৭ বছরের অপেক্ষার অবসান, সন্দেশখালিতে তৃণমূল নেতাদের গ্রেপ্তারে গেরুয়া আবিরে উচ্ছ্বাস নিহত বিজেপি কর্মীদের পরিবারে
‌‌
সৌমাভ মণ্ডল,বসিরহাট : দীর্ঘ ৭ বছরের অপেক্ষার পর অবশেষে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার হতেই আনন্দে ফেটে পড়ল সন্দেশখালির ভাঙ্গিপাড়া এলাকা। গেরুয়া আবির মেখে, ঢাক-ঢোল ও বাজনা বাজিয়ে উচ্ছ্বাসে মাতলেন নিহত বিজেপি কর্মীদের পরিবারের সদস্য ও এলাকার বাসিন্দারা। বুধবার বসিরহাটের সন্দেশখালি বিধানসভার রাজবাড়ী এলাকায় কার্যত উৎসবের চেহারা নেয়।
২০১৯ সালের ১৮ জুন লোকসভা নির্বাচনের পরবর্তী হিংসার ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল সন্দেশখালি। অভিযোগ, বিজয় মিছিলের নামে ভাঙ্গিপাড়া এলাকায় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা হামলা চালিয়ে ৩ বিজেপি কর্মীকে খুন করে।খুন হয়েছিলেন দেবদাস মণ্ডল,প্রদীপ মণ্ডল ও সুকান্ত মণ্ডল।সেই ঘটনায় একাধিক তৃণমূল নেতা-কর্মীর নাম উঠে এলেও তৎকালীন পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলেন নিহতদের পরিবার। পরিবারের দাবি ছিল, প্রকাশ্যে দাঁড়িয়ে যারা হামলা ও খুনে নেতৃত্ব দিয়েছিল, অভিযোগপত্রে তাদের নাম থাকলেও পরে চার্জশিট থেকে সেই নাম বাদ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন নিহত বিজেপি কর্মীদের পরিবারের সদস্যরা। বারবার সিবিআই তদন্তের আবেদন জানানো হয়। শেষ পর্যন্ত কলকাতা হাইকোর্ট মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয়। তদন্তভার হাতে পাওয়ার পর সিবিআইয়ের স্পেশাল ক্রাইম ব্রাঞ্চের আধিকারিকরা গত কয়েক মাস ধরে এলাকায় একাধিকবার তদন্ত চালান, সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করেন এবং অভিযুক্তদের ভূমিকা খতিয়ে দেখেন। তদন্তের পর অবশেষে এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১০ জন তৃণমূল নেতা ও কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে সিবিআই। ধৃতদের মধ্যে রয়েছে হাটগাছি গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান তথা শেখ শাহজাহান ঘনিষ্ঠ কাদের মোল্লার নামও। এই গ্রেপ্তারির খবর ছড়িয়ে পড়তেই ভাঙ্গিপাড়া এলাকায় আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়। এদিন রাজবাড়ী এলাকায় নিহতদের পরিবারের সদস্যদের চোখে জল আর মুখে স্বস্তির হাসি একসঙ্গে ধরা পড়ে। তাদের বক্তব্য, “এতোদিন পরে হলেও আমরা ন্যায়বিচারের আশা দেখতে পাচ্ছি। যাদের বিরুদ্ধে প্রথম থেকেই অভিযোগ করেছিলাম, অবশেষে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালত ও সিবিআইয়ের উপর আমাদের ভরসা ছিল।”
এলাকাজুড়ে গেরুয়া আবির খেলেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। বাজি ফাটানো থেকে শুরু করে মিষ্টি বিতরণও করা হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়ক সনৎ সর্দার। তিনি বলেন, “নিহত পরিবারগুলোর দীর্ঘদিনের লড়াই আজ অনেকটাই সফল হয়েছে। সত্য চাপা থাকে না। যারা রাজনৈতিক সন্ত্রাস চালিয়েছিল, আইন তাদের কাছে পৌঁছে গিয়েছে।” বিজেপির অভিযোগ, এতদিন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অভিযুক্তদের বাঁচানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে ভাঙ্গিপাড়ার মানুষ বলছেন, এই গ্রেপ্তার শুধুমাত্র কয়েকজন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নয়, দীর্ঘদিনের ভয় ও আতঙ্কের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের জয়ের প্রতীক। সাত বছর পরেও নিহতদের স্মৃতি আজও তাজা। তাই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের খবরে আনন্দের মধ্যেও সেই রক্তাক্ত দিনের স্মৃতি বারবার ফিরে এসেছে এলাকাবাসীর কথায়।
ত্রাণ সামগ্রী দুর্নীতিতে গ্রেফতার সরকারি ঠিকাদার, চাঞ্চল্য বসিরহাটে
বসিরহাট : সরকারি ত্রাণ সামগ্রী নিজের বাড়িতে মজুদ করে রাখার অভিযোগে অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন এক সরকারি ঠিকাদার। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বসিরহাটের মাটিয়া থানার চাঁপাপুকুর গ্রাম পঞ্চায়েতের রাজাপুর এলাকায়। ধৃত ঠিকাদারের নাম খবির আলী। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের দায়িত্বে থেকে দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি সামগ্রী আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েক বছরে চাঁপাপুকুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় একাধিক সরকারি উন্নয়নমূলক কাজের দায়িত্ব পান খবির আলী। সরকারি ত্রাণ সামগ্রী বণ্টন থেকে শুরু করে স্বচ্ছ ভারত মিশন অন্তর্ভুক্ত আবর্জনা বয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যবহৃত টোটো গাড়ি একের পর এক প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে। অভিযোগ, প্রকল্পের নামে বরাদ্দ হওয়া সরকারি সামগ্রীর একটি বড় অংশ আত্মসাৎ করা হয়েছে। বহু ক্ষেত্রে কাজ সম্পূর্ণ না করেই সরকারি টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই এই দুর্নীতির বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনার চেষ্টা করা হচ্ছিল। অভিযোগ জমা পড়ার পর তদন্তে নামে মাটিয়া থানার আইসি দীনেশ চন্দ্র পালের নেতৃত্বাধীন পুলিশ। তদন্ত চলাকালীন বিভিন্ন নথি ও তথ্য খতিয়ে দেখে পুলিশের হাতে উঠে আসে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। এরপরই সরকারি সামগ্রী আত্মসাৎ এর অভিযোগে খবির মণ্ডলকে গ্রেফতার করা হয়। বুধবার ধৃতকে বসিরহাট আদালতে পেশ করা হয়। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন এই দুর্নীতির ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না। বিশেষ করে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা প্রশাসনিক যোগসাজশ ছিল কিনা, সেই দিকেও নজর রাখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে একাধিক নথি সংগ্রহ করা হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। ঘটনার পর থেকেই চাঁপাপুকুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, শুধুমাত্র একজন ঠিকাদার নয়, গোটা দুর্নীতির চক্রের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
পাট বাগানের মাটি খুঁড়ে মিলল বস্তাবন্দি টাকা! চেয়ারম্যান গ্রেফতারের পর বাদুড়িয়ায় পুলিশের চাঞ্চল্যকর উদ্ধার অভিযান

সৌমাভ মণ্ডল,বসিরহাট : উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের বাদুড়িয়া পৌরসভার তৃণমূলের চেয়ারম্যান দীপঙ্কর ভট্টাচার্য্যকে গ্রেফতারের পর তদন্তে নেমে বড়সড় সাফল্য পেল বাদুড়িয়া থানার পুলিশ। আদালতের নির্দেশে ৬ দিনের পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালানোর পরই উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সেই সূত্র ধরেই বুধবার চেয়ারম্যানের বাড়ির অদূরে একটি পাট বাগানে তল্লাশি চালায় পুলিশ। সেখানে মাটির নিচে পুঁতে রাখা অবস্থায় উদ্ধার হয় একটি বস্তা ও পাঁচটি ট্রলি ব্যাগ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া প্রতিটি বস্তা ও ট্রলি ব্যাগ ভর্তি ছিল বিপুল পরিমাণ নগদ ৫০০ টাকার বাণ্ডিলে। দীর্ঘ সময় ধরে মাটি খুঁড়ে ওই সমস্ত বস্তা উদ্ধার করে পুলিশ। পরে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সেগুলি বাদুড়িয়া থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কিছু নথিও উদ্ধার হয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, পৌরসভার বিভিন্ন প্রকল্প, ত্রাণ বণ্টন এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ওই নথিগুলিতে থাকতে পারে। উদ্ধার হওয়া টাকার পরিমাণ নিয়ে যদিও সরকারি ভাবে এখনও কিছু জানানো হয়নি, তবে পুলিশের একাংশের দাবি, বিপুল অঙ্কের নগদ উদ্ধার হয়েছে। সমস্ত টাকা গুনে দেখার পাশাপাশি নথিগুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে পুলিশের সন্দেহ, শুধু একটি জায়গাতেই নয়, আরও বিভিন্ন স্থানে টাকা বা নথি লুকিয়ে রাখা থাকতে পারে। সেই কারণে বসিরহাট পুলিশ জেলার পক্ষ থেকে বাদুড়িয়া এবং সংলগ্ন এলাকার বিভিন্ন পাট বাগানে ড্রোন উড়িয়ে নজরদারি চালানো হয়। কোথাও মাটির নিচে সন্দেহজনক কিছু রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। অন্যদিকে এই ঘটনায় দীপঙ্কর ভট্টাচার্যের ঘনিষ্ঠ এবং ব্যক্তিগত সহকারী শামীম গাজীকেও খোঁজা শুরু করে পুলিশ। বাদুড়িয়ার বাঁটুলডাঙা এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে তাকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও তথ্য জানার চেষ্টা চলছে। তদন্তকারীদের অনুমান, উদ্ধার হওয়া টাকা ও নথি গোপন রাখার কাজে আরও কয়েকজন যুক্ত থাকতে পারে।
ঘটনার পর থেকেই বাদুড়িয়া জুড়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর তীব্র হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে দুর্নীতি ও আর্থিক অনিয়ম চলছিল। এবার সেই অভিযোগেরই বড় প্রমাণ মিলল। যদিও তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্ব এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেনি।
পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। উদ্ধার হওয়া নগদ টাকা কোথা থেকে এল, কার কার সঙ্গে এই আর্থিক লেনদেনের যোগ রয়েছে এবং এর পেছনে আরও বড় কোনও দুর্নীতির চক্র কাজ করছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই নতুন নতুন তথ্য সামনে আসছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
জে.সি. মুখার্জি টি-২০ টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন মোহনবাগান*
খেলা


স্পোর্টস ডেস্ক: বুধবার কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ফাইনাল ম্যাচ টাই হওয়ার পর কম উইকেট হারার সুবাদে ভবানীপুর ক্লাবকে হারিয়ে জে.সি. মুখার্জি টি-২০ টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হল মোহনবাগান অ্যাথলেটিক ক্লাব।
এদিন মোহনবাগান অ্যাথলেটিক ক্লাব ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৮৯ রান করে। অন্যদিকে,ভবানীপুর ক্লাব ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৮৯ রান করে।
কম উইকেট হারার সুবাদে জয়ী হয় মোহনবাগান অ্যাথলেটিক ক্লাব। ছবি সৌজন্যে:  সিএবি
রাজ্যে অন্নপূর্ণা ফর্ম প্রকাশ
নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজ্যে অন্নপূর্ণা ফর্ম প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল।আজ থেকে ফর্ম ফিলাপ শুরু।৩ মাসের মধ্যে ফর্ম ফিলাপ করতে হবে।ফর্ম জমার পর ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হলে টাকা অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার হয়ে যাবে। জুন মাসে ১৫,১৬,১৭ জনকল্যাণ ক্যাম্পেও ফর্ম ফিলাপ করা যাবে।

অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে কী কী ঘোষণা?


১) বিডিও ও পুরসভা থেকে ফর্ম পাওয়া যাবে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে এই আবেদন পূরণের যাচাই করা হবে।

২) মুখ্যসচিব এবং অর্থসচিবের নেতৃত্বে আধিকারিকেরা এর সঙ্গে যুক্ত থাকবেন। যাঁরা আধারের কাজ করেন, ভোটার তালিকা তৈরির কাজে যাঁরা যুক্ত, তাঁরা এই কাজ করবেন।

৩) যাঁরা অনলাইন বা অফলাইনে ফর্ম পূরণ করতে পারবেন না, তাঁদের ক্ষেত্রে আধিকারিকেরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম পূরণে সহযোগিতা করবেন। নবনির্বাচিত বিধায়কেরাও ফর্ম পূরণে সহযোগিতা করবেন।

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের জন্য যে ফর্ম পূরণ করতে হবে, তার জন্য আবেদনকারীদের তথ্য বিশদে চাওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে পরিবারের তথ্যও সংগ্রহ করতে চায় রাজ্য সরকার, যাতে তা অন্যান্য সরকারি প্রকল্পের ক্ষেত্রেও কাজে লাগানো যায়।

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার যোজনার ফর্ম পূরণ এবং নাম নথিভুক্তকরণ যত দিন না সম্পন্ন হচ্ছে, ততদিন ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ চালু থাকবে। যাঁদের নাম ২ জুনের মধ্যে নথিভুক্ত হয়ে যাবে, তাঁরা জুন মাস থেকেই অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাবেন। তাঁদের ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ বন্ধ হয়ে যাবে।
কল্যাণীর প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা, আগামীকাল অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম প্রকাশিত হবে

নিজস্ব প্রতিনিধি, কল্যাণী: মঙ্গলবার কল্যাণীতে এ পি জে আব্দুল কালাম অডিটোরিয়ামে নদীয়া, উত্তর ২৪ পরগনা ও হুগলির জেলার প্রতিনিধি ও প্রশাসনিক আধিকারিক দের নিয়ে বৈঠকে করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।কল্যাণীতে প্রশাসনিক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্বাস্থ্য, পরিবহণ, নারীকল্যাণ-সহ একাধিক ক্ষেত্রে একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী এদিন স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে সারা বছর গঠনমূলক কাজ করাই তাঁর সরকারের মূল লক্ষ্য। এদিনের সমন্বয় বৈঠকে মূলত ৪ টি বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। যেমন, বিভিন্ন দফতরের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার, প্রাক-বর্ষার প্রস্তুতি এবং রাজ্যের পুরনো প্রকল্পগুলিকে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সঙ্গে সংযুক্তিকরণ।

সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী জানান, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বদলে রাজ্যে শুরু হতে চলেছে 'অন্নপূর্ণা যোজনা'। আজ অর্থাৎ বুধবার নবান্ন থেকে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালকে সঙ্গে নিয়ে এই যোজনার ফর্ম প্রকাশ করবেন মুখ্যমন্ত্রী নিজে। ফর্ম পূরণ হলেই উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে ৩০০০ টাকা করে ঢুকতে শুরু করবে। অনলাইনে এবং অফলাইনে ফর্ম পূরণের পাশাপাশি বিধায়ক ও বিডিওদের নেতৃত্বে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম পূরণে সাহায্য করবে প্রশাসন। তবে মুখ্যমন্ত্রী কড়া ভাষায় জানিয়েছেন, কেবলমাত্র ভারতীয়রাই এই সুযোগ পাবেন, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের হাতে সরকারি টাকা তুলে দেওয়া হবে না।

অন্যদিকে, স্বাস্থ্যসাথী কার্ডকে 'আয়ুষ্মান ভারত'-এ রূপান্তরিত করার কাজও শুরু হচ্ছে। আগামী ৮ জুন দিল্লিতে স্বাস্থ্য দফতরের সঙ্গে এই বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষর করবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। তবে অন্নপূর্ণা যোজনা এবং আয়ুষ্মান ভারত পুরোপুরি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত লক্ষ্মীর ভাণ্ডার এবং স্বাস্থ্যসাথী পরিষেবা চালু থাকবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেছেন।

রাজ্যের মহিলাদের জন্য পরিবহণ এবং সাধারণ মানুষের জন্য খাদ্যেও বড় ভর্তুকির কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আগামী সপ্তাহ থেকেই সরকারি বাসে মহিলারা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে যাতায়াতের সুযোগ পাবেন। প্রাথমিক পর্যায়ে সব মহিলাদের এই সুযোগ দেওয়া হলেও, পরবর্তীতে নিরাপত্তার স্বার্থে এবং অপব্যবহার রুখতে মহিলাদের জন্য আলাদা কার্ডের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি, রাজ্যে চালু থাকা মা ক্যান্টিনগুলিতে এবার থেকে সপ্তাহে দু'দিন মাত্র ৫ টাকার বিনিময়ে মাছ-ভাত খাওয়ানো হবে বলে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া, রাজ্যের আয়ুষ দফতরকে স্বাস্থ্য দফতর থেকে আলাদা করে একটি পৃথক আয়ুষ মন্ত্রক গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্তও এদিন নেওয়া হয়েছে, যা ক্যাবিনেটের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

প্রশাসনিক কাঠামোর পাশাপাশি জনসংযোগেও বড়সড় বদল আনতে চলেছে নতুন সরকার। বিগত সরকারের মুখ্যমন্ত্রীর টোল ফ্রি নম্বর 'দিদিকে বলো' আগামী সপ্তাহ থেকে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যের পরামর্শ মেনে মুখ্যমন্ত্রী এদিন এই গ্রিভ্যান্স সেলের নতুন নামকরণ করেছেন 'আপনার সরকারকে বলুন'। দ্রুত এর নতুন টোল ফ্রি নম্বরও প্রকাশ করা হবে। এছাড়াও, আগামী ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে 'এক পেড় মা কে নাম' কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে রাজ্যের সব ব্লক ও পুরসভায় গাছ লাগাবে রাজ্য। ১৫ থেকে ১৭ জুন স্কুলগুলিকে বাদ দিয়ে রাজ্যজুড়ে জনকল্যাণ শিবির আয়োজিত হবে, যেখানে কেন্দ্র ও রাজ্যের সব প্রকল্পের সুবিধা মানুষকে দেওয়া হবে। ২১ জুন ধুমধাম করে পালিত হবে বিশ্ব যোগ দিবস। আগামী দিনে রাজ্যে কেন্দ্রীয় নগরোন্নয়ন, বিদ্যুৎ, জাহাজ এবং রেলমন্ত্রীর সফরের কথাও এদিন মনে করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী।
যুবভারতীর পর হালিশহরে খেলার মাঠ থেকে সরবে বিকৃত মূর্তি
নিজস্ব প্রতিবেদক:ফুটবল মাঠে এক অদ্ভুত প্রতীকের মূর্তি। পেশিবহুল দুটি পা। কোমরে গিয়ে পেটের অংশে গোলাকৃতি ফুটবল। আর এই অর্ধাকৃতি মডেল মানুষের কাছে দৃষ্টিকটু। যা বিজেপি সরকার আগেই সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরকম উত্তর ২৪ পরগনার হালিশহর পুরসভার রামপ্রসাদ খেলার মাঠ থেকে এই মডেল সরানোর কথা বললেন বীজপুরের বিধায়ক সুদীপ্ত দাস। তিনি বলেন, "মাঠ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে নতুন করে রামপ্রসাদ খেলার মাঠ গড়ে তোলা হবে। তৃণমূল এই মাঠটাকে ধ্বংস করেছে।" ছবি:প্রবীর রায়।
ইছাপুর থেকে মৌরিগ্রামে নতুন বাস পরিষেবা চালু
নিজস্ব প্রতিনিধি: সবুজ পতাকা নাড়িয়ে  নোয়াপাড়ার বিধায়ক অর্জুন সিং উদ্বোধন করলেন
ইছাপুর থেকে মৌরিগ্রামে নতুন বাস পরিষেবার।দীর্ঘদিনের দাবির পর অবশেষে ইছাপুর স্টোরবাজার এলাকা থেকে মৌরিগ্রাম পর্যন্ত নতুন বাস পরিষেবা চালু হল।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি ছিল, ইছাপুর থেকে মৌরিগ্রাম পর্যন্ত সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে নিত্যযাত্রীদের দীর্ঘদিন ধরে সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছিল। বিশেষ করে কর্মসূত্রে যাতায়াতকারী মানুষদের ভোগান্তি ছিল চরমে। সেই সমস্যার সমাধানেই এই নতুন বাস পরিষেবা চালু করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিধায়ক অর্জুন সিং বলেন, “ভোটের প্রচারে এলাকায় গেলে সাধারণ মানুষ আমার কাছে ইছাপুর থেকে মৌরিগ্রাম পর্যন্ত একটি বাস পরিষেবা চালুর দাবি জানাতেন। মানুষের সেই দাবি পূরণ করতে পেরে আমি খুশি। অবশেষে সেই কাজ সম্পন্ন হলো।”নতুন এই বাস পরিষেবা চালু হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে খুশির আবহ তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষের দাবি, এর ফলে প্রতিদিনের যাতায়াত অনেকটাই সহজ হবে।

ছবি: প্রবীর রায়।
বারাসাতের পোস্ট অফিসে বিশাল লাইন, ছুটে এলেন খাদ্য মন্ত্রী
নিজস্ব সংবাদদাতা: সোমবার বারাসতের পোস্ট অফিসে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের জন্য ব্যাঙ্ক
অ্যাকাউন্ট-আধার লিঙ্ক করার বিশাল লাইন। ছুটে এলেন রাজ্যের খাদ্য মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া। সোমবার পোস্ট অফিসের সুপারিন্টেন্ডেন্টের সঙ্গে কথা বলেন খাদ্যমন্ত্রী। মানুষের হয়রানি যেন না হয়, কড়া বার্তা দিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া।
সীমান্তে ফেরার ভিড়, কড়াকড়ির জেরে হাকিমপুর চেকপোস্টে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ভিড়

সৌমাভ মণ্ডল,বসিরহাট : রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর অনুপ্রবেশ ইস্যুতে ফের সরগরম সীমান্ত এলাকা। ইতিমধ্যেই রাজ্যে লাগু হয়ে গিয়েছে ডিডিডি। উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের স্বরূপনগর ব্লকের হাকিমপুর চেকপোস্টে সোমবার ফের দেখা গেল বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার অপেক্ষায় বহু সন্দেহভাজন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীর ভিড়। প্রশাসনের কড়া নজরদারি এবং রাজ্য সরকারের কঠোর অবস্থানের জেরে সীমান্ত এলাকায় নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েক মাস আগেও এসআইআর ঘোষণার পর একইভাবে হাজার হাজার অনুপ্রবেশকারী হাকিমপুর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ফিরে গিয়েছিল। তাদের অধিকাংশই দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় অবৈধভাবে বসবাস করছিল এবং নির্মাণ শ্রমিক, রাজমিস্ত্রির সহকারী, মাছের ভেঁড়ি ও অন্যান্য দৈনিক মজুরির কাজে যুক্ত ছিল বলে জানা যায়। সোমবার দুপুরে বিথারী হাকিমপুর চেকপোস্ট এলাকায় দেখা যায়, বহু নারী-পুরুষ ও যুবক ছোট ছোট ব্যাগ নিয়ে সীমান্তের কাছে অপেক্ষা করছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের দাবি, এক থেকে দেড় বছর আগে দালালচক্রের মাধ্যমে সীমান্ত পেরিয়ে তারা এ রাজ্যে এসেছিল। বিভিন্ন এলাকায় কাজ করলেও বর্তমানে প্রশাসনিক কড়াকড়ি বেড়ে যাওয়ায় তারা বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সীমান্ত এলাকায় পুলিশ ও প্রশাসনের নজরদারি অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিচয়পত্র যাচাই, ভাড়াবাড়িতে তল্লাশি এবং বিভিন্ন এলাকায় সন্দেহভাজনদের উপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এর জেরেই আতঙ্কে বহু অনুপ্রবেশকারী এলাকা ছাড়ছে বলে অভিযোগ। রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়ার পর থেকেই সীমান্ত এলাকায় এই প্রবণতা আরও বেড়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের মত। প্রশাসনিক সূত্রে যদিও এই বিষয়ে সরকারি ভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি, তবে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদারের কথা স্বীকার করেছেন কয়েকজন আধিকারিক।
অন্যদিকে, সীমান্তবর্তী এলাকায় সক্রিয় দালালচক্র নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। অভিযোগ, মোটা টাকার বিনিময়ে অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারের ব্যবস্থা করে দিচ্ছে এই চক্র। ফলে একদিকে যেমন অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটছে, অন্যদিকে পরিস্থিতি বদলাতেই ফের সীমান্ত পেরিয়ে ফিরে যাওয়ার ঘটনাও সামনে আসছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বরূপনগর ও সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্ত দিয়ে অবাধ অনুপ্রবেশ চললেও তা রুখতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিরোধী তৃণমূল শিবির। সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।