কল্যাণীর প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা, আগামীকাল অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম প্রকাশিত হবে

নিজস্ব প্রতিনিধি, কল্যাণী: মঙ্গলবার কল্যাণীতে এ পি জে আব্দুল কালাম অডিটোরিয়ামে নদীয়া, উত্তর ২৪ পরগনা ও হুগলির জেলার প্রতিনিধি ও প্রশাসনিক আধিকারিক দের নিয়ে বৈঠকে করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।কল্যাণীতে প্রশাসনিক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্বাস্থ্য, পরিবহণ, নারীকল্যাণ-সহ একাধিক ক্ষেত্রে একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী এদিন স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে সারা বছর গঠনমূলক কাজ করাই তাঁর সরকারের মূল লক্ষ্য। এদিনের সমন্বয় বৈঠকে মূলত ৪ টি বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। যেমন, বিভিন্ন দফতরের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার, প্রাক-বর্ষার প্রস্তুতি এবং রাজ্যের পুরনো প্রকল্পগুলিকে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সঙ্গে সংযুক্তিকরণ।

সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী জানান, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বদলে রাজ্যে শুরু হতে চলেছে 'অন্নপূর্ণা যোজনা'। আজ অর্থাৎ বুধবার নবান্ন থেকে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালকে সঙ্গে নিয়ে এই যোজনার ফর্ম প্রকাশ করবেন মুখ্যমন্ত্রী নিজে। ফর্ম পূরণ হলেই উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে ৩০০০ টাকা করে ঢুকতে শুরু করবে। অনলাইনে এবং অফলাইনে ফর্ম পূরণের পাশাপাশি বিধায়ক ও বিডিওদের নেতৃত্বে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম পূরণে সাহায্য করবে প্রশাসন। তবে মুখ্যমন্ত্রী কড়া ভাষায় জানিয়েছেন, কেবলমাত্র ভারতীয়রাই এই সুযোগ পাবেন, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের হাতে সরকারি টাকা তুলে দেওয়া হবে না।

অন্যদিকে, স্বাস্থ্যসাথী কার্ডকে 'আয়ুষ্মান ভারত'-এ রূপান্তরিত করার কাজও শুরু হচ্ছে। আগামী ৮ জুন দিল্লিতে স্বাস্থ্য দফতরের সঙ্গে এই বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষর করবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। তবে অন্নপূর্ণা যোজনা এবং আয়ুষ্মান ভারত পুরোপুরি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত লক্ষ্মীর ভাণ্ডার এবং স্বাস্থ্যসাথী পরিষেবা চালু থাকবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেছেন।

রাজ্যের মহিলাদের জন্য পরিবহণ এবং সাধারণ মানুষের জন্য খাদ্যেও বড় ভর্তুকির কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আগামী সপ্তাহ থেকেই সরকারি বাসে মহিলারা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে যাতায়াতের সুযোগ পাবেন। প্রাথমিক পর্যায়ে সব মহিলাদের এই সুযোগ দেওয়া হলেও, পরবর্তীতে নিরাপত্তার স্বার্থে এবং অপব্যবহার রুখতে মহিলাদের জন্য আলাদা কার্ডের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি, রাজ্যে চালু থাকা মা ক্যান্টিনগুলিতে এবার থেকে সপ্তাহে দু'দিন মাত্র ৫ টাকার বিনিময়ে মাছ-ভাত খাওয়ানো হবে বলে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া, রাজ্যের আয়ুষ দফতরকে স্বাস্থ্য দফতর থেকে আলাদা করে একটি পৃথক আয়ুষ মন্ত্রক গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্তও এদিন নেওয়া হয়েছে, যা ক্যাবিনেটের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

প্রশাসনিক কাঠামোর পাশাপাশি জনসংযোগেও বড়সড় বদল আনতে চলেছে নতুন সরকার। বিগত সরকারের মুখ্যমন্ত্রীর টোল ফ্রি নম্বর 'দিদিকে বলো' আগামী সপ্তাহ থেকে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যের পরামর্শ মেনে মুখ্যমন্ত্রী এদিন এই গ্রিভ্যান্স সেলের নতুন নামকরণ করেছেন 'আপনার সরকারকে বলুন'। দ্রুত এর নতুন টোল ফ্রি নম্বরও প্রকাশ করা হবে। এছাড়াও, আগামী ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে 'এক পেড় মা কে নাম' কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে রাজ্যের সব ব্লক ও পুরসভায় গাছ লাগাবে রাজ্য। ১৫ থেকে ১৭ জুন স্কুলগুলিকে বাদ দিয়ে রাজ্যজুড়ে জনকল্যাণ শিবির আয়োজিত হবে, যেখানে কেন্দ্র ও রাজ্যের সব প্রকল্পের সুবিধা মানুষকে দেওয়া হবে। ২১ জুন ধুমধাম করে পালিত হবে বিশ্ব যোগ দিবস। আগামী দিনে রাজ্যে কেন্দ্রীয় নগরোন্নয়ন, বিদ্যুৎ, জাহাজ এবং রেলমন্ত্রীর সফরের কথাও এদিন মনে করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী।
যুবভারতীর পর হালিশহরে খেলার মাঠ থেকে সরবে বিকৃত মূর্তি
নিজস্ব প্রতিবেদক:ফুটবল মাঠে এক অদ্ভুত প্রতীকের মূর্তি। পেশিবহুল দুটি পা। কোমরে গিয়ে পেটের অংশে গোলাকৃতি ফুটবল। আর এই অর্ধাকৃতি মডেল মানুষের কাছে দৃষ্টিকটু। যা বিজেপি সরকার আগেই সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরকম উত্তর ২৪ পরগনার হালিশহর পুরসভার রামপ্রসাদ খেলার মাঠ থেকে এই মডেল সরানোর কথা বললেন বীজপুরের বিধায়ক সুদীপ্ত দাস। তিনি বলেন, "মাঠ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে নতুন করে রামপ্রসাদ খেলার মাঠ গড়ে তোলা হবে। তৃণমূল এই মাঠটাকে ধ্বংস করেছে।" ছবি:প্রবীর রায়।
ইছাপুর থেকে মৌরিগ্রামে নতুন বাস পরিষেবা চালু
নিজস্ব প্রতিনিধি: সবুজ পতাকা নাড়িয়ে  নোয়াপাড়ার বিধায়ক অর্জুন সিং উদ্বোধন করলেন
ইছাপুর থেকে মৌরিগ্রামে নতুন বাস পরিষেবার।দীর্ঘদিনের দাবির পর অবশেষে ইছাপুর স্টোরবাজার এলাকা থেকে মৌরিগ্রাম পর্যন্ত নতুন বাস পরিষেবা চালু হল।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি ছিল, ইছাপুর থেকে মৌরিগ্রাম পর্যন্ত সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে নিত্যযাত্রীদের দীর্ঘদিন ধরে সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছিল। বিশেষ করে কর্মসূত্রে যাতায়াতকারী মানুষদের ভোগান্তি ছিল চরমে। সেই সমস্যার সমাধানেই এই নতুন বাস পরিষেবা চালু করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিধায়ক অর্জুন সিং বলেন, “ভোটের প্রচারে এলাকায় গেলে সাধারণ মানুষ আমার কাছে ইছাপুর থেকে মৌরিগ্রাম পর্যন্ত একটি বাস পরিষেবা চালুর দাবি জানাতেন। মানুষের সেই দাবি পূরণ করতে পেরে আমি খুশি। অবশেষে সেই কাজ সম্পন্ন হলো।”নতুন এই বাস পরিষেবা চালু হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে খুশির আবহ তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষের দাবি, এর ফলে প্রতিদিনের যাতায়াত অনেকটাই সহজ হবে।

ছবি: প্রবীর রায়।
বারাসাতের পোস্ট অফিসে বিশাল লাইন, ছুটে এলেন খাদ্য মন্ত্রী
নিজস্ব সংবাদদাতা: সোমবার বারাসতের পোস্ট অফিসে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের জন্য ব্যাঙ্ক
অ্যাকাউন্ট-আধার লিঙ্ক করার বিশাল লাইন। ছুটে এলেন রাজ্যের খাদ্য মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া। সোমবার পোস্ট অফিসের সুপারিন্টেন্ডেন্টের সঙ্গে কথা বলেন খাদ্যমন্ত্রী। মানুষের হয়রানি যেন না হয়, কড়া বার্তা দিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া।
সীমান্তে ফেরার ভিড়, কড়াকড়ির জেরে হাকিমপুর চেকপোস্টে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ভিড়

সৌমাভ মণ্ডল,বসিরহাট : রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর অনুপ্রবেশ ইস্যুতে ফের সরগরম সীমান্ত এলাকা। ইতিমধ্যেই রাজ্যে লাগু হয়ে গিয়েছে ডিডিডি। উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের স্বরূপনগর ব্লকের হাকিমপুর চেকপোস্টে সোমবার ফের দেখা গেল বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার অপেক্ষায় বহু সন্দেহভাজন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীর ভিড়। প্রশাসনের কড়া নজরদারি এবং রাজ্য সরকারের কঠোর অবস্থানের জেরে সীমান্ত এলাকায় নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েক মাস আগেও এসআইআর ঘোষণার পর একইভাবে হাজার হাজার অনুপ্রবেশকারী হাকিমপুর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ফিরে গিয়েছিল। তাদের অধিকাংশই দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় অবৈধভাবে বসবাস করছিল এবং নির্মাণ শ্রমিক, রাজমিস্ত্রির সহকারী, মাছের ভেঁড়ি ও অন্যান্য দৈনিক মজুরির কাজে যুক্ত ছিল বলে জানা যায়। সোমবার দুপুরে বিথারী হাকিমপুর চেকপোস্ট এলাকায় দেখা যায়, বহু নারী-পুরুষ ও যুবক ছোট ছোট ব্যাগ নিয়ে সীমান্তের কাছে অপেক্ষা করছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের দাবি, এক থেকে দেড় বছর আগে দালালচক্রের মাধ্যমে সীমান্ত পেরিয়ে তারা এ রাজ্যে এসেছিল। বিভিন্ন এলাকায় কাজ করলেও বর্তমানে প্রশাসনিক কড়াকড়ি বেড়ে যাওয়ায় তারা বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সীমান্ত এলাকায় পুলিশ ও প্রশাসনের নজরদারি অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিচয়পত্র যাচাই, ভাড়াবাড়িতে তল্লাশি এবং বিভিন্ন এলাকায় সন্দেহভাজনদের উপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এর জেরেই আতঙ্কে বহু অনুপ্রবেশকারী এলাকা ছাড়ছে বলে অভিযোগ। রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়ার পর থেকেই সীমান্ত এলাকায় এই প্রবণতা আরও বেড়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের মত। প্রশাসনিক সূত্রে যদিও এই বিষয়ে সরকারি ভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি, তবে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদারের কথা স্বীকার করেছেন কয়েকজন আধিকারিক।
অন্যদিকে, সীমান্তবর্তী এলাকায় সক্রিয় দালালচক্র নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। অভিযোগ, মোটা টাকার বিনিময়ে অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারের ব্যবস্থা করে দিচ্ছে এই চক্র। ফলে একদিকে যেমন অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটছে, অন্যদিকে পরিস্থিতি বদলাতেই ফের সীমান্ত পেরিয়ে ফিরে যাওয়ার ঘটনাও সামনে আসছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বরূপনগর ও সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্ত দিয়ে অবাধ অনুপ্রবেশ চললেও তা রুখতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিরোধী তৃণমূল শিবির। সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
১৫ কাউন্সিলরের ইস্তফা, পদ ছাড়লেন উত্তর ব্যারাকপুর পুরসভার পৌরপ্রধানও

নিজস্ব প্রতিনিধি: ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনে আশানুরূপ ফল না হওয়ার জেরে তীব্র রাজনৈতিক চাপের মুখে বড়সড় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার উত্তর ব্যারাকপুর পৌরসভায়। ২৩টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এই পৌরসভায় ইতিমধ্যেই ৩ জন কাউন্সিলরের মৃত্যু হয়েছে। তার মাঝেই সোমবার একযোগে ইস্তফা দিলেন ১৫ জন কাউন্সিলর।
সূত্রের খবর, নির্বাচনে খারাপ ফলাফলের দায় স্বীকার করেই এই ইস্তফার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পৌরপ্রধান মলয় ঘোষ জানিয়েছেন, উত্তর ব্যারাকপুর পৌরসভা এলাকায় দলের ভরাডুবির পরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির দায় নিয়ে পৌরপ্রধান নিজেও পদত্যাগ করেছেন বলে জানা গিয়েছে।
একসঙ্গে এত সংখ্যক কাউন্সিলরের ইস্তফায় কার্যত প্রশাসনিক সংকট তৈরি হয়েছে পৌরসভায়। রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা।বিরোধীদের দাবি, দীর্ঘদিনের জনবিচ্ছিন্নতা ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফলেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যদিও শাসকদলের একাংশের দাবি, সংগঠনকে নতুনভাবে গড়ে তুলতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ছবি: প্রবীর রায়।
প্রয়াত কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী ফিরোজ এডুলজি, সওয়াল করেছিলেন আর জি কর মামলায়
সংবাদদাতা, আনন্দ বাংলা:প্রয়াত কলকাতা হাইকোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী ফিরোজ এডুলজি। জানা গিয়েছে, লিভার-সহ একাধিক বয়সজনিত সমস্যা নিয়ে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন দুঁদে এই আইনজীবী। সেখানেই সোমবার জীবনাবসান হয় তাঁর। ফিরোজ এডুলজির মৃত্যুতে শোকের ছায়া আইনজীবীমহলে।

কলকাতা হাইকোর্টের অন্যতম বর্ষীয়ান আইনজীবীদের মধ্যে একজন ছিলেন ফিরোজ এডুলজি। ন্যাশনাল ল স্কুল অফ ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটির প্রাক্তন ছাত্র। তথ্য বলছে, ১৯৯৭ সাল থেকে কলকাতা হাইকোর্টে আইনজীবী হিসাবে কাজ করেছেন। মামলা লড়েছিলেন একাধিক বড় মামলা। বিশেষ করে সম্প্রতি আর জি কর ধর্ষণ মামলায় শুরুতেই নির্যাতিতা পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সুপ্রিম কোর্টে জোরাল সওয়াল করেছিলেন ফিরোজ এডুলজি। পরিবারকে বিচার পাইয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে ছুটে গিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টে। নতুন করে ফের হাইকোর্টে শুরু হয়েছে আর জি কর মামলা শুনানি। কিন্তু এর মধ্যেই তাঁর চলে যাওয়া বড় ধাক্কা হিসাবেই দেখা হচ্ছে।

সম্প্রতি আর জি কর ধর্ষণ মামলায় নির্যাতিতা পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে হাইকোর্টে জোরাল সওয়াল করেছিলেন ফিরোজ এডুলজি। নতুন করে ফের হাইকোর্টে শুরু হয়েছে আর জি কর মামলা। কিন্তু এর মধ্যেই তাঁর চলে যাওয়া বড় ধাক্কা হিসাবেই দেখা হচ্ছে।

শুধু আর জি কর মামলাই নয়, দীর্ঘ জীবনে বগটুই-কামদুনি সহ আরও বেশ কয়েকটি মামলাতেও আইনজীবী হিসাবে সওয়াল করেছেন ফিরোজ এডুলজি। তাঁর সওয়ালেই বগটুই মামলার তদন্তভার তুলে দেওয়া হয় সিবিআইয়ের হাতে। এমনকী কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির হয়েও নিয়োগ-দুর্নীতি মামলা-সহ বেশ কয়েকটি মামলায় ছিলেন এই আইনজীবী।
আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে টাকা তোলার অভিযোগে হাসনাবাদে গ্রেপ্তার তৃণমূল নেত্রী
বসিরহাট : কেন্দ্রীয় আবাস যোজনার প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে হাসনাবাদে গ্রেপ্তার হল তৃণমূল নেত্রী সঞ্চিতা ঋষি দাস। অভিযোগ, রাজ্যে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে মোটা অঙ্কের টাকা তোলা হয়েছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই শনিবার রাতে অভিযুক্ত তৃণমূল নেত্রীকে গ্রেপ্তার করে হাসনাবাদ থানার পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত সঞ্চিতা ঋষি দাস বসিরহাটের হাসনাবাদ ব্লকের আমলানি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ২৭০ নম্বর বুথের তৃণমূল নেত্রী হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরেই তার বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় আবাস যোজনার সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে দুর্নীতির অভিযোগ উঠছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সরকারি প্রকল্পে ঘর পাওয়ার আশ্বাস দিয়ে সাধারণ গরিব মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হত। কেউ ১০ হাজার টাকা, আবার কেউ ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারীদের বক্তব্য, প্রকৃত উপভোক্তাদের নাম তালিকায় তোলার জন্য রাজনৈতিক পরিচয় এবং অর্থ দুই-ই ব্যবহার করা হতো। বহু মানুষ ঘর পাওয়ার আশায় ধারদেনা করে টাকা দিলেও শেষ পর্যন্ত কেউ ঘর পাননি বলে অভিযোগ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ক্ষোভ জমতে থাকে। পরে একাধিক অভিযোগ পুলিশের কাছে পৌঁছায়। তদন্তে নেমে হাসনাবাদ থানার পুলিশ অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখে। এরপরই শনিবার অভিযুক্ত তৃণমূল নেত্রী সঞ্চিতা ঋষি দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের খবর সামনে আসতেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ দাবি করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এই ধরনের দুর্নীতি চলছিল এবং প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপের অভাবেই সাধারণ মানুষ প্রতারিত হয়েছেন।
এদিকে বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে তৃণমূলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা নিয়েও দুর্নীতি হয়েছে এবং গরিব মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতকে রবিবার বসিরহাট আদালতে তোলা হয়। পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে এবং আরও কেউ এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
।। মেছো ভেঁড়িতে বিষ দিয়ে মাছ মারার অভিযোগ, কে প্রকৃত বিজেপি? তরজায় তপ্ত হাড়োয়া ।।
বসিরহাট : মেছোভেঁড়িতে কীটনাশক মিশিয়ে মাছ মেরে ফেলার অভিযোগকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়ালো হাড়োয়ায়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে একদিকে যেমন আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ উঠেছে, অন্যদিকে তেমনি সামনে এসেছে রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে পাল্টাপাল্টি দাবি। ফলে বিজেপি ও তৃণমূলকে ঘিরে নতুন করে সরগরম হয়ে উঠেছে বসিরহাটের হাড়োয়া থানার কুলটি এলাকার রাজনীতি।
ফিশারির মালিক কমল সর্দারের অভিযোগ, তিনি বিজেপি সমর্থক হওয়ার কারণেই পরিকল্পিতভাবে তার মেছো ভেঁড়িতে বিষ দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, গভীর রাতে স্থানীয় কয়েকজন তৃণমূল কর্মী ফিশারিতে কীটনাশক মিশিয়ে দেয়। ঘটনার পর শনিবার সকালে ভেঁড়ির জলে অসংখ্য মাছ ভেসে উঠতে দেখা যায়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মাছ মরে যাওয়ায় ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে দাবি করেছেন তিনি। এই ঘটনায় কমল সর্দার স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন। কমলের দাবি, অভিযুক্তরা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় তৃণমূল কর্মী হিসেবে পরিচিত এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। যদিও সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত অর্জুন। তার দাবি, তাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে। অর্জুনের কথায়, “আমরাই এলাকায় সক্রিয় বিজেপি কর্মী। আমাদের তৃণমূল বলে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে আমাদের কোনও সম্পর্ক নেই।” অভিযুক্তদের পক্ষ থেকেও দাবি করা হয়েছে, রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতেই তাদের নাম জড়ানো হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন এলাকায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। একদিকে ফিশারির মালিক নিজেকে বিজেপি সমর্থক বলে দাবি করছেন, অন্যদিকে অভিযুক্তরাও নিজেদের বিজেপি কর্মী বলেই পরিচয় দিচ্ছেন। ফলে রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। স্থানীয় মানুষের মধ্যেও এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে প্রকৃত বিজেপি কে?
অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের জেরে পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে কুলটি এলাকায়। যদিও এখনও পর্যন্ত প্রশাসনের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও বক্তব্য সামনে আসেনি। তবে গোটা ঘটনার তদন্ত ও প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জেরে যদি সাধারণ মানুষের জীবিকা আক্রান্ত হয়, তাহলে তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলেই মনে করছেন এলাকার বাসিন্দাদের একাংশ।
বিধায়িকা হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর হিঙ্গলগঞ্জ ব্লক অফিসে প্রথম সফরে রেখা পাত্র, উন্নয়নের আশ্বাস
বসিরহাট : বিধায়ক হওয়ার পর প্রথমবার হিঙ্গলগঞ্জ ব্লক অফিসে গেলেন রেখা পাত্র। শনিবার দুপুরের দিকে তিনি ব্লক অফিসে পৌঁছান। সেখানে ব্লক আধিকারিক দেবদাস গাঙ্গুলীর সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, প্রায় কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা এই বৈঠকে এলাকার বিভিন্ন প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
এরপর ব্লক অফিসের কমিউনিটি হলে উপস্থিত একাধিক প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন নব নবনির্বাচিত বিধায়িকা। পাশাপাশি এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও জনসাধারণের সমস্যা নিয়ে একাধিক বিষয় উঠে আসে এই বৈঠকে। প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করার বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি। বিডিও অফিস থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রেখা পাত্র বলেন, "বিধায়িকা হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর হিঙ্গলগঞ্জের মানুষের প্রতি তিনি দায়বদ্ধ।" এলাকার দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যার কথা তার কাছে তুলে ধরা হয়েছে এবং সেগুলির দ্রুত সমাধানের জন্য তিনি উদ্যোগ নেবেন বলে আশ্বাস দেন।
তিনি আরও জানান, প্রশাসনিক আধিকারিকদের সহযোগিতায় এলাকার পরিকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অন্যান্য জনস্বার্থমূলক কাজকে অগ্রাধিকার দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। সাধারণ মানুষের পাশে থেকে তাদের সমস্যার সমাধান করাই তার মূল লক্ষ্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এই সাক্ষাৎতকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মহলে ইতিবাচক সাড়া পড়েছে। নতুন বিধায়িকার উদ্যোগে হিঙ্গলগঞ্জে উন্নয়নের গতি আরও বাড়বে বলে আশাবাদী সাধারণ মানুষ।