কাহার সম্প্রদায়ের বেহেরাদের কাঁধে চড়ে বিসর্জনের পথে যায় স্বামী ব্রহ্মানন্দের ঘোষ বাড়ির দেবী
বসিরহাট : সালটা ১৫৮০, হয়তো সেই সময় সবেমাত্র ভারতবর্ষে পদার্পণ হয়েছে ব্রিটিশদের। এই সালেই হুগলির আকনা গ্রামের ঘোষ বংশের সপ্তদশ বংশধর সদানন্দ ঘোষ বৈবাহিক সূত্রে আবদ্ধ হন বসিরহাটের ট্যাঁটরা নিবাসী রায়চৌধুরী বাড়ির কন্যার সঙ্গে। ১৭০০ খ্রিস্টাব্দে যখন জোব চার্ণকের কলকাতা ছিল ক্যালকাটা, যার বয়স ছিল মাত্র ১০বছর, বসিরহাটের শিকড়া কুলিনগ্রামে সেই সালেই গোল পাতায় ছাওয়া মাটির আটচালায় দেবী দুর্গার আরাধনা শুরু করেন ঘোষ বংশেরই বংশধর দেবিদাস ঘোষ। পরবর্তীতে ১৮১০ থেকে ১৮২০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে কালীপ্রসাদ ঘোষ পাঁচ খিলান যুক্ত পাকা দুর্গা দালান নির্মাণ করেন, তারপর থেকে সেই দুর্গাদালানেই দেবী দুর্গার আরাধনা হয়ে যাচ্ছে। ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দ এই ঘোষ বংশেই পিতা আনন্দমোহন ঘোষ ও মাতা হেমাঙ্গিনী দেবীর কোল আলো করে জন্মগ্রহণ করেন রাখালদাস ঘোষ, যিনি পরবর্তীতে ঠাকুর শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের মানসপুত্র ও স্বামী বিবেকানন্দের গুরুভাই স্বামী ব্রহ্মানন্দ হিসেবে পরিচিত হন। ইতিহাস ঘাটলে জানা যায়, বালক রাখাল দুর্গাদালানের দেবী দুর্গার রূপ দেখে ধ‍্যানস্থ হতেন। অনতিদূরে বোধন তলায় সহপাঠীদের সঙ্গে তিনি মেতে উঠতেন পূজা পূজা খেলায় এবং বোধনতলার চারপাশে ঘুরে ঘুরে তিনি শ্যামাসংগীত গাইতেন। পরবর্তীকালে শিকড়া কুলিন গ্রামে এসে বোধন তলায় মাতা হেমাঙ্গিনী দেবীকে ভূমিষ্ঠ প্রণাম জানিয়েছিলেন। পরবর্তী।কালে ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দে স্বামী ব্রহ্মানন্দের পূণ‍্য জন্মভূমিতে প্রতিষ্ঠিত হয় শিকড়া কুলিন গ্রাম রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন।
স্বামী ব্রহ্মানন্দ তার পরিবারের সদস‍্যদের জানিয়েছিলেন, "দেখিস এই পুজো যেন বন্ধ না হয়।" তার কথা মেনেই এই বংশের উত্তরপুরুষরা এখনো পর্যন্ত সমস্ত রকম প্রথা মেনে এই দুর্গাপুজোর আয়োজন করে থাকেন। এবছর৩২৭ বছরে পদার্পণ করলো।প্রতিবছর পালা করে এই ঘোষ বংশের দুর্গাপুজো হয়ে আসছে বংশপরম্প এই বছর ঘোষ পরিবারের বড় শরীক।রাজ্য তথা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই বংশের সদস্যরা পুজোর সময় ফিরে আসেন বাড়িতে। মহালয়ার পর প্রতিপদে পুজোর সূচনা হিসেবে বসে দেবীঘট। ষষ্ঠীর দিন হয় বোধন। মহাসাড়ম্বরে বংশের প্রথা এনে হয় মহাসপ্তমী, মহাঅষ্টমী ও মহানবমীর পুজো। মহাষ্টমীর দিন ভক্তদের জন্য থাকে লুচি ভোগের আয়োজন। মহাদশমীতে দুর্গাপুজোর সমস্ত রকম রীতি মেনে পুজো সম্পন্ন হওয়ার পর কাহার সম্প্রদায়ের বেহারাদের কাঁধে চেপে মা দুর্গার কৈলাস যাত্রা শুরু হয়। দেবীর মৃন্ময়ী রূপকে স্থানীয় একটি পূণ্যপুকুরে বিসর্জন দেওয়া হয়। প্রাচীন ইতিহাসকে সাক্ষী রেখে সমস্ত রকম রীতিকে পাথেয় করে স্বামী ব্রহ্মানন্দের এই পুজোকে এখনো ঐতিহ্যবাহী করে রেখেছে সমগ্র শিকড়া কুলিন গ্রাম। ছবি:সৌমাভ মণ্ডল।
ইউজিসির নিয়ম ভেঙে অধ্যক্ষ নিয়োগে রাজ্যের এক্তিয়ার নেই, গভর্নমেন্ট আর্ট কলেজের অধ্যক্ষের নিয়োগ বাতিল করল হাইকোর্ট

*কলকাতা:* বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ২০১০-এর বাধ্যতামূলক নিয়মাবলীর সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ কোনও বিকল্প যোগ্যতার ভিত্তিতে কাউকে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগের এক্তিয়ার নেই রাজ্যের। এমনটাই জানাল কলকাতা হাইকোর্ট।কলকাতার গভর্নমেন্ট(Government )আর্ট অ্যান্ড ক্রাফট কলেজের অধ্যক্ষ পদে ছত্রপতি দত্তের নিয়োগ খারিজ করে বিচারপতি রাই চ্যাটার্জী জানিয়ে দিয়েছেন পেশাদার শিল্পী বলেই রাজ্য ইউজিসির নিয়ম ভেঙে কাউকে নিয়োগ করতে পারে না।

আদালতের নির্দেশ, ওই পদে থাকার কোনও বৈধ অধিকার ছত্রপতির নেই। আদালতের পর্যবেক্ষণ, রাজ্যের নিয়োগ কাঠামো কোনওভাবেই বাধ্যতামূলক ইউজিসি যোগ্যতা লঙ্ঘন করে নিয়োগের অনুমতি দিতে পারে না। আদালত পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সুপারিশ এবং ২০১৭ সালের ২৪ এপ্রিলের নিয়োগ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি, যতদূর তা দত্তের সঙ্গে সম্পর্কিত, তাও বাতিল করে দিয়েছে।রায়ে আদালত মন্তব্য করেছে, বাধ্যতামূলক আইনি যোগ্যতা পূরণ করেন না এমন কোনও ব্যক্তিকে নিয়োগ করার অবাধ ক্ষমতা রাজ্য সরকার বা পাবলিক সার্ভিস কমিশনের নেই।
বনগাঁয় সিপিএমের বুকস্টলে নিষেধাজ্ঞা, নির্দেশ হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের

*কলকাতা:* টেবিল-ছাতা পেতেও বুকস্টল নয়। বনগাঁয় সিপিএমের বুকস্টল মামলায় বড় নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। পরবর্তী শুনানি ২১ জানুয়ারি। সব পক্ষকে নোটিস দেওয়ার নির্দেশ।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য নির্দেশ দেন, দুর্গাপুজোর সময় বনগাঁয় বুকস্টল বসাতে পারবে সিপিএম। পুলিশ সুপার ও আইসিকে অনুমতি দিতে হবে। সিপিএম যেখানে চাইবে তার ১০০ মিটারের মধ্যে স্টলের ব্যবস্থা করতে হবে।

এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে যায় রাজ্য সরকার। ষষ্ঠীর সকালে জরুরি শুনানি হয় প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের বেঞ্চে। শুনানিতে প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন করেন, অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছেন কি না এবং অনুমতি না পেলে পুলিশ কী করবে। সিপিএমের আইনজীবী শামিম আহমেদ জানান, পিডব্লিউডি এবং হাইওয়ে অথরিটিকে ই-মেল করা হয়েছে এবং পুলিশকেও জানানো হয়েছে। প্রধান বিচারপতি বলেন, রাস্তার ধারে সব স্টল তুলে দিতে হবে, অনুমতি না থাকলে কারোরই স্টলের প্রয়োজন নেই এবং আইনের চোখে সবাই সমান।

সিপিএমের আইনজীবী জানান, দলীয় কার্যালয়ের সামনে অন্য স্টলের মতোই একই লাইনে স্টল রয়েছে। পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য বলেন, বাকি স্টলগুলির অনুমতি আছে কি না জানা নেই।

তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, হাইকোর্ট নির্দেশ দেবে সরাতে এবং সমতা থাকা দরকার। সিপিএমের তরফে শেষ আবেদন করা হয়, পুজোর আর ৩-৪ দিন বাকি থাকায় মাইক ছাড়া শুধু ৫ ফুট টেবিল আর ছাতা পেতে স্টল করতে দেওয়া হোক।

রাজ্যের তরফে জানানো হয়, বনগাঁ থানার আইসি এজলাসে হাজির রয়েছেন এবং বুকস্টল থেকে বাংলাদেশ সীমান্ত মাত্র ৬ কিলোমিটার দূরে। সব সওয়াল শুনে প্রধান বিচারপতির স্পষ্ট নির্দেশ, টেবিল-ছাতা পেতেও কোনও স্টলে অনুমতি নয়।
পুজোর আগে ধৃত তিন কুখ্যাত দুষ্কৃতী, উদ্ধার আগ্নেয়াস্ত্র
বসিরহাট : কিছুদিন আগে বসিরহাটের কুখ্যাত দুষ্কৃতী বুদ্ধদেব মণ্ডলকে গ্রেফতার করে বসিরহাট থানার পুলিশ ও এসওজি। দক্ষিণ ভারতের একটি রাজ্য থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুদ্ধদেবের বিরুদ্ধে বসিরহাট ও পার্শ্ববর্তী একাধিক থানায় তার বিরুদ্ধে খুন এবং আগ্নেয়াস্ত্র মজুত রাখার অভিযোগ ছিল। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে স্বপন দাস, রামকৃষ্ণ মণ্ডল ও বিশ্বজিৎ মণ্ডল নামে আরও তিনজনকে গ্রেফতার করেন তদন্তকারীরা। ধৃতদের কাছ থেকে দুটি দেশি বন্দুক, একটি ৭ এমএম পিস্তল এবং তিনটি গুলি উদ্ধার হয়েছে। পুজোর প্রাক্কালে এই গ্রেফতারি ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশের তৎপরতা নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। বসিরহাট থানায় আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই তথ্য জানান বসিরহাট পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার অলকনন্দা ভাওয়াল। সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও বসিরহাট থানার আইসি মহম্মদ ফিরোজ আলী। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

ছবি:সৌমাভ মণ্ডল।
বনগাঁয় সিপিআইএমের বুক স্টল তৈরিতে অনুমতি হাইকোর্টের, রাজ্যের আপত্তি খারিজ

*কলকাতা:* বনগাঁয় সিপিআইএমের বুক স্টল তৈরির অনুমতি দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য এই নির্দেশ দিয়েছেন।

আদালতের নির্দেশ, পার্টি অফিসের ১০০ মিটারের মধ্যে সিপিআইএমকে বুক স্টল তৈরি করতে দিতে হবে। স্টল তৈরির সময় এবং তার পরেও যাতে এলাকায় কোনও অশান্তি না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে পুলিশকে। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েনেরও নির্দেশ দিয়েছে আদালত। জেলার পুলিশ সুপারকে আগামী ২৩ নভেম্বর এ বিষয়ে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।

এই নির্দেশের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদন জানায় রাজ্য সরকার। সেই আবেদন খারিজ করে দেন বিচারপতি ভট্টাচার্য।

*আদালতের পর্যবেক্ষণ:*

শুনানি চলাকালীন বিচারপতি ভট্টাচার্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আদালত এটা নিয়ে চিন্তিত যে, অন্যরা নিজেদের মর্জিমতো কোনও অনুমতি ছাড়াই স্টল তৈরি করছে, অথচ সিপিআইএমকে আলাদা করে অনুমতি নিয়ে বুক স্টল করতে হচ্ছে।

রাজ্যের তরফে অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র সওয়াল করেন, হাইওয়ের ওপর কোনও নির্মাণ করতে গেলে হাইওয়ে অথরিটির অনুমতি প্রয়োজন এবং হাইওয়ের ওপর কোনও নির্মাণ করা যায় না। এর উত্তরে বিচারপতি বলেন, "তাহলে হাইওয়ে অথরিটি এসে বলুক সেটা।"

বিচারপতির আরও মন্তব্য, "একেক জনের ক্ষেত্রে একেক রকম নিয়ম থাকতে পারে না। আইন সবার জন্য সমান। কাউকে অনুমতি দিলাম আর কাউকে দিলাম না, এটা করলে ভুল বার্তা যাবে।"

তিনি প্রশ্ন তোলেন, "কেউ স্টল করতে চাইল, আর কেউ এসে বাধা দিল। এটা করলে অস্থিরতা তৈরি হবে না?"

অ্যাডভোকেট জেনারেল যখন বলেন, পুলিশ কোনও নির্মাণের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা দিতে বা সহায়তা করতে পারে না, তখন বিচারপতি পাল্টা প্রশ্ন করেন, "কেউ অস্থায়ী কাঠামো বানানোর সময় পুলিশ বাধা দেবে আর কোনও শক্তিশালী পক্ষ অস্থায়ী কাঠামো বানানোর সময় পুলিশ দর্শকের ভূমিকা পালন করবে, এটা কি হতে পারে?"

বিচারপতি আরও বলেন, "আগামীকালের মধ্যে সব ভেঙে দিন, তাহলে আর সমস্যা থাকবে না। আমি রাজ্যকে এক বছর সময় দিচ্ছি। রাজ্য নির্দিষ্ট নীতি তৈরি করুক। রাজ্যকে নিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণ করতে হবে। আমি হাইওয়ে অথরিটিকে বলছি যে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সব নির্মাণ ভেঙে দিক।"

অ্যাডভোকেট জেনারেলকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, "আপনি কি এটা বলতে চান যে সিপিআইএম-এর পার্টি অফিসের সামনে কোনও অস্থায়ী নির্মাণ হয়নি? আপনি যদি বলেন যে হয়নি তাহলে মামলা এখানেই শেষ।"

অন্যদিকে, অ্যাডিশনাল অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য সওয়াল করেন, PWD-র কাছে সিপিআইএম কোনও অনুমতি চায়নি। যে বাড়িতে সিপিআইএম-এর পার্টি অফিস রয়েছে, সেই বাড়ির মালিক হিন্দু জাগরণ মঞ্চকে স্টল বানানোর অনুমতি দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গতকাল বনগাঁ থানার আইসিকে রিপোর্ট পেশ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে যায় রাজ্য। পরে প্রধান বিচারপতি মামলাটি ফের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যর বেঞ্চেই ফেরত পাঠান।
।। ফুড কালার নয়, আসল জাফরানে হায়দ্রাবাদি দম বিরিয়ানির স্বাদ এবার বসিরহাটে ।।
বসিরহাট : বসিরহাট শহরের ৯নং ওয়ার্ডে শোনপুকুর সংলগ্ন জাস্ট পিৎজা় ক্যাফে অ্যান্ড রেস্তোরাঁয় চালু হলো দম বিরিয়ানি। ফুড কালারের বদলে আসল জাফরান ব্যবহার করে বিরিয়ানির স্বাদ ও গন্ধে নতুনত্ব আনার উদ্যোগ নিয়েছে এই রেস্তোরাঁ। হায়দ্রাবাদী রীতিতে তৈরি এই বিরিয়ানিতে ব্যবহার করা হচ্ছে কেশর, খোয়া ক্ষীর, কাজু ও জায়ত্রী-জায়ফল সহ বিভিন্ন উপকরণ। ফলে বিরিয়ানি প্রেমীদের কাছে নতুন আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে এই পদ। বিরিয়ানি একসময় ভিন রাজ্যের খাবার হিসাবে পরিচিত থাকলেও বাঙালির খাদ্যতালিকায় এখন তার বিশেষ জায়গা রয়েছে। বিশেষ করে উৎসবের মরশুমে বিরিয়ানির চাহিদা বেড়ে যায় কয়েক গুণ। কিন্তু বসিরহাট শহরে পছন্দমতো বিরিয়ানির সন্ধানে অনেক সময়ই সমস্যায় পড়তে হয় খাদ্যরসিকদের। সেই চাহিদার কথা মাথায় রেখেই নতুন করে দম বিরিয়ানি পরিবেশন শুরু করেছে জাস্ট পিৎজা় ক্যাফে অ্যান্ড রেস্তোরাঁ।
দুর্গাপুজোর মরশুমে তাই বিরিয়ানিপ্রেমীদের কাছে এই রেস্তোরাঁ হয়ে উঠতে পারে নতুন ঠিকানা। বিরিয়ানির পাশাপাশি এখানে পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন স্বাদের পিৎজা়, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই ও নাগেট্স সহ নানা ধরনের খাবার। ফলে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা হোক কিংবা পরিবারের সঙ্গে খাওয়াদাওয়া, বিভিন্ন পদের স্বাদ নিতে শোনপুকুর সংলগ্ন এই রেস্তোরাঁয় ভিড় জমাতেই পারেন খাদ্যরসিকরা। আসল জাফরানের সুবাসে হায়দরাবাদি ধাঁচের দম বিরিয়ানির স্বাদ কেমন, তা চেখে দেখার অপেক্ষায় এখন বসিরহাটের বিরিয়ানিপ্রেমীরা।
বাংলাদেশি মহিলার সাজা কমাল কলকাতা হাইকোর্ট, অবিলম্বে দেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ*

*কলকাতা:* ১৯৪৬ সালের ফরেনার্স অ্যাক্টের ১৪এ(বি) ধারায় দোষী সাব্যস্ত এক বাংলাদেশি মহিলার কারাদণ্ডের মেয়াদ কমিয়ে ইতিমধ্যেই জেলে কাটানো সময়কাল পর্যন্ত ধার্য করল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, ওই মহিলাকে অবিলম্বে মুক্তি দিয়ে আইন অনুযায়ী বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে হবে।বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত এই রায় দেন তনুশ্রী সরকার ওরফে পুতুলের দায়ের করা একটি আপিলের শুনানিতে।

জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক, ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট-১, ওই মহিলাকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৬,০০০ টাকা জরিমানার সাজা দিয়েছিলেন।

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, আবেদনকারী ইতিমধ্যেই প্রায় দেড় বছর জেল হেফাজতে কাটিয়ে ফেলেছেন। এই বিষয়টি বিবেচনা করে বিচারপতি তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, “আবেদনকারীকে আর বেশি দিন হেফাজতে রাখার কোনও যুক্তি নেই।”

হাইকোর্ট তাঁর দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রায় বহাল রাখলেও, মামলার পরিস্থিতি এবং তাঁর বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছার কথা মাথায় রেখে, মূল কারাদণ্ডের মেয়াদ কমিয়ে ইতিমধ্যেই জেলে কাটানো সময়কাল পর্যন্ত ধার্য করেছে।
আগাম জামিন খারিজ, গ্রেফতারির মুখে প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন

*ইউনেস্কোর নামে দুর্গাপুজোর টিকিট বিক্রিতে দুর্নীতির অভিযোগ*

*কলকাতা:* কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে আরও অস্বস্তিতে রাজ্যের প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। তাঁর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দিলেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ।

বৌবাজার থানায় দায়ের হওয়া এফআইআর (নং- ১০২) -এর ভিত্তিতে হওয়া মামলায় আগাম জামিন চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। অভিযোগ, ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে চড়া দামে দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শোয়ের টিকিট বিক্রি করে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি করা হয়েছে। এই মর্মে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন জয়দীপ মুখার্জি। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা রুজু করে পুলিশ।

এদিন আদালত ওই মামলায় তাঁর আগাম জামিনের আর্জি খারিজ করে দেয়। ফলে ওই মামলায় তাঁর গ্রেফতারির সম্ভাবনা তৈরি হল।

অন্যদিকে, চন্দননগর উৎসব সংক্রান্ত পৃথক একটি মামলায় অবশ্য ইন্দ্রনীল সেনের আগাম জামিন মঞ্জুর করেছেন বিচারপতি। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ওই মামলায় তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে কোনও সন্দেহজনক লেনদেন মেলেনি। রাজ্যের তরফে দাবি করা হয়েছে, ওই মামলায় মূল অভিযুক্ত ধ্রুবজ্যোতি বসু।
আগরপাড়ায় ইয়ং ম্যানস অ্যাসোসিয়েশনের দুর্গাপুজোর উদ্বোধনে মিঠুন চক্রবর্তী*

*নিজস্ব সংবাদদাতা, ব্যারাকপুর:* শুভ চতুর্থীর পূর্ণ লগ্নে আগরপাড়া 'আমরা সবাই ইয়ং ম্যানস অ্যাসোসিয়েশন'-এর ৫১তম বর্ষের দুর্গাপুজোর শুভ উদ্বোধন হল। ফিতে কেটে ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে পুজোর সূচনা করেন বিজেপি নেতা ও বলিউড অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী।এদিন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসু, পুজো কমিটির প্রধান উদ্যোক্তা চণ্ডীচরণ রায় সহ অন্যান্য বিশিষ্টজনেরা।

অভিনেতাকে এক ঝলক দেখতে ও তাঁর মুখে জনপ্রিয় সিনেমার সংলাপ শুনতে ভিড় জমান বহু অনুরাগী। অনুরাগীদের অনুরোধে মঞ্চ থেকেই তাঁর অভিনীত বাংলা ছবির একাধিক জনপ্রিয় ডায়লগ শোনান মিঠুন। যা ঘিরে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে।
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে শিলিগুড়িতে হিন্দু জাগরণ মঞ্চের 'হিন্দুদের দোকান থেকে পুজোর সামগ্রী বা বিরিয়ানি কিনুন' - এই পোস্টার বিতর্ক নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হয় মিঠুন চক্রবর্তীর কাছে।জবাবে তিনি বলেন, 'যে যেরকম ভাবে ভাববে, সেভাবে দেশ চলবে। ওরা যদি ভেবে থাকে হবে।'

*ছবি: উৎপল দাস।*

#MithunChakraborty #DurgaPuja2026 #Agarpara #BJP #BengalNews
।। দুর্গাপুজোয় অসহায়দের মুখে হাসি ফোটাতে নতুন বস্ত্র বিতরণে বসিরহাটের যুবসমাজ ।।
বসিরহাট : দুর্গাপুজোর আনন্দ অসহায় মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে উদ্যোগী হয়েছে সিস্টার নিবেদিতা চ্যারিটেবল ট্রাস্ট। পুজোর প্রাক্কালে দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের হাতে নতুন বস্ত্র তুলে দেওয়ার লক্ষ্যে ‘পুজোর খুশি—নতুন বস্ত্র উপহার’ কর্মসূচির আয়োজন করেছে ট্রাস্ট। বসিরহাটের সংগ্রামপুর কালীবাড়ির পাশের মাঠে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। উৎসবের আনন্দ থেকে যাতে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষ বঞ্চিত না হন, সেই লক্ষ্যেই এই মানবিক উদ্যোগ। উদ্যোক্তাদের আশা, সকলের সামান্য সহযোগিতায় অসহায় পরিবারগুলির মুখে হাসি ফোটানো সম্ভব হবে।
ট্রাস্টের সম্পাদিকা জানান, দুর্গাপুজো বাঙালির সর্বজনীন উৎসব। এই উৎসবের আনন্দ প্রত্যেক মানুষের ঘরে পৌঁছে দেওয়াই তাদের মূল উদ্দেশ্য। আর্থিক অনটনের কারণে অনেক অসহায় পরিবার পুজোর সময় নতুন পোশাক কিনতে পারেন না। তাদের হাতে নতুন বস্ত্র তুলে দিয়ে পাশে দাঁড়াতে চান তারা। ট্রাস্টের সভাপতি চন্দন মুখোপাধ্যায় বলেন, মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং মানবিক মূল্যবোধকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই তাদের অঙ্গীকার। অসহায় ও দুঃস্থ মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই তাদের কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। সকলে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে এলে এই ধরনের উদ্যোগ আরও বড় আকারে বাস্তবায়িত করা সম্ভব বলেও জানান তিনি। ট্রাস্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মানবতা, সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। পুজোর মরসুমে নতুন বস্ত্রের উপহার অসহায় মানুষের জীবনে আনন্দ ও আশার আলো নিয়ে আসুক, সেই প্রত্যাশা নিয়েই এই উদ্যোগ।