নোয়াপাড়ার বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিং
প্রচার


প্রবীর রায়: বিধানসভার নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা চলছে।তার মধ্যেই চলছে প্রার্থীদের জোর কদমে প্রচার। কেউই এক মিনিট সময় নষ্ট করতে নারাজ। রবিবার সন্ধ্যা জনসংযোগ করলেন উত্তর ২৪ পরগনার নোয়াপাড়ার  বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিং। প্রচারে দেখা গেল মানুষের উচ্ছ্বাস। অনেকেই মালা পরিয়ে ফুল ছরিয়ে সম্বর্ধনা দিলেন তাকে। তবে তাদের একটি প্রশ্ন ভোট ঠিকঠাক দিতে পারব তো? এই বিষয়ে সাংবাদিকের মুখোমুখি হয়ে অর্জুন সিং বলেন," নিশ্চয়ই পারবেন"।
সমস্ত পদ থেকেই ইস্তফা দিলেন বারাসাতের প্রাক্তন বিজেপির সভাপতি তাপস মিত্র

নিজস্ব প্রতিনিধি: বিজেপির প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর থেকেই বারাসাতের বিজেপি প্রার্থী নিয়ে অসন্তোষ ছিল। বারাসতের সাংগঠনিক জেলার প্রাক্তন সভাপতি তথা রাজ্য কমিটির সদস্য তাপস মিত্র রবিবার সমস্ত পদ থেকে দিলেন।বারাসাতের প্রার্থী পরিবর্তন করতে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সভাপতির কাছে চিঠিও দিয়েছিলেন তিনি।কিন্তু সুরাহা কিছু না হওয়ায় শেষে দল পরিচালনায়  রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যর বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলে রবিবার বিজেপির সমস্ত পদ থেকে ইস্তফার কথা ঘোষণা করলেন তাপস মিত্র।শুধু তাই নয়,ইস্তফার পরেই এদিন রীতিমত সাংবাদিক সম্মেলন করে রাজ্য সভাপতির সর্বক্ষণের সঙ্গী বারাসাতের সুবীর শীলের বেহিসেবী অর্থ,গাড়ি ও সম্পত্তি নিয়ে সি বি আই ও ই ডি তদন্তের দাবিও করেছেন তাপস।এবারের বিধানসভা নির্বাচনে দলের অনেক প্রাক্তন সভাপতিদের টিকিট  দিয়েছে বিজেপি।সেই তালিকায় রয়েছে বনগাঁর দেবদাস মন্ডল, বারাসাতের শংকর চট্টোপাধ্যায়।শংকর ২০২১ এর নির্বাচনেও পরাজিত হয়েছিলেন।এবার বারাসাত কেন্দ্রের পদ্মফুলের প্রার্থীর দাবিদার ছিলেন তাপস মিত্র। ২০২১ এর ২৫ ডিসেম্বর বারাসাত সাংগঠনিক জেলার সভাপতিও হন তাপস।কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দল তাঁকে সরিয়ে দিয়েছিল।অপমানিত হয়েও আর এস এসের তাপস বিজেপির সঙ্গেই ছিলেন।কিন্তু এবার বারাসাত থেকে তাঁকে প্রার্থী না করায় বেজায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন দলের বিরুদ্ধেই।তবুও মধ্যমগ্রামের প্রার্থী দেওয়া পর্যন্ত অপেক্ষাতেই ছিলেন।সেখানে রাজু বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী হওয়ার পর রবিবার রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সভাপতির কাছে মেইল করে নিজের ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন তাপস।
তবে,এদিন অবশ্য বারাসাত থেকে নির্দল প্রার্থী হওয়ার কথা বলেন নি তিনি।তবে,বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গিয়েছে,তাপস ইতিমধ্যেই নমিনেশন পেপার তুলে রেখেছেন।আগামী দুদিন অনুরাগী ও বারাসাতের বিশিষ্ঠ জনের সঙ্গে আলোচনা করে নির্দল প্রার্থী হওয়ার বিষয়টির সিদ্ধান্ত নেবেন বলেই দাবী তাঁর।তবে, বারাসাত কেন্দ্রে দলের অফিসিয়াল প্রার্থীর হয়ে যে তাপস মিত্রর ঘনিষ্ঠরা নিষ্ক্রিয় থাকবেন,এটা বলার অপেক্ষা রাখে না।
।। লক্ষ্য সুষ্ঠু নির্বাচন, সুন্দরবনের দ্বীপে বুথ পরিদর্শন ও জনসংযোগ কর্মসূচিতে প্রশাসনিক আধিকারিকরা ।।
বসিরহাট : সুন্দরবনের দুর্গম দ্বীপাঞ্চলে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে ময়দানে নামল প্রশাসন। বসিরহাটের সুন্দরবনের হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভার ভবানীপুর ১ ও ভবানীপুর ২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার একাধিক বুথ পরিদর্শন করে প্রশাসনিক কর্তারা। সরেজমিনে খতিয়ে দেখলেন ভোটের প্রস্তুতি ও পরিকাঠামো। এই পরিদর্শন অভিযানে উপস্থিত ছিলেন বসিরহাটের মহকুমা শাসক জসলিন কৌর, বসিরহাট পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার অলকনন্দা ভাওয়াল ও হাসনাবাদের এসডিপিও ওমর ফারুক মোল্লা সহ একাধিক পুলিশ ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা। গোটা পরিদর্শন জুড়ে সঙ্গে ছিলেন আধা সামরিক বাহিনীর জওয়ানরাও। দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এই এলাকায় পৌঁছানো সহজ নয়। প্রশাসনিক দলকে ডাঁসা নদী পেরিয়ে নৌকায় করে ভবানীপুর এলাকায় পৌঁছাতে হয়। তারপর একে একে বিভিন্ন বুথ ঘুরে দেখা হয় এবং সেখানে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখা হয়।
শুধু পরিদর্শনেই সীমাবদ্ধ থাকেননি আধিকারিকরা। স্থানীয় বাসিন্দা ও ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাদের আস্থা বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়। ভোটের দিন যাতে কোনও রকম ভয় বা বাধা ছাড়াই মানুষ ভোটকেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেন, সেই বিষয়ে আশ্বাস দেন তারা। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক অধিকার হিসেবে ভোটদানের গুরুত্ব সম্পর্কেও সচেতন করা হয় সাধারণ মানুষকে। বিশেষভাবে নতুন ভোটারদের উৎসাহিত করার দিকেও জোর দেওয়া হয়। প্রথমবার ভোট দিতে যাওয়া যুবক-যুবতীদের কাছে ভোটদানের প্রক্রিয়া, নিরাপত্তা এবং গুরুত্ব সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়। প্রশাসনের এই উদ্যোগে এলাকায় ইতিবাচক সাড়া মিলেছে বলেই জানা গিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে সুন্দরবনের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও যাতে নির্বাচন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ এবং ভয়মুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন হয়, তার জন্য সব রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এই ধরনের নিয়মিত পরিদর্শন ও জনসংযোগ কর্মসূচি সেই লক্ষ্য পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলেই মনে করছে প্রশাসন।
বীজপুর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী সুদীপ্ত দাস
*প্রচার*


নিজস্ব প্রতিনিধি: রবিবার সকালে উত্তর ২৪ পরগনার হালিশহর পুরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ফাঁসিতলা মোড় থেকে  শুরু করে বিস্তীর্ন এলাকায় প্রচারের বেরিয়েছিলেন বীজপুর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী সুদীপ্ত দাস। এদিন তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বাংলার সংস্কৃতি ফেরানোর  কথাই প্রচারে তুলে ধরেন। তাকে কোথাও বাসিন্দারা ফুলমালা। আবার কোথাও মিষ্টি খাইয়ে বিজেপি প্রার্থীকে বরণ করে নেন। সুদীপ্ত দাস বলেন, "সাধারণ মানুষ বলছে এই দুর্নীতিগ্রস্থ সরকারকে তাড়াও। এটাই ভারতীয় জনতা পার্টির রসায়ন। এই দলের প্রতিষ্ঠাতা একজন বাঙালি। তাই বাঙালি সংস্কৃতিকে ফেরানোর লড়াইয়ে তিনি একজন সৈনিক মাত্র।" ছবি:  প্রবীর রায়।
'যা হবে না বলছেন, সেটাই হচ্ছে’ : ওয়াকাফ ও এসআইআর ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রীকে বিঁধলেন কংগ্রেস প্রার্থী দিলু
সৌমাভ মন্ডল, বসিরহাট: রাজ্যে শাসকদলের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং ধর্মীয় মেরুকরণ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করলেন বাদুড়িয়া বিধানসভার কংগ্রেস প্রার্থী কাজী আব্দুর রহিম দিলু। এদিন বাদুড়িয়ার একটি কমিউনিটি হলের প্রাঙ্গণে কংগ্রেসের একটি দলীয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া সমালোচনা করেন। ওয়াকাফ এবং এসআইআর প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর অবস্থানের বিরোধিতা করে দিলু বলেন, "মুখ্যমন্ত্রী যে বিষয়টি রাজ্যে লাগু হবে না বলে নিশ্চিত করছেন, সাধারণত সেই বিষয়টিই পরবর্তী সময়ে কার্যকর হয়।" তার দাবি অনুযায়ী, যে বিষয়ে রাজ্যে অনুমতি মিলবে না বলে আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে, আগামী দিনে তা কার্যকর হওয়া প্রায় নিশ্চিত। একইসঙ্গে তিনি বিজেপি এবং তৃণমূল কংগ্রেস উভয় দলকেই তীক্ষ্ণ আক্রমণ করেন। দিলুর মতে, "এই দুই দলই ধর্মের সুড়সুড়ি দিয়ে বাঙালিকে বিভক্ত করার রাজনীতি করছে।" তবে বাংলার মানুষ সচেতন এবং আগামী দিনে তারা এই বিভাজনের রাজনীতি রুখে দেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে জয়লাভ করেছিলেন কাজী আব্দুর রহিম দিলু। কিন্তু সম্প্রতি তিনি শাসকদল ত্যাগ করে পুনরায় নিজের পুরনো দল কংগ্রেসে ফিরে এসেছেন। ঘরের ছেলের পুরনো দলে ফেরার পর বাদুড়িয়ার রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার। দল বদল ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে দিলুর এই মন্তব্য জেলা রাজনীতিতে যথেষ্ট চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
মোথাবাড়ি কান্ডের প্রতিবাদে মশাল মিছিলে নৈহাটীর বিজেপি প্রার্থীর

নিজস্ব প্রতিনিধি: মালদহের কালিয়াচকের মোথাবাড়িতে SIR এর কাজে নিযুক্ত বিচারপতিদের দীর্ঘ ১৮ ঘন্টা আটকে রেখে হেনস্তা করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটীতে এক মশাল মিছিলের আয়োজন করেছিল বিজেপি। শনিবার সন্ধ্যায় নৈহাটীর স্নোহোয়াইট মোড় থেকে মশাল মিছিলে হেঁটে বিজেপি প্রার্থী সুমিত্র চট্টোপাধ্যায় বলেন, "পশ্চিমবাংলায় অরাজকতা চলছে। এখানে বিচারপতিরাও সুরক্ষিত নন। তার প্রতিবাদে যুবমোর্চা রাস্তায় নেমেছে।" পাশাপাশি, তিনি বিজেপি ক্ষমতায় এলে নৈহাটীর বন্ধ কলকারখানা খুলতে উদ্যোগ নেবেন বলে বার্তা দিলেন। বি: প্রবীর রায়।
চিংড়ি "বাগদা" থিমে ভোট উৎসব, নদীপথে সচেতনতার বার্তা বিশেষ উদ্যোগ সন্দেশখালিতে

সৌমাভ মন্ডল,বসিরহাট : আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষকে ভোটদানে উৎসাহিত করতে অভিনব উদ্যোগ নিল বসিরহাট মহকুমা প্রশাসন। এবার জেলার ভোট সচেতনতার থিম ম্যাসকট হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে ‘বাগদা’কে, যা ইতিমধ্যেই নজর কাড়ছে বিভিন্ন প্রান্তে। মূলতঃ বসিরহাটের হিঙ্গলগঞ্জ, হাসনাবাদ, মিনাখাঁ ও সন্দেশখালির মতো সুন্দরবনের ব্লক গুলিতে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে নদী ও মৎস্যচাষের আধিক্য থাকায় এই থিম নির্বাচন করা হয়েছে বলে মহকুমা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। স্থানীয় সংস্কৃতি ও জীবিকার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই উদ্যোগ মানুষের মধ্যে সহজেই সাড়া ফেলছে। বসিরহাটের সন্দেশখালি, হিঙ্গলগঞ্জ সহ একাধিক ব্লকে রায়মঙ্গল, বিদ্যাধরী ও গৌড়েশ্বরের মতো নদী গুলিতে এসভিইইপি প্রজেক্টের মাধ্যমে ভাসমান ক্যাম্প করে ইতিমধ্যেই এই থিমের প্রচার দেখা যাচ্ছে। আগামীতে বসিরহাটের ১০টি ব্লক ও ৩ পৌর এলাকাতেও নদীপথেও চলছে ভোট সচেতনতার প্রচার। নৌকায় করে মাইকিং, পোস্টার ও ম্যাসকটের মাধ্যমে ভোটারদের বার্তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে প্রত্যন্ত এলাকায়। এমনকি নৌপথে যারা নদী পারাপার করছে তাদের হাতে লিফলেট বিলি করে ভোটাধিকার সম্পর্কে জানানো হচ্ছে। সন্দেশখালি ২নং ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক সর্বজিৎ তমাল বলেন, "ভোটারদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন জায়গায় তৈরি করা হয়েছে আকর্ষণীয় সেল্ফি পয়েন্ট। সেখানে ‘বাগদা’ ম্যাসকটের সঙ্গে ছবি তুলে সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করছেন অনেকেই, যা ভোট উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলছে।" পাশাপাশি তিনি এও বলেন, "যারা নতুন ভোটার তাদেরকে ভোটাধিকার সম্পর্কে ও ভোট দানের গুরুত্ব সম্পর্কে বোঝাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফে।" প্রশাসনের এই উদ্যোগে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভোট নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা। আগামী নির্বাচনে আরও বেশি সংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই এই ধরনের সৃজনশীল প্রচেষ্টা বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

বিরোধী শিবিরে ভাঙ্গন, বসিরহাট দক্ষিণে কর্মীসভার মঞ্চেই দলবদলের ঢেউ, শতাধিক নেতা-কর্মীর তৃণমূলে যোগদান


বসিরহাট : বসিরহাট দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী আবহে দলবদলের রাজনীতি আরও জোরালো হয়ে উঠছে। শুক্রবার ইটিন্ডা-পানিতর অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে আয়োজিত তৃণমূল কংগ্রেসের এক নির্বাচনী কর্মীসভা ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়ায়। ইটিন্ডা গার্লস হাইস্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত এই সভা কার্যত শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চে পরিণত হয় শাসকদলের জন্য।
এই কর্মীসভায় উপস্থিত ছিলেন উত্তর ২৪ পরগণা জেলা পরিষদের খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ শাহানুর মণ্ডল, বসিরহাট দক্ষিণের তৃণমূল প্রার্থী সুরজিৎ মিত্র বাদল, বসিরহাট ১নং ব্লক তৃণমূল সভাপতি সরিফুল মণ্ডল, বসিরহাট ১নং ব্লক আইএনটিটিইউসি সভাপতি শফিকুল দফাদার ও উত্তর ২৪ পরগণা জেলা পরিষদের প্রাক্তন সদস্য গোলাম বিশ্বাস সহ একাধিক নেতৃত্ব। তাদের উপস্থিতিতে সভা ঘিরে কর্মী-সমর্থকদের ভিড় চোখে পড়ার মতো ছিল। সভা থেকে শাসকদলের উন্নয়নমূলক কাজ, সামাজিক প্রকল্প এবং সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার বার্তা তুলে ধরা হয়। সভা চলাকালীনই রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ এক ঘটনা সামনে আসে। ঘোজাডাঙা, পানিতর ও নাকুয়াদহ সহ একাধিক এলাকা থেকে আইএসএফ, সিপিএম, কংগ্রেস ও বিজেপির শতাধিক কর্মী তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেন। দলীয় পতাকা তুলে দিয়ে নবাগতদের স্বাগত জানান নেতৃত্ব। তাদের দাবি, স্থানীয় স্তরে উন্নয়ন এবং মানুষের পাশে থাকার রাজনীতির কারণেই তারা তৃণমূলের উপর আস্থা রেখেছেন।
নতুন যোগদানকারীদের একাংশের বক্তব্য, বিরোধী দলগুলিতে থেকে তারা মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছিলেন না। অন্যদিকে, তৃণমূলের বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্প এবং প্রশাসনিক সক্রিয়তাই তাদের আকৃষ্ট করেছে। নেতৃত্বের পক্ষ থেকেও জানানো হয়, এই যোগদান শুধু সংখ্যায় বৃদ্ধি নয়, সংগঠনের ভিত আরও মজবুত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, বসিরহাট দক্ষিণে এবারের লড়াই বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে চলেছে। সেই পরিস্থিতিতে বিরোধী শিবির থেকে এই ধরনের দলবদল শাসকদলের পক্ষে মনোবল বাড়াবে বলেই মনে করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, নির্বাচনের আগে বসিরহাট দক্ষিণে সংগঠন শক্তিশালী করতে তৃণমূল কংগ্রেস যে সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়েছে, এই কর্মীসভা এবং দলবদলের ঘটনা তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
কলকাতায় 'দক্ষ ২০২৬' নামক হস্তশিল্প প্রদর্শনী শুরু হলো।

নিজস্ব প্রতিনিধি: শুক্রবার কলকাতার বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডে দাগা নিকুঞ্জে অ্যাক্সিস ব্যাঙ্ক ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় শুরু হল 'দক্ষ ২০২৬' নামক ঐতিহ্য ও আধুনিক হস্তশিল্পের প্রদর্শনী। আয়োজক বাংলানাটক ডট কম। গতকাল অর্থাৎ ৩ রা এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে এই প্রদর্শনী চলবে আগামী ৫ ই এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত। এখানে পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খন্ড , ওড়িশার গ্রামীণ হস্তশিল্পীদের তৈরি করা নানান হস্তশিল্পের সামগ্রীর পাশাপাশি থাকছে আধুনিক ডিজাইনারদের তৈরি নানান সামগ্রীর মেলবন্ধন। এরই পাশাপাশি থাকছে হস্তশিল্প ও শিল্পীদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা সভা। এদিন 'কোরাপুট কথা' নামক কোরাপুটের ঐতিহ্য, শিল্প সংস্কৃতি ও পর্যটন কে নিয়ে লেখা একটি পুস্তকের প্রচ্ছদও উন্মোচিত হয়। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত শিল্প ও সাংস্কৃতিক জগতের শিল্পীদের পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন স্তরের জ্ঞানী গুণীজনেরা।
এখানে এলে দেখতে পাবেন শান্তিনিকেতনের কাঁথা স্টিচ থেকে শুরু করে কোরাপুটের কোটপাড বস্ত্র শিল্প, সেরাইকেলের ছৌ এর মুখোস থেকে ময়ূরভঞ্জের  ডোকরার কাজ। এছাড়া ঝাড়খণ্ডের কাশি ঘাস দ্বারা প্রস্তুত নানান হস্তশিল্পের সামগ্রী আপনাকে মুগ্ধ করবে।
এই তিন দিন বিকেল চারটে থেকে শুরু করে সন্ধ্যে সাতটা পর্যন্ত চলবে প্রদর্শনী। এরই মাঝে প্রতিদিনই থাকবে নানান সংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। যেমন ওড়িশার কোরাপুট জেলার আদিবাসী   গান ও নাচ, সেরাইকেলা ও ময়ূরভঞ্জ এর ছৌ নাচ, বাংলার বাউল গান সহ আদিবাসী পুতুল নাচ 'চদর বদর'। এক কথায় বলতে গেলে এ যেন এক শিল্পের সাথে সংস্কৃতির মেলবন্ধন ক্ষেত্র। বি:সঞ্জয় হাজরা (খবর কলকাতা)।
।। কামদুনি আন্দোলনের মুখ ভাস্কর মণ্ডল এবার হাড়োয়ার ভোটযুদ্ধে, ন্যায়বিচারের ইস্যুতেই ভরসা বিজেপি প্রার্থীর ।।
বসিরহাট : হাড়োয়া বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ করলেন ভারতীয় জনতা পার্টির প্রার্থী ভাস্কর মণ্ডল। কামদুনি আন্দোলনের অন্যতম মুখ হিসেবে পরিচিত এই প্রার্থী নিজের রাজনৈতিক প্রচারে সেই আন্দোলনের স্মৃতিকেই সামনে রেখে এগোচ্ছেন। ২০১৩ সালে উত্তর ২৪ পরগণার কামদুনিতে নৃশংস গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পর যে তীব্র প্রতিবাদ আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, তার নেতৃত্বে ছিলেন ভাস্কর মণ্ডল। ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিনি কামদুনি আন্দোলন মঞ্চের সভাপতির দায়িত্ব সামলান এবং দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচারের দাবিতে সোচ্চার থেকেছেন।
এই আন্দোলন শুধু একটি অপরাধের প্রতিবাদ ছিল না, বরং নারী নিরাপত্তা, প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা এবং বিচার ব্যবস্থার গতি নিয়ে রাজ্যজুড়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছিল। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ভাস্কর মণ্ডল নিজেকে সাধারণ মানুষের অধিকারের কণ্ঠস্বর হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছেন। এবার সেই সামাজিক আন্দোলনের অভিজ্ঞতাকেই রাজনৈতিক মঞ্চে কাজে লাগাতে চাইছেন তিনি। হাড়োয়া বিধানসভায় প্রায় ৬৫ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোটার থাকলেও, সেই সমীকরণ নিয়ে বিশেষ উদ্বিগ্ন নন বিজেপি প্রার্থী। তার বক্তব্য, ধর্ম বা সম্প্রদায় নয়, মানুষের মূল সমস্যা এবং নিরাপত্তার প্রশ্নই তার প্রচারের কেন্দ্রবিন্দু। তিনি মনে করেন, কামদুনি আন্দোলনের সময় যেভাবে সর্বস্তরের মানুষ একত্রিত হয়েছিলেন, ঠিক তেমনভাবেই এবারও সাধারণ মানুষ উন্নয়ন ও ন্যায়বিচারের দাবিতে তাকে সমর্থন করবেন। প্রচারের ময়দানেও নিজেকে আলাদা ভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন ভাস্কর মণ্ডল। দেগঙ্গা বাজার এলাকায় প্রচারে গিয়ে তিনি একেবারে সাধারণ মানুষের মতোই চায়ের দোকানে ঢুকে পড়েন। নিজ হাতে চা তৈরি করে দলীয় কর্মী-সমর্থক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তা বিতরণ করেন। এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় কৌতূহল ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। অনেকেই এটিকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হাড়োয়া কেন্দ্রটি বরাবরই সংখ্যালঘু প্রাধান্যপূর্ণ হওয়ায় এখানে বিজেপির পক্ষে লড়াই সহজ নয়। তবে কামদুনি আন্দোলনের মতো একটি সংবেদনশীল ও জনমুখী ইস্যুকে সামনে রেখে ভাস্কর মণ্ডল যে প্রচার কৌশল নিচ্ছেন, তা ভোটের ময়দানে কিছুটা হলেও প্রভাব ফেলতে পারে। এখন দেখার বিষয়, সামাজিক আন্দোলনের পরিচিতি কতটা ভোটবাক্সে রূপান্তরিত হয় এবং হাড়োয়ার ভোটাররা কোন দিকে তাদের সমর্থন জানায়।