নাগরিকের কল্যাণে প্রার্থনা মুখ্যমন্ত্রীর
ডেস্ক: মা, মাটি, মানুষের অব্যাহত সুরক্ষা ও কল্যাণের জন্য মা বগলামুখী মন্দিরে  পুজো দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতিটি নাগরিকের কল্যাণে শক্তি ও দিশা চেয়ে তিনি শান্তি, সুস্বাস্থ্য এবং সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করেন। প্রতিটি মানুষের মঙ্গল হোক।
বিস্ফোরক নোয়াপাড়ার তৃণমূল বিধায়ক মঞ্জু বসু


প্রবীর রায়: তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হতেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভ-বিদ্রোহ শুরু হয়ে হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করে টিকিট না পাওয়া বিধায়ককে শান্ত করতে হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার নোয়াপাড়ার বিদায়ী বিধায়ক মঞ্জু বসু টিকিট না পেয়েই বিস্ফোরক মন্তব্যে করলেন সাংবাদিকদের কাছে। টাকা না দেওয়ার জন্যই প্রার্থী করা হয়নি তাঁকে, বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
মঞ্জু বসু তৃণমূলের নোয়াপাড়ার বিধায়ক। গত বিধানসভা ভোটে তিনি ৯৪ হাজারের বেশি ভোটে জিতেছিলেন। এর আগেও লড়াই করেছিলেন তিনি তৃণমূলের টিকিটে। তবে, এবার প্রার্থী পরিবর্তন করা হয়েছে। বিপরীতে লড়াই করবেন বিজেপির অর্জুন সিং। আর তারপরই সাংবাদিকদের ডেকে এক প্রকার ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। তিনি বলেন,"আমাকে অপমান শুধু নয়, আমি যার ছায়া সঙ্গী স্বর্গীয় বিকাশ বসুকে অপমান করা হয়েছে। তা কিছুতেই মেনে নিতে পারব না। আমি নাকের বদলে নরুণ পেলাম। ধর্ণা মঞ্চে অপমানিত হওয়ার পর মমতা  বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিলেন নোয়াপাড়া কেন্দ্রের বিধায়িকা মঞ্জু বসু'। তিনি আর তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে নেই সেকথাও স্পষ্ট করলেন। তবে অন্য কোনো দলে নয়, রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন।
ভাঙড় সহ গোটা দক্ষিণ ২৪ পরগণা জুড়ে তৃণমূল ও আইএসএফে ব্যাপক ভাঙন, যোগ আমজেউপিতে

সৌমাভ মন্ডল,বসিরহাট : বসিরহাটের মাওলানা বাগে অনুষ্ঠিত এক যোগদান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। আমজনতা উন্নয়ন পার্টির উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় দক্ষিণ ২৪ পরগণার ভাঙড়ের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা ইব্রাহিম মোল্লা কয়েকশ কর্মী-সমর্থককে সঙ্গে নিয়ে দলবদল করেন। তার এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই তৃণমূলের অন্দরে ও বিরোধী শিবিরে জোর রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। জানা যায়, ভাঙড় ২নং ব্লকের ভগবানপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় ছিলেন ইব্রাহিম মোল্লা। তিনি একবার উপপ্রধান এবং দু’বার প্রধানের দায়িত্ব সামলেছেন। পাশাপাশি অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতির পদেও ছিলেন। সেই অভিজ্ঞ ও প্রভাবশালী নেতার দলত্যাগকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
এদিন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির রাজ্য সভাপতি খোবায়েব আমিনের হাত ধরে আনুষ্ঠানিকভাবে দলে যোগ দেন ইব্রাহিম মোল্লা ও তার অনুগামীরা। যোগদানের পরই তিনি তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন। তার অভিযোগ, পঞ্চায়েত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলীয় টিকিট বণ্টনে অনিয়ম হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন এলাকায় অর্থের বিনিময়ে টিকিট দেওয়া হয়েছে এবং সেই প্রক্রিয়ার ফলে ভাঙড়ে ‘মাফিয়া রাজ’ কায়েম হয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, যে বেশি অর্থ জোগাড় করতে পেরেছে, তারাই ক্ষমতার কাছাকাছি পৌঁছেছে।
ইব্রাহিম মোল্লা আরও বলেন, এই পরিস্থিতিতে সাধারণ কর্মীদের গুরুত্ব কমে গিয়েছে এবং সংগঠনের আদর্শ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই কারণেই তিনি দল ছেড়ে নতুন রাজনৈতিক মঞ্চে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান। তাঁর সঙ্গে কয়েকশ তৃণমূল কর্মী-সমর্থকের যোগদান স্থানীয় রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এই সভায় শুধু তৃণমূল থেকেই নয়, আইএসএফ ও কংগ্রেসের একাধিক নেতা-কর্মীও আমজনতা উন্নয়ন পার্টিতে যোগ দেন বলে দাবি করা হয়েছে। ফলে দলটি নিজেদের শক্তি বৃদ্ধির বার্তা দিতে চেয়েছে বলেই রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত। অন্যদিকে, আমজনতা উন্নয়ন পার্টির রাজ্য সভাপতি খোবায়েব আমিন রাজ্যের শাসক দলের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ শানান। তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যের সরকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে ব্যবহার করছে এবং বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের মধ্যে বঞ্চনা বাড়ছে। তার দাবি, রাজ্যে বেকারত্বের সমস্যা চরমে পৌঁছেছে এবং সাধারণ মানুষ আর ভাতা নয়, কর্মসংস্থান চায়। সব মিলিয়ে বসিরহাটের এই যোগদান কর্মসূচি রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশেষ করে ভাঙড়ের মতো সংবেদনশীল রাজনৈতিক এলাকায় এক প্রভাবশালী নেতার দলবদল আগামী দিনে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
খেলা* আই এস এল  এ প্রথম হার মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের
নিজস্ব প্রতিনিধি: শুক্রবার কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ইন্ডিয়ান সুপার লীগে প্রথম হার হল মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের।মুম্বই সিটি এফসির নওফল পিএন-এর প্রথমার্ধের গোলে  মোহনবাগান সুপার জায়ান্টকে ১-০ গোলে হারিয়েছে। তাদের গোলরক্ষক ফুরবা লাচেনপার অসাধারণ পারফরম্যান্স এবং রক্ষণাত্মক খেলা মুম্বই সিটিকে জয় এনে দেয়। ছবি: সঞ্জয় হাজরা (খবর কলকাতা)।
তৃণমূলের বহিরাগত প্রার্থীর বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ, পোস্টার পড়লো বসিরহাট উত্তরে
বসিরহাট : উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই চাপা ক্ষোভ দানা বাঁধছিল। এবার সেই অসন্তোষ প্রকাশ্যে চলে এলো তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে। দলীয় প্রার্থী তৌসিফ রহমানকে ঘিরে বিক্ষোভ, পোস্টারবাজি এবং সরাসরি বিরোধিতার ঘটনা সামনে আসায় অস্বস্তিতে শাসকদল। প্রার্থী হিসেবে তৌসিফ রহমানের নাম ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই স্থানীয় তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, তিনি এই এলাকার বাসিন্দা নন, বরং কলকাতার বাসিন্দা হওয়ায় তাকে 'বহিরাগত' বলে দাবি করছেন অনেকেই। সেই ক্ষোভই ধীরে ধীরে সংগঠিত আকার নিতে শুরু করেছে।এলাকার বিভিন্ন প্রান্তে ইতিমধ্যেই পোস্টার পড়েছে, যেখানে স্পষ্ট ভাষায় লেখা— “বহিরাগত প্রার্থী মানছি না, মানব না”, “ভূমিপুত্র চাই”। শুধু পোস্টারেই সীমাবদ্ধ নয় প্রতিবাদ, কিছু জায়গায় দলীয় কর্মীরাই সরব হয়ে জানিয়েছেন, প্রার্থী প্রচারে এলে তাঁকে এলাকায় ঢুকতে দেওয়া হবে না। এই ধরনের অবস্থান স্বাভাবিকভাবেই দলীয় শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। স্থানীয় স্তরে তৃণমূলের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে যারা এলাকায় সংগঠন সামলেছেন, মানুষের পাশে থেকেছেন, তাদের মধ্যে থেকেই প্রার্থী বেছে নেওয়া উচিত ছিল। বহিরাগত কাউকে প্রার্থী করা হলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযোগে সমস্যা তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করছেন তারা।
অন্যদিকে, দলের অপর একটি অংশ এই বিরোধিতাকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। তাদের মতে, দল যাকে প্রার্থী করেছে, তার পেছনে নিশ্চয়ই কৌশলগত ভাবনা রয়েছে।
বসিরহাট দক্ষিণের বিজেপি প্রার্থী শৌর্য্য ব্যানার্জির নাম ঘোষণা হতেই উৎসবের আবহ
বসিরহাট : উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী হিসেবে ডাঃ শৌর্য্য ব্যানার্জির নাম ঘোষণার পর থেকেই উৎসবের আবহ তৈরি হয়। বসিরহাটের ভূমিপুত্র হিসেবে পরিচিত এই চিকিৎসককে প্রার্থী তালিকায় দেখে উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েন দলীয় কর্মী-সমর্থকরা। খবর ছড়িয়ে পড়তেই দলে দলে বিজেপি কর্মীরা তার বাড়িতে ভিড় জমান। ফুলের মালা পরিয়ে, গেরুয়া আবির মাখিয়ে এবং মিষ্টি মুখ করিয়ে নিজেদের আনন্দ প্রকাশ করেন তারা। এই উচ্ছ্বাসের মধ্যেই প্রথম প্রতিক্রিয়ায় ডাঃ শৌর্য্য ব্যানার্জি স্থানীয় একাধিক সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তার দাবি, বসিরহাটে মহিলাদের নিরাপত্তা এখনও বড় প্রশ্নের মুখে। এলাকায় বিভিন্ন সময়ে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে সামনে রেখে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ বিশেষ করে মহিলারা নিজেদের নিরাপদ মনে করছেন না। নির্বাচনে জয়ী হলে মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তার অন্যতম অগ্রাধিকার হবে বলে জানান তিনি। শুধু নিরাপত্তাই নয়, বসিরহাটের দীর্ঘদিনের পানীয় জলের সমস্যাকেও তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন। তার কথায়, বহু এলাকায় এখনও পর্যাপ্ত ও বিশুদ্ধ পানীয় জলের অভাব রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বড় সমস্যা তৈরি করছে। নির্বাচনে জিতলে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
স্থানীয় ইস্যুকে সামনে রেখে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামতে চাইছেন ডাঃ শৌর্য্য ব্যানার্জি। প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই তার বাড়িতে কর্মী-সমর্থকদের ভিড় এবং উচ্ছ্বাস স্পষ্ট করে দিচ্ছে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বসিরহাটে রাজনৈতিক পারদ ক্রমেই চড়ছে।
উত্তর কলকাতার বিজেপির সংখ্যালঘু মুখ শাহ আলম যোগ দিলেন জনতা উন্নয়ন পার্টিতে

বসিরহাট : উত্তর কলকাতার বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার সভাপতি শাহ আলম যোগ দিলেন হুমায়ুন কবিরের আমজনতা উন্নয়ন পার্টিতে। তার হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির রাজ্য সভাপতি পীরজাদা খোবায়েব আমিন। আমজনতা পার্টির এন্টালির সম্ভাব্য প্রার্থীও তিনি। দীর্ঘদিন ধরে উত্তর কলকাতার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত আছেন শাহ আলম। কংগ্রেস দিয়ে রাজনীতিতে পথ চলা শুরু করলেও পরবর্তীতে ২০১৭ সালে তিনি ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দেন। দীর্ঘদিন ধরে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এন্টালির মত এলাকা থেকে বিজেপি করে আসছেন তিনি। বিগত কয়েকটি নির্বাচনে বিজেপিকে দ্বিতীয় স্থানে নিয়ে এসেছেন বলে দাবি তার। যদিও দল তাকে যোগ্য সম্মান না দেওয়ায় বিজেপি ছেড়ে তিনি জনতা উন্নয়ন পার্টিতে যোগদান করলেন। নতুন দলে যোগদান করে শাহ আলম বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় জনতা পার্টি আমাকে রীতিমতো ব্যবহার করেছে। আমি দলের জন্য অনেক কাজ করেছি। দলকে একটা স্থিতিশীল অবস্থায় নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু বিজেপি নেতৃত্ব আমাকে সম্মান দেয়নি। তাই আমি বাধ্য হয়ে দল ছাড়লাম।" বিষয়টি নিয়ে জেইউপির রাজ্য সভাপতি খোকাব আমিন বলেন, "মুসলিম সম্প্রদায়ের একাংশের মানুষকে বিজেপি-তৃণমূলের মত রাজনৈতিক দলগুলি শো কেসে পরিণত করেছে। তাদেরকে দিয়ে ফায়দা তুলে নিয়ে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়াই রেওয়াজ হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজনীতিতে। জনতা ইউনিয়ন উন্নয়ন পার্টি সেই সংস্কৃতিতে বিশ্বাসী নয়। সকলকে সমমর্যাদা ও গুরুত্ব দিয়ে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য।"
ভোট প্রচার *বিধানসভা নির্বাচন '২০২৬*
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত রাজ্য বিজেপির দ্বিতীয় তালিকায় এবারের চমক প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার কে প্রার্থী করা।এবারের উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দল বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার রাজেশ কুমার । তিনি শুক্রবার সদলে প্রচারের বেরিয়ে পড়েছেন এলাকায়।

ছবি: প্রবীর রায়।
ভোট প্রচার *বিধানসভা নির্বাচন '২০২৬*
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হয়েছে রাজ্য বিজেপির দ্বিতীয় তালিকা। এবারের উত্তর ২৪ পরগনার নোয়াপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিং। তিনি শুক্রবার প্রচারের বেরিয়ে পড়েছেন।

ছবি: প্রবীর রায়।
উপকূলবর্তী রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ
*সৌমাভ মন্ডল,বসিরহাট :* উপকূলবর্তী রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে বিজেপি হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী করেছে সন্দেশখালির পরিচিত প্রতিবাদী মুখ রেখা পাত্রকে। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সন্দেশখালি কেন্দ্রটি তপশিলি উপজাতি সংরক্ষিত হওয়ায় সেখানে সরাসরি প্রার্থী করা সম্ভব না হওয়ায় পার্শ্ববর্তী তপশিলি জাতি সংরক্ষিত হিঙ্গলগঞ্জ কেন্দ্র থেকেই তাকে লড়াইয়ে নামানো হয়েছে। তবে এই প্রার্থী ঘোষণাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে যেমন আলোচনা শুরু হয়েছে, তেমনি তৃণমূল শিবির এটিকে ‘বাইরের মুখ চাপিয়ে দেওয়ার রাজনীতি’ বলেই কটাক্ষ করছে।
স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের মতে, হিঙ্গলগঞ্জের মাটি, মানুষের সমস্যা, নদীভাঙন, চাষের সঙ্কট, সুন্দরবন এলাকার জীবনযাত্রার বাস্তবতা। এসবের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ও কাজের অভিজ্ঞতা ছাড়া এই কেন্দ্রের প্রতিনিধিত্ব করা সম্ভব নয়। তাদের দাবি, বিজেপি শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রচারের সুবিধার জন্য একটি ‘চেনা মুখ’কে এনে প্রার্থী করেছে, যার সঙ্গে এলাকার মাটির টান বা দীর্ঘদিনের কাজের যোগ নেই।
তৃণমূলের একাংশের বক্তব্য, হিঙ্গলগঞ্জ বরাবরই একটি সংবেদনশীল এলাকা, যেখানে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নদীভাঙন, বিদ্যুৎ, পানীয় জল, যোগাযোগ। এই মৌলিক সমস্যাগুলি নিয়ে প্রতিনিয়ত লড়াই করতে হয় সাধারণ মানুষকে। এই পরিস্থিতিতে বাইরের প্রার্থী এনে ভোটের রাজনীতি করা হলে বাস্তব উন্নয়নের প্রশ্নে তা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তারা।
অন্যদিকে,বিজেপি এই কেন্দ্রকে তাদের শক্ত ঘাঁটি বলে দাবি করলেও তৃণমূলের পাল্টা দাবি, গত কয়েক বছরে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প যেমন রাস্তা, সেতু, বিদ্যুৎ, দুয়ারে সরকার, লক্ষ্মীর ভান্ডার, স্বাস্থ্যসাথী এইসবের মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছে গেছে উন্নয়নের ছোঁয়া। ফলে শুধুমাত্র মুখ বদল করে বা প্রতিবাদের ইস্যু তুলে ধরে হিঙ্গলগঞ্জে জমি শক্ত করা সহজ হবে না বলেই মনে করছে শাসকদল। এদিকে একইসঙ্গে বসিরহাট দক্ষিণে ডাঃ শৌর্য্য ব্যানার্জি, স্বরূপনগরে তারক সাহা, হাড়োয়ায় ভাস্কর মন্ডল, মিনাখাঁয় রুদ্রেন্দ্র পাত্র এবং সন্দেশখালিতে সনৎ সর্দারকে প্রার্থী করেছে বিজেপি। তবে তৃণমূলের বক্তব্য, একাধিক কেন্দ্রে নতুন বা অপ্রচলিত মুখ আনার মাধ্যমে বিজেপি প্রমাণ করছে তাদের শক্তিশালী স্থানীয় নেতৃত্বের অভাব রয়েছে।
তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা এবং স্থানীয় নেতৃত্বের উপর আস্থা। এই তিনকেই সামনে রেখেই তারা নির্বাচনী লড়াইয়ে নামবে। হিঙ্গলগঞ্জের ক্ষেত্রেও তারা আত্মবিশ্বাসী যে, এলাকার মানুষ বাইরের প্রার্থীর চেয়ে নিজের এলাকার উন্নয়নে কাজ করা শক্তিকে বেশি গুরুত্ব দেবেন। সব মিলিয়ে হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে রেখা পাত্রকে প্রার্থী করা বিজেপির কৌশল হলেও, তৃণমূলের মতে এটি বাস্তবের মাটিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, তার উত্তর মিলবে ভোটের ফলাফলেই।