মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের নতুন সভাপতি হলেন হুমায়ুন কবির*
খেলা
*নিজস্ব প্রতিনিধি,কলকাতা*: ময়দানে ক্লাব তাঁবুতে শনিবার আয়োজিত এক সভায় প্রাক্তন সভাপতি আমিরুদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দেন। এরপর হুমায়ুন কবিরকে ক্লাবের নতুন সভাপতি হিসেবে স্বাগত জানানো হয়।ক্লাব কর্তৃপক্ষ সভাপতি থাকাকালীন আমিরুদ্দিনের কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা ও নেতৃত্বের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।

নবনিযুক্ত সভাপতি হুমায়ুন কবির দায়িত্ব গ্রহণ করে কার্যনির্বাহী কমিটি ও ট্রাস্টিদের আস্থার জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ঐতিহ্যবাহী এই ক্লাবের নেতৃত্ব দিতে পেরে তিনি সম্মানিত এবং মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ও এর সমর্থকদের জন্য আরও সাফল্য আনতে সকলের সঙ্গে কাজ করার অপেক্ষায় রয়েছেন।

বিদায়ী সভাপতি আমিরুদ্দিন হুমায়ুন কবিরকে শুভেচ্ছা জানান এবং তাঁর কার্যকালে নিরবচ্ছিন্ন সমর্থনের জন্য সকলকে ধন্যবাদ দেন।

ক্লাবের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য রক্ষার পাশাপাশি ক্লাবকে একটি প্রগতিশীল ও সফল ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর ক্লাব কর্তৃপক্ষ। মাঠে ও মাঠের বাইরে শ্রেষ্ঠত্বের অভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে নতুন আত্মবিশ্বাস ও ঐক্যের সঙ্গে এই নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করতে উন্মুখ মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। *ছবি:সঞ্জয় হাজরা।*
*বিশ্ব পরিবেশ দিবসে ইডেন গার্ডেন্সে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সিএবির*
*স্পোর্টস ডেস্ক, আনন্দ বাংলা:* প্রকৃতিকে রক্ষা এবং আরও সবুজ, নির্মল ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষ্যে শুক্রবার ইডেন গার্ডেন্সে চারাগাছ রোপণ করে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল।এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, সিএবি সচিব বাবলু কোলে, যুগ্ম সচিব মদন মোহন ঘোষ, কোষাধ্যক্ষ সঞ্জয় দাস এবং মহিলা ক্রিকেটের কিংবদন্তি ঝুলন গোস্বামী প্রমুখ। এছাড়াও সিএবি-র বিভিন্ন কমিটির চেয়ারপার্সন, কমিটির সদস্য এবং আধিকারিকরা এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। ছবি সৌজন্যে: সিএবি
ফিফার র‌্যাংকিংয়ে আর্জেন্টিনা দুই ধাপ এগিয়ে শীর্ষে*
খেলা

*স্পোর্টস ডেস্ক* : বিশ্বকাপের আগে দারুণ ফর্ম ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগোচ্ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আগামী ১৭ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তারা শিরোপা ধরে রাখার অভিযান শুরু করবে। এর আগে বড় এক সুখবর পেল লিওনেল স্কালোনির দল।

সর্বশেষ হালনাগাদে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার র‌্যাংকিংয়ে আর্জেন্টিনা দুই ধাপ এগিয়ে শীর্ষে উঠে এসেছে। ফলে বিশ্বকাপ অভিযানে তারা নামবে র‌্যাংকিংয়ের এক নম্বর দল হিসেবে।

আগে তৃতীয় স্থানে থাকা আর্জেন্টিনা বর্তমানে ১৮৭৪ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে। এই পরিবর্তনে ফ্রান্স দুই ধাপ পিছিয়ে তৃতীয় স্থানে নেমে গেছে, তাদের রেটিং পয়েন্টও কিছুটা কমেছে। একই সময়ে স্পেন দ্বিতীয় স্থানে স্থিতিশীল রয়েছে।

শীর্ষ পাঁচে থাকা দলগুলোর মধ্যে ইংল্যান্ড চতুর্থ, পর্তুগাল পঞ্চম এবং ব্রাজিল ষষ্ঠ স্থানে অপরিবর্তিত রয়েছে। অন্যদিকে এক ধাপ এগিয়ে সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে মরক্কো, আর নেদারল্যান্ডস নেমে গেছে অষ্টম স্থানে। বেলজিয়াম নবম এবং জার্মানি দশম স্থানে রয়েছে, যা শীর্ষ দশে আর কোনো পরিবর্তন আনেনি।

সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ শুরুর আগে র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষে উঠে আর্জেন্টিনা বড় ধরনের আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামতে যাচ্ছে।

*ছবি সৌজন্যে: এক্স।*
।। বিশ্ব পরিবেশ দিবসে বসিরহাট জেলা হাসপাতালে  চারা রোপণ, সবুজায়নের বার্তা বিজেপি ওবিসি মোর্চার ।।
বসিরহাট : বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বসিরহাটে পরিবেশ সচেতনতার এক উল্লেখযোগ্য কর্মসূচির আয়োজন করল বিজেপির ওবিসি মোর্চা। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে গাছ লাগানোর গুরুত্ব তুলে ধরতে বসিরহাট জেলা হাসপাতাল চত্বরে ৩৫টি চারা গাছ রোপণ করা হয়।
শুক্রবার সকালে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে অংশ নেন বিজেপির একাধিক নেতৃত্বের পাশাপাশি স্বাস্থ্য দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরাও। হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ জনপরিসরে গাছ লাগানোর মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষার বার্তা তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়। কর্মসূচির উদ্যোক্তারা জানান, শুধুমাত্র চারা রোপণ করাই নয়, ভবিষ্যতে গাছগুলির পরিচর্যা ও সংরক্ষণের দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হবে, যাতে সেগুলি বড় হয়ে হাসপাতাল চত্বরকে আরও সবুজ ও মনোরম করে তুলতে পারে।
এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুকল্যাণ বৈদ্য ও বসিরহাট বিজেপি সাংগঠনিক জেলার ওবিসি মোর্চার সভাপতি অনুপম বিশ্বাস। তাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বসিরহাট স্বাস্থ্য জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক রবিউল ইসলাম গাইন, সিএমওএইচ-২ অনুপম ভট্টাচার্য, সিএমওএইচ-৩ শ্যামল বিশ্বাস এবং হাসপাতালের অন্যান্য আধিকারিকরা। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সুকল্যাণ বৈদ্য বলেন, "বর্তমান সময়ে বিশ্ব উষ্ণায়ন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং পরিবেশ দূষণ মানব সমাজের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পরিবেশকে রক্ষা করতে এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ পৃথিবী গড়ে তুলতে বেশি করে গাছ লাগানো অত্যন্ত জরুরি।" তিনি জানান, হাসপাতাল চত্বরে রোপণ করা ৩৫টি চারা গাছ ভবিষ্যতে বড় হয়ে রোগী, চিকিৎসক এবং সাধারণ মানুষের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর ও নির্মল পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া স্বাস্থ্য আধিকারিকরাও পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাদের মতে, হাসপাতালের মতো জায়গায় সবুজ পরিবেশ শুধু সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে না, রোগীদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই এই ধরনের উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করার প্রয়োজন রয়েছে।
চারা রোপণের পাশাপাশি উপস্থিত সকলের কাছে পরিবেশ রক্ষার শপথও নেওয়া হয়। প্লাস্টিক ব্যবহার কমানো, জল অপচয় রোধ এবং প্রত্যেককে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানানো হয় অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে।
বসিরহাট জেলা হাসপাতাল চত্বরে এই সবুজায়ন কর্মসূচি সাধারণ মানুষের মধ্যেও ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। চিকিৎসা করাতে আসা রোগী ও তাদের পরিজনরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, "হাসপাতাল চত্বর আরও সবুজ হয়ে উঠলে পরিবেশ যেমন উন্নত হবে, তেমনই রোগীদের জন্যও একটি স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তৈরি হবে।" বিশ্ব পরিবেশ দিবসে এই উদ্যোগ পরিবেশ রক্ষার বার্তা ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেই মনে করছেন উপস্থিত সকলেই।
বিশ্ব পরিবেশ দিবসে হালিশহর পৌরসভাতে গাছ রোপণ কর্মসূচী পালন
নিজস্ব সংবাদদাতা: আজ ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস। সারা দেশের সঙ্গে মহা সমারোহে পালিত এই দিনটি। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধাননগরে নলবনে গাছ বিতরণের মধ্যে দিয়ে "একটি গাছ মায়ের নামে" প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।  বৃক্ষরোপণ দিবসে মুখ্যমন্ত্রী সকল রাজ্য বাসীকে ছাদের বিভিন্ন জায়গায় গাছ লাগানোর কথা বলেন। উত্তর ২৪ পরগনার হালিশহর পৌরসভার এই কর্মসূচিতে আসে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী অর্জুন সিং। তিনি এদিন এখানে গাছ রোপণ করেন।এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বীজপুরের বিধায়ক সুদীপ্ত দাস সহ প্রশাসনিক আধিকারিকেরা। মন্ত্রী সাংবাদিকের মুখোমুখি হয়ে বলেন," বিগত দিনে যারা পুকুর ভরাট ও গাছ কেটেছে তাদের জায়গা জেলে হবে"। ছবি: প্রবীর রায়।
বাংলার কৃতি খেলোয়াড়দের এক অভিনব সম্বর্ধনা*
খেলা


নিজস্ব প্রতিনিধি :বৃহস্পতিবার কলকাতার ময়দানে আশুতোষ কলেজের টেন্টে অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশনের সচিব কল্যান চৌবের উদ্যোগে বাংলার কৃতি খেলোয়াড়দের নিয়ে এক অভিনব সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানের উপস্থিত ছিলেন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের থেকে শুরু করে ফুটবল, ক্রিকেট, সাঁতার, পর্বতারোহন ছাড়াও বিভিন্ন ক্রীড়া বিভাগের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গরা। এদিন খেলো ইন্ডিয়ায় চ্যাম্পিয়ন হওয়া বাংলা দলকে সম্মর্ধিত করার পাশাপাশি পর্বতারোহনের ক্ষেত্রে অনন্য কৃতিত্বের জন্য পর্বতারোহী দেবাশীষ বিশ্বাস, দেবদাস নন্দী এবং শুভম চট্টোপাধ্যায় কে রাধানাথ শিকদার অ্যাডভেঞ্চার সম্মানে সম্মানিত করা হয়। দূরপাল্লার সাঁতারু সায়নী ঘোষকেও এই অনুষ্ঠানে সম্মানিত করা হয়। *ছবি: সঞ্জয় হাজরা*
।। তৃণমূল নেতা বিকাশ মণ্ডল গ্রেপ্তার, সন্দেশখালিতে গেরুয়া আবিরে উৎসব মহিলাদের ।।
বসিরহাট : সন্দেশখালিতে তৃণমূলের জেলা পরিষদের সদস্য তথা শেখ শাহজাহান ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত বিকাশ মণ্ডলের গ্রেপ্তারিকে কেন্দ্র করে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়লেন এলাকার বহু মহিলা। বুধবার সন্দেশখালি ১ নম্বর ব্লকের ন্যাজাট-২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় দেখা যায় এক ভিন্ন চিত্র। গেরুয়া আবির মেখে, একে অপরকে শুভেচ্ছা জানিয়ে এবং মিষ্টিমুখ করে আনন্দ প্রকাশ করেন তারা। বহু মহিলার দাবি, দীর্ঘদিন ধরে যে অত্যাচার, ভয়ভীতি ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ তারা তুলে এসেছেন, সেই অভিযোগের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় তারা স্বস্তি অনুভব করছেন।
স্থানীয়দের একাংশের বক্তব্য, গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষের উপর নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর একাধিক বাড়িঘর ভাঙচুর, হামলা ও ভয় দেখানোর অভিযোগও উঠেছিল কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে। সেই ঘটনাগুলির তদন্ত ও বিচার দাবি করে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলি।
মহিলাদের অভিযোগ, বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে কাটমানি আদায়, সরকারি অর্থের অপব্যবহার এবং সাধারণ মানুষের প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার মতো অভিযোগ বহুবার সামনে এসেছে। যদিও এই সমস্ত অভিযোগের অনেকগুলিই এখনও তদন্তাধীন এবং আদালতে বিচারাধীন বিষয়, তবুও বিকাশ মণ্ডলের গ্রেপ্তারিকে তারা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
এদিন এলাকার বহু মহিলা রাস্তায় নেমে দাবি করেন, শুধুমাত্র একজন বা দু'জনকে গ্রেপ্তার করলেই হবে না। ভোট-পরবর্তী হিংসা, দুর্নীতি এবং সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচারের অভিযোগে যেসব ব্যক্তি এখনও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধেও দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। তাদের কথায়, "দীর্ঘদিন ধরে আমরা ন্যায়বিচারের জন্য অপেক্ষা করেছি। আজকের ঘটনা সেই লড়াইয়ের একটি বড় সাফল্য।"
।। টাকি পৌরসভায় দোকান বরাদ্দ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ, ক্ষোভে ফেটে পড়লেন ব্যবসায়ীরা ।।
বসিরহাট : টাকি পৌরসভার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরব হলেন একাধিক ব্যবসায়ী। দোকান ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা নেওয়া হলেও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দোকান না পাওয়া, নিম্নমানের নির্মাণ কাজ এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে পৌরসভার সামনে বিক্ষোভে সামিল হন ক্ষুব্ধ দোকানদাররা। ঘটনাকে ঘিরে টাকি ও হাসনাবাদ শহরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ, বসিরহাটের টাকি পৌরসভার হাসনাবাদ বাস স্ট‍্যান্ড বাজার এলাকায় ব্যবসায়ীদের জন্য দোকান ঘর বরাদ্দের আশ্বাস দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা সংগ্রহ করা হয়। ব্যবসায়ীদের দাবি, শাসকদলের একাধিক কাউন্সিলর এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অনেকের কাছ থেকে কয়েক লক্ষ টাকা নেওয়া হলেও আজ পর্যন্ত তাদের নামে কোনও দোকান বরাদ্দ হয়নি।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীদের একাংশের অভিযোগ, যারা দোকান পেয়েছেন তাদেরও অনেকেই সমস্যার মুখে পড়েছেন। বরাদ্দ হওয়া দোকানগুলির নির্মাণ মান অত্যন্ত খারাপ। মাত্র এক বছরের মধ্যেই বহু দোকানের দেওয়ালে ফাটল, ছাদের প্লাস্টার খসে পড়া এবং বিভিন্ন অংশে ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন দেখা দিয়েছে। ফলে ব্যবসা চালাতে গিয়ে প্রতিনিয়ত সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাদের। এবিষয়ে ১৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর উমা মন্ডলের দাবি, এই সমস্ত ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে যে অর্থ নেওয়া হয়েছে তার বড় অংশই পৌরসভার সরকারি খাতে জমা পড়েনি। বরং সেই টাকা ব্যক্তিগতভাবে আত্মসাৎ করেছে ভাইস চেয়ারম্যান ফারুক গাজী, ৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রদ্যুৎ দাস ও কাউন্সিলর মনোরঞ্জন পাত্র সহ একাধিক তৃণমূলের কাউন্সিলররা। এই অভিযোগ সামনে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন দোকানদাররা। তারা পৌরসভার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, বহু কষ্টে উপার্জিত অর্থ দিয়ে তারা দোকান পাওয়ার আশায় টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু বছরের পর বছর কেটে গেলেও সমস্যার সমাধান হয়নি। কেউ দোকান পাননি, আবার কেউ নিম্নমানের দোকান পেয়ে ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তাই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সমস্ত আর্থিক লেনদেনের হিসাব প্রকাশ করার দাবি তুলেছেন তারা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভার বিভিন্ন প্রকল্পে স্বজনপোষণ ও আর্থিক অনিয়ম চললেও প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। অন্যদিকে টাকি পৌরসভার ১৪নং ওয়ার্ডের তৃণমূল  কাউন্সিলর সুনীল সর্দার বলেন, "ব্যবসায়ীদের অভিযোগ অনেকটাই সত্যি। তাদের সাথে অন্যায় হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে আমি কোনভাবেই জড়িত নই। টাকি পৌরসভার ২ কাউন্সিলর প্রদ্যুৎ দাস ও মনোরঞ্জন পাত্রের নেতৃত্বেই এই ঘটনা ঘটেছে। তারা বাহুবাল ব্যবহার করে দোকান গুলি নিয়ে দুর্নীতি করেছেন।" অপরদিকে টাকি পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রদ্যুত দাস বলেন, "পৌরসভার যে কোনো কাজ করতে গেলে চেয়ারম্যান বা ভাইস চেয়ারম্যানের অনুমতি ছাড়া তা করা সম্ভব হয় না। হকার উচ্ছেদ করে তাদের পুনর্বাসন দেওয়ার জন্য নিয়ম মেনেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল পৌরসভার পক্ষ থেকে‌। সেই খাতা মেইনটেইন করার দায়িত্ব ছিল ইও, ফিন্যান্স ডিপার্টমেন্ট ও চেয়ারম্যানের। অথচ দেখা গিয়েছে বোর্ড অফ কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়াই খাতায় হোয়াইটনার ব‍্যবহার করে এই সমস্ত কান্ড ঘটানো হয়েছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।"
দোকানদারদের দাবি, অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করতে হবে এবং যারা আর্থিকভাবে প্রতারিত হয়েছেন তাদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে। সেই সঙ্গে নিম্নমানের নির্মাণ কাজের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। ব্যবসায়ীদের হুঁশিয়ারি, দ্রুত ব্যবস্থা না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবেন তারা। সব মিলিয়ে বলা যায় দুর্নীতির দায় এড়ানোর জন্য টাকি পৌরসভার তৃণমূল কাউন্সিলরাই নিজেদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি শুরু করে দিয়েছে।
হাকিমপুর চেকপোস্টে বাড়ছে ভিড়, দেশে ফিরতে অপেক্ষায় ১৫০ বাংলাদেশি, সপ্তাহে শনাক্ত প্রায় ৯০০
সৌমাভ মণ্ডল,বসিরহাট : হাকিমপুর সীমান্তে দিন দিন বাড়ছে বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিড়। ভারতে অবৈধভাবে প্রবেশের অভিযোগে আটক হওয়া বহু বাংলাদেশি এখন নিজ দেশে ফেরার অপেক্ষায় সীমান্তের বিভিন্ন হোল্ডিং সেন্টারে রয়েছেন। প্রশাসন ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর তৎপরতায় গত এক সপ্তাহে প্রায় ৯০০ জন বাংলাদেশি নাগরিককে শনাক্ত করা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে স্বরূপনগর এলাকার তিনটি হোল্ডিং সেন্টারে প্রায় ৩৫০ জনকে রাখা হয়েছে।
বিথারী-হাকিমপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার হাকিমপুর চেকপোস্টে মঙ্গলবার সকালেও প্রায় ১৫০ জন বাংলাদেশি নাগরিক জমায়েত হন। প্রশাসনের দাবি, এদের অধিকাংশই বিভিন্ন সময়ে সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন এবং পরবর্তীতে রাজ্যের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে কাজ করতেন। আটক হওয়া কয়েকজনের বক্তব্য অনুযায়ী, তারা দালাল চক্রের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে এসেছিলেন।
সীমান্তরক্ষী বাহিনী সূত্রে খবর, প্রত্যেকের পরিচয় ও নাগরিকত্ব সংক্রান্ত নথি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ থেকে শুরু করে বায়োমেট্রিক যাচাইসমস্ত প্রক্রিয়া অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সম্পন্ন করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকেই বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে না বলে জানা গিয়েছে।
বর্তমানে হোল্ডিং সেন্টারগুলিতে থাকা শিশু, মহিলা ও পুরুষদের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য, পানীয় জল, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রশাসনের বিভিন্ন দফতর ও কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি সমন্বয় রেখে কাজ করছে, যাতে দেশে ফেরার আগে তাঁদের কোনও ধরনের অসুবিধার সম্মুখীন হতে না হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েকদিনের তুলনায় হাকিমপুর চেকপোস্টে বাংলাদেশি নাগরিকদের উপস্থিতি আরও বেড়েছে। প্রতিদিনই নতুন করে অনেকে সেখানে পৌঁছচ্ছেন। ফলে সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও প্রশাসনের আধিকারিকরা সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাচ্ছেন। হাকিমপুর সীমান্তে এই বাড়তে থাকা ভিড়কে কেন্দ্র করে এলাকায় চর্চাও শুরু হয়েছে। প্রশাসনের একাংশের মতে, অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে এবং শনাক্ত ব্যক্তিদের আইনসম্মতভাবে নিজ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তবে পরিচয় যাচাইয়ের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেককেই নির্ধারিত হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হবে। সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলে প্রতিদিন বদলে যাওয়া পরিস্থিতি এখন প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে নিরাপত্তা, অন্যদিকে মানবিক দায়িত্ব দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে পুরো প্রক্রিয়া পরিচালনার চেষ্টা চলছে। ফলে আগামী কয়েকদিনে হাকিমপুর ও সংলগ্ন এলাকায় এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে প্রশাসনিক মহলের একাংশ মনে করছে।
কাটমানি ফেরৎ ও গ্রেপ্তারির দাবিতে মিনাখাঁয় বিক্ষোভ, তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে সরব গ্রামবাসীরা
বসিরহাট : বসিরহাটের মিনাখাঁর চাপালি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল। আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে কাটমানি আদায়, জলকরের জমির লিজ বাবদ অর্থ আত্মসাৎ এবং উন্নয়নের টাকা তছরুপের অভিযোগ তুলে রাস্তায় নামলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মঙ্গলবার নুরপুর হাটখোলা এলাকায় হাতে ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিক্ষোভে সামিল হন বহু মানুষ। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, চাপালি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের প্রতিনিধি বাকিবুল্লা মণ্ডল এবং তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি আজিজুল গাজী দীর্ঘদিন ধরে এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছেন। তাদের দাবি, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বহু মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, জলকরের জমির লিজ সংক্রান্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রেও লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে ওই দুই নেতার বিরুদ্ধে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য অনেকেই বাধ্য হয়ে টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সুবিধা না পেয়ে এখন তারা নিজেদের প্রতারিত মনে করছেন। তাদের অভিযোগ, এলাকার উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ অর্থের যথাযথ ব্যবহার না করে তা ব্যক্তিগত স্বার্থে কাজে লাগানো হয়েছে। ফলে বহু উন্নয়নমূলক কাজ এখনও অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এদিনের বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা স্লোগান তুলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তাদের বক্তব্য, শুধু তদন্ত নয়, যারা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কাটমানি নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের কাছ থেকে সেই অর্থ উদ্ধার করে ক্ষতিগ্রস্তদের ফেরত দিতে হবে। পাশাপাশি অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনারও দাবি তোলেন বিক্ষোভকারীরা।
বিক্ষোভের জেরে কিছু সময়ের জন্য এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় মিনাখাঁ থানার পুলিশ। পুলিশ আধিকারিকরা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দাবিদাওয়া শোনেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ হস্তক্ষেপ করলে বিক্ষোভকারীরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন। তবে বিক্ষোভ মিটে গেলেও ক্ষোভ যে এখনও প্রশমিত হয়নি, তা স্পষ্ট স্থানীয়দের বক্তব্যে। তাদের দাবি, প্রশাসন দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করুক এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। অন্যথায় আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিনাখাঁর রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা। সাধারণ মানুষের অভিযোগ কতটা সত্য এবং তদন্তে কী উঠে আসে, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের।