হালিশহর পৌরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান রাজু সাহানি তৃনমুল ছাড়ার ইঙ্গিত

নিজস্ব প্রতিনিধি: উত্তর ২৪ পরগনার নোয়াপাড়ার প্রাক্তন বিধায়ক সুনীল সিং তৃনমুল ছাড়া পর, এবার দলের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করলেন বীজপুর বিধানসভায় হালিশহর পৌরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান রাজু সাহানি। তিনি এদিন এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, তিনি তৃনমুল ছাড়ছেন। বিজেপি তে যোগ দিয়েচ্ছেন।আজ স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন সাংবাদিক স সন্মেলনে।
বৃহস্পতিবার শুভেন্দু অধিকারীর সাথে দেখাও করে এসেছেন বলে জানিয়েও দিলেন রাজু।দীর্ঘ দিন ধরে তৃণমূল নেতৃত্ব গুরুত্ব দিচ্ছেন না তাকে।অবিশ্বাসও করছে। তাই আর দলে থাকতে ইচ্ছে করছে না।এরমধ্যে তিলোত্তমার অবিচার,দলে দুর্নীতি এই সব আর সহ্য করতে না পারায় দল ছাড়তে বাধ্য হলেন বলে জানালেন তৃনমুলের এক সময়ের হালি শহরের ডাক সাইটে নেতা ও পৌরপ্রধান রাজু সাহানি।রাজুর বাবা লক্ষণ সাহানিও হালিশহর পৌরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন।তবে রাজু সাহানি তৃনমুল ছেড়ে বিজেপি তে যাওয়ায়  তৃনমুলে বড়ো ফাটল তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

ছবি: প্রবীর রায়।
‌।। ফুটবল মাঠের কড়া রেফারি এবার রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার মাঠে ‌‌।।
বসিরহাট : ফুটবল মাঠে তিনি পরিচিত কঠোর রেফারি হিসেবে। তার বাঁশির শব্দে থেমে যায় খেলার গতি। তার সিদ্ধান্তে বদলে যায় ম্যাচের রূপরেখা। কিন্তু এবার সেই মানুষটিই নেমেছেন এক ভিন্ন ময়দানে, রাজনীতির মাঠে।
বসিরহাটের মিনাখাঁ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বাম সমর্থিত আইএসএফের প্রার্থী হিসেবে লড়াই করছেন রেফারি প্রতীক মণ্ডল। যিনি এতদিন ফুটবল মাঠে নিরপেক্ষ সিদ্ধান্তের জন্য পরিচিত ছিলেন, তিনিই এখন মানুষের রায় পাওয়ার লড়াইয়ে।
আইএসএলের ম্যাচ পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে প্রতীকের। চলতি মরশুমেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। তবে তার কথায়, ফুটবল মাঠ আর ভোটের ময়দান একেবারেই আলাদা। মাঠে যেখানে তার হাতে থাকে হলুদ-লাল কার্ড, এখানে সেই ক্ষমতা নেই। এখানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন মানুষই।
মিনাখাঁয় তার প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল কংগ্রেসের তিনবারের বিধায়িকা ঊষারানি মণ্ডল এবং বিজেপির রুদ্রেন্দ্র পাত্র। প্রতিযোগিতা যে কঠিন, তা স্বীকার করছেন প্রতীক। তবে চাপের ম্যাচ সামলানোর অভিজ্ঞতা তাকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। রাজনীতিতে আসার কারণ হিসেবে তিনি জানাচ্ছেন, আগে থেকেই সমাজসেবার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু বৃহত্তর পরিসরে কাজ করার সুযোগ খুঁজছিলেন। আইএসএফ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলার পর তাদের ভাবনা ও লক্ষ্য তাকে আকৃষ্ট করে। সেখান থেকেই রাজনীতিতে আসার সিদ্ধান্ত।
পরিবারে আগে কেউ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত না থাকলেও মানুষের পাশে থাকার ইচ্ছাই তাকে এই পথে এনেছে। বাবার মৃত্যুর পর পারিবারিক ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়, মা এখন ছোটখাটো ব্যবসা সামলান। আর প্রতীকের নিজের জগৎ ছিল সবসময় ফুটবল মাঠকে ঘিরেই।
তিনি মনে করেন, ফুটবলারদের মতো রেফারিরাও সমান পরিশ্রম করেন, অথচ তাদের পরিচিতি অনেক কম। তার এই পদক্ষেপ অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করতে পারে বলেই বিশ্বাস। রাজনীতির ময়দানে নেমে তিনি সৌজন্যের রাজনীতির কথা বলছেন। তার মতে, বিরোধীদেরও সম্মান দেওয়া উচিত। এমনকি প্রয়োজনে বিরোধীদের নমিনেশন জমা দিতেও সাহায্য করা উচিত। এটাই সুস্থ গণতন্ত্রের চেহারা।
প্রচারে পুরোপুরি নেমে পড়েছেন প্রতীক। রোদ, বৃষ্টি উপেক্ষা করে মানুষের সঙ্গী হতে চাইছেন তিনি। ফুটবল মাঠে অফসাইড বা ফাউলের স্পষ্ট নিয়ম থাকে, কিন্তু রাজনীতির মাঠে সেই রেখা অদৃশ্য। এখানে শেষ কথা বলেন মানুষই। আর একজন রেফারি হিসেবে প্রতীক মণ্ডল জানেন, এই মাঠে জনগণই আসল বিচারক।
।। বসিরহাট উত্তরে ত্রিমুখী লড়াইয়ের ইঙ্গিত, ময়দানে এজেইউপি; তৃণমূল ও আইএসএফের সমীকরণে নয়া মোড় ‌‌।।
বসিরহাট : তৃণমূলের মহম্মদ তৌসিফুর রহমান বনাম আইএসএফের মুসা কারিমুল্লার লড়াইয়ে ‘তৃতীয় শক্তি’ হিসেবে বসিরহাট উত্তরের রাজনৈতিক যুদ্ধে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির আশিকুল ইসলাম। বসিরহাট উত্তর থেকে থেকে শক্তি প্রদর্শন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির। বসিরহাট উত্তর বিধানসভা কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক চর্চার কেন্দ্রে। এতদিন পর্যন্ত এই কেন্দ্রের লড়াই মূলত দুই প্রার্থীকে ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছিল। তৃণমূল কংগ্রেসের মহম্মদ তৌসিফুর রহমান এবং ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের মুসা কারিমুল্লা। কিন্তু হঠাৎই সমীকরণে বড় পরিবর্তন এনে দিল আমজনতা উন্নয়ন পার্টি (এজেইউপি)। দলীয় প্রার্থী হিসেবে মাওলানা আশিকুল ইসলামকে ঘোষণা করার পর থেকেই বসিরহাট উত্তরে ত্রিমুখী লড়াইয়ের জোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ফলে রাজনৈতিক অঙ্ক আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। এক সাংবাদিক সম্মেলন করে আশিকুল ইসলাম স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই নির্বাচনে তারা সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই করবেন। তিনি জানান, দলের সুপ্রিমো হুমায়ুন কবিরের নির্দেশ মেনে সংগঠনকে শক্তিশালী করে ভোটের ময়দানে নামবেন তারা।
এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দলের নেতা মহম্মদ আসাদুল বিশ্বাস। তিনি সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসকে প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে চিহ্নিত করে তীব্র আক্রমণ শানান। তার অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শাসক দল উন্নয়নের নামে প্রহসন চালিয়ে গিয়েছে এবং সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার করেছে। সেই কারণে মানুষ পরিবর্তনের খোঁজে রয়েছে এবং এজেইউপিকে সাদরে গ্রহণ করবে বলেই তার দাবি। রাজনৈতিক সমীকরণে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে আসাদুল বিশ্বাসের পারিবারিক সমর্থনকে ঘিরে। তার স্ত্রী তসলিমা খাতুন, যিনি কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী, তিনিও প্রকাশ্যে এজেইউপি প্রার্থীকে পূর্ণ সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। ফলে শিক্ষিত ও পেশাজীবী মহলেও দলটি প্রভাব ফেলতে চাইছে বলে মনে করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে বসিরহাট উত্তর বিধানসভায় এবার লড়াই আর শুধু দ্বিমুখী নেই। তৃণমূল, আইএসএফ এবং এজেইউপি এই তিন শক্তির সংঘর্ষে ভোটের ফল কোন দিকে গড়াবে, তা নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। ভোট যত এগোচ্ছে, ততই উত্তাপ বাড়ছে এই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে।
রাজ্যের নির্বাচনের কারণে ডার্বি পিছিয়ে গেল, এগিয়ে আনা হল মুম্বই ম্যাচ
*খেলা*

*আই এস এল*



Sports Desk: আগামী ৩ মে ইস্টবেঙ্গল বনাম মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের মধ্যে ডার্বি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ৪ মে রাজ্যে ভোটের ফল ঘোষণার দিন, তাই নিরাপত্তার কারণে এই ম্যাচ পিছিয়ে করা হয়েছে ১৭ মে। সময় এবং ভেন্যুঅপরিবর্তিত,যুবভারতীতে সন্ধ্যা ৭.৩০ এ শুরু হবে এই ম্যাচ।
ডার্বি পিছিয়ে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে অন্য ম্যাচের সূচিতেও। ৮ মে মুম্বই সিটি এফসি-র বিরুদ্ধে ইস্টবেঙ্গলের অ্যাওয়ে ম্যাচ ছিল। সেটি এগিয়ে আনা হয়েছে। নতুন সূচি অনুযায়ী ম্যাচটি হবে ৫ মে। ম্যাচটি হবে মুম্বইয়েই।
এছাড়াও ইস্টবেঙ্গল-ওডিশা ম্যাচ
ইস্টবেঙ্গল বনাম ওডিশা এফসি ম্যাচটি নির্ধারিত ২৮ এপ্রিলই হবে, তবে বদলে গিয়েছে ভেন্যু। আগে ঠিক ছিল যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে খেলা হবে।কিন্তু ২৯ এপ্রিল বাংলায় দ্বিতীয় দফার নির্বাচন থাকায়, তার আগের দিন এত বড় ম্যাচে নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব নয়। ফলে ম্যাচটি সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে গোয়ার ফতোরদা স্টেডিয়ামে।
পাঞ্জাব ম্যাচও পিছিয়ে গেল নির্বাচনের কারণে।পাঞ্জাব এফসি-র বিরুদ্ধে ইস্টবেঙ্গলের ম্যাচটি আগে নির্ধারিত ছিল ২৪ এপ্রিল, যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ২৩ এপ্রিল বাংলায় প্রথম দফার নির্বাচন থাকায়, পরের দিনই আই এস এল-এর ম্যাচ আয়োজন করা সম্ভব নয়। তাই এই ম্যাচটি পিছিয়ে ১১ মে করা হয়েছে। ভেন্যু অপরিবর্তিত, আর ম্যাচটি শুরু হবে সন্ধ্যা ৭.৩০ টায়।

ছবি সৌজন্যে :আই এস এল
নোয়াপাড়া বিধানসভা এলাকায়  তৃণমূল নয়া কার্যালয়ের উদ্বোধন
নিজস্ব প্রতিনিধি: উত্তর ২৪ পরগনার নোয়াপাড়া বিধানসভা এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের নয়া কার্যালয়ের উদ্বোধন হল।নোয়াপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রে বিধানসভা ভোটে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রার্থী করা হয়েছে রাজ্য তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য্যকে। নতুন প্রার্থী হিসেবে দলের সমস্ত স্তরের নেতা কর্মীদের নিয়ে ইছাপুর কালিতলা এলাকায় দলীয় নির্বাচনী কার্যালয়ের উদ্বোধন করা হল।শহীদ বিকাশ বসুর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করে ও গণেশ পূজোর মাধ্যমে এই উদ্ভোধন পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এরপর
এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয় তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে। নোয়াপাড়া বিধানসভার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য্যকে সাথে নিয়ে এই দিন এই সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নোয়াপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী কমিটির চেয়ারম্যান মলয় ঘোষ, তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীর প্রস্তাবক প্রদীপ বসু, তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য্য সহ অন্যান্য তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব ও কর্মীরা। এদিনের সাংবাদিক সম্মেলন থেকে শান্তি, শিক্ষা স্বাস্থ্য চাই , গুণ্ডারাজ এর স্থান নাই এই স্লোগানকে সামনে রেখে ভোট প্রচারে নোয়াপাড়ার মানুষের কাছে পৌঁছানোর কথা জানানো হয়।
প্রচারে এসে এস আই আর প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র আক্রমণ কমিশনকে, রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ

*সৌমাভ মন্ডল,বসিরহাট* : বসিরহাট দক্ষিণ বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সুরজিৎ চিত্র বাদলের সমর্থনে নির্বাচনী সভায় এসে নির্বাচন কমিশনের এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানালেন রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়। তার বক্তব্যে উঠে আসে ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ পড়ার অভিযোগ এবং সেই প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক প্রশ্ন।
সভামঞ্চ থেকে বাবুল সুপ্রিয় বলেন, বৈধ ভোটারদের যদি অন্যায়ভাবে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং দুঃখজনক। তার দাবি, এই এসআইআর প্রক্রিয়ায় বহু বিশিষ্ট ব্যক্তির নামও বাদ পড়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন, ভারতীয় ক্রিকেটার মহম্মদ শামী এবং তৃণমূল নেত্রী শশী পাঁজার নাম উল্লেখ করেন। তার কথায়, এমন ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও অসন্তোষ তৈরি করছে এবং স্বাভাবিকভাবেই মানুষ এই প্রক্রিয়াকে সমর্থন করবে না। তিনি আরও অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ভোটার তালিকা বৃদ্ধির পরিসংখ্যান নিয়েও অসঙ্গতি রয়েছে। মহারাষ্ট্রে গত পাঁচ বছরে প্রায় ৪ লক্ষ ভোটার বাড়লেও, মাত্র চার মাসে আবার সমসংখ্যক ভোটার বৃদ্ধির ঘটনা প্রশ্ন তুলছে। একই ধরনের প্রবণতা দিল্লিতেও দেখা গেছে বলে তিনি দাবি করেন।
বাবুল সুপ্রিয় বলেন, বিরোধীরা প্রথমে দাবি করেছিল যে এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রোহিঙ্গা বা বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করা হবে। কিন্তু বাস্তবে সেই কাজ না করে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তার। এর ফলে সাধারণ মানুষের মনে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে যে তাঁদের নাগরিকত্ব নিয়েই প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকার কথা তুলে ধরে বলেন, তিনিই প্রথম এই বিষয়টি নিয়ে সরব হন এবং আক্রমণাত্মকভাবে বিরোধিতা করেন। পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও শুরু থেকেই এই ইস্যুতে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে বাবুল সুপ্রিয় দাবি করেন, বর্তমানে দেশের গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ এই প্রতিষ্ঠানটি চাপের মুখে পড়েছে। তার অভিযোগ, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে পরোক্ষভাবে নির্বাচন কমিশনকে প্রভাবিত করা হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।
সব মিলিয়ে, বসিরহাট দক্ষিণের এই নির্বাচনী সভা থেকে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে তৃণমূলের অবস্থান আরও একবার স্পষ্ট করে দেন বাবুল সুপ্রিয়। ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক যে আগামী দিনে রাজনৈতিক লড়াইয়ের অন্যতম বড় ইস্যু হয়ে উঠতে চলেছে, তা এই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট।
।। বসিরহাট উত্তরে আইএসএফ সভায় তৃণমূল-বিজেপিকে একযোগে আক্রমণ নওশাদ সিদ্দিকীর ।।
বসিরহাট : বসিরহাট উত্তর বিধানসভায় নির্বাচনী লড়াই জমে উঠতেই রাজনৈতিক তরজা তীব্র আকার নিচ্ছে। এদিন বিকালে বেঁকি বাজার এলাকায় ইন্ডিয়া সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ) প্রার্থী মুসা কারিমুল্লার সমর্থনে জনসভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপিকে একসঙ্গে নিশানা করলেন আইএসএফ নেতা নওশাদ সিদ্দিকী।
সভামঞ্চ থেকে তিনি দাবি করেন, “বিজেপির গর্ভ থেকেই তৃণমূলের জন্ম”, এবং দুই দলই আসলে একই রাজনৈতিক ধারার অংশ। তার কথায়, মানুষ যেন কোনওভাবেই বিজেপি বা তৃণমূলের “বাইনারি রাজনীতির” ফাঁদে না পড়ে, বরং বিকল্প শক্তিকে সমর্থন করে। তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস আইনকে অপব্যবহার করছে এবং ২০২১ থেকে ২০২৬ এই সময়কালে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ায়নি।
নওশাদ সিদ্দিকী বলেন, আইএসএফ ক্ষমতায় এলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য ও পানীয় জলের মতো মৌলিক পরিষেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করবে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিজেপি দিল্লি থেকে এসে বাংলার পরিবেশ ও সামাজিক কাঠামো নষ্ট করতে চাইছে, আর তৃণমূল সেই প্রক্রিয়াকেই পরোক্ষে প্রশ্রয় দিচ্ছে। তার বক্তব্য, “বিজেপিকে হারাতে গিয়ে তৃণমূলকে ভোট দেওয়া মানে শেষ পর্যন্ত বিজেপিকেই শক্তিশালী করা।” এসআইআর ইস্যুতেও রাজ্য সরকারকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, মুখে বিরোধিতা করলেও বাস্তবে এই প্রক্রিয়াকে সমর্থন করছে তৃণমূল। তার অভিযোগ, এই প্রক্রিয়া পরিচালনায় সাধারণ মানুষের টাকাই খরচ করা হচ্ছে, অথচ শিক্ষা-স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনা আড়ালে চলে যাচ্ছে।
এদিনের সভা থেকে বড়সড় দলবদলের ঘটনাও সামনে আসে। প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ তৃণমূল কর্মী-সমর্থক নওশাদ সিদ্দিকীর হাত ধরে আইএসএফে যোগ দেন বলে দাবি করা হয়। দলত্যাগীদের বক্তব্য, তৃণমূলে থেকে “রাহাজানি ও গুন্ডাগিরি” সহ্য করতে না পেরে এবং স্থানীয় প্রার্থীকে পছন্দ না হওয়ায় তারা দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সব মিলিয়ে, বসিরহাট উত্তর কেন্দ্রে আইএসএফ নিজেদের শক্তি বাড়াতে মরিয়া, আর এই সভা থেকে তৃণমূল-বিজেপি বিরোধী তৃতীয় শক্তির বার্তা জোরালো করারই চেষ্টা স্পষ্ট হয়েছে।
বীজপুরে বিজেপি প্রার্থীর ওপর হামলার ছক! প্রচারে পুলিশি নিরাপত্তাও প্রশ্নের মুখে
নিজস্ব সংবাদদাতা: মঙ্গলবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার বীজপুর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী সুদীপ্ত দাসের প্রধান কার্যালয়ে হঠাৎ এক যুবক ঢুকে পড়ে। সুদীপ্তর ওপর হামলার আগেই যুবককে  দলের কর্মীরা ধরে ফেলে। এরপর তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। বিজেপি প্রার্থী সুদীপ্ত দাস বলেন, "ওই যুবকের নাম বাবাই চক্রবর্তী। কাঁচরাপাড়ার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তার পকেট থেকে পাঞ্চ জাতীয় কিছু পাওয়া গিয়েছে"।যদিও তিনি বুধবার সকালে নিরাপত্তারক্ষী ছাড়াই কাঁচরাপাড়ার ২০ নম্বর ওয়ার্ডে প্রচার করেন। বিজেপি প্রার্থী আরও বলেন, পুলিশের ওপর সরকারি  চাপ আছে। যদিও নির্বাচন কমিশন যে ভূমিকা নিতে চলেছে তাতে করে এই চাপ থাকবে না।
জয় বাংলা স্লোগানেই প্রচার পর্ব মাতাচ্ছেন বসিরহাট উত্তরের তৃণমূল প্রার্থী তৌসিফুর
বসিরহাট : বসিরহাট উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটের আবহ যত গাঢ় হচ্ছে, ততই প্রচারে গতি বাড়াচ্ছেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী মহম্মদ তৌসিফুর রহমান। গ্রামে-গঞ্জে জনসংযোগে বেরিয়ে সাধারণ মানুষের উষ্ণ অভ্যর্থনায় কার্যত আপ্লুত হয়ে পড়ছেন তিনি। মাখালগাছা গ্রামে প্রচারে গিয়ে সেই চিত্রই আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল।
গ্রামের অলিগলি পেরিয়ে এগোতেই তাকে ঘিরে ধরেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কোথাও সেল্ফি তোলার আবদার, কোথাও বা হাত মেলানোর ভিড়। সব মিলিয়ে এক আন্তরিক আবহ তৈরি হয়। সাধারণ মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত ভালোবাসা ও সমর্থন প্রার্থীকে যেমন উজ্জীবিত করছে, তেমনি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও বাড়তি উৎসাহ জোগাচ্ছে। অনেকেই সরাসরি তাকে জেতানোর আশ্বাস দেন, আবার কেউ কেউ এলাকার উন্নয়ন সংক্রান্ত নানা দাবি-দাওয়াও তুলে ধরেন তার সামনে। মহম্মদ তৌসিফুর রহমান মনোযোগ দিয়ে সবার কথা শোনেন এবং আশ্বস্ত করেন মানুষের পাশে থেকেই কাজ করবেন তিনি। তার কথায়, এই ভালোবাসাই তার লড়াইয়ের মূল শক্তি। মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করাই তার একমাত্র লক্ষ্য। এদিনের প্রচারে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের হাসনাবাদ ২ ব্লকের সভাপতি তথা হাসনাবাদ পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি এস্কেন্দার গাজী এবং মাখালগাছা গ্রাম পঞ্চায়েতের কনভেনার মুকুল মন্ডল। পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন দলের একাধিক স্থানীয় নেতৃত্ব ও জনপ্রতিনিধিরা। তাদের উপস্থিতিতে প্রচার কার্যত জনসমাগমে রূপ নেয়।
সব মিলিয়ে, মাখালগাছার এই প্রচার পর্বে স্পষ্ট হয়েছে যে, বসিরহাট উত্তরে তৃণমূল প্রার্থীর পক্ষে জনসমর্থনের একটি প্রবল স্রোত তৈরি হচ্ছে। এখন দেখার, এই জনসংযোগ কতটা ভোটবাক্সে প্রতিফলিত হয়।
তৃণমূল ছাড়লেন বাদুড়িয়ার বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক আব্দুর রহিম দিলু
বসিরহাট : দুয়ারে ভোট, পুরোদমে প্রচারের কাজেও ঝাঁপিয়ে পড়েছেন প্রার্থীরা। কিন্তু এখনও কী ক্ষোভের আগুন নিভবে না তৃণমূলে? তৃণমূল ছাড়লেন বাদুড়িয়ার বিদায়ী বিধায়ক কাজী আব্দুর রহিম। এবার তাকে আর দাঁড় করায়নি দল। এর আগেও টিকিট না পেয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন তিনি। এবার তৃণমূল ছাড়ার ঘোষণা করলেন একেবারে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে। দলের বাড়তে থাকা গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, যড়যন্ত্রের অভিযোগে সরব হয়েছেন তিনি। ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন জেলা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে। তার সফা কথা, ২০২১ সাল দলের কঠিন সময়ে যারা দল করেছে তাদেরকে টিকিট দেওয়া হয়নি। উল্টে যারা দলের বিরোধিতা করেছে তাদের টিকিট দেওয়া হয়েছে। এই সব বিষয় নিয়ে দলের উপরতলার বিরুদ্ধে তোপের পর তোপ দেগেছেন নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে। দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে তীব্র অভিমানের সঙ্গে তিনি লিখছেন, ‘আমি সবসময় সত্য, ন্যায় এবং আদর্শের পথে চলার চেষ্টা করেছি। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে জানাতে বাধ্য হচ্ছি, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই আদর্শ ও বাস্তবতার মধ্যে যে গভীর ফারাক তৈরি হয়েছে, তা আর উপেক্ষা করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। বারবার অন্যায় ও  অবিচারের বিরুদ্ধে কথা বলেও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ না হওয়ায় আমি মানসিকভাবে অত্যন্ত ব্যথিত।’ এরপরই তার সংযোজন, ‘আমি কখনও আপোসের রাজনীতি করিনি, আর ভবিষ্যতেও করব না। আমার পিতার আদর্শ আমাকে শিখিয়েছে—অন্যায়ের সঙ্গে আপস নয়, সত্যের পথেই অটল থাকা। সেই কারণেই  আমি তৃণমূল কংগ্রেসের সকল পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করলাম। আমি মানুষের সঙ্গে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব—এটাই আমার অঙ্গীকার।’