।। টাকি পৌরসভায় দোকান বরাদ্দ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ, ক্ষোভে ফেটে পড়লেন ব্যবসায়ীরা ।।
বসিরহাট : টাকি পৌরসভার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরব হলেন একাধিক ব্যবসায়ী। দোকান ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা নেওয়া হলেও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দোকান না পাওয়া, নিম্নমানের নির্মাণ কাজ এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে পৌরসভার সামনে বিক্ষোভে সামিল হন ক্ষুব্ধ দোকানদাররা। ঘটনাকে ঘিরে টাকি ও হাসনাবাদ শহরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ, বসিরহাটের টাকি পৌরসভার হাসনাবাদ বাস স্ট‍্যান্ড বাজার এলাকায় ব্যবসায়ীদের জন্য দোকান ঘর বরাদ্দের আশ্বাস দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা সংগ্রহ করা হয়। ব্যবসায়ীদের দাবি, শাসকদলের একাধিক কাউন্সিলর এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অনেকের কাছ থেকে কয়েক লক্ষ টাকা নেওয়া হলেও আজ পর্যন্ত তাদের নামে কোনও দোকান বরাদ্দ হয়নি।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীদের একাংশের অভিযোগ, যারা দোকান পেয়েছেন তাদেরও অনেকেই সমস্যার মুখে পড়েছেন। বরাদ্দ হওয়া দোকানগুলির নির্মাণ মান অত্যন্ত খারাপ। মাত্র এক বছরের মধ্যেই বহু দোকানের দেওয়ালে ফাটল, ছাদের প্লাস্টার খসে পড়া এবং বিভিন্ন অংশে ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন দেখা দিয়েছে। ফলে ব্যবসা চালাতে গিয়ে প্রতিনিয়ত সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাদের। এবিষয়ে ১৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর উমা মন্ডলের দাবি, এই সমস্ত ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে যে অর্থ নেওয়া হয়েছে তার বড় অংশই পৌরসভার সরকারি খাতে জমা পড়েনি। বরং সেই টাকা ব্যক্তিগতভাবে আত্মসাৎ করেছে ভাইস চেয়ারম্যান ফারুক গাজী, ৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রদ্যুৎ দাস ও কাউন্সিলর মনোরঞ্জন পাত্র সহ একাধিক তৃণমূলের কাউন্সিলররা। এই অভিযোগ সামনে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন দোকানদাররা। তারা পৌরসভার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, বহু কষ্টে উপার্জিত অর্থ দিয়ে তারা দোকান পাওয়ার আশায় টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু বছরের পর বছর কেটে গেলেও সমস্যার সমাধান হয়নি। কেউ দোকান পাননি, আবার কেউ নিম্নমানের দোকান পেয়ে ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তাই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সমস্ত আর্থিক লেনদেনের হিসাব প্রকাশ করার দাবি তুলেছেন তারা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভার বিভিন্ন প্রকল্পে স্বজনপোষণ ও আর্থিক অনিয়ম চললেও প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। অন্যদিকে টাকি পৌরসভার ১৪নং ওয়ার্ডের তৃণমূল  কাউন্সিলর সুনীল সর্দার বলেন, "ব্যবসায়ীদের অভিযোগ অনেকটাই সত্যি। তাদের সাথে অন্যায় হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে আমি কোনভাবেই জড়িত নই। টাকি পৌরসভার ২ কাউন্সিলর প্রদ্যুৎ দাস ও মনোরঞ্জন পাত্রের নেতৃত্বেই এই ঘটনা ঘটেছে। তারা বাহুবাল ব্যবহার করে দোকান গুলি নিয়ে দুর্নীতি করেছেন।" অপরদিকে টাকি পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রদ্যুত দাস বলেন, "পৌরসভার যে কোনো কাজ করতে গেলে চেয়ারম্যান বা ভাইস চেয়ারম্যানের অনুমতি ছাড়া তা করা সম্ভব হয় না। হকার উচ্ছেদ করে তাদের পুনর্বাসন দেওয়ার জন্য নিয়ম মেনেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল পৌরসভার পক্ষ থেকে‌। সেই খাতা মেইনটেইন করার দায়িত্ব ছিল ইও, ফিন্যান্স ডিপার্টমেন্ট ও চেয়ারম্যানের। অথচ দেখা গিয়েছে বোর্ড অফ কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়াই খাতায় হোয়াইটনার ব‍্যবহার করে এই সমস্ত কান্ড ঘটানো হয়েছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।"
দোকানদারদের দাবি, অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করতে হবে এবং যারা আর্থিকভাবে প্রতারিত হয়েছেন তাদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে। সেই সঙ্গে নিম্নমানের নির্মাণ কাজের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। ব্যবসায়ীদের হুঁশিয়ারি, দ্রুত ব্যবস্থা না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবেন তারা। সব মিলিয়ে বলা যায় দুর্নীতির দায় এড়ানোর জন্য টাকি পৌরসভার তৃণমূল কাউন্সিলরাই নিজেদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি শুরু করে দিয়েছে।
হাকিমপুর চেকপোস্টে বাড়ছে ভিড়, দেশে ফিরতে অপেক্ষায় ১৫০ বাংলাদেশি, সপ্তাহে শনাক্ত প্রায় ৯০০
সৌমাভ মণ্ডল,বসিরহাট : হাকিমপুর সীমান্তে দিন দিন বাড়ছে বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিড়। ভারতে অবৈধভাবে প্রবেশের অভিযোগে আটক হওয়া বহু বাংলাদেশি এখন নিজ দেশে ফেরার অপেক্ষায় সীমান্তের বিভিন্ন হোল্ডিং সেন্টারে রয়েছেন। প্রশাসন ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর তৎপরতায় গত এক সপ্তাহে প্রায় ৯০০ জন বাংলাদেশি নাগরিককে শনাক্ত করা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে স্বরূপনগর এলাকার তিনটি হোল্ডিং সেন্টারে প্রায় ৩৫০ জনকে রাখা হয়েছে।
বিথারী-হাকিমপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার হাকিমপুর চেকপোস্টে মঙ্গলবার সকালেও প্রায় ১৫০ জন বাংলাদেশি নাগরিক জমায়েত হন। প্রশাসনের দাবি, এদের অধিকাংশই বিভিন্ন সময়ে সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন এবং পরবর্তীতে রাজ্যের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে কাজ করতেন। আটক হওয়া কয়েকজনের বক্তব্য অনুযায়ী, তারা দালাল চক্রের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে এসেছিলেন।
সীমান্তরক্ষী বাহিনী সূত্রে খবর, প্রত্যেকের পরিচয় ও নাগরিকত্ব সংক্রান্ত নথি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ থেকে শুরু করে বায়োমেট্রিক যাচাইসমস্ত প্রক্রিয়া অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সম্পন্ন করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকেই বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে না বলে জানা গিয়েছে।
বর্তমানে হোল্ডিং সেন্টারগুলিতে থাকা শিশু, মহিলা ও পুরুষদের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য, পানীয় জল, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রশাসনের বিভিন্ন দফতর ও কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি সমন্বয় রেখে কাজ করছে, যাতে দেশে ফেরার আগে তাঁদের কোনও ধরনের অসুবিধার সম্মুখীন হতে না হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েকদিনের তুলনায় হাকিমপুর চেকপোস্টে বাংলাদেশি নাগরিকদের উপস্থিতি আরও বেড়েছে। প্রতিদিনই নতুন করে অনেকে সেখানে পৌঁছচ্ছেন। ফলে সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও প্রশাসনের আধিকারিকরা সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাচ্ছেন। হাকিমপুর সীমান্তে এই বাড়তে থাকা ভিড়কে কেন্দ্র করে এলাকায় চর্চাও শুরু হয়েছে। প্রশাসনের একাংশের মতে, অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে এবং শনাক্ত ব্যক্তিদের আইনসম্মতভাবে নিজ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তবে পরিচয় যাচাইয়ের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেককেই নির্ধারিত হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হবে। সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলে প্রতিদিন বদলে যাওয়া পরিস্থিতি এখন প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে নিরাপত্তা, অন্যদিকে মানবিক দায়িত্ব দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে পুরো প্রক্রিয়া পরিচালনার চেষ্টা চলছে। ফলে আগামী কয়েকদিনে হাকিমপুর ও সংলগ্ন এলাকায় এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে প্রশাসনিক মহলের একাংশ মনে করছে।
কাটমানি ফেরৎ ও গ্রেপ্তারির দাবিতে মিনাখাঁয় বিক্ষোভ, তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে সরব গ্রামবাসীরা
বসিরহাট : বসিরহাটের মিনাখাঁর চাপালি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল। আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে কাটমানি আদায়, জলকরের জমির লিজ বাবদ অর্থ আত্মসাৎ এবং উন্নয়নের টাকা তছরুপের অভিযোগ তুলে রাস্তায় নামলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মঙ্গলবার নুরপুর হাটখোলা এলাকায় হাতে ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিক্ষোভে সামিল হন বহু মানুষ। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, চাপালি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের প্রতিনিধি বাকিবুল্লা মণ্ডল এবং তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি আজিজুল গাজী দীর্ঘদিন ধরে এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছেন। তাদের দাবি, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বহু মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, জলকরের জমির লিজ সংক্রান্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রেও লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে ওই দুই নেতার বিরুদ্ধে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য অনেকেই বাধ্য হয়ে টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সুবিধা না পেয়ে এখন তারা নিজেদের প্রতারিত মনে করছেন। তাদের অভিযোগ, এলাকার উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ অর্থের যথাযথ ব্যবহার না করে তা ব্যক্তিগত স্বার্থে কাজে লাগানো হয়েছে। ফলে বহু উন্নয়নমূলক কাজ এখনও অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এদিনের বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা স্লোগান তুলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তাদের বক্তব্য, শুধু তদন্ত নয়, যারা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কাটমানি নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের কাছ থেকে সেই অর্থ উদ্ধার করে ক্ষতিগ্রস্তদের ফেরত দিতে হবে। পাশাপাশি অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনারও দাবি তোলেন বিক্ষোভকারীরা।
বিক্ষোভের জেরে কিছু সময়ের জন্য এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় মিনাখাঁ থানার পুলিশ। পুলিশ আধিকারিকরা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দাবিদাওয়া শোনেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ হস্তক্ষেপ করলে বিক্ষোভকারীরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন। তবে বিক্ষোভ মিটে গেলেও ক্ষোভ যে এখনও প্রশমিত হয়নি, তা স্পষ্ট স্থানীয়দের বক্তব্যে। তাদের দাবি, প্রশাসন দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করুক এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। অন্যথায় আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিনাখাঁর রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা। সাধারণ মানুষের অভিযোগ কতটা সত্য এবং তদন্তে কী উঠে আসে, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের।
জল জমার স্থায়ী সমাধানের খোঁজে প্রশাসন, দ্বিতীয় দফায় সরেজমিন পরিদর্শন বসিরহাট উত্তরে
বসিরহাট : বছরের পর বছর ধরে জল জমার সমস্যায় ভুগছেন বসিরহাট উত্তর বিধানসভার চাঁপাপুকুর-রাজেন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ এলাকার বাসিন্দারা। বর্ষা এলেই রাস্তাঘাট, বসতবাড়ি এবং কৃষিজমি জলের তলায় চলে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। দীর্ঘদিনের এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে এবার আরও এক ধাপ এগোল প্রশাসন। বসিরহাট মহকুমা শাসকের দপ্তর ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এলাকার জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে দ্বিতীয় দফার সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়। পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন বসিরহাট উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক মহম্মদ তৌসিফুর রহমান ও রাজেন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সমীর বাছাড় সহ একাধিক সরকারি আধিকারিক এবং এলাকার বাসিন্দারা।
পরিদর্শনের সময় প্রশাসনিক কর্তারা এলাকার বিভিন্ন জলাবদ্ধ অঞ্চল ঘুরে দেখেন এবং জল নিষ্কাশনের বর্তমান ব্যবস্থার খুঁটিনাটি পর্যালোচনা করেন। কোথায় জল জমছে, কী কারণে দীর্ঘ সময় ধরে জল নেমে যাচ্ছে না এবং কীভাবে নিকাশি ব্যবস্থার উন্নতি ঘটানো যায়, সেই বিষয়গুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারাও তাদের দীর্ঘদিনের সমস্যার কথা তুলে ধরেন এবং দ্রুত সমাধানের দাবি জানান।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এলাকার বাস্তব পরিস্থিতি এবং প্রযুক্তিগত দিকগুলি বিবেচনা করে একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। জল নিকাশি ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ ও সংস্কারের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয়দের আশা, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য খুব শীঘ্রই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। প্রশাসনের এই উদ্যোগে আশার আলো দেখছেন এলাকাবাসী। তাদের বিশ্বাস, দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে ভবিষ্যতে বর্ষাকালে আর আগের মতো দুর্ভোগের শিকার হতে হবে না এবং চাঁপাপুকুর-রাজেন্দ্রপুর এলাকার দীর্ঘদিনের জল জমার সমস্যা অবশেষে সমাধান হবে।
।। হিঙ্গলগঞ্জে উদ্ধার বিলুপ্তপ্রায় তক্ষক, বন দফতরের হাতে তুলে দিল পুলিশ ।।

বসিরহাট : পুলিশের তৎপরতায় উদ্ধার হল একটি বিলুপ্তপ্রায় তক্ষক। বিরল প্রজাতির এই সরীসৃপটিকে নিরাপদে উদ্ধার করে বন দফতরের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
জানা গিয়েছে, বসিরহাটের হিঙ্গলগঞ্জ থানার উত্তর বোলতলা গ্রামের বাসিন্দা মহিউদ্দিন গাজীর বাড়িতে একটি তক্ষক দেখতে পান স্থানীয়রা। বিরল প্রজাতির এই প্রাণীটিকে ঘিরে এলাকায় কৌতূহল ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় হিঙ্গলগঞ্জ থানার পুলিশ। থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক রাহুল হালদারের নেতৃত্বে একটি পুলিশ দল তক্ষকটিকে উদ্ধার করে নিরাপদ হেফাজতে নেয়। পরে বন দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে রামপুর ফরেস্ট রেঞ্জের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশের পক্ষ থেকে উদ্ধার হওয়া তক্ষকটি বন দফতরের হাতে তুলে দেওয়া হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া তক্ষকটির দৈর্ঘ্য প্রায় এক থেকে দেড় ফুট। আন্তর্জাতিক অবৈধ বন্যপ্রাণী পাচার চক্রের কাছে এই প্রাণীর চাহিদা থাকায় এর কালোবাজারি মূল্য কয়েক লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে বলে দাবি স্থানীয়দের। উদ্ধার হওয়া তক্ষকটির ওজন আনুমানিক ২০০ থেকে ২৫০ গ্রাম।
রাজ্যের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ

নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজ্যের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ অনুষ্টিত হল  লোকভবনে। সোমবার তাদের শপথবাক্য পাঠ করালেন রাজ্যপাল আরএন রবি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, শান্তনু ঠাকুর সহ বিশিষ্ট জনেরা।আজই দপ্তর বণ্টনের সম্ভাবনাও রয়েছে। মোট ৩৫ জন শপথ নিলেন আজ। এর মধ্যে পূর্ণমন্ত্রী ১৩ জন, স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ৩ জন, প্রতিমন্ত্রী ১৯ জন।আগেই শপথ নিয়েছেন ৫ জন। পশ্চিমবঙ্গে মোট ৪১ জনের মন্ত্রিসভা গঠিত হল।

*আজ শপথ নিলেন যে পূর্ণমন্ত্রীরা*

১) তাপস রায়,২) দীপক বর্মন,৩)অর্জুন সিং ৪) শঙ্কর ঘোষ ৫) মনোজকুমার ওরাওঁ,৬)গৌরীশঙ্কর ঘোষ,৭) জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়,৮) স্বপন দাশগুপ্ত,৯) কল্যাণ চক্রবর্তী,১০) শারদ্বত মুখোপাধ্যায়,১১)অরূপকুমার দাস,১২) অজয়কুমার পোদ্দার১৩)দুধকুমার মণ্ডল

*স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর নামের তালিকা*

১. মালতী রাভা রায়

২. ইন্দ্রনীল খাঁ

৩. রাজেশ মাহাতা


*প্রতিমন্ত্রীর নামের তালিকা*

১. জুয়েল মুর্মু

২. হরেকৃষ্ণ বেরা

৩. আনন্দময় বর্মন

৪. অশোক দিন্দা

৫. নাদিয়ার চাঁদ বাউরি

৬. বিশাল লামা

৭. শান্তনু প্রামাণিক

৮. মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র

৯. উদয় উমেশ রাই

১০. পূর্ণিমা চক্রবর্তী

১১. কৌশিক চৌধুরী

১২. ভাস্কর ভট্টাচার্য

১৩. দিবাকর ঘরামি

১৪. অমিয় কিস্কু

১৫. কলিতা মাজি

১৬. গার্গী দাস ঘোষ

১৭. বিরাজ বিশ্বাস

১৮. দীপঙ্কর জানা

১৯. সুমনা সরকার
তৃণমূলে ভাঙন, বসিরহাটে কংগ্রেসে যোগ দিলেন প্রায় ১৫০ জন কর্মী-সমর্থক ও পঞ্চায়েত সদস্য
বসিরহাট : বসিরহাটে রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করল কংগ্রেসে যোগদান কর্মসূচি। রবিবার বসিরহাটের ইন্দিরা ভবনে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থক ও কর্মী-সহ প্রায় ১৫০ জন মানুষ কংগ্রেসে যোগদান করেন। এআইসিসি সদস্য অমিত মজুমদারের হাত ধরে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেসে যোগ দেন।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বসিরহাট আদালতের আইনজীবী জিয়ারুল মোল্লা। তার নেতৃত্বে এই বৃহৎ যোগদান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি, বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা সাধারণ মানুষ, তৃণমূলের কর্মী-সমর্থক এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এদিন কংগ্রেসের পতাকা হাতে তুলে নেন।
যোগদানকারীদের মধ্যে ভবানীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য আজিজুল গাজী সহ একাধিক পঞ্চায়েত প্রতিনিধি ছিলেন বলে কংগ্রেস সূত্রে দাবি করা হয়েছে। যোগদানের পর মোহাম্মদ আজিজুল গাজী বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসে থেকে তিনি নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন এবং দলের অভ্যন্তরে কাজের পরিবেশ নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন। সেই কারণেই তিনি কংগ্রেসে যোগদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
স্বচ্ছ ভারত মিশনের ১২টি টোটোর মধ্যে ৯টি উধাও!

পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে বিক্রির অভিযোগে তোলপাড় বাদুড়িয়া

*সৌমাভ মণ্ডল,বসিরহাট* : স্বচ্ছ ভারত মিশনের আওতায় সরকারি প্রকল্পের সম্পত্তি বিক্রির অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বসিরহাটের বাদুড়িয়া ব্লকের যদুরহাটি উত্তর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের প্রধান জাহিদুল হক বৈদ্যের বিরুদ্ধে সরকারি প্রকল্পে পাওয়া ব্যাটারিচালিত ময়লা সংগ্রহের গাড়ি বা টোটো বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন এলাকার বাসিন্দারা। ঘটনাকে ঘিরে গ্রামে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে বাদুড়িয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, স্বচ্ছ ভারত মিশন প্রকল্পের অধীনে যদুরহাটি উত্তর গ্রাম পঞ্চায়েতকে প্রায় তিন বছর আগে ১২টি ব্যাটারিচালিত ময়লা সংগ্রহের গাড়ি দেওয়া হয়েছিল। এই গাড়িগুলির মাধ্যমে পঞ্চায়েত এলাকার বিভিন্ন গ্রাম থেকে বর্জ্য সংগ্রহের কথা ছিল। কিন্তু অভিযোগ, গাড়িগুলি জনস্বার্থে ব্যবহার না করে পঞ্চায়েত প্রধান সেগুলি নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যান এবং একটি পার্শ্ববর্তী এলাকার আমবাগানে রেখে দেন।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে গাড়িগুলি ব্যবহার না হওয়ায় তাদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়। পরে তারা খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন, ১২টি টোটোর মধ্যে বর্তমানে মাত্র ৩টি গাড়ি সেখানে রয়েছে। বাকি ৯টি গাড়ি এবং কিছু ক্ষেত্রে ব্যাটারি বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি সামনে আসতেই এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয় বাসিন্দারা বাদুড়িয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ জমা পড়ার পর পরিস্থিতি আরও নাটকীয় মোড় নেয় বলে দাবি গ্রামবাসীদের। তাদের অভিযোগ, অভিযোগের খবর জানাজানি হওয়ার পর রাতের অন্ধকারে অবশিষ্ট ৩টি টোটো আমবাগান থেকে সরিয়ে প্রধানের বাড়ির ভেতরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়।
স্থানীয়দের দাবি, সেই সময় এক গ্রামবাসী ঘটনায় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাকে মারধর করা হয়। আহত ওই ব্যক্তি প্রথমে বাদুড়িয়া গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে তিনি মারধরের অভিযোগে বাদুড়িয়া থানায় পৃথকভাবে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তার অভিযোগ, সরকারি সম্পদ সরিয়ে ফেলার প্রতিবাদ করায় তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে বাদুড়িয়া থানার পুলিশ এলাকায় পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে। পুলিশ অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গিয়েছে। তবে এই ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত পঞ্চায়েত প্রধান জাহিদুল হক বৈদ্যকে এলাকায় দেখা যায়নি বলে দাবি স্থানীয়দের। ফলে তাকে ঘিরে জল্পনা আরও বেড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সরকারি প্রকল্পের সম্পদ যদি সত্যিই বিক্রি হয়ে থাকে, তাহলে তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। সরকারি সম্পত্তি কীভাবে এবং কার কাছে বিক্রি হয়েছে, সেই বিষয়েও তদন্তের দাবি উঠেছে। পাশাপাশি এই প্রকল্পে বরাদ্দ হওয়া সম্পদের ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশাসনিক পর্যায়ে নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের দাবি জানিয়েছেন তারা। তবে অভিযুক্ত প্রধানের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলির সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। এখন তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে এবং প্রশাসন কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেদিকেই নজর রয়েছে স্থানীয় মানুষের। সরকারি প্রকল্পের সম্পত্তির অপব্যবহারের অভিযোগ ঘিরে বাদুড়িয়ার এই ঘটনা ইতিমধ্যেই এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
অল ইন্ডিয়া স্কুল রোয়িং প্রতিযোগিতা
নিজস্ব প্রতিনিধি: কলকাতা লেক ক্লাবের উদ্যোগে ৫১ তম অল ইন্ডিয়া স্কুল রোয়িং প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়ে গেল কলকাতার রবীন্দ্র সরোবরে। শনিবারের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, পদ্মশ্রী সম্মানে সম্মানিত সাঁতারু বুলা চৌধুরী সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। কলকাতা শহরতলী এবং বিভিন্ন রাজ্য মিলিয়ে ৪৩ টি স্কুল এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছিল।
ছবি: সঞ্জয় হাজরা
।। হস্টেলের ঘরে বছরের পর বছর মজুত ত্রাণ! সন্দেশখালিতে উদ্ধার সামগ্রী ঘিরে তীব্র বিতর্ক ।।
বসিরহাট : সন্দেশখালির রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের নতুন বিতর্কের জন্ম দিল বহু বছরের পুরনো ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনা। অভিযোগ, আয়লা, বুলবুল ও আম্ফানের মতো ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য বরাদ্দ সরকারি ত্রাণ সামগ্রী বছরের পর বছর ধরে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল একটি স্কুল হস্টেলের ঘরে। সম্প্রতি সেই মজুত ত্রাণসামগ্রী সামনে আসতেই উত্তাল হয়ে উঠলো বসিরহাটের সন্দেশখালি-২ নম্বর ব্লকের খুলনা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হাটগাছা হাই স্কুলের হস্টেলের একটি ঘর খুলে বিপুল পরিমাণ ত্রিপল সহ বিভিন্ন ত্রাণসামগ্রী উদ্ধার করেন এলাকার বাসিন্দারা। অভিযোগ, দুর্যোগের সময় দুর্গত মানুষের মধ্যে সেগুলি বিতরণ না করে দীর্ঘদিন ধরে গোপনে মজুত করে রাখা হয়েছিল। এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় মানুষ।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন খুলনা অঞ্চলের তৃণমূল কংগ্রেসের কয়েকজন প্রাক্তন নেতা। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, শেখ শাহজাহানের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত কিছু প্রভাবশালী নেতা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ত্রাণসামগ্রী সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছতে দেননি। তাদের অভিযোগ, সরকারি সাহায্য প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে না পৌঁছে বছরের পর বছর ধরে একটি হস্টেল ঘরে আটকে রাখা হয়েছিল।
স্থানীয় বাসিন্দা মালতী পাত্রের অভিযোগ, আম্ফানের সময় থেকেই ওই সামগ্রী সেখানে রাখা হয়েছিল। তার দাবি, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বহু মানুষ সরকারি ত্রাণ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। একই সুর শোনা গিয়েছে শোভা বরের কথাতেও। তিনি বলেন, এলাকার মানুষের জন্য বরাদ্দ সরকারি ত্রাণসামগ্রী মানুষের হাতে না পৌঁছে গোপনে মজুত করে রাখা হয়েছিল, যা অত্যন্ত গুরুতর ঘটনা।
ত্রাণসামগ্রী উদ্ধারের ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে সামনে এসেছে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগও। স্থানীয়দের দাবি, শুধু ত্রাণ বণ্টন নয়, সরকারি আবাসন প্রকল্পে কাটমানি, একশো দিনের কাজের প্রকল্পে অনিয়ম এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের উপর চাপ সৃষ্টি করার মতো ঘটনাও দীর্ঘদিন ধরে চলে এসেছে। তাদের অভিযোগ, ক্ষমতার প্রভাবেই এতদিন এসব অভিযোগ চাপা পড়ে ছিল। ঘটনার জেরে এলাকায় বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেফতার এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের বক্তব্য, প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটতে বাধ্য হবেন তারা। যদিও যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাদের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। ফলে অভিযোগের সত্যতা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
সন্দেশখালিতে একের পর এক বিতর্ক ও দুর্নীতির অভিযোগের আবহে এই নতুন ‘ত্রাণ কাণ্ড’ ফের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে। দুর্যোগের সময়ে সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ সরকারি সাহায্য আদৌ প্রকৃত প্রাপকদের হাতে পৌঁছেছিল কি না, সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে এলাকায়। অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখতে প্রশাসনের ভূমিকার দিকে নজর রয়েছে সকলের। একই সঙ্গে ক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের দাবি, দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কড়া পদক্ষেপ করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে মানুষের প্রাপ্য সরকারি সাহায্য আর কোনওভাবেই বঞ্চিত না হয়।