস্যজীবীদের জন্য আলাদা সুবিধা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
সব মিলিয়ে সীমান্ত সুরক্ষা জোরদারের উদ্যোগ বসিরহাটের সীমান্তবর্তী এলাকায় একদিকে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা মজবুত করার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। অন্যদিকে সীমান্তবাসীর জীবনযাত্রা ও জীবিকার উপর বড় প্রশ্নচিহ্নও তুলে দিয়েছে। এখন নজর থাকবে, বাস্তবায়নের সময় প্রশাসন নিরাপত্তা এবং মানবিক স্বার্থ দুইয়ের মধ্যে কতটা ভারসাম্য রাখতে পারে তার উপর।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথের খুনিদের ১৩ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ আদালতের
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসাত:মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথের খুনিদের ১৩ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিল বারাসাত আদালত। রবিবার রাতে উত্তরপ্রদেশ থেকে ৩ শার্প শুটারকে গ্রেফতার করে সিআইডি।রবিবার গভীর রাতে অভিযানে নেমে ধৃতদের পাকড়াও করা হয়। পরে তাঁদের কলকাতায় এনে ভবানী ভবনে রাতভর জেরা করা হয়েছে বলে খবর।আজ তোলা হয় বারাসাত আদালতে।
গত ৬ মে রাতে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের দোহারিয়ায় রাস্তায় খুব কাছ থেকে গুলি করে খুন করা হয় চন্দ্রনাথ রথকে। তখনও মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেননি শুভেন্দু। বিজেপি-র বিপুল জয়ের পরই এই হামলার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায় রাজ্য রাজনীতিতে। তদন্তকারীদের দাবি, অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় এবং পরিকল্পনা করে হামলা চালানো হয়েছিল। তাঁর গতিবিধি রেইকি করে এবং গাড়ির ঠিক কোন জায়গায় তিনি বসেছিলেন তাও নজরে ছিল আততায়ীদের।ওই দিন চন্দ্রনাথকে লক্ষ্য করে পরপর চার রাউন্ড গুলি চালানো হয়। বুকে এবং হাতে গুলি লাগে তাঁর। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
খুনের তদন্তে শুরু থেকেই নামে সিআইডি এবং এসটিএফ। একের পর এক সূত্র হাতে আসে গোয়েন্দাদের। শনিবার বড় ক্লু মেলে ডিজিটাল লেনদেন সূত্রে। জানা যায়, আততায়ীরা বালি টোল প্লাজায় ইউপিআইয়ের মাধ্যমে টাকা দিয়েছিল। সেই লেনদেনের তথ্য খতিয়ে দেখেই উত্তরপ্রদেশে লিঙ্ক পাওয়া যায়।সেখানে অভিযান চালিয়ে ৩ জন শার্প শুটারকে গ্রেফতার করা হয়েছে।তদন্তকারীদের অনুমান, এরা ভাড়াটে খুনি। কার নির্দেশে তারা এসেছিল, কারা এই খুনের ছক কষেছিল এবং কেন শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহযোগীকেই নিশানা করা হল, তা জানার চেষ্টা চলছে জেরায়।
চন্দ্রনাথ রথের খুনের পিছনে ভিনরাজ্যের যোগ রয়েছে বলে শুরু থেকেই সন্দেহ ছিল। উত্তর প্রদেশ থেকে গ্রেফতারির পর সেই জল্পনাই আরও জোরালো হল। এখন তদন্তকারীদের নজর মূল চক্রীদের খোঁজে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, দুষ্কৃতী দলে কমপক্ষে আট জন ছিল। রেইকি করার পর চন্দ্রনাথকে হত্যার প্ল্যান কষেছিল আততায়ীরা। কারো না কাদের নির্দেশে অভিযুক্তরা চন্দ্রনাথকে হত্যা করেছে তা জানতে চলছে তদন্ত।![]()
1 hour and 35 min ago
- Whatsapp
- Facebook
- Linkedin
- Google Plus
1