পশ্চিমবঙ্গের মহিলা দের বিনে পয়সায় বাস চড়ার শর্ত,জারি হল বিজ্ঞপ্তি

*কী কী শর্ত আরোপ করা হয়েছে?*

রাজ্যের পরিবহন দফতরের আধিকারিকদের ,বৈঠক সূত্রে খবর, শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা হলেই সেই মহিলারা বিনামূল্যে সরকারি বাসে যাতায়াত করতে পারবেন।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, ওই মহিলা বাসিন্দা যে পশ্চিমবঙ্গের সেটা কন্ডাক্টর বুঝবেন কীভাবে?

মূলত প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ম অনুযায়ী যে ১১ টি পরিচয় পত্র প্রত্যেকটি মানুষের থাকে,তার মধ্যে একটি সরকারি বাসে যাতায়াতের সময় কাছে রাখতে হবে।
কন্ডাক্টর বাধ্যতামূলকভাবে সেই পরিচয় পত্র দেখবেন। যতই ভিড় হোক না কেন, সেই পরিচয় পত্র দেখতে হবে কন্ডাক্টরকে।
তারপর কন্ডাক্টর নিজের টিকিট পাঞ্চিং মেশিন থেকে একটি কুপন ইস্যু করবে ওই মহিলা যাত্রীর জন্য।
প্রতিমাসে যে পরিমাণ টিকিট ইস্যু হবে, রাজ্য সরকার সমপরিমাণ টাকা গড় হিসেব ধরে পরিবহন দফতর বা নিগমকে দিয়ে দেবে।
তবে এদিন বৈঠকে উপস্থিত কর্তারা বলেন, এই পরিচয় পত্র নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে। কোনটা জাল কোনটা আসল, সেগুলো খতিয়ে দেখার সময় বা পরিস্থিতি কন্ডাক্টরের কাছে থাকে না। যদিও আপাতত এই ধরনের নিয়ম কানুন থাকলেও, ধীরে ধীরে পরিবহন দফতর থেকে পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা মহিলাদের জন্য একটি ‘পিঙ্ক কার্ড’ বা ‘স্মার্ট কার্ড’ ইস্যু করবে।

*স্মার্ট কার্ডের আবেদনে কী কী লাগবে?*

স্মার্ট কার্ডে আবেদনের জন্য কিছু নথি লাগবে। এই নথিগুলি হল
আধার কার্ড
ভোটার পরিচয়পত্র (EPIC)
ভি বি-গ্রামজি জব কার্ড (গ্রামীণ রোজগার গ্যারান্টি কার্ড)
আয়ুষ্মান ভারত
ড্রাইভিং লাইসেন্স
প্যান কার্ড
পাসপোর্ট
ছবি-সহ পেনশনের নথি
স্কুল/কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রদত্ত সরকারি পরিচয়পত্র
পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত অন্য যে কোনও পরিচয়পত্র ও সাম্প্রতিক ছবি

*স্মার্ট কার্ড বা পিঙ্ক কার্ডের জন্য কোথায় আবেদন করবেন?*

পরিবহন দফতরের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, QR কোড সমৃদ্ধ স্মার্ট কার্ড ইস্যু করা হবে। এসডিও বা বিডিও-র কাছে আবেদন করে স্মার্ট কার্ড সংগ্রহ করা যাবে। কম ও বেশি যে কোনও দূরত্বে বিনামূল্যে যাতায়াত করতে পারবেন মহিলারা।

বাসে উঠে সেই পিঙ্ক কার্ড দেখালেই, কন্ডাক্টরদের আর পরিচয় পত্র দেখাতে হবে না। ওই কার্ডের বিনিময় কন্ডাক্টর কুপন ইস্যু করে দেবে।

*কী কী আলোচনা হয়েছে?*

তবে এই কার্ড তৈরি করা এবং বণ্টন করা সময় সাপেক্ষ বলেও পরিবহন দফতর সূত্র জানা গিয়েছে। ততদিন প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ হবে।
খেলা ফটো গ্যালারী
খেলা ফটো গ্যালারী
সন্দেশখালির শেখ শাহজাহানের বিরুদ্ধে পুরনো মামলায় নতুন আইনি তৎপরতা, শ্যোন অ্যারেস্ট চেয়ে বসিরহাট আদালতে পুলিশ
বসিরহাট : রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর সন্দেশখালির বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহানের বিরুদ্ধে আইনি চাপ আরও জোরালো হতে শুরু করেছে। নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এবার ২০২৪ সালে দায়ের হওয়া পৃথক দু’টি ফৌজদারি মামলায় তাকে ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ দেখানোর আবেদন নিয়ে বসিরহাট আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে রাজ্য পুলিশ। জমি দখল, মারধর, ভয় দেখানো ও তোলাবাজির অভিযোগে সন্দেশখালি থানায় রুজু হওয়া ৫৯/২৪ এবং ৮৯/২৪ নম্বর মামলাকে ঘিরেই এই নতুন আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে শুনানির দিন আদালতে সংশ্লিষ্ট মামলার কেস ডায়েরি জমা দিতে পারেনি পুলিশ। সেই কারণে আদালত আগামী ৪ জুনের মধ্যে কেস ডায়েরি পেশ করার নির্দেশ দিয়েছে। ওই দিন নথিপত্র খতিয়ে দেখে আদালত সিদ্ধান্ত নেবে শাহজাহানকে ওই মামলাগুলিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ দেখানো হবে কি না।
বসিরহাট আদালতের আইনজীবী জানান, সন্দেশখালি থানার পুলিশ শেখ শাহজাহানের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ৫৯ ও ৮৯ নম্বর মামলায় শ্যোন অ্যারেস্টের আবেদন করেছে। কিন্তু মামলার কেস ডায়েরি ছাড়া আদালত কোনও সিদ্ধান্ত নিতে রাজি হয়নি। তাই আগামী ৪ জুন পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। সেদিন সমস্ত নথি আদালতে জমা পড়ার পর বিচারক পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নির্ধারণ করবেন। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ এমন একটি আইনি পদ্ধতি, যেখানে কোনও ব্যক্তি অন্য মামলায় ইতিমধ্যেই জেলে বা পুলিশ হেফাজতে থাকলেও তাকে নতুন আরেকটি মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখানো হয়। ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়া আরও বিস্তৃত হয় এবং তদন্তকারী সংস্থা নতুন মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ বা আইনি পদক্ষেপের সুযোগ পায়।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারি সন্দেশখালির সরবেড়িয়ায় শেখ শাহজাহানের বাড়িতে রেশন দুর্নীতির তদন্তে গিয়ে আক্রান্ত হন ইডির আধিকারিকরা। অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপর হামলা চালিয়ে শাহজাহানকে পালাতে সাহায্য করে তার অনুগামীরা। ঘটনার পর প্রায় ৫৫ দিন গা ঢাকা দিয়ে থাকার পর গত ২৯ ফেব্রুয়ারি মিনাখাঁ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে রাজ্য পুলিশ। সেই ঘটনা ঘিরে জাতীয় স্তরেও ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে তদন্তভার যায় সিবিআইয়ের হাতে। ইডি ও সিবিআই আধিকারিকদের উপর হামলার অভিযোগ ছাড়াও সন্দেশখালির বিস্তীর্ণ এলাকায় আদিবাসীদের জমি দখল, ভেরি তৈরি, তোলাবাজি এবং নারী নির্যাতনের একাধিক অভিযোগ ওঠে শাহজাহান ও তার ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে। সেই অভিযোগকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ সময় ধরে উত্তপ্ত ছিল গোটা সন্দেশখালি এলাকা। সাধারণ মানুষের আন্দোলন, রাজনৈতিক সংঘর্ষ এবং প্রশাসনিক চাপানউতোরে বারবার শিরোনামে উঠে আসে এই ঘটনা।
বর্তমানে শেখ শাহজাহান জেলবন্দি থাকলেও রাজ্যের নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পুরনো মামলাগুলিকে ঘিরে পুলিশের সক্রিয়তা নতুন মাত্রা পেয়েছে। আদালতে শ্যোন অ্যারেস্টের আবেদন সেই ইঙ্গিতই আরও স্পষ্ট করেছে বলে মনে করছে আইন মহল। আগামী ৪ জুনের শুনানির দিকেই এখন নজর রয়েছে প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলের।

ছবি সৌজন্যে:সৌমাভ মণ্ডল।
বোমা আতঙ্কে চিকিৎসক পরিবারের পাশে বিজেপি নেতা শৌর্য্য ব‍্যানার্জি
বসিরহাট : বসিরহাট দক্ষিণ বিধানসভার শশীনা বাজারে চিকিৎসক পরিবারের বাড়ির সামনে তাজা বোমা উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়লো। আতঙ্কিত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান বসিরহাট দক্ষিণ বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী ডাঃ শৌর্য্য ব‍্যানার্জি। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সাহস জোগান তিনি। পাশাপাশি গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান পুলিশের কাছে। বৃহস্পতিবার সকালে গোটরা গ্রাম পঞ্চায়েতের শশীনা বাজার এলাকায় ওই চিকিৎসক পরিবারের দরজার সামনে দুটি তাজা বোমা ও একটি চিরকুট উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে এলাকায় পৌঁছায় বসিরহাট থানার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। বোমা উদ্ধার করে তদন্ত শুরু হয়। সেই ঘটনার পর থেকেই আতঙ্কে রয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। রাজনৈতিক কারণেই এই ধরনের ভয় দেখানোর চেষ্টা হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের একাংশের।
এই আবহেই দুপুরের দিকে আক্রান্ত পরিবারের বাড়িতে যান বিজেপি নেতা শৌর্য্য ব্যানার্জি। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন তিনি। তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করার পাশাপাশি আশ্বাস দেন, বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের ভয় দেখিয়ে দমিয়ে রাখা যাবে না। তিনি বলেন, “যারা এই ধরনের সন্ত্রাসের রাজনীতি করছে, পুলিশ তাদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নিক। সাধারণ মানুষের বাড়ির সামনে বোমা রেখে আতঙ্ক সৃষ্টি করা গণতন্ত্রের পক্ষে অত্যন্ত বিপজ্জনক।”
ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গেও কথা বলেন শৌর্য্য ব্যানার্জি। এলাকার মানুষের একাংশের দাবি, রাতের অন্ধকারে দুষ্কৃতীরা এসে এই ঘটনা ঘটিয়ে যায়। সকালে দরজা খুলতেই বোমা দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। এরপরই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বাজার এলাকার ব্যবসায়ীরাও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। এলাকার একটি দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক উদ্ধার করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কে বা কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা জানতে জোরদার তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। যদিও এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।
ঘটনার পর রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে বসিরহাট দক্ষিণ বিধানসভা জুড়ে। একদিকে বিজেপির অভিযোগ, বিরোধী কণ্ঠস্বর দমিয়ে রাখতেই এই ধরনের সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। অন্যদিকে শাসকদলের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই অভিযোগ নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
তবে আতঙ্কিত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে বিজেপি নেতা শৌর্য্য ব্যানার্জির এই সফর নতুন করে রাজনৈতিক তাৎপর্য তৈরি করেছে এলাকায়। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও নিরাপত্তার দাবিতে এখন সরব স্থানীয় বাসিন্দারাও।
খেলা সিএবি মহিলা ক্লাব ক্রিকেট টি-২০ মিটে চ্যাম্পিয়ন কালীঘাট ক্লাব
নিজস্ব প্রতিনিধি: বৃহস্পতিবার ২২ ইয়ার্ডস স্পোর্টস স্কুল মাঠে ফাইনালে কালীঘাট ক্লাব ভবানীপুর ক্লাবকে ৮ উইকেটে হারিয়ে সিএবি মহিলা ক্লাব ক্রিকেট লিগ টি-২০ টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এদিন অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে তনুশ্রী সরকার অসাধারণ ব্যাট ও বল করে।ভবানীপুর ক্লাব ২০ ওভার ৮ উইকেটে ১১০ রান করে।ত্রিশিতা সরকার ৪৭ (৫৪),তনুশ্রী সরকার ৩-১৯ (৪), সৌমি রায় ২-১৫ (৩), অদ্রিজা সরকার ২-১৯ (৪)। অপরদিকে,কালীঘাট ক্লাব ব্যাট করতে নেমে ১৭.৪ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ১১১ তুলে নেয়। তনুশ্রী সরকার ৩৭ বলে ৫৩, অদ্রিজা সরকার ৩৯ বল ৩০ রান করে। ভবানীপুরের প্রতিভা রানা ৪ ওভারে ১৭ রান দিয়ে ২ উইকেট সংগ্রহ করে।কালীঘাট ক্লাব ৮ উইকেটে জয়ী হয়। ছবি সৌজন্যে: সিএবি।
বারাসাতের নবপল্লী কো- অপারেটিভ ব্যাঙ্কে নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত হবে,জানালেন বিধায়ক
নিজস্ব প্রতিনিধি: উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাতের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ব্যাঙ্ক হল নবপল্লী কো- অপারেটিভ ব্যাঙ্ক। রাজ্যের সরকার বদলের পর এক এক করে দুর্নীতির ফাইল খোলা হচ্ছে বিভিন্ন দফতরের। সেইরকমই এই ব্যাঙ্কে বেআইনি নিয়োগের অভিযোগে তদন্ত হবে জানালেন বারাসাতের বিধায়ক শঙ্কর চ্যাটার্জী। তিনি এদিন ব্যাঙ্ক পরিদর্শনে আসেন।কথা বলেন কর্মচারীদের সঙ্গে। তাঁদের সমস্ত অভিযোগ শোনেন তিনি। তিনি আশ্বস্ত করেছেন ব্যাঙ্কের সমস্ত দুর্নীতির তদন্ত হবে।
খেলা

অলিম্পিয়ান গুরবক্স সিং এবং হকি বেঙ্গলের প্রবীণ সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের যুব কল্যাণ ও ক্রীড়া দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী  নিশীথ প্রামাণিক।এই সাক্ষাতে বাংলার হকির উন্নয়নের উপায় নিয়ে আলোচনা হয়। বি: হকি বেঙ্গলের সৌজন্যে।
হালিশহরে তুলকালাম:  ‘ভণ্ড সাধু’ গ্রেপ্তার


প্রবীর রায়: অভিযোগ টা ছিল অনেক দিনের। কিন্তু ওনার সঙ্গে শাসক নেতাদের যোগাযোগ থাকায় এতোদিন ছিলেন জেলের বাইরে।ধর্মের আড়ালে অসামাজিক ক্রিয়াকলাপের স্বর্গরাজ্য হয়ে  উঠে ছিল হালিশহরের ঐতিহ্যবাহী সংকরমঠ আশ্রম। ওখান থেকে আজ  এক ‘ভণ্ড সাধু’কে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ধৃতের নাম লিটন (আশ্রমে সাধুবেশে পরিচিত)। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বিরুদ্ধে জমা হওয়া ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটল বুধবার। উত্তেজিত এলাকাবাসী ওই ভণ্ড সাধুর গেরুয়া বস্ত্র টেনে ছিঁড়ে ফেলে এবং গণধোলাই দিয়ে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সাধুর ছদ্মবেশে দীর্ঘদিন ধরে ওই আশ্রমে নানান অনৈতিক কাজ চালাচ্ছিল লিটন। এলাকাবাসীদের মূল অভিযোগ হল,আশ্রমের পবিত্রতা নষ্ট করে প্রতিদিন সেখানে জুয়া, মদ এবং গাঁজার আসর বসানো হতো। স্থানীয়দের দাবি, রাত্রি ৮ টার পর মহিলাদের আশ্রমে ডেকে পাঠানো হতো এবং জোরপূর্বক বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হতে বাধ্য করা হতো।
এছাড়াও সাধারণ মানুষকে বন্দুকের নল দেখিয়ে ভয় দেখানো এবং প্রভাব খাটিয়ে জমি ও সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার একাধিক অভিযোগ রয়েছে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

এলাকাবাসীরা জানান, কেউ এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গেলে তাকে রাজনৈতিক ক্ষমতার ভয় দেখানো হতো। অভিযুক্ত লিটন বুক ফুলিয়ে দাবি করত, বীজপুরের তৃণমূল বিধায়ক সুবোধ অধিকারী এবং হালিশহর পৌরসভার চেয়ারম্যান কমল অধিকারী নাকি তার হাতের পুতুল।এই প্রভাবশালীদের নাম ভাঙিয়েই এতোদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করে রেখেছিল সে।

ধৈর্যের বাঁধ ভাঙায় এদিন শঙ্করমঠ আশ্রমে চড়াও হন উত্তেজিত এলাকাবাসী। অভিযুক্ত লিটনকে টেনে হিঁচড়ে বাইরে বের করে আনা হয়। ক্ষুব্ধ জনতা তার গা থেকে গেরুয়া পোশাক টেনে খুলে নেয়। উত্তম-মধ্যম দেওয়ার পর খবর দেওয়া হয় হালিশহর থানায়। পুলিশ এসে অভিযুক্ত ‘ভণ্ড সাধু’কে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে গ্রেপ্তার করে।
রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল নিয়োগ
নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজ্যে পালা বদলের সঙ্গে সঙ্গে বদল হচ্ছে সব কিছুতেই। এবার রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল হলেন কলকাতা হাইকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী রাজদীপ মজুমদার। এ ছাড়াও, পাবলিক প্রসিকিউটর হিসাবে আইনজীবী কল্লোল মণ্ডল ও নীলাঞ্জন ভট্টাচার্য সিনিয়র স্টাডিং কাউন্সিল কে নিয়োগ করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। যদিও এখনও পর্যন্ত রাজ্যের পরবর্তী অ্যাডভোকেট জেনারেল কে হবেন, তা চূড়ান্ত হয়নি। আগের সরকারের আমলে উচ্চপদে কর্মরত অনেকে পদত্যাগও করেছেন। শুরু হয়েছে নতুন নিয়োগও। সেই ধারা বজায় রেখেই নিয়োগ হল রাজ্যের নতুন অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল। অতীতে তিনি কেন্দ্রের ডেপুটি সলিসিটর ছিলেন। ইডি, সিবিআইয়ের মতো কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হয়ে আদালতে সওয়াল করেছেন। এ বার থেকে রাজ্যের হয়ে আদালতে সওয়াল করবেন রাজদীপ।
হাসনাবাদে রমরমিয়ে অবৈধ মাটি পাচার, বেহাল রাস্তা ও দুর্ঘটনার আশঙ্কায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা

বসিরহাট : উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের হাসনাবাদ জুড়ে বেআইনিভাবে চাষযোগ্য জমি ও মেছোভেড়ি থেকে দেদার মাটি কাটার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। বসিরহাটের হাসনাবাদ থানার মুরারীশাহ, মাখালগাছা-সহ একাধিক পঞ্চায়েত এলাকায় দিনের পর দিন জেসিবি মেশিন দিয়ে মাটি কেটে ট্রলিতে করে বিভিন্ন এলাকায় পাচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অথচ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ মানুষ। তাদের দাবি, প্রকাশ্যে এই অবৈধ কারবার চললেও কার্যত কোনও কড়া পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গভীর রাত থেকে শুরু করে দিনের বিভিন্ন সময়ে একের পর এক ট্রলি ভর্তি মাটি এলাকা ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। এত পরিমাণে মাটি বহন করা হচ্ছে যে ট্রলি থেকে মাটি পড়ে রাস্তায় পুরু স্তর জমে গিয়েছে। ফলে রাস্তাঘাটের অবস্থা ক্রমশই বেহাল হয়ে পড়ছে। কোথাও ধুলোর দাপট, কোথাও আবার সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে। মুরারীশাহ এলাকার এক বাসিন্দার কথায়, “দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ মাটি কাটা চলছে। রাস্তায় হাঁটা দায় হয়ে গিয়েছে। সারাক্ষণ ধুলো উড়ছে, চোখ-মুখ জ্বালা করছে। বাচ্চাদের স্কুলে যেতে সমস্যা হচ্ছে।” অন্য এক স্থানীয়ের দাবি, “অন্তঃসত্ত্বা মহিলা বা অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যেতে গিয়ে চরম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ যে অ্যাম্বুল্যান্স পর্যন্ত ঠিকমতো চলতে পারে না।”
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, দিনরাত পুলিশ টহল দিলেও কীভাবে প্রকাশ্যে এই মাটি পাচারের ব্যবসা চলছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তাদের বক্তব্য, প্রশাসনের একাংশ সব জেনেও নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। ফলে অবৈধ কারবারিদের দৌরাত্ম্য দিনদিন বেড়েই চলেছে।
মাখালগাছা এলাকার এক প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, “চাষের জমি নষ্ট করে মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এতে পরিবেশেরও ক্ষতি হচ্ছে। বর্ষার সময় জল জমার সমস্যাও বাড়বে। আমরা বহুবার অভিযোগ করেছি, কিন্তু স্থায়ী সমাধান কিছুই হয়নি।” এই ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকার মানুষ। অবিলম্বে অবৈধ মাটি কাটা ও পাচার বন্ধের দাবিতে সরব হয়েছেন তারা। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলন ও বিক্ষোভে নামার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।