দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার অবস্থা বেহাল, প্রতিবাদে টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ বসিরহাট দক্ষিণ বিধানসভায়
বসিরহাট : বসিরহাট দক্ষিণ বিধানসভার হাসনাবাদে দীর্ঘদিন ধরে বেহাল রাস্তার সমস্যাকে কেন্দ্র করে অবশেষে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন এলাকার বাসিন্দারা। বুধবার শহর হাসনাবাদের বিনোদ কলোনিতে হাসনাবাদ থেকে টাকি যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে ও গাছের গুড়ি ফেলে পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় গ্রামবাসীরা। দীর্ঘক্ষণ ধরে এই বিক্ষোভের জেরে সম্পূর্ণভাবে থমকে যায় যান চলাচল, ভোগান্তিতে পড়েন নিত্যযাত্রী ও পথচারীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হাসনাবাদ থেকে টাকি যাওয়ার এই রাস্তা দীর্ঘ চার বছর ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। কোথাও বড় বড় গর্ত, কোথাও আবার রাস্তার পিচ উঠে গিয়ে মাটির রাস্তার মতো হয়ে গিয়েছে। ফলে প্রতিদিন স্কুল পড়ুয়া, কর্মজীবী মানুষ, বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের নিয়ে যাওয়া পরিবার, সবাইকে চরম সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। গর্তে জল জমে থাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে যায় বলেও অভিযোগ বাসিন্দাদের।
বিক্ষোভে সামিল স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার এই করুণ অবস্থার কথা বারবার প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। বিশেষ করে বসিরহাট দক্ষিণের বিধায়ক ডাঃ সপ্তর্ষি বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়কে একাধিকবার বিষয়টি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ তাদের। এলাকাবাসীদের কথায়, ভোটের সময় বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু হয়নি, যার ফলে প্রতিদিনই ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
এই পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভে সামিল হন। টায়ার জ্বালিয়ে পথ অবরোধ করায় এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং দীর্ঘক্ষণ ধরে যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিক্ষোভস্থলে আসেন টাকি পৌরসভার উপ-পৌরপ্রধান ফারুক গাজী। তিনি বিক্ষোভরত বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দ্রুত রাস্তা সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। তার আশ্বাসের পরেই অবশেষে বিক্ষোভ তুলে নেন এলাকাবাসীরা এবং স্বাভাবিক হয় যান চলাচল। বিষয়টি নিয়ে টাকি পৌরসভার উপ-পৌরপ্রধান ফারুক গাজী বলেন, "এই রাস্তার কাজ অনেকটাই হয়ে গিয়েছে। অম্রুত প্রকল্পের কাজের জন্য একাধিক রাস্তার পাশে মাটি খুঁড়ে পাইপ বসানোর কাজ চলছে‌। তাই রাস্তার কাজ সঠিক ভাবে করা যাচ্ছে না। পাইপ বসানোর কাজ সম্পন্ন হলেই রাস্তার কাজ শেষ করা হবে।" দ্রুত কাজ শুরু না হলে আগামী দিনে আরও বড় আন্দোলনের পথে হাঁটবেন বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয় মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক কবে সংস্কার হবে, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় হাসনাবাদের মানুষ। বিষয়টি নিয়ে বসিরহাট দক্ষিণের বিধায়ক ডাঃ সপ্তর্ষি বন্দ‍্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
সীমান্তে বিপুল পরিমাণ জাল টাকা সহ গ্রেফতার ১

বসিরহাট : সীমান্তে ৩১,০০০ টাকার জাল ভারতীয় নোট সহ এক যুবক পুলিশের জালে। ঘটনাটি বসিরহাটের স্বরূপনগর থানার গোয়ালদাহ এলাকায় ঘটেছে। উদ্ধারকৃত টাকার মধ্যে ৫০০ ও ২০০ টাকার নোট রয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে সীমান্তে ওই জাল টাকা ছড়ানোর চেষ্টা চলছিল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকেই অভিযুক্তকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে। ধৃত আলি আসাদ মণ্ডল। সে বসিরহাট থানার পাইকারডাঙ্গার বাসিন্দা। ধৃতকে বুধবার বসিরহাট আদালতে তোলা হয়।
গ্রীষ্মের আগেই শুকিয়ে গেল সুন্দরবনের নদী, পায়ে হেঁটে পারাপার সাধারণ মানুষের
সৌমাভ মন্ডল,বসিরহাট : শুকিয়ে যাওয়া কাটাখালি নদী, পায়ে হেঁটে পারাপার হাসনাবাদের মানুষের। বসিরহাটের সুন্দরবনের হাসনাবাদ ব্লকের কাটাখালি নদী আজ প্রায় জলশূন্য। একসময় প্রবাহমান এই নদী ছিল এলাকার মানুষের যাতায়াত ও জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। স্থানীয়দের স্মৃতিতে এখনও ভাসে সেই সময়, যখন নদী ভর্তি জলে সারা বছরই ছিল প্রাণচাঞ্চল্য। কিন্তু এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। নদীর বুক জুড়ে বালুচর, আর সেই শুকিয়ে যাওয়া নদীই পারাপারের রাস্তা হয়ে উঠেছে।
জল না থাকায় অনেক জায়গায় মানুষ সরাসরি পায়ে হেঁটে নদী পার হচ্ছেন। কোথাও আবার বাঁশ ফেলে অস্থায়ী পথ তৈরি করা হয়েছে। সেই পথ ধরেই সাইকেল ও মোটরবাইক নিয়ে যাতায়াত করছেন এলাকাবাসীরা। ফলে নদী থাকলেও তার স্বাভাবিক অস্তিত্ব যেন হারিয়ে যেতে বসেছে। হাসনাবাদের ভবানীপুর অঞ্চলের দ্বীপাঞ্চলে লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। ইতিহাস বলছে, ব্রিটিশ আমলে হাসনাবাদ থেকে ভবানীপুরের যোগাযোগ সহজ করতে ইছামতী ও ডাঁসা নদীর মাঝামাঝি একটি খাল কাটা হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে সেই খালই কাটাখালি নদী হিসেবে পরিচিতি পায়।
ভৌগোলিকভাবে ভবানীপুর দ্বীপটি বিদ্যাধরী, ডাঁসা, বেতনি এবং কাটাখালি—এই চার নদী দ্বারা বেষ্টিত। দ্বীপের এক প্রান্তে রয়েছে শুলকুনি ফেরিঘাট, যেখান থেকে বেদেমারি, ভোলাখালি ও পারভবানীপুর হয়ে মডেলবাজার এবং সন্দেশখালির কালীনগর এলাকায় যাতায়াত করেন বহু মানুষ। কিন্তু বর্তমানে কাটাখালি নদীর অধিকাংশ সময়ই জলশূন্য হয়ে পড়ে থাকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীর পাড়ে গাছ কাটা এবং বিভিন্নভাবে নদীর স্বাভাবিক গতিপথে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় নদীর নাব্যতা দ্রুত কমছে। এর ফলে পরিবেশের ভারসাম্যও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এলাকার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি, সমস্যার স্থায়ী সমাধানে একটি সেতু নির্মাণ করা হোক। পাশাপাশি নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে খনন কাজের পাশাপাশি নদীর পাড়ে ম্যানগ্রোভ গাছ লাগানোর মতো উদ্যোগ নেওয়ারও প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। সুন্দরবনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার স্বার্থে কাটাখালি নদীকে আবার তার স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।
পিস্তল ও গুলি সহ ২ কুখ্যাত দুষ্কৃতি পুলিশের জালে
বসিরহাট : অস্ত্র ও গুলি সহ দুই কুখ্যাত দুষ্কৃতী গ্রেপ্তার। অভিযুক্ত শাহিনুর জামান বিশ্বাস এবং ইসমাইল মণ্ডলকে বসিরহাট থানার ময়লাখোলা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গোপন সূত্রে খবরের ভিত্তিতে, বসিরহাট থানার পুলিশ মঙ্গলবার গভীর রাতে একটি গোপন আস্তানা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে। দু'জনের বিরুদ্ধেই বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার একাধিক মামলা রয়েছে। পুলিশ দীর্ঘদিন ধরেই তাদের সন্ধান করছিল। বুধবার ধৃতদের বসিরহাট আদালতে তোলা হয়।
সম্প্রীতির অনন্য নজির, কয়েক হাজার হিন্দু-মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে সারলেন ইফতার

সৌমাভ মন্ডল, বসিরহাট: উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটে ইফতার মাহফিল ঘিরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল নজির গড়ে উঠল। হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের মিলিত উপস্থিতিতে সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা ছড়িয়ে পড়ল গোটা এলাকায়। উত্তর ২৪ পরগণা জেলা পরিষদের খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ সাহানুর মণ্ডলের ব্যবস্থাপনায় বসিরহাট ১নং ব্লকের নিমদাঁড়িয়া-কোদালিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের পাতিলাচন্দ্র বেদিয়াপোতা ফুটবল ময়দানে এই বিশাল ইফতার পার্টির আয়োজন করা হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত এই ইফতার মাহফিলে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু মানুষ যোগ দেন। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এলাকার বাসিন্দারা একসঙ্গে বসে ইফতার করেন। ইফতারের টেবিলে যেমন মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ ছিলেন, তেমনি উপস্থিত ছিলেন বহু হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষও। একে অপরের পাশে বসে ইফতার গ্রহণের মাধ্যমে সম্প্রীতির এক অনন্য পরিবেশ তৈরি হয় গোটা ময়দান জুড়ে।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে ইফতারের জন্য খেজুর, ফল, শরবত সহ বিভিন্ন খাদ্যের ব্যবস্থা করা হয়। ইফতারের নির্দিষ্ট সময় ঘনিয়ে আসতেই মাঠে উপস্থিত মানুষের মধ্যে এক আলাদা আবহ তৈরি হয়। আজানের সঙ্গে সঙ্গে সকলে একসঙ্গে ইফতার করেন। ধর্মীয় আচার পালনের পাশাপাশি মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির ছবি ধরা পড়ে এই অনুষ্ঠানে।

এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে উত্তর ২৪ পরগণা জেলা পরিষদের খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ সাহানুর মণ্ডল বলেন, "বাংলা চিরকালই সম্প্রীতির পীঠস্থান। এখানে হিন্দু-মুসলিম সকলেই মিলেমিশে বসবাস করেন। এই ইফতার মাহফিলের মাধ্যমে আমরা সেই বার্তাকেই আরও শক্তিশালী করতে চাই। ধর্ম যার যার, কিন্তু উৎসব সবার—এই ভাবনাকেই সামনে রেখে আমরা সবাই একসঙ্গে ইফতারে অংশগ্রহণ করেছি।"

তিনি আরও বলেন, "সমাজে বিভাজনের রাজনীতি নয়, বরং ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্যের পরিবেশ বজায় রাখাই আমাদের লক্ষ্য। এমন অনুষ্ঠান মানুষকে আরও কাছাকাছি নিয়ে আসে এবং পারস্পরিক সম্পর্ককে মজবুত করে।" এদিনের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার চেয়ারম্যান সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায়, বসিরহাট দক্ষিণ বিধানসভার কো-অর্ডিনেটর সুরজিৎ মিত্র বাদল ও বসিরহাট ১নং ব্লকের তৃণমূলের সভাপতি সরিফুল মন্ডল সহ একাধিক নেতৃত্ব ও জনপ্রতিনিধিরা। স্থানীয় বাসিন্দারাও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, এই ধরনের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মানুষে মানুষে দূরত্ব কমে এবং সমাজে সম্প্রীতির পরিবেশ আরও দৃঢ় হয়। ইফতার মাহফিলকে ঘিরে এলাকায় উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছিল, যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে ধরা দিল বসিরহাটে।

বিদ্যালয়ের মিড ডে মিলের রান্না চলাকালীন ছাদের চাঙড় ভেঙে পড়ে আহত রাধুনী

বসিরহাট : উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের হাসনাবাদ ব্লকের পাটলিখানপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের জয়গ্রাম প্রপার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিনের ভগ্নদশার জেরে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটলো মঙ্গলবার দুপুরে। ওই সময় বিদ্যালয়ের রান্নাঘরে মিড ডে মিলের রান্নার কাজ চলছিল। আচমকাই রান্নাঘরের ছাদের চাঙর ভেঙে পড়ে রাঁধুনি আয়েশা সরদারের মাথায়। ঘটনায় গুরুতর জখম হন তিনি।ঘটনার পরপরই বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা দ্রুত আহত রাঁধুনিকে উদ্ধার করে টাকি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান এবং সেখানে ভর্তি করানো হয়। হঠাৎ এই দুর্ঘটনায় বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। একই সঙ্গে উদ্বেগ বাড়ে অভিভাবকদের মধ্যেও।স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যালয় ভবনটি ভগ্নদশায় পড়ে রয়েছে।
সারদা কেলেঙ্কারিতে গঠিত বিচারপতি শ্যামল সেন কমিশনের আর্থিক হিসেবের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনার নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের

নিজস্ব প্রতিনিধি: সারদা কেলেঙ্কারিতে রাজ্যের গঠিত বিচারপতি শ্যামল সেন কমিশনের আর্থিক হিসেব নিকেষ সহ যাবতীয় রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনার নির্দেশ দিলো কলকাতা হাইকোর্ট। ফলে ওই কমিটি বন্ধের প্রায় ১২ বছর পর এবার সারদার বিস্তারিত তথ্য, নথি ও আর্থিক হিসেব নিকেষ প্রকাশ্যে আস্তে চলছে। প্রায় এক দশক আগে বিচারপতি সেন কমিশন, রাজ্যের ঘোষিত ৫০০ কোটির তহবিল থেকে প্রায় ২২৫ কোটি টাকা ফেরত দেয় আমানতকারীদের। সেই কমিশন রাজ্য বন্ধ করার পর তহবিলে থাকা টাকা ও যাবতীয় হিসেব নিকেষ কমিশন রাজ্যের কাছে পাঠিয়ে দেয়। তার প্রতিলিপি জমা পরে হাইকোর্টের কাছেও। কিন্তু তারপরে আর সেই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনেনি হাইকোর্ট। এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনার জন্য মামলাও হয়েছিল। এবার বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চ হাইকোর্টের হাতে থাকা ওই রিপোর্ট মামলার সব পক্ষকে দেওয়ার নির্দেশ দিল। আমানতকারীদের আইনজীবী শুভাশীষ চক্রবর্তী ও অরিন্দম দাস বলেন, এতদিনে ওই রিপোর্ট প্রকাশ্যে এলে সারদা সংক্রান্ত শ্যামল সেন কমিশনের যাবতীয় বক্তব্য, পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ প্রকাশ্যে আসবে। সেই ক্ষেত্রে নতুন করে এই রিপোর্ট নিয়ে অগ্রসর হওয়া যাবে। এদিন ডিভিশন বেঞ্চ চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে চিটফান্ডের মামলাগুলিতে সিবিআই ও ইডি র আইনজীবী না থাকা নিয়ে।বিচারপতি ভরদ্বাজের ক্ষোভ, চিটফান্ডের যাবতীয় কোম্পানির তদন্ত এই দুই সংস্থার হাতে। এদের যাবতীয় হিসেবের নথিও এই দুই সংস্থার কাছে। অথচ লক্ষ্য করছি, ৯০ শতাংশ চিটফান্ডের মামলায় এই দুই এজেন্সির আইনজীবী গরহাজির থাকছেন। কেন্দ্রের এক আইনজীবীকে সতর্ক করে আদালতের নির্দেশ, এই গরহাজিরা নিয়ে অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল কে জানান। এরপর এই ভাবে চললে, আমি পদক্ষেপ করতে বাধ্য হবো।
দক্ষিণেশ্বরে পুজো দিলেন জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার

প্রবীর রায়: গত রবিবারই রাজ্যে এসেছেন জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সহ নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ।এর আগে জ্ঞানেশ কুমার পুজো দিয়েছেন কালীঘাট মন্দিরে। মঙ্গলবার দক্ষিণেশ্বরে পুজো দিলেন তিনি। তবে এদিন কালীঘাটের ঘটনার পুনরায়বৃত্তৃ হল।এদিনও জাতীয় নির্বাচন কমিশনারকে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিতে দেখা গেল মন্দিরের সামনে কালো পতাকা হাতে কিছু মানুষকে।এরা এখানে সকাল থেকেই দাঁড়িয়ে ছিল। কাছেই পুলিশ দাঁড়িয়ে থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এত মানুষের জমায়েত হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

দাঁড়িয়ে থাকা বিক্ষোভকারীরা এদিন বলতে থাকেন, ‘যেভাবে ষড়যন্ত্র করে সাধারণ মানুষকে হেনস্থা করছে, যেভাবে এত মানুষের মৃত্যু হয়েছে, তার প্রতিবাদেই আজ এই বিক্ষোভ।’ নিজেদের সাধারণ মানুষ বলে দাবি করেন ওই বিক্ষোভকারীরা।

ছবি: সৌজন্যে ECI & প্রবীর রায়।

হাসনাবাদে এসআইআরের বিরুদ্ধে তৃণমূলের প্রতিবাদ সভায়মহিলাদের উপস্থিতিতে চোখ পড়ার মতো
*সৌমাভ মন্ডল,বসিরহাট :* এসআইআর ইস্যুকে কেন্দ্র করে সুন্দরবনের হাসনাবাদ এলাকায় প্রতিবাদে সরব হল শাসকদল। বসিরহাটের সুন্দরবনের হাসনাবাদ ব্লকের পাটলিখানপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ঘুনী আদর্শ হাই স্কুলের প্রাঙ্গণে পাটলিখানপুর অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের সৌজন্যে আয়োজিত হয় এক প্রতিবাদ সভা। সভায় এলাকার বিভিন্ন গ্রাম থেকে বহু দলীয় কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত হন। বিশেষ করে মহিলাদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি এদিনের সভায় নজর কেড়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এসআইআর সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে এই প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, পরিকল্পিতভাবে মানুষের অধিকার খর্ব করার চেষ্টা চলছে এবং সেই কারণেই মানুষের পাশে দাঁড়াতে ও তাদের সচেতন করতে এই সভার আয়োজন করা হয়েছে। এই সভায় উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের হাসনাবাদ ১ন‌ং ব্লক সভাপতি আনন্দ সরকার, হাসনাবাদ ১ ব্লকের আইএনটিটিউসি সহ-সভাপতি ওয়াসিম গায়েন, ব্লক মহিলা তৃণমূল সভাপতি অঞ্জনা মন্ডল, পাটলীখানপুর অঞ্চল কনভেনার মুকুল গায়েন, প্রাক্তন অঞ্চল সভাপতি আব্দুর রহিম গাজী ও পাটলীখানপুর পঞ্চায়েতের প্রধান প্রতিনিধি কাদের গাজী সহ ব্লক ও অঞ্চল স্তরের একাধিক নেতৃত্ব। সভামঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আনন্দ সরকার বলেন, "এসআইআরের নামে যে চক্রান্ত চলছে তা কোনওভাবেই সাধারণ মানুষ মেনে নেবে না। মানুষের ভোটাধিকার ও নাগরিক অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেস সবসময় মানুষের পাশে থেকেছে এবং আগামী দিনেও মানুষের অধিকার রক্ষার লড়াই চালিয়ে যাবে।" তিনি আরও বলেন, "সুন্দরবনের মানুষ সচেতন। তারা বুঝতে পারছে কারা তাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। তাই গ্রাম থেকে গ্রাম মানুষের মধ্যে সত্যিটা তুলে ধরতেই এই প্রতিবাদ সভা করা হচ্ছে।"
সভায় উপস্থিত অন্যান্য নেতৃত্বরাও একই সুরে কেন্দ্র ও বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেন। তাদের বক্তব্য, সাধারণ মানুষের স্বার্থে এবং গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার প্রশ্নে তৃণমূল কংগ্রেস রাস্তায় নেমে আন্দোলন চালিয়ে যাবে। সুন্দরবনের মতো প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের অধিকার নিয়ে কোনও রকম রাজনীতি সহ্য করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
এদিনের সভায় এলাকার বহু মহিলা অংশগ্রহণ করেন। স্থানীয় মহিলাদের বক্তব্য, তাদের পরিবার ও এলাকার মানুষের অধিকার রক্ষার প্রশ্নে তারা এই আন্দোলনের সঙ্গে রয়েছেন। সভা জুড়ে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতিতে প্রাঙ্গণ ছিল জমজমাট। সভা থেকে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনের ইঙ্গিতও দেন নেতৃত্বরা। তাদের দাবি, মানুষের অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে সুন্দরবনের মানুষকে সঙ্গে নিয়েই এই প্রতিবাদ কর্মসূচি আরও জোরদার করা হবে।
खेत में ले जाकर किशोरी से सामूहिक दुष्कर्म, दो आरोपियों के खिलाफ केस दर्ज


लखनऊ /मथुरा । यूपी के मथुरा जिले के नौहझील थाना क्षेत्र के एक गांव में एक किशोरी के साथ सामूहिक दुष्कर्म की दिल को झकझोर देने वाली घटना सामने आई है। आरोप है कि दो युवकों ने किशोरी को खेत में ले जाकर बंधक बनाकर उसके साथ दुष्कर्म किया। पीड़िता की तहरीर पर पुलिस ने दोनों नामजद आरोपियों के खिलाफ मुकदमा दर्ज कर मामले की जांच शुरू कर दी है।

आरोपियों ने किशोरी के बांध दिये थे हाथ और पैर

जानकारी के अनुसार यह घटना 6 मार्च की शाम करीब साढ़े छह बजे की बताई जा रही है। पीड़िता अपने सात वर्षीय छोटे भाई के साथ गांव के पास जंगल की ओर गई थी। आरोप है कि इसी दौरान पहले से घात लगाए बैठे गांव के ही युवक दीपक ने किशोरी को पकड़ लिया और जबरन घसीटते हुए पास के एक खेत में ले गया, जहां उसने उसके साथ दुष्कर्म किया।इसी बीच गांव का ही एक अन्य युवक विकास भी वहां पहुंच गया और उसने भी किशोरी के साथ दुष्कर्म किया। पीड़िता ने किसी तरह वहां से भागने की कोशिश की तो आरोपियों ने उसके पैर बांध दिए ताकि वह भाग न सके।

ग्रामीण को देखकर आरोपी हो गए फरार

बताया जा रहा है कि इसी दौरान वहां से गुजर रहे एक ग्रामीण को देखकर दोनों आरोपी घबरा गए और मौके से फरार हो गए। आरोपियों के भागने के बाद पीड़िता ने किसी तरह अपने हाथ-पैर खोले और बदहवास हालत में घर पहुंची। घटना के बाद वह बुरी तरह डरी और सहमी हुई थी।बताया गया कि अगले दिन शनिवार को किशोरी ने हिम्मत जुटाकर अपनी मां को पूरी घटना की जानकारी दी। बेटी की आपबीती सुनकर परिजन स्तब्ध रह गए। इसके बाद रविवार को परिजन पीड़िता को लेकर थाने पहुंचे और आरोपियों के खिलाफ तहरीर दी।

पुलिस ने मुकदमा दर्ज कर शुरू कर दी जांच

पुलिस ने पीड़िता की तहरीर के आधार पर दोनों नामजद आरोपियों के खिलाफ मुकदमा दर्ज कर लिया है। क्षेत्राधिकारी संदीप कुमार सिंह ने बताया कि मामले में केस दर्ज कर जांच शुरू कर दी गई है और आरोपियों की तलाश की जा रही है। पुलिस का कहना है कि जल्द ही आरोपियों को गिरफ्तार कर लिया जाएगा।