তৃণমূল ছাড়লেন বাদুড়িয়ার বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক আব্দুর রহিম দিলু
বসিরহাট : দুয়ারে ভোট, পুরোদমে প্রচারের কাজেও ঝাঁপিয়ে পড়েছেন প্রার্থীরা। কিন্তু এখনও কী ক্ষোভের আগুন নিভবে না তৃণমূলে? তৃণমূল ছাড়লেন বাদুড়িয়ার বিদায়ী বিধায়ক কাজী আব্দুর রহিম। এবার তাকে আর দাঁড় করায়নি দল। এর আগেও টিকিট না পেয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন তিনি। এবার তৃণমূল ছাড়ার ঘোষণা করলেন একেবারে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে। দলের বাড়তে থাকা গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, যড়যন্ত্রের অভিযোগে সরব হয়েছেন তিনি। ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন জেলা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে। তার সফা কথা, ২০২১ সাল দলের কঠিন সময়ে যারা দল করেছে তাদেরকে টিকিট দেওয়া হয়নি। উল্টে যারা দলের বিরোধিতা করেছে তাদের টিকিট দেওয়া হয়েছে। এই সব বিষয় নিয়ে দলের উপরতলার বিরুদ্ধে তোপের পর তোপ দেগেছেন নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে। দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে তীব্র অভিমানের সঙ্গে তিনি লিখছেন, ‘আমি সবসময় সত্য, ন্যায় এবং আদর্শের পথে চলার চেষ্টা করেছি। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে জানাতে বাধ্য হচ্ছি, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই আদর্শ ও বাস্তবতার মধ্যে যে গভীর ফারাক তৈরি হয়েছে, তা আর উপেক্ষা করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। বারবার অন্যায় ও  অবিচারের বিরুদ্ধে কথা বলেও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ না হওয়ায় আমি মানসিকভাবে অত্যন্ত ব্যথিত।’ এরপরই তার সংযোজন, ‘আমি কখনও আপোসের রাজনীতি করিনি, আর ভবিষ্যতেও করব না। আমার পিতার আদর্শ আমাকে শিখিয়েছে—অন্যায়ের সঙ্গে আপস নয়, সত্যের পথেই অটল থাকা। সেই কারণেই  আমি তৃণমূল কংগ্রেসের সকল পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করলাম। আমি মানুষের সঙ্গে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব—এটাই আমার অঙ্গীকার।’
বসিরহাটের সন্দেশখালির মানুষের কাছে আমি কৃতজ্ঞ : অভিষেক

সৌমাভ মন্ডল,বসিরহাট : বসিরহাটের সন্দেশখালি তৃণমূল প্রার্থী ঝর্না সর্দারের সমর্থনে বিশাল জনসভার আয়োজন করা হয় সন্দেশখালির সরবেড়িয়া মাঠে। তৃণমূলের বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার ডাকে সেই জনসভায় উপস্থিত ছিলেন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, বছর দুই আগে লোকসভা ভোটের আগে গোটা রাজ্য ও দেশের সামনে সন্দেশখালির নামে কুৎসা ও অপপ্রচার করে এক বিশৃঙ্খলা অবস্থা তৈরি করেছিল ভারতীয় জনতা পার্টি। তার জবাব বসিরহাট লোকসভা দিয়ে দিয়েছিল। এবারেও যদি মানুষ সঠিক ভোট প্রয়োগ করে তাহলে উত্তর ২৪ পরগণার ৩৩টি আসনের মধ্যে সন্দেশখালি ভোট মার্জিনে ফার্স্ট বয় হবে। লোকসভা ভোটের আগে আমি বসিরহাটে একটি সভা করতে এসেছিলাম সেই সভায় আমি মানুষের কাছ থেকে জানতে পেরেছিলাম যে বেশ কিছু মানুষের জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে। তাদের কথামতো ব্যবস্থা নিয়ে একশোর বেশি পরিবারকে জমি ফেরত দেওয়া হয়েছে সন্দেশখালিকে কালিমালিপ্ত করা হয়েছে। সন্দেশখালিকে কালিমালিপ্ত করার পর একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল যেখানে বিজেপির মন্ডল সভাপতি গঙ্গাধর কয়াল বিজেপির কেচ্ছা সব খুলে বলেছিল। কোথায় সেই গঙ্গাধর কয়াল? নিজেই বলেছিল টাকার বিনিময়ে এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছিল বিজেপি নেতৃত্ব। তাই এবার পঞ্চাশ হাজারেরও বেশি ভোটে জয়ী করতে হবে। সন্দেশখালি জুড়ে একাধিক উন্নয়ন হয়েছে। নদী বাঁধ হয়েছে। অপরদিকে সন্দেশখালি গ্রামীণ হাসপাতালের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। সেই গ্রামীণ হাসপাতালে একদিকে শয্যা বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি আধুনিক চিকিৎসা পরিষেবা সেখানে বরাদ্দ করা হয়েছে। অন্যদিকে, বেরমজুর-১ ও ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের সংযোগকারী ধুলিয়া খালের উপর সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। আর ঝর্ণা সর্দারকে জেতালে কালিনগর ও ন্যাজাটের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী বেতনী নদীর উপর ব্রিজ তৈরির কাজ খুব দ্রুতই অগ্রসর করার চিন্তাভাবনা রয়েছে আমাদের। এখানকার যিনি বিজেপি প্রার্থী হয়েছেন সেই সনৎ সর্দার তার নিজের ভাইয়ের বউকে বধূ নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত। যত চোর, চিটিংবাজ ও সমাজ বিরোধীরা বিজেপিতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। এ এক মাতালদের পার্টি। পুরুষোত্তম রামের পুজো আমরা শান্তিপূর্ণভাবে করি। কিন্তু রামনবমীর নামে বাংলা জুড়ে অশান্তি তৈরি করার চেষ্টা করছে এই সাম্প্রদায়িক দল। এই সনৎ সর্দারের জন্য ঝাঁটা তৈরি রাখবেন, সে ভোট চাইতে যাবে তাকে ঝাঁটা হাতে দিয়ে আগে নিজের ঘর পরিষ্কার করিয়ে নেবেন।
আগে জনগণ সরকার ঠিক করতো। এখন কে ভোট দেবে তা কমিশন ঠিক করছে। এই ধরনের দ্বিচারিতা মানুষ পছন্দ করবে না। বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি পাঁচটি অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন কেন্দ্র সরকার যতই টাকা আটকে রাখুক না কেন স্বনির্ভর বাংলা তৈরি করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে চেষ্টা করেছেন তা অতুলনীয়। তাই লক্ষ্মীর ভান্ডার কেউ আটকাতে পারবেনা। সারা রাজ্যজুড়ে পরিশ্রুত পানীয় জল প্রদান করা হবে। এই নির্বাচনে জয়ী হলে ব্লকে ব্লকে টাউনে টাউনে দুয়ারে সরকারের মত স্বাস্থ্য ক্যাম্পের আয়োজন করা হবে। আগামী ছয় মাসের মধ্যেই প্রবীনদের বার্ধক্য ভাতার টাকা পৌঁছে যাবে। পাশাপাশি যারা আবাসের জন্য আবেদন করেছেন তারা আবাস প্রকল্পের টাকাও পেয়ে যাবেন। কেন্দ্র টাকা না দিলেও আমরা স্বাস্থ্য সাথী পরিষেবা মানুষকে প্রদান করে আসছি। আয়ুষ্মান ভারতের প্রকল্প আমরা বাংলায় আসতে দিইনি। আমি ক্যামেরার সামনেই বলছি আমরা সেটাকে বাংলায় আসতে দিইনি। কারণ যার বাড়িতে মোবাইল থাকবে , যার বাড়িতে টিভি থাকবে, রেডিও থাকবে বা মোটরসাইকেল থাকবে তারা আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সুবিধা নিতে পারবেন না । তাই অধিকাংশ মানুষই এই প্রকল্প থেকে বঞ্চিত হবেন বলেই আমরা আয়ুষ্মান ভারতকে এ রাজ্যে রূপায়ণ করতে দিইনি। এদিনের এই জনসভায় উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার সভাপতি বুরহানুল মুকাদ্দিম লিটন, চেয়ারম্যান সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূলের সন্দেশখালি বিধানসভার কো-অর্ডিনেটর সুরজিৎ মিত্র বাদল, সন্দেশখালি ১নং ব্লকের তৃণমূলের সভাপতি ইমাম আলী গাজী ও ২নং ব্লকের সভাপতি দিলীপ মল্লিক সহ একাধিক তৃণমূল নেতৃত্ব ও জনপ্রতিনিধিরা।
নৈহাটীতে বঙ্কিম ভবনে রাজ্যপাল

প্রবীর রায়: রবিবার দুপুরে হঠাৎই উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটীর কাঁঠালপাড়ায় ঋষি বঙ্কিম ভবন পরিদর্শনে আসেন রাজ্যপাল আর এন রবি। তিনি সাহিত্য সম্রাটের জন্মভিটে, মিউজিয়াম ঘুরে দেখেন। সেখানে বঙ্কিম পরিবারের এক সদস্য শান্তনু চট্টোপাধ্যায় উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু অপর সদস্য সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। রাজ্যপাল বেরিয়ে যাওয়ার সময় সুমিত্র বাবু অভিযোগ করেন, তিনি একজন বঙ্কিমচন্দ্রের পরিবারের লোক হওয়া সত্বেও রাজ্য সরকার তাকে ঢুকতে দেয়নি। তিনি বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছেন। যদিও বঙ্কিম গবেষণা কেন্দ্রের কিউরেটর গৌতম সরকার বলেন, "সুমিত্র চট্টোপাধ্যায় একটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হয়েছেন। যেহেতু শিক্ষা দফতরের নির্দেশিকা রয়েছে রাজ্যপালের পরিদর্শনে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিকে ডাকা যাবে না।"
।। হিঙ্গলগঞ্জে বাসন্তী পুজোয় ঢাকের তালে মাতালেন তৃণমূল প্রার্থী ।।

বসিরহাট : বসিরহাটের হিঙ্গলগঞ্জে বাসন্তী পূজার আবহে রাজনীতি আর ধর্মীয় সম্প্রীতির এক অন্য ছবি ধরা পড়ল। বর্মন বাড়ির ঐতিহ্যবাহী বাসন্তী পূজায় উপস্থিত হয়ে নিজেই ঢাক বাজালেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী আনন্দ সরকার। প্রায় ৭২ বছরের পুরনো এই পুজো ঘিরে এলাকার মানুষের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো, আর সেই ভিড়ের মধ্যেই একেবারে সাধারণ মানুষের মতো মিশে গেলেন প্রার্থী। পুজো মণ্ডপে ঢুকেই প্রথমে দেবীর আরাধনায় অংশ নেন তিনি। তারপর ঢাকিদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেই ঢাক হাতে তুলে নেন। তার এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ঘিরে উপস্থিত মানুষদের মধ্যে বাড়তি উচ্ছ্বাস দেখা যায়। কেউ মোবাইলে সেই মুহূর্ত বন্দি করেন, কেউ আবার এগিয়ে এসে সরাসরি কথা বলেন প্রার্থীর সঙ্গে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হিঙ্গলগঞ্জের বর্মন বাড়ির এই বাসন্তী পূজা দীর্ঘ ৭২ বছরের ঐতিহ্য বহন করছে। প্রতি বছরই দূরদূরান্ত থেকে মানুষ এখানে আসেন। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে এবারের বিশেষ আকর্ষণ হয়ে ওঠেন আনন্দ সরকার নিজে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আনন্দ সরকার জানান, তিনি সব ধর্মের অনুষ্ঠানেই নিজেকে যুক্ত রাখতে পছন্দ করেন। ধর্মীয় সম্প্রীতির বার্তা দিতেই তিনি বিভিন্ন জায়গায় উপস্থিত থাকেন। হাসনাবাদের বাসন্তী পূজাতেও তিনি অংশ নিয়েছিলেন বলে জানান। পাশাপাশি তিনি বলেন, তার নিজস্ব উদ্যোগে একটি মডেল কেন্দ্র রয়েছে, যেখানে নিয়মিত ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বর্মন পরিবারের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। বিশেষ করে তার ছোট ভাই সুরজিৎ বর্মনের বাড়িতে এই পূজোয় এসে তিনি আপ্লুত বলে জানান। দীর্ঘদিন ধরে এই পূজা যেভাবে ঐতিহ্য বজায় রেখে হয়ে আসছে, তা তার কাছে বিশেষ আনন্দের বিষয়। নবমীর এই উৎসবমুখর দিনে রাজনীতির গণ্ডি ছাড়িয়ে একেবারে মানুষের কাছাকাছি পৌঁছানোর চেষ্টা করলেন আনন্দ সরকার। ঢাকের তালে, পূজোর আবহে আর সাধারণ মানুষের ভিড়ে মিলেমিশে গেল রাজনৈতিক পরিচয়। সামনে উঠে এল এক ভিন্ন ছবি, যেখানে প্রাধান্য পেল অংশগ্রহণ আর সম্প্রীতির বার্তা।
তৃণমূলের কর্মীসভা থেকে বিরোধী বিজেপিকে চাঁচাছোলা আক্রমণ মুফতি আব্দুল মাতিনের

*সৌমাভ মন্ডল,বসিরহাট :* উত্তর ২৪ পরগনার হাড়োয়া বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। সেই আবহেই তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে বিশিষ্ট সমাজসেবী মুফতি আব্দুল মাতিনকে সামনে রেখে জোরকদমে প্রচার শুরু করেছে শাসক দল। হাড়োয়া বিধানসভার গোপালপুর ২নং গ্রাম পঞ্চায়েতের আমতা বাজারে আয়োজিত এক কর্মীসভা থেকে বিরোধী বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান তিনি। কর্মীসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মাতিন বলেন, "সাধারণ মানুষের উন্নয়নই তার একমাত্র লক্ষ্য।" দীর্ঘদিন ধরে এলাকার পড়ুয়াদের পাশে থেকে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, তৃণমূল কংগ্রেস সরকার যেভাবে গ্রামীণ উন্নয়ন, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে, তা অন্য কোনও দল করতে পারেনি। বিজেপিকে কটাক্ষ করে তিনি অভিযোগ করেন, তারা শুধুমাত্র বিভাজনের রাজনীতি করে, উন্নয়নের কোনও রূপরেখা তাদের নেই। এদিনের সভায় উপস্থিত তৃণমূল নেতৃত্বও একই সুরে বিজেপির সমালোচনা করেন। তৃণমূলের হাড়োয়া ১ ব্লকের সভাপতি শফিক আহমেদ বলেন, "রাজ্যে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে তৃণমূল কংগ্রেসই একমাত্র ভরসা।" অন্যদিকে, হাড়োয়া ১ নম্বর ব্লকের যুব সাধারণ সম্পাদক তথা গোপালপুর ২ অঞ্চলের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আমিন বুলবুল দাবি করেন, যুব সমাজের বড় অংশ এখন তৃণমূলের পাশে দাঁড়িয়েছে। সভায় উপস্থিত ছিলেন গোপালপুর ২নং অঞ্চল তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল মন্ডল এবং অঞ্চল যুব সভাপতি কামারুল সরদার। তাদের বক্তব্যেও উঠে আসে সংগঠনকে শক্তিশালী করে বুথ স্তরে লড়াই জোরদার করার আহ্বান। সমগ্র কর্মীসভা জুড়ে কর্মীদের মধ্যে ছিল স্পষ্ট উচ্ছ্বাস ও আত্মবিশ্বাস। নির্বাচনের আগে এই ধরনের ধারাবাহিক সভা ও জনসংযোগের মাধ্যমে তৃণমূল কংগ্রেস হাড়োয়ায় নিজেদের সংগঠন আরও মজবুত করতে চাইছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
।। রবিবার সন্দেশখালিতে আসছেন অভিষেক, তার আগে হেলিকপ্টারের ট্রায়াল ।।

বসিরহাট : সন্দেশখালী বিধানসভা কেন্দ্রে আসন্ন জনসভাকে ঘিরে জোর প্রস্তুতি শুরু করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। আগামী ২৯ মার্চ রবিবার সরবেড়িয়া হাইস্কুল মাঠে তৃণমূল প্রার্থী ঝর্ণা সর্দারের সমর্থনে এই জনসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই সভায় উপস্থিত থাকার কথা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়ের। তার আগমনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতিতে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। সভাস্থলের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এদিন হেলিপ্যাডে হেলিকপ্টার ট্রায়াল সম্পন্ন হয়। ট্রায়াল শেষে হেলিপ্যাড এবং সংলগ্ন এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হয় এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশ দেওয়া হয় সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের।
প্রশাসন ও দলীয় নেতৃত্বের সমন্বয়ে সভাকে ঘিরে যাবতীয় প্রস্তুতি দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা থেকে শুরু করে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ সব দিকেই নজর রাখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে জানানো হয়েছে, এই জনসভাকে সফল করতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং ব্যাপক জনসমাগমের আশা করা হচ্ছে।
।। মানবিকতার অনন্য নজির মুফতি আব্দুল মাতিনের ।।
বসিরহাট : ভোটের প্রচারের ব্যস্ততার মাঝেই মানবিকতার নজির গড়লেন হাড়োয়া বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী তথা সমাজসেবী মুফতি আব্দুল মাতিন। এদিন একটি বিশেষ বৈঠকে যোগ দিতে যাওয়ার পথে বোয়ালঘাটা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা নজরে আসে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মাল বোঝাই একটি ভ্যান ব্রিজের ঢাল বেয়ে উঠতে গিয়ে সমস্যায় পড়ে। ভ্যানচালক একাধিকবার চেষ্টা করেও গাড়িটি তুলতে ব্যর্থ হন। সেই সময় ঘটনাস্থলের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন মাতিন। পরিস্থিতি দেখে তিনি সঙ্গে সঙ্গে নিজের গাড়ি থামিয়ে নেমে পড়েন এবং কোনও রকম দ্বিধা না করেই ভ্যানটি ঠেলে তুলতে সাহায্য করেন। পরে আশেপাশের কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দাও এগিয়ে আসেন। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ভ্যানটি ব্রিজের ওপর ওঠানো সম্ভব হয়।
এই ঘটনায় এলাকায় চর্চা শুরু হয়েছে। অনেকেই বলছেন, নির্বাচনী আবহে এই ধরনের আচরণ প্রার্থীর সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযোগ এবং তার মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিরই প্রতিফলন। রাজনৈতিক কর্মসূচির ফাঁকেও এভাবে সমস্যায় পড়া একজন সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন বাসিন্দারা।
উল্লেখ্য, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে হাড়োয়া কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন মুফতি আব্দুল মাতিন। তাকে প্রার্থী করায় দলের শীর্ষ নেতৃত্ব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করছেন তার সমর্থকরা। নির্বাচনের আগে এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও জল্পনা তৈরি হয়েছে।
প্রচার *ব্যারাকপুর বিধানসভা কেন্দ্র*
*প্রবীর রায়* : আবার একটা ভোট। প্রার্থীদের বড় দায় ভোটারদের সাথে দেখা করা।তাই সকাল থেকেই বেরিয়ে পড়তে হচ্ছে প্রচারে। শুক্রবার এই রকমই ব্যারাকপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ভোট প্রচার করতে দেখা গেল ব্যারাকপুর বিধানসভার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী রাজ চক্রবর্তীকে।তার সাথে উপস্থিত ছিলেন ব্যারাকপুর পৌরসভার পৌর প্রধান উত্তম দাস, উপ-পৌরপ্রধান সুপ্রভাত ঘোষ, পৌর পারিষদ সদস্য নওশাদ আলম,২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সম্রাট তাপাদার সহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে পৌরপিতা ও পৌর মাতারা।
অন্যদিকে, এদিন প্রচারের বেরিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী কৌস্তুভ বাগচী। তবে তার দলের কর্মীরা সংখ্যা বহরে ছোট।
ব্যারাকপুর বিধানসভার বিজেপি প্রার্থীর রামনবমী উদযাপন
নিজস্ব প্রতিনিধি: আজ রায় নবমীর বিশেষ তিথি উৎযাপিত হচ্ছে রাজ্য।তার মধ্যে এবার বিধানসভা নির্বাচন।সব দলই হিন্দুত্ব প্রমাণে ব্যস্ত।তার মধ্যে বিশেষ ভাবে সক্রিয় বিজেপি। উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী হয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী কৌস্তুভ বাগচী। এদিন ব্যারাকপুরে শ্রীরামনবমী উদযাপন সমিতির পক্ষ থেকে ব্যারাকপুর লালকুঠি উড়ালপুলের নিচ থেকে আয়োজিত হল শোভাযাত্রা। এদিনের শোভাযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন ব্যারাকপুর বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী কৌস্তব বাগচী সহ অন্যান্য বিজেপি নেতৃত্ব। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া প্রহরায় নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হল এই শোভাযাত্রা।

ছবি: প্রবীর রায়।
খেলা

আজ থেকে শুরু হল সিএবি মহিলা ক্লাব ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২৫-২৬ এর তৃতীয় সংস্করণের খেলা। ছবি: সৌজন্যে সিএবি