বাড়ি বাড়ি গিয়ে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম বিলি বিধায়িকা রেখা পাত্রের, প্রকৃত উপভোক্তাদের সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার বার্তা হিঙ্গলগঞ্জে

সৌমাভ মণ্ডল,বসিরহাট : হিঙ্গলগঞ্জে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মহিলাদের হাতে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম তুলে দিলেন বিধায়িকা রেখা পাত্র। বৃহস্পতিবার বসিরহাটের হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভার দুলদুলি গ্রাম পঞ্চায়েতের লেবুখালী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন দক্ষিণপাড়া এলাকায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে এই কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি। তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন হিঙ্গলগঞ্জের বিডিও সহ প্রশাসনের একাধিক আধিকারিক ও স্থানীয় নেতৃত্ব।
এদিন এলাকার একাধিক বাড়িতে গিয়ে মহিলাদের হাতে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম তুলে দেন বিধায়িকা। পাশাপাশি প্রকৃত উপভোক্তারা যাতে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পান, সেই বিষয়েও সচেতনতা বার্তা দেন তিনি। স্থানীয় মহিলাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথাও শোনেন বিধায়িকা।
কর্মসূচি চলাকালীন বলেন, “প্রকৃত গরিব মানুষ যেন এই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুবিধা পান, সেটাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। কোনও অনুপ্রবেশকারী যাতে এই প্রকল্পের সুবিধা না পায়, সেদিকেও বিশেষ নজর রাখতে হবে।” তার বক্তব্য, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা প্রকৃত প্রাপকদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিরা যৌথভাবে কাজ করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ জানান, বিধায়িকা এবং প্রশাসনের আধিকারিকদের সরাসরি এলাকায় এসে ফর্ম বিলি করায় তারা খুশি। অনেকের বক্তব্য, প্রত্যন্ত সুন্দরবন এলাকায় সরকারি প্রকল্পের তথ্য সবসময় সকলের কাছে পৌঁছায় না। ফলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম তুলে দেওয়ার উদ্যোগে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন।
এদিনের কর্মসূচিতে উপস্থিত মহিলারাও বিধায়িকা এবং বিডিওকে ধন্যবাদ জানান। তাদের বক্তব্য, সরাসরি হাতে ফর্ম পাওয়ায় আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা মিলেছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের মাধ্যমে আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা মহিলাদের সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সেই উদ্দেশ্যেই বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতামূলক প্রচার ও ফর্ম বিতরণ কর্মসূচি চালানো হচ্ছে। সুন্দরবনের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এই ধরনের উদ্যোগ সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলেই মনে করছে প্রশাসন।
সুন্দরবনের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার হাল খতিয়ে দেখতে সন্দেশখালিতে হাসপাতাল প‍রিদর্শনে বিধায়ক সনৎ সর্দার, দ্রুত সংস্কারের আশ্বাস

বসিরহাট : সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা থেকে বঞ্চিত। হাসপাতালে চিকিৎসকের অভাব, পরিকাঠামোর বেহাল দশা এবং সামান্য অসুস্থতাতেও রোগীদের অন্যত্র স্থানান্তর করে দেওয়ার অভিযোগ বহুদিনের। সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন আনতেই এবার সরাসরি হাসপাতাল পরিদর্শনে নামলেন সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়ক সনৎ সর্দার। প্রথমবার বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই এলাকার বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে সক্রিয় ভূমিকা নিতে দেখা যাচ্ছে তাকে। এবার তার নজরে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। বসিরহাটের সন্দেশখালি ১নং ব্লকের ঘোষপুর গ্রামীণ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন বিধায়ক সনৎ সর্দার। হাসপাতাল ঘুরে দেখার পাশাপাশি তিনি রোগী ও রোগীর আত্মীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা কেমন মিলছে, চিকিৎসকরা নিয়মিত থাকছেন কিনা, ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে কি না, রোগীদের কী ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে সেই সমস্ত বিষয় নিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সরাসরি তথ্য সংগ্রহ করেন তিনি। বহু মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট ও পর্যাপ্ত পরিষেবা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে ধরেন বিধায়কের কাছে।
এরপর হাসপাতালের বিএমওএইচের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন তিনি। হাসপাতালের বর্তমান অবস্থা, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা, রোগীর চাপ, পরিকাঠামোগত সমস্যা এবং ভবিষ্যতে পরিষেবা উন্নত করতে কী কী প্রয়োজন সেই বিষয়গুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যার একটি তালিকাও তৈরি করেন বিধায়ক। তিনি জানান, শুধুমাত্র সমস্যার কথা শুনেই থেমে থাকতে চান না, দ্রুত তার বাস্তব সমাধান করতে চান।
পরিদর্শনের পর বিধায়ক সনৎ সর্দার বলেন, "মাত্র তিনজন চিকিৎসক নিয়ে গোটা হাসপাতাল চলছে। ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসার পর অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করে দেওয়া হচ্ছে। এখানে রোগী এলেই রেফার করে দেওয়াটা প্রায় নিয়মে দাঁড়িয়ে গিয়েছে। সুন্দরবনের মানুষের কাছে উন্নত চিকিৎসা এখনও স্বপ্নের মতো। এই পরিস্থিতি বদলাতে হবে।"
তিনি আরও বলেন, "হাসপাতালের পরিকাঠামো অত্যন্ত খারাপ অবস্থায় রয়েছে। হাসপাতালের চারপাশে সঠিক বাউন্ডারি নেই। নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল। ভবনের একাধিক অংশ সংস্কারের অভাবে জীর্ণ হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে পশুদের চিকিৎসা করার মতো অবস্থাতেও নেই হাসপাতালটি।" দ্রুত সংস্কার ও আধুনিকীকরণের দাবি জানান তিনি।
বিধায়ক জানান, হাসপাতালের উন্নয়নের জন্য কী কী প্রয়োজন তার সমস্ত তথ্য তিনি নথিবদ্ধ করেছেন। খুব শীঘ্রই বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন বলেও আশ্বাস দেন। পাশাপাশি স্বাস্থ্য দফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গেও কথা বলে দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগ, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বাড়ানোর দাবি জানাবেন বলে জানান তিনি। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, বছরের পর বছর ধরে সুন্দরবনের মানুষ স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে চরম সমস্যার মধ্যে রয়েছেন। নদী পেরিয়ে দূরের হাসপাতালে যেতে গিয়ে অনেক সময় রোগীর অবস্থা আরও সংকটজনক হয়ে পড়ে। তাই এলাকার হাসপাতালগুলিকে উন্নত করা অত্যন্ত জরুরি। বিধায়কের এই হাসপাতাল পরিদর্শন ও সমস্যা সমাধানের আশ্বাসে সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।
কাঁচড়াপাড়ার ধৃত যুব তৃণমূল নেতার কোমরে দড়ি

নিজস্ব সংবাদদাতা: উত্তর ২৪ পরগনার বীজপুরের আরও এক তৃণমূল নেতাকে গ্রেপ্তারের পরে কোমরে দড়ি, গায়ে স্যান্ডো গেঞ্জি ও হাফ প্যান্ট পরিয়ে রাস্তায় ঘোরাল পুলিশ। এই দৃশ্য দেখতে রাস্তায় ভিড় জমিয়েছিলেন বহু মানুষ। সেখানে উঠল ‘চোর চোর’ স্লোগানও।

ধৃত তৃণমূল নেতার নাম অভিজিৎ রায় ওরফে বনি। তিনি বীজপুর এলাকায় তৃণমূলের যুব নেতা বলেই পরিচিত। কিছু দিন আগেই তাঁকে মন্দারমণি থেকে তোলাবাজি, বেআইনি অস্ত্র রাখার অভিযোগে গ্রেপ্তার করে বীজপুর থানার পুলিশ। ব্যারাকপুর আদালতের নির্দেশে বর্তমানে তিনি পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। পুলিশ সূত্রে খবর, তদন্তের স্বার্থেই তাঁকে কাঁচরাপাড়ার বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। গত সোমবার বনিকে রেলপুলিশের কোয়ার্টার ও নবীন পল্লি এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তার পর বৃহস্পতিবার বীজপুর পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় ঘোরানো হয় তাঁকে। যদিও বনির দাবি, ‘যারা চুরি করেছে, তারা পালিয়ে গিয়েছে। আমি চুরি করিনি বলেই এখনও এখানে আছি।’

স্থানীয় সূত্রে খবর, ২০২৩ সাল থেকেই এলাকায় বনির দাপট বাড়ে। অভিযোগ, রেল পুলিশের কোয়ার্টার দখল করে সেটিকে নিজের আস্তানা বানিয়েছিলেন তিনি। ওই কোয়ার্টারে কে থাকবেন, কে ঘর পাবেন— সব কিছুই বনির নির্দেশে চলত বলে দাবি স্থানীয়দের। এমনকী সেখানে অসামাজিক কাজকর্মও চলত বলেও অভিযোগ ওঠে। বেআইনি ভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ করিয়ে এসি, ফ্রিজ় চালানো হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে। গত লোকসভা নির্বাচনের সময়ে বিজেপি নেতা অর্জুন সিংয়ের সঙ্গে বনির প্রকাশ্যে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ার ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। সেখানে অর্জুনকে বনি হুমকি দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ। প্রসঙ্গত, অর্জুন বর্তমানে নোয়াপাড়ার বিজেপির বিধায়ক।

এদিন বনিকে পুলিশ কোমরে দড়ি পরিয়ে রাস্তা ঘোরাচ্ছে দেখে স্থানীয়দের অনেকেই ধৃত তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। এলাকাবাসীর একাংশের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষ বনির দাপটে আতঙ্কে ছিলেন। পুলিশের এই পদক্ষেপে এলাকায় স্বস্তি পেয়েছেন অনেকে। বৃহস্পতিবার তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। প্রসঙ্গত, এর আগে হাওড়া এবং মহেশতলাতেও ধৃত তৃণমূল নেতাদের এ ভাবেই কোমরে দড়়ি বেঁধে রাস্তায় ঘুরিয়েছে পুলিশ।
বেঙ্গল প্রো টি-২০ লিগ সিজন ৩ খেলা শুরু ৫ জুন
*খেলা*


স্পোর্টস ডেস্ক: এবছরের বেঙ্গল প্রো টি-২০ লিগ সিজন ৩-এর পুরুষদের ম্যাচগুলির খেলা শুরু হবে ৫ই জুন। আর শেষ হবে ২১শে জুন। গতবারের চ্যাম্পিয়ন অ্যাডামাস হাওড়া ওয়ারিয়র্স ৫ জুন ইডেন গার্ডেন্সে বেঙ্গল টি-২০ লিগ সিজন ৩-এর পুরুষদের উদ্বোধনী ম্যাচে নোভাস পুরুলিয়া রয়্যালসের মুখোমুখি হবে।
৭ বছরের অপেক্ষার অবসান, সন্দেশখালিতে তৃণমূল নেতাদের গ্রেপ্তারে গেরুয়া আবিরে উচ্ছ্বাস নিহত বিজেপি কর্মীদের পরিবারে
‌‌
সৌমাভ মণ্ডল,বসিরহাট : দীর্ঘ ৭ বছরের অপেক্ষার পর অবশেষে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার হতেই আনন্দে ফেটে পড়ল সন্দেশখালির ভাঙ্গিপাড়া এলাকা। গেরুয়া আবির মেখে, ঢাক-ঢোল ও বাজনা বাজিয়ে উচ্ছ্বাসে মাতলেন নিহত বিজেপি কর্মীদের পরিবারের সদস্য ও এলাকার বাসিন্দারা। বুধবার বসিরহাটের সন্দেশখালি বিধানসভার রাজবাড়ী এলাকায় কার্যত উৎসবের চেহারা নেয়।
২০১৯ সালের ১৮ জুন লোকসভা নির্বাচনের পরবর্তী হিংসার ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল সন্দেশখালি। অভিযোগ, বিজয় মিছিলের নামে ভাঙ্গিপাড়া এলাকায় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা হামলা চালিয়ে ৩ বিজেপি কর্মীকে খুন করে।খুন হয়েছিলেন দেবদাস মণ্ডল,প্রদীপ মণ্ডল ও সুকান্ত মণ্ডল।সেই ঘটনায় একাধিক তৃণমূল নেতা-কর্মীর নাম উঠে এলেও তৎকালীন পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলেন নিহতদের পরিবার। পরিবারের দাবি ছিল, প্রকাশ্যে দাঁড়িয়ে যারা হামলা ও খুনে নেতৃত্ব দিয়েছিল, অভিযোগপত্রে তাদের নাম থাকলেও পরে চার্জশিট থেকে সেই নাম বাদ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন নিহত বিজেপি কর্মীদের পরিবারের সদস্যরা। বারবার সিবিআই তদন্তের আবেদন জানানো হয়। শেষ পর্যন্ত কলকাতা হাইকোর্ট মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয়। তদন্তভার হাতে পাওয়ার পর সিবিআইয়ের স্পেশাল ক্রাইম ব্রাঞ্চের আধিকারিকরা গত কয়েক মাস ধরে এলাকায় একাধিকবার তদন্ত চালান, সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করেন এবং অভিযুক্তদের ভূমিকা খতিয়ে দেখেন। তদন্তের পর অবশেষে এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১০ জন তৃণমূল নেতা ও কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে সিবিআই। ধৃতদের মধ্যে রয়েছে হাটগাছি গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান তথা শেখ শাহজাহান ঘনিষ্ঠ কাদের মোল্লার নামও। এই গ্রেপ্তারির খবর ছড়িয়ে পড়তেই ভাঙ্গিপাড়া এলাকায় আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়। এদিন রাজবাড়ী এলাকায় নিহতদের পরিবারের সদস্যদের চোখে জল আর মুখে স্বস্তির হাসি একসঙ্গে ধরা পড়ে। তাদের বক্তব্য, “এতোদিন পরে হলেও আমরা ন্যায়বিচারের আশা দেখতে পাচ্ছি। যাদের বিরুদ্ধে প্রথম থেকেই অভিযোগ করেছিলাম, অবশেষে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালত ও সিবিআইয়ের উপর আমাদের ভরসা ছিল।”
এলাকাজুড়ে গেরুয়া আবির খেলেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। বাজি ফাটানো থেকে শুরু করে মিষ্টি বিতরণও করা হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়ক সনৎ সর্দার। তিনি বলেন, “নিহত পরিবারগুলোর দীর্ঘদিনের লড়াই আজ অনেকটাই সফল হয়েছে। সত্য চাপা থাকে না। যারা রাজনৈতিক সন্ত্রাস চালিয়েছিল, আইন তাদের কাছে পৌঁছে গিয়েছে।” বিজেপির অভিযোগ, এতদিন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অভিযুক্তদের বাঁচানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে ভাঙ্গিপাড়ার মানুষ বলছেন, এই গ্রেপ্তার শুধুমাত্র কয়েকজন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নয়, দীর্ঘদিনের ভয় ও আতঙ্কের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের জয়ের প্রতীক। সাত বছর পরেও নিহতদের স্মৃতি আজও তাজা। তাই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের খবরে আনন্দের মধ্যেও সেই রক্তাক্ত দিনের স্মৃতি বারবার ফিরে এসেছে এলাকাবাসীর কথায়।
ত্রাণ সামগ্রী দুর্নীতিতে গ্রেফতার সরকারি ঠিকাদার, চাঞ্চল্য বসিরহাটে
বসিরহাট : সরকারি ত্রাণ সামগ্রী নিজের বাড়িতে মজুদ করে রাখার অভিযোগে অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন এক সরকারি ঠিকাদার। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বসিরহাটের মাটিয়া থানার চাঁপাপুকুর গ্রাম পঞ্চায়েতের রাজাপুর এলাকায়। ধৃত ঠিকাদারের নাম খবির আলী। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের দায়িত্বে থেকে দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি সামগ্রী আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েক বছরে চাঁপাপুকুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় একাধিক সরকারি উন্নয়নমূলক কাজের দায়িত্ব পান খবির আলী। সরকারি ত্রাণ সামগ্রী বণ্টন থেকে শুরু করে স্বচ্ছ ভারত মিশন অন্তর্ভুক্ত আবর্জনা বয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যবহৃত টোটো গাড়ি একের পর এক প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে। অভিযোগ, প্রকল্পের নামে বরাদ্দ হওয়া সরকারি সামগ্রীর একটি বড় অংশ আত্মসাৎ করা হয়েছে। বহু ক্ষেত্রে কাজ সম্পূর্ণ না করেই সরকারি টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই এই দুর্নীতির বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনার চেষ্টা করা হচ্ছিল। অভিযোগ জমা পড়ার পর তদন্তে নামে মাটিয়া থানার আইসি দীনেশ চন্দ্র পালের নেতৃত্বাধীন পুলিশ। তদন্ত চলাকালীন বিভিন্ন নথি ও তথ্য খতিয়ে দেখে পুলিশের হাতে উঠে আসে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। এরপরই সরকারি সামগ্রী আত্মসাৎ এর অভিযোগে খবির মণ্ডলকে গ্রেফতার করা হয়। বুধবার ধৃতকে বসিরহাট আদালতে পেশ করা হয়। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন এই দুর্নীতির ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না। বিশেষ করে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা প্রশাসনিক যোগসাজশ ছিল কিনা, সেই দিকেও নজর রাখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে একাধিক নথি সংগ্রহ করা হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। ঘটনার পর থেকেই চাঁপাপুকুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, শুধুমাত্র একজন ঠিকাদার নয়, গোটা দুর্নীতির চক্রের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
পাট বাগানের মাটি খুঁড়ে মিলল বস্তাবন্দি টাকা! চেয়ারম্যান গ্রেফতারের পর বাদুড়িয়ায় পুলিশের চাঞ্চল্যকর উদ্ধার অভিযান

সৌমাভ মণ্ডল,বসিরহাট : উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের বাদুড়িয়া পৌরসভার তৃণমূলের চেয়ারম্যান দীপঙ্কর ভট্টাচার্য্যকে গ্রেফতারের পর তদন্তে নেমে বড়সড় সাফল্য পেল বাদুড়িয়া থানার পুলিশ। আদালতের নির্দেশে ৬ দিনের পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালানোর পরই উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সেই সূত্র ধরেই বুধবার চেয়ারম্যানের বাড়ির অদূরে একটি পাট বাগানে তল্লাশি চালায় পুলিশ। সেখানে মাটির নিচে পুঁতে রাখা অবস্থায় উদ্ধার হয় একটি বস্তা ও পাঁচটি ট্রলি ব্যাগ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া প্রতিটি বস্তা ও ট্রলি ব্যাগ ভর্তি ছিল বিপুল পরিমাণ নগদ ৫০০ টাকার বাণ্ডিলে। দীর্ঘ সময় ধরে মাটি খুঁড়ে ওই সমস্ত বস্তা উদ্ধার করে পুলিশ। পরে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সেগুলি বাদুড়িয়া থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কিছু নথিও উদ্ধার হয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, পৌরসভার বিভিন্ন প্রকল্প, ত্রাণ বণ্টন এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ওই নথিগুলিতে থাকতে পারে। উদ্ধার হওয়া টাকার পরিমাণ নিয়ে যদিও সরকারি ভাবে এখনও কিছু জানানো হয়নি, তবে পুলিশের একাংশের দাবি, বিপুল অঙ্কের নগদ উদ্ধার হয়েছে। সমস্ত টাকা গুনে দেখার পাশাপাশি নথিগুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে পুলিশের সন্দেহ, শুধু একটি জায়গাতেই নয়, আরও বিভিন্ন স্থানে টাকা বা নথি লুকিয়ে রাখা থাকতে পারে। সেই কারণে বসিরহাট পুলিশ জেলার পক্ষ থেকে বাদুড়িয়া এবং সংলগ্ন এলাকার বিভিন্ন পাট বাগানে ড্রোন উড়িয়ে নজরদারি চালানো হয়। কোথাও মাটির নিচে সন্দেহজনক কিছু রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। অন্যদিকে এই ঘটনায় দীপঙ্কর ভট্টাচার্যের ঘনিষ্ঠ এবং ব্যক্তিগত সহকারী শামীম গাজীকেও খোঁজা শুরু করে পুলিশ। বাদুড়িয়ার বাঁটুলডাঙা এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে তাকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও তথ্য জানার চেষ্টা চলছে। তদন্তকারীদের অনুমান, উদ্ধার হওয়া টাকা ও নথি গোপন রাখার কাজে আরও কয়েকজন যুক্ত থাকতে পারে।
ঘটনার পর থেকেই বাদুড়িয়া জুড়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর তীব্র হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে দুর্নীতি ও আর্থিক অনিয়ম চলছিল। এবার সেই অভিযোগেরই বড় প্রমাণ মিলল। যদিও তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্ব এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেনি।
পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। উদ্ধার হওয়া নগদ টাকা কোথা থেকে এল, কার কার সঙ্গে এই আর্থিক লেনদেনের যোগ রয়েছে এবং এর পেছনে আরও বড় কোনও দুর্নীতির চক্র কাজ করছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই নতুন নতুন তথ্য সামনে আসছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
জে.সি. মুখার্জি টি-২০ টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন মোহনবাগান*
খেলা


স্পোর্টস ডেস্ক: বুধবার কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ফাইনাল ম্যাচ টাই হওয়ার পর কম উইকেট হারার সুবাদে ভবানীপুর ক্লাবকে হারিয়ে জে.সি. মুখার্জি টি-২০ টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হল মোহনবাগান অ্যাথলেটিক ক্লাব।
এদিন মোহনবাগান অ্যাথলেটিক ক্লাব ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৮৯ রান করে। অন্যদিকে,ভবানীপুর ক্লাব ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৮৯ রান করে।
কম উইকেট হারার সুবাদে জয়ী হয় মোহনবাগান অ্যাথলেটিক ক্লাব। ছবি সৌজন্যে:  সিএবি
রাজ্যে অন্নপূর্ণা ফর্ম প্রকাশ
নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজ্যে অন্নপূর্ণা ফর্ম প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল।আজ থেকে ফর্ম ফিলাপ শুরু।৩ মাসের মধ্যে ফর্ম ফিলাপ করতে হবে।ফর্ম জমার পর ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হলে টাকা অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার হয়ে যাবে। জুন মাসে ১৫,১৬,১৭ জনকল্যাণ ক্যাম্পেও ফর্ম ফিলাপ করা যাবে।

অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে কী কী ঘোষণা?


১) বিডিও ও পুরসভা থেকে ফর্ম পাওয়া যাবে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে এই আবেদন পূরণের যাচাই করা হবে।

২) মুখ্যসচিব এবং অর্থসচিবের নেতৃত্বে আধিকারিকেরা এর সঙ্গে যুক্ত থাকবেন। যাঁরা আধারের কাজ করেন, ভোটার তালিকা তৈরির কাজে যাঁরা যুক্ত, তাঁরা এই কাজ করবেন।

৩) যাঁরা অনলাইন বা অফলাইনে ফর্ম পূরণ করতে পারবেন না, তাঁদের ক্ষেত্রে আধিকারিকেরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম পূরণে সহযোগিতা করবেন। নবনির্বাচিত বিধায়কেরাও ফর্ম পূরণে সহযোগিতা করবেন।

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের জন্য যে ফর্ম পূরণ করতে হবে, তার জন্য আবেদনকারীদের তথ্য বিশদে চাওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে পরিবারের তথ্যও সংগ্রহ করতে চায় রাজ্য সরকার, যাতে তা অন্যান্য সরকারি প্রকল্পের ক্ষেত্রেও কাজে লাগানো যায়।

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার যোজনার ফর্ম পূরণ এবং নাম নথিভুক্তকরণ যত দিন না সম্পন্ন হচ্ছে, ততদিন ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ চালু থাকবে। যাঁদের নাম ২ জুনের মধ্যে নথিভুক্ত হয়ে যাবে, তাঁরা জুন মাস থেকেই অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাবেন। তাঁদের ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ বন্ধ হয়ে যাবে।
কল্যাণীর প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা, আগামীকাল অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম প্রকাশিত হবে

নিজস্ব প্রতিনিধি, কল্যাণী: মঙ্গলবার কল্যাণীতে এ পি জে আব্দুল কালাম অডিটোরিয়ামে নদীয়া, উত্তর ২৪ পরগনা ও হুগলির জেলার প্রতিনিধি ও প্রশাসনিক আধিকারিক দের নিয়ে বৈঠকে করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।কল্যাণীতে প্রশাসনিক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্বাস্থ্য, পরিবহণ, নারীকল্যাণ-সহ একাধিক ক্ষেত্রে একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী এদিন স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে সারা বছর গঠনমূলক কাজ করাই তাঁর সরকারের মূল লক্ষ্য। এদিনের সমন্বয় বৈঠকে মূলত ৪ টি বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। যেমন, বিভিন্ন দফতরের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার, প্রাক-বর্ষার প্রস্তুতি এবং রাজ্যের পুরনো প্রকল্পগুলিকে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সঙ্গে সংযুক্তিকরণ।

সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী জানান, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বদলে রাজ্যে শুরু হতে চলেছে 'অন্নপূর্ণা যোজনা'। আজ অর্থাৎ বুধবার নবান্ন থেকে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালকে সঙ্গে নিয়ে এই যোজনার ফর্ম প্রকাশ করবেন মুখ্যমন্ত্রী নিজে। ফর্ম পূরণ হলেই উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে ৩০০০ টাকা করে ঢুকতে শুরু করবে। অনলাইনে এবং অফলাইনে ফর্ম পূরণের পাশাপাশি বিধায়ক ও বিডিওদের নেতৃত্বে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম পূরণে সাহায্য করবে প্রশাসন। তবে মুখ্যমন্ত্রী কড়া ভাষায় জানিয়েছেন, কেবলমাত্র ভারতীয়রাই এই সুযোগ পাবেন, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের হাতে সরকারি টাকা তুলে দেওয়া হবে না।

অন্যদিকে, স্বাস্থ্যসাথী কার্ডকে 'আয়ুষ্মান ভারত'-এ রূপান্তরিত করার কাজও শুরু হচ্ছে। আগামী ৮ জুন দিল্লিতে স্বাস্থ্য দফতরের সঙ্গে এই বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষর করবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। তবে অন্নপূর্ণা যোজনা এবং আয়ুষ্মান ভারত পুরোপুরি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত লক্ষ্মীর ভাণ্ডার এবং স্বাস্থ্যসাথী পরিষেবা চালু থাকবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেছেন।

রাজ্যের মহিলাদের জন্য পরিবহণ এবং সাধারণ মানুষের জন্য খাদ্যেও বড় ভর্তুকির কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আগামী সপ্তাহ থেকেই সরকারি বাসে মহিলারা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে যাতায়াতের সুযোগ পাবেন। প্রাথমিক পর্যায়ে সব মহিলাদের এই সুযোগ দেওয়া হলেও, পরবর্তীতে নিরাপত্তার স্বার্থে এবং অপব্যবহার রুখতে মহিলাদের জন্য আলাদা কার্ডের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি, রাজ্যে চালু থাকা মা ক্যান্টিনগুলিতে এবার থেকে সপ্তাহে দু'দিন মাত্র ৫ টাকার বিনিময়ে মাছ-ভাত খাওয়ানো হবে বলে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া, রাজ্যের আয়ুষ দফতরকে স্বাস্থ্য দফতর থেকে আলাদা করে একটি পৃথক আয়ুষ মন্ত্রক গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্তও এদিন নেওয়া হয়েছে, যা ক্যাবিনেটের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

প্রশাসনিক কাঠামোর পাশাপাশি জনসংযোগেও বড়সড় বদল আনতে চলেছে নতুন সরকার। বিগত সরকারের মুখ্যমন্ত্রীর টোল ফ্রি নম্বর 'দিদিকে বলো' আগামী সপ্তাহ থেকে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যের পরামর্শ মেনে মুখ্যমন্ত্রী এদিন এই গ্রিভ্যান্স সেলের নতুন নামকরণ করেছেন 'আপনার সরকারকে বলুন'। দ্রুত এর নতুন টোল ফ্রি নম্বরও প্রকাশ করা হবে। এছাড়াও, আগামী ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে 'এক পেড় মা কে নাম' কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে রাজ্যের সব ব্লক ও পুরসভায় গাছ লাগাবে রাজ্য। ১৫ থেকে ১৭ জুন স্কুলগুলিকে বাদ দিয়ে রাজ্যজুড়ে জনকল্যাণ শিবির আয়োজিত হবে, যেখানে কেন্দ্র ও রাজ্যের সব প্রকল্পের সুবিধা মানুষকে দেওয়া হবে। ২১ জুন ধুমধাম করে পালিত হবে বিশ্ব যোগ দিবস। আগামী দিনে রাজ্যে কেন্দ্রীয় নগরোন্নয়ন, বিদ্যুৎ, জাহাজ এবং রেলমন্ত্রীর সফরের কথাও এদিন মনে করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী।