।। রবিবার সন্দেশখালিতে আসছেন অভিষেক, তার আগে হেলিকপ্টারের ট্রায়াল ।।

বসিরহাট : সন্দেশখালী বিধানসভা কেন্দ্রে আসন্ন জনসভাকে ঘিরে জোর প্রস্তুতি শুরু করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। আগামী ২৯ মার্চ রবিবার সরবেড়িয়া হাইস্কুল মাঠে তৃণমূল প্রার্থী ঝর্ণা সর্দারের সমর্থনে এই জনসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই সভায় উপস্থিত থাকার কথা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়ের। তার আগমনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতিতে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। সভাস্থলের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এদিন হেলিপ্যাডে হেলিকপ্টার ট্রায়াল সম্পন্ন হয়। ট্রায়াল শেষে হেলিপ্যাড এবং সংলগ্ন এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হয় এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশ দেওয়া হয় সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের।
প্রশাসন ও দলীয় নেতৃত্বের সমন্বয়ে সভাকে ঘিরে যাবতীয় প্রস্তুতি দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা থেকে শুরু করে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ সব দিকেই নজর রাখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে জানানো হয়েছে, এই জনসভাকে সফল করতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং ব্যাপক জনসমাগমের আশা করা হচ্ছে।
।। মানবিকতার অনন্য নজির মুফতি আব্দুল মাতিনের ।।
বসিরহাট : ভোটের প্রচারের ব্যস্ততার মাঝেই মানবিকতার নজির গড়লেন হাড়োয়া বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী তথা সমাজসেবী মুফতি আব্দুল মাতিন। এদিন একটি বিশেষ বৈঠকে যোগ দিতে যাওয়ার পথে বোয়ালঘাটা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা নজরে আসে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মাল বোঝাই একটি ভ্যান ব্রিজের ঢাল বেয়ে উঠতে গিয়ে সমস্যায় পড়ে। ভ্যানচালক একাধিকবার চেষ্টা করেও গাড়িটি তুলতে ব্যর্থ হন। সেই সময় ঘটনাস্থলের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন মাতিন। পরিস্থিতি দেখে তিনি সঙ্গে সঙ্গে নিজের গাড়ি থামিয়ে নেমে পড়েন এবং কোনও রকম দ্বিধা না করেই ভ্যানটি ঠেলে তুলতে সাহায্য করেন। পরে আশেপাশের কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দাও এগিয়ে আসেন। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ভ্যানটি ব্রিজের ওপর ওঠানো সম্ভব হয়।
এই ঘটনায় এলাকায় চর্চা শুরু হয়েছে। অনেকেই বলছেন, নির্বাচনী আবহে এই ধরনের আচরণ প্রার্থীর সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযোগ এবং তার মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিরই প্রতিফলন। রাজনৈতিক কর্মসূচির ফাঁকেও এভাবে সমস্যায় পড়া একজন সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন বাসিন্দারা।
উল্লেখ্য, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে হাড়োয়া কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন মুফতি আব্দুল মাতিন। তাকে প্রার্থী করায় দলের শীর্ষ নেতৃত্ব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করছেন তার সমর্থকরা। নির্বাচনের আগে এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও জল্পনা তৈরি হয়েছে।
প্রচার *ব্যারাকপুর বিধানসভা কেন্দ্র*
*প্রবীর রায়* : আবার একটা ভোট। প্রার্থীদের বড় দায় ভোটারদের সাথে দেখা করা।তাই সকাল থেকেই বেরিয়ে পড়তে হচ্ছে প্রচারে। শুক্রবার এই রকমই ব্যারাকপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ভোট প্রচার করতে দেখা গেল ব্যারাকপুর বিধানসভার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী রাজ চক্রবর্তীকে।তার সাথে উপস্থিত ছিলেন ব্যারাকপুর পৌরসভার পৌর প্রধান উত্তম দাস, উপ-পৌরপ্রধান সুপ্রভাত ঘোষ, পৌর পারিষদ সদস্য নওশাদ আলম,২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সম্রাট তাপাদার সহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে পৌরপিতা ও পৌর মাতারা।
অন্যদিকে, এদিন প্রচারের বেরিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী কৌস্তুভ বাগচী। তবে তার দলের কর্মীরা সংখ্যা বহরে ছোট।
ব্যারাকপুর বিধানসভার বিজেপি প্রার্থীর রামনবমী উদযাপন
নিজস্ব প্রতিনিধি: আজ রায় নবমীর বিশেষ তিথি উৎযাপিত হচ্ছে রাজ্য।তার মধ্যে এবার বিধানসভা নির্বাচন।সব দলই হিন্দুত্ব প্রমাণে ব্যস্ত।তার মধ্যে বিশেষ ভাবে সক্রিয় বিজেপি। উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী হয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী কৌস্তুভ বাগচী। এদিন ব্যারাকপুরে শ্রীরামনবমী উদযাপন সমিতির পক্ষ থেকে ব্যারাকপুর লালকুঠি উড়ালপুলের নিচ থেকে আয়োজিত হল শোভাযাত্রা। এদিনের শোভাযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন ব্যারাকপুর বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী কৌস্তব বাগচী সহ অন্যান্য বিজেপি নেতৃত্ব। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া প্রহরায় নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হল এই শোভাযাত্রা।

ছবি: প্রবীর রায়।
খেলা

আজ থেকে শুরু হল সিএবি মহিলা ক্লাব ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২৫-২৬ এর তৃতীয় সংস্করণের খেলা। ছবি: সৌজন্যে সিএবি
।। রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে বসিরহাট উত্তরে ।।
বসিরহাট : বসিরহাট উত্তরের নির্বাচনী লড়াই ক্রমশ জমে উঠছে। সেই আবহেই প্রচারে গতি বাড়ালেন মহম্মদ তৌসিফুর রহমান। বৃহস্পতিবার সকালেই তিনি পৌঁছে যান আমলানি গ্রাম পঞ্চায়েতের তালপুকুর বাজারে। জনসংযোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে নিজের পরিচিতি বাড়ানোর চেষ্টা করেন তৃণমূল প্রার্থী। বাজারে আসা ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় তিনি এলাকার সমস্যা, চাহিদা এবং উন্নয়ন নিয়ে মতামত শোনেন। স্থানীয়দের সঙ্গে এই সরাসরি যোগাযোগকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন। তার কথায়, মানুষের আশীর্বাদ এবং সমর্থনই তার মূল শক্তি।
এই কর্মসূচিতে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের হাসনাবাদ ২ ব্লক সভাপতি এস্কেন্দার গাজী, যুব সভাপতি আসলাম গাজী এবং মাখালগাছা গ্রাম পঞ্চায়েতের কনভেনার মুকুল মন্ডল সহ একাধিক নেতৃত্ব। ফলে প্রচারে সংগঠনের শক্তিও স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।
অন্যদিকে, এই কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও বেশ তীব্র। আইএসএফ প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন মুসা কারিমুল্লা এবং আমজনতা উন্নয়ন পার্টির পক্ষ থেকে প্রার্থী করা হয়েছে তাদের রাজ্য সভাপতি পীরজাদা খোবায়েব আমিনকে। ফলে ত্রিমুখী লড়াইয়ে বসিরহাট উত্তর বিধানসভা এবার রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা যতই কঠিন হোক, জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী তৌসিফুর রহমান। তিনি জানান, “মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগই আমার সবচেয়ে বড় ভরসা। এলাকার উন্নয়নের জন্য তৃণমূল যে উন্নয়নের কাজ করেছে তার ভিত্তিতেই মানুষ আবার আমাদের আশীর্বাদ করবেন বলে আমি নিশ্চিত।” নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছেবসিরহাট উত্তরে লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি, আর সেই লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসবেন, সেটাই এখন দেখার।
।। ভুয়ো ডাক্তার প্রসঙ্গে রাজ্য মেডিকেল কাউন্সিলের সভাপতি নির্মল মাঝির বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন বসিরহাট দক্ষিণের বিজেপির প্রার্থী ।।
বসিরহাট : বসিরহাট দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটের মুখে আক্রমণের সুর আরও চড়ালেন বিজেপি প্রার্থী ডাঃ শৌর্য্য ব্যানার্জি। এবার তার নিশানায় নির্মল মাঝি।
চিকিৎসক পরিচয় নিয়ে ওঠা বিতর্কের মাঝেই শৌর্য্য ব্যানার্জি সরাসরি নির্মল মাঝির বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। তিনি অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গ চিকিৎসা পরিষদ রাজনৈতিক প্রভাবেই পরিচালিত হচ্ছে এবং এর দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা নিরপেক্ষ নন। তার দাবি, কাউন্সিলের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ এবং সেটিকে হাতিয়ার করেই বিরোধীরা তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
এই প্রসঙ্গে নির্মল মাঝিকে ব্যক্তিগতভাবেও কটাক্ষ করেন বিজেপি প্রার্থী। তার বক্তব্য, যারা কাউন্সিল পরিচালনা করছেন, তাদের কাজকর্ম নিয়েই সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। সেই কারণেই এই ধরনের অভিযোগ সামনে আনা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
উল্লেখ্য, বসিরহাট আদালতের আইনজীবীর আরটিআইয়ের জবাবে ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিকেল কাউন্সিল জানিয়েছে, ‘ডাঃ শৌর্য্য ব্যানার্জি’ নামে কোনও নথিভুক্ত চিকিৎসক তাদের তালিকায় নেই। এই তথ্য সামনে আসার পরই রাজনৈতিক তরজা তীব্র হয়েছে। তবে শৌর্য্য ব্যানার্জির দাবি, তিনি বিদেশ থেকে চিকিৎসাবিদ্যা পড়েছেন, তাই রাজ্যের কাউন্সিলে তার নাম না থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। একই সঙ্গে তিনি গোটা বিষয়টিকে তৃণমূলের রাজনৈতিক চক্রান্ত বলেই অভিহিত করেছেন। তিনি এও বলেন, "নির্মল মাঝি তার নিজের কুকুরের ডায়ালিসিস সরকারি হাসপাতাল থেকে করিয়েছেন। সব মিলিয়ে, ভোটের আগে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও পাল্টা অভিযোগে বসিরহাট দক্ষিণের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।
।। সন্দেশখালিতে আসবেন অভিষেক, সভাস্থল পরিদর্শনে তৃণমূলের জেলা শীর্ষ নেতৃত্ব ।।
বসিরহাট : সন্দেশখালি জুড়ে এখন থেকেই চূড়ান্ত রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। আগামী রবিবার সেখানে জনসভা করতে আসছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সভাকে কেন্দ্র করে প্রস্তুতি পর্বে কোনো খামতি রাখতে চাইছে না শাসকদল। সভাস্থল সরবেড়িয়ার মাঠে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে পরিকাঠামো তৈরির কাজ। মঞ্চ নির্মাণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যাতায়াতের রুট সবকিছু খতিয়ে দেখতে এদিন মাঠ পরিদর্শনে হাজির হন দলের জেলা ও ব্লক স্তরের একাধিক শীর্ষ নেতা। উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের বসিরহাট সাংগঠনিক জেলা সভাপতি বুরহানুল মুকাদ্দীম লিটন, সন্দেশখালি বিধানসভার কো-অর্ডিনেটর সুরজিৎ মিত্র বাদল, সন্দেশখালি ২ নম্বর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি দীলিপ মল্লিক এবং বিদায়ী বিধায়ক সুকুমার মাহাতো।
পরিদর্শনের পাশাপাশি দলীয় কর্মীদের নিয়ে একটি প্রস্তুতি বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আসন্ন জনসভাকে সফল করতে বুথভিত্তিক সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেওয়া হয়। কর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রত্যেক অঞ্চল থেকে ব্যাপক জনসমাগমের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
দলীয় সূত্রে খবর, এই জনসভা শুধু একটি সাধারণ রাজনৈতিক সভা নয়, বরং সন্দেশখালি ও আশপাশের এলাকায় সংগঠনকে চাঙ্গা করার বড় মঞ্চ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাই সভায় মানুষের উপস্থিতি বাড়াতে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে ঘরে ঘরে প্রচার। স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, এই সভার মাধ্যমে তৃণমূল কংগ্রেস তাদের সংগঠনিক শক্তির প্রদর্শন করবে এবং বিরোধীদের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা দেবে। মাঠ পরিদর্শনের পর নেতারা জানান, সব দিক খতিয়ে দেখা হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রস্তুতি সম্পূর্ণ হবে। সব মিলিয়ে, সন্দেশখালি এখন রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। আগামী রবিবারের সভা ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও কৌতূহল ও আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে।
বসিরহাট উত্তরে তৃণমূলে বড়সড় ভাঙ্গন, দেড় হাজার নেতা, কর্মী ও সমর্থকের আইএসএফে যোগদান 
বসিরহাট : বসিরহাট উত্তর বিধানসভায় রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলল। বহিরাগত প্রার্থী দেওয়ার অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেসে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ এবার প্রকাশ্যে ফেটে পড়ল। প্রায় দেড় হাজার তৃণমূল নেতা, কর্মী ও সমর্থক দল ছেড়ে যোগ দিলেন আইএসএফে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই এলাকায় রাজনৈতিক উত্তাপ বেড়েছে। বুধবার বসিরহাট উত্তর বিধানসভার মুরারীশাহ গ্রাম পঞ্চায়েতের মুরারিশাহ চৌমাথা এলাকায় একটি বড় যোগদান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সেখানে আইএসএফ প্রার্থী মুসা কারিমুল্লার হাত ধরে আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূল ছেড়ে আইএসএফে যোগ দেন ওই নেতা-কর্মীরা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, যোগদানকারীদের মধ্যে পঞ্চায়েত স্তরের একাধিক প্রভাবশালী মুখও রয়েছেন, যা আগামী নির্বাচনে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। দলত্যাগীদের একাংশের দাবি, বসিরহাট উত্তর বিধানসভা ছাড়াও বসিরহাট লোকসভা এলাকায় বারবার বহিরাগত প্রার্থী দেওয়ার ফলে স্থানীয় কর্মীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ জমে উঠছিল।
।। প্রিয় শিক্ষককে যেতে দিতে নারাজ, স্কুলে আটকে রেখে বিক্ষোভ কচিকাঁচাদের ।।

বসিরহাট : “স্যার না এলে ক্লাস নয়” বসিরহাটের স্কুলে তালা মেরে বিক্ষোভ কচিকাঁচাদের। বসিরহাট ১নং ব্লকের শাঁকচূড়া-বাগুন্ডি গ্রাম পঞ্চায়েতের ধলতিথা অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একদিকে আবেগ, অন্যদিকে উত্তেজনা। এই দুইয়ের মিশেলে তৈরি হল এক ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি। বিদ্যালয়ের শিক্ষক কৌশিক বিশ্বাসের বদলির নোটিশ আসতেই প্রিয় শিক্ষককে ঘিরে কাঁদতে দেখা গেল ছোট্ট পড়ুয়াদের, আর সেই আবেগই দ্রুত রূপ নেয় বিক্ষোভে। বুধবার সকাল থেকেই স্কুল প্রাঙ্গণে জড়ো হয় ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকরা। কেউ স্যারের হাত আঁকড়ে ধরে, কেউ আবার চোখের জলে ভাসিয়ে অনুরোধ জানায়—“স্যার, আপনি আমাদের ছেড়ে যাবেন না।” কিন্তু এই আবেগঘন দৃশ্যের মধ্যেই প্রতিবাদের সুরও চড়া হতে থাকে। শিক্ষকের বদলি রুখতে স্কুলের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। বিক্ষোভকারীদের স্পষ্ট দাবি, কৌশিক বিশ্বাসকে এই স্কুলেই রাখতে হবে। অভিভাবকদের একাংশ জানান, তিনি শুধু একজন শিক্ষক নন, ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। তাই তাকে সরানো হলে পড়াশোনার ক্ষতি অনিবার্য। পড়ুয়া থেকে অভিভাবক সকলেরই হুঁশিয়ারি, ওই শিক্ষক স্কুলে না এলে পঠনপাঠন সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হবে। এর ফলে দিনের একটি বড় অংশ জুড়ে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিষয়টি নিয়ে ওই স্কুলের শিক্ষক কৌশিক বিশ্বাস বলেন, "এসআই অফিস ও বারাসাত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তর থেকে আমার কাছে বদলির চিঠি এসেছে। যদিও আমি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি যে এখানকার ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকরা আমাকে যেতে দিতে চাইছে না। কিন্তু সরকারি নিয়ম মেনেই আমাকে কাজ করতে হবে।"