কলকাতা হাইকোর্টের ৪৫তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন বিচারপতি রবীন্দ্র ভিট্টলরাও ঘুগে*

#CalcuttaHighCourt

কলকাতা: কলকাতা হাইকোর্টের নতুন প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন বিচারপতি রবীন্দ্র ভিট্টলরাও ঘুগে। বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির এজলাসে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

রাজ্যপাল আর. এন. রবি তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান। এর আগে ২০১৩ সালের ২১ জুন তিনি বোম্বে হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের জুন মাসে তিনি বোম্বে হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্টজনেরা:

এদিনের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্যের আইনমন্ত্রী বিরাজ বিশ্বাস, রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র সহ হাইকোর্টের একাধিক বিচারপতি ও আইনজীবীরা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ধীরাজ ত্রিবেদী, বার লাইব্রেরি ক্লাবের সভাপতি সুদীপ্ত সরকার, বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অশোক কুমার ধান্দানিয়া এবং ইনকর্পোরেটেড ল সোসাইটির সম্পাদক পরিতোষ সিংহ।

আইনজীবীদের বার্তা দিলেন প্রধান বিচারপতি:

আইনজীবীদের পক্ষ থেকে স্বাগত ভাষণের উত্তরে প্রধান বিচারপতি ঘুগে কলকাতা বার পরিবারের সদস্য হিসেবে তাঁকে গ্রহণ করার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "আমি সব সময় বারের জন্য উন্মুক্ত। বারের যে কোনও সমস্যা নিয়ে আপনারা আমার কাছে আসতে পারেন। অন্যান্য বিচারপতিদের সহযোগিতায় আমি সমস্যা সমাধানের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।"

জুনিয়র আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "পেশার প্রথম দিকে আমি সাইকেলে চড়ে বাড়ি থেকে আদালতে যাতায়াত করতাম। সততা এবং পেশার প্রতি ভালোবাসা থাকলে সাফল্য আসবেই।"

আবেগঘন প্রধান বিচারপতি:

নিজের বক্তব্যে আবেগঘন হয়ে পড়েন প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, "আমার শৈশবের কথা খুব মনে পড়ে। আমার কর্মজীবনে সাড়ে সাত বছর মোটরসাইকেলই ছিল আমার সঙ্গী। আমি কখনও হেলমেট পরতে ভুলিনি। আমার জীবন সংগ্রামে আমার স্ত্রী সব সময় আমার সঙ্গী। এই যাত্রা একা সম্ভব হতো না। আমার পরিবারের সমর্থন এবং আমার প্রয়াত মায়ের নীরব আত্মত্যাগের কথা মনে পড়ছে। এই মুহূর্তে আমার প্রয়াত মাকে খুব মনে পড়ছে। তিনি যেখানেই থাকুন, আমাকে আশীর্বাদ করছেন। আমি নিজেকে সব সময় একজন আইনজীবী বলেই মনে করি। আমার দরজা সবার জন্য খোলা।"

তিনি আরও বলেন, "আমার স্ত্রীর সমর্থনের জন্য আমি কৃতজ্ঞ। আমার দুই মেয়ে সহ আমার পরিবারের কাছে তিনি ঢালের মতো।" শেষে পশ্চিমবঙ্গের বিচার বিভাগের সকল সদস্যের মঙ্গল কামনা করেন প্রধান বিচারপতি।

ছবি:সৌজন্যে লাইভ ল।

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষ্যে এক মাসব্যাপী 'সেবা সংকল্প অভিযান' ব্যারাকপুরে সাংবাদিক বৈঠকে ঘোষণা*

#SevaSankalpAbhiyan

নিজস্ব প্রতিনিধি,বারাকপুর, উত্তর ২৪ পরগনা: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিনকে সামনে রেখে রাজ্যজুড়ে শুরু হচ্ছে 'সেবা সংকল্প অভিযান'। টানা এক মাস ধরে চলবে এই কর্মসূচি। বুধবার ব্যারাকপুর বিজেপির সাংগঠনিক জেলার উদ্যোগে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই ঘোষণা করা হয়।

এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তাপস ঘোষ, জগদ্দল বিধানসভার বিধায়ক ডক্টর রাজেশ কুমার এবং নোয়াপাড়া বিধানসভার বিধায়ক তথা রাজ্যের শ্রম ও পরিবহন দপ্তরের মন্ত্রী অর্জুন সিং।

কি বললেন মন্ত্রী অর্জুন সিং?

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী অর্জুন সিং বলেন, "দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীজির ২৫ বছরের বর্ণময় রাজনৈতিক জীবনকে সামনে রেখে এই সেবামূলক অভিযানের আয়োজন করা হয়েছে। এটি শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, এটি একটি সংকল্প।"

তিনি জানান, এই এক মাসে জেলার প্রতিটি ব্লক ও মণ্ডলে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড করা হবে। এর মধ্যে থাকবে -

- নারী ও শিশুদের সম্মাননা জ্ঞাপন।

- প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানো।

- স্বাস্থ্য শিবির ও রক্তদান শিবির।

- স্বচ্ছতা অভিযান।

গুজরাট মডেলে বাংলার উন্নয়নের বার্তা

মন্ত্রী বলেন, "গুজরাটে মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন মোদীজি যেভাবে রাজ্যকে দেশের মধ্যে শিল্প ও উন্নয়নের মডেল হিসেবে তুলে ধরেছিলেন, একইভাবে রাজ্যের বিজেপির সরকার পশ্চিমবঙ্গেও আধুনিকীকরণ করা হবে।"

"বিগত ৫০ বছরে কংগ্রেস, বামফ্রন্ট এবং তৃণমূল সরকার বাংলার শিল্প, সংস্কৃতি ও ইতিহাসকে ধ্বংস করে দিয়েছে। বিজেপি সরকার সব সময় সাধারণ মানুষের পাশে আছে। গুজরাট যেভাবে আধুনিক হয়েছে, ঠিক সেভাবেই আগামী দিনে বাংলাও আধুনিক বাংলায় পরিণত হবে," - মন্তব্য অর্জুন সিংয়ের।

ব্যারাকপুর বিজেপির জেলা সভাপতি তাপস ঘোষ জানান, প্রতিটি বিধানসভা ভিত্তিক আলাদা করে কর্মসূচি তৈরি করা হয়েছে এবং কর্মীদের ইতিমধ্যেই দায়িত্ব বন্টন করে দেওয়া হয়েছে।

ছবি:প্রবীর রায়।

কলকাতা লিগ: ডার্বি ড্র দিয়ে শেষ গ্রুপ পর্ব, প্রকাশিত হল সুপার সিক্সের সূচি

খেলা

কলকাতা: ১-১ গোলে ডার্বি ড্র দিয়েই শেষ হল কলকাতা লিগের গ্রুপ পর্ব। মঙ্গলবার আইএফএ সুপার সিক্স পর্বের পূর্ণাঙ্গ সূচি প্রকাশ করেছে। সুপার সিক্সে উঠেছে তিন প্রধান - মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল, মহামেডান - সহ ভবানীপুর, কোল ইন্ডিয়া ও ইউনাইটেড স্পোর্টস ক্লাব। প্রতিটি দল খেলবে তিনটি করে ম্যাচ, শুরু দুপুর ৩টে থেকে।

গ্রুপ পর্বে 'এ' গ্রুপে ১১ ম্যাচে ২৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ইস্টবেঙ্গল, সমান পয়েন্টে গোল পার্থক্যে পিছিয়ে দ্বিতীয় ভবানীপুর, ২৩ পয়েন্টে তৃতীয় মোহনবাগান। 'বি' গ্রুপে ২২ পয়েন্টে শীর্ষে কোল ইন্ডিয়া, ২১ পয়েন্টে মহামেডান, ২০ পয়েন্টে ইউনাইটেড এসসি।

সুপার সিক্সের সম্পূর্ণ সূচি -

রাউন্ড ১

১০ সেপ্টেম্বর: কোল ইন্ডিয়া বনাম মোহনবাগান

১০ সেপ্টেম্বর: ইউনাইটেড এসসি বনাম ইস্টবেঙ্গল

১১ সেপ্টেম্বর: মহামেডান বনাম ভবানীপুর

রাউন্ড ২

১৩ সেপ্টেম্বর: ইউনাইটেড এসসি বনাম মোহনবাগান

১৪ সেপ্টেম্বর: ইস্টবেঙ্গল বনাম মহামেডান

১৫ সেপ্টেম্বর: কোল ইন্ডিয়া বনাম ভবানীপুর

রাউন্ড ৩

১৭ সেপ্টেম্বর: মোহনবাগান বনাম মহামেডান

১৯ সেপ্টেম্বর: কোল ইন্ডিয়া বনাম ইস্টবেঙ্গল

১৯ সেপ্টেম্বর: ভবানীপুর বনাম ইউনাইটেড এসসি

ছবি :সৌজন্যে ফেসবুক।

কম ফ্যাটের দই মানে ভেজাল নয়,২৬ বছর পর বেকসুর খালাস মিষ্টি ব্যবসায়ীকে*

অমিত দাস, কলকাতা: ২৬ বছর পর স্বস্তি পেলেন মিষ্টি ব্যবসায়ী ভগীরথ ঘোষ। নিম্ন আদালত তাঁকে ভেজাল খাবারের জন্যে দোষী সাব্যস্ত করলেও কলকাতা হাইকোর্ট জানিয়ে দিল, কম ফ্যাটের দই মানেই সেটি ভেজাল নয়। তাই ওই দই ব্যবসায়ীর সাজা খারিজ করলেন বিচারপতি চৈতালি চ্যাটার্জী দাস। আদালতের পর্যবেক্ষণ, মাত্র কম ফ্যাট আছে বলে দইকে ভেজাল বলা যায় না। এই কারণে মিষ্টি ব্যবসায়ী ভগীরথ ঘোষের ৬ মাসের জেল ও জরিমানার সাজা বাতিল করেছেন বিচারপতি।

মামলাটি চলছিল ২৬ বছর ধরে। ১৯৯৭ সালের ১৬ই মে, কৃষ্ণনগরের সাব-ডিভিশনাল ফুড ইন্সপেক্টর দেবাশিস রায় পরিদর্শনে যান ভগীরথ ঘোষের মিষ্টির দোকানে। দোকানে মাটির হাঁড়িতে ৮ কেজি দই রাখা ছিল। সেখান থেকে ৬০০ গ্রাম দই ১৫ টাকায় কিনে নমুনা সংগ্রহ করেন।

তার একটি অংশ নদিয়ার পাবলিক অ্যানালিস্টকে পাঠানো হয়। রিপোর্টে বলা হয় লো ফ্যাট কনটেন্ট-এর জন্য ভেজাল। এর ভিত্তিতে ১৯৯৭ সালে মামলা হয়।

২০০০ সালে কৃষ্ণনগরের চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ভগীরথ ঘোষকে ৬ মাসের জেল ও ১০০০ টাকা জরিমানা করেন। এরপর ভগীরথ ঘোষের আপিল মামলায় ২০০৪ সালে সেশন কোর্ট ওই সাজা বহাল রাখে।

তারপর ভগীরথ ২০০৪ সালে কলকাতা হাইকোর্টে রিভিশন মামলা দায়ের করেন। ২০১৯ সালে ওই মামলার শুনানিতে কেউ হাজির না থাকায় মামলা খারিজ হয়ে যায়। ২০২৫ সালে আবার শুনানির জন্যে গ্রহণ করা হয়।

আদালতে অভিযুক্তের আইনজীবীর যুক্তি ছিল যে, নমুনা সংগ্রহের সময় কোনো স্বাধীন সাক্ষী নেওয়া হয়নি। ৮ কেজির মধ্যে কোন হাঁড়ি থেকে নমুনা নেওয়া হলো, তা স্পষ্ট নয়। আর তাছাড়া কম ফ্যাট মানেই ক্ষতিকারক বা খাওয়ার অযোগ্য নয়, ফ্যাট কম বেশি দুধের ওপর নির্ভর করে।

বিচারপতি চৈতালী চ্যাটার্জী (দাস) বলেন, শুধুমাত্র পাবলিক অ্যানালিস্টের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে সাজা দেওয়া হয়েছে এখানে।রিপোর্টে কোথাও লেখা নেই যে কম ফ্যাটের কারণে দইটি মানুষের খাওয়ার অযোগ্য, স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক বা নোংরা, পচা। আরও বলা হয়, আইন অনুযায়ী, ভেজাল প্রমাণ করতে হলে দেখাতে হবে যে নিম্নমানের জিনিস মেশানোর ফলে খাবারটি ক্ষতিকারক হয়েছে। তাই আদালত আবেদন মঞ্জুর করে নিম্ন আদালতের সাজা বাতিল করে দিয়েছে। আবেদনকারীকে জামিনের বন্ড থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

সম্পত্তি বিবাদে বচসার অভিযোগ বিধায়িকা রেখা পাত্রের বিরুদ্ধে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ভিডিও

বসিরহাট : সম্পত্তি নিয়ে বিবাদের জেরে বচসায় জড়ানোর অভিযোগ উঠলো হিঙ্গলগঞ্জের বিজেপি বিধায়িকা রেখা পাত্রের বিরুদ্ধে। ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। যদিও ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ঘটনাটি বসিরহাটের সন্দেশখালি থানার বউ ঠাকুরানী এলাকার। এই এলাকাতেই রেখা পাত্রের বাপের বাড়ি। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাপের বাড়ির সম্পত্তি নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বেশ কয়েক বছর ধরেই বিবাদ চলে আসছে। সেই সম্পত্তি নিয়ে ২০২৫ সালে রেখা পাত্র ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আত্মীয় সঞ্জিত নস্করের বিরোধ তৈরি হয় বলে অভিযোগ। অভিযোগ, সঞ্জিত নস্কর ওই জমি জোর করে দখলের চেষ্টা করেছিলেন। বিষয়টি গড়ায় আদালত পর্যন্ত। বসিরহাট আদালতের নির্দেশে ওই জমি নিয়ে স্থগিতাদেশ জারি হয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত সঞ্জিত নস্কর ওই জমিতে যেতে এবং চাষাবাদ করতে পারবেন বলে দাবি করা হয়েছে। সেই নির্দেশ অনুযায়ী সঞ্জিত নস্কর জমিতে চাষ করতে গেলে খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছান রেখা পাত্র। তাকে জমি থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। এরপরই সঞ্জিত নস্কর ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে রেখা পাত্রের বচসা শুরু হয়। ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে কয়েকজনের মধ্যে উত্তেজনা ও ধস্তাধস্তির দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। সেখানে রেখা পাত্রকেও বচসায় জড়িয়ে পড়তে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে ভিডিওটি কখন এবং ঠিক কী পরিস্থিতিতে তোলা হয়েছে, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

ছবি:সৌমাভ মণ্ডল।

বৃক্ষরোপণে জোর রাজ্যের, ৪০ লক্ষ গাছ লাগাবে পঞ্চায়েত দপ্তর: মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ*

#DilipGhosh

উৎপল দাস, ব্যারাকপুর: পরিবেশ বাঁচাতে রাজ্যজুড়ে বিশাল বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতে নিল রাজ্য পঞ্চায়েত দপ্তর। রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ মিশনের এক অনুষ্ঠানে এমনটাই জানালেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।

মন্ত্রী জানান, রাজ্যের ৪০ হাজার গ্রামে প্রতিটি গ্রামে ১০০টি করে গাছ লাগানো হবে। অর্থাৎ মোট ৪০ লক্ষ গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি শিক্ষা ও গ্রন্থাগার দপ্তরের সহযোগিতায় ৪৩৪টি কেন্দ্রে আরও ৪৩ হাজার ৪০০টি গাছ লাগানো হবে।

তিনি বলেন, স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, ছাত্রাবাস, আশ্রম সহ যেখানেই ফাঁকা জায়গা রয়েছে, সেখানেই গাছ লাগানো হবে। রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ মিশনের মতো প্রতিষ্ঠানের ফাঁকা জায়গাতেও গাছ লাগানো হবে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানই তার রক্ষণাবেক্ষণ করবে।

জঙ্গলমহলের বন ধ্বংস নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়ার মতো জেলায় জঙ্গল কেটে সাফ করে দেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বন দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বন দপ্তর জায়গা এবং চারা দেবে, পঞ্চায়েত দপ্তর গাছ লাগানোর দায়িত্ব নেবে।

পরিবেশ দূষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দূষণের কারণে ওজন স্তর ফুটো হয়ে যাচ্ছে। হিমালয়ের শত শত বছরের পুরনো বরফ গলে যাচ্ছে, যার ফলে ভয়াবহ বন্যা ও ধসে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। প্রকৃতিকে শান্ত রাখতে গেলে প্রকৃতির উপর অত্যাচার নয়, সেবা করতে হবে এবং গাছ লাগাতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে যুগ যুগ ধরে বট, অশ্বত্থ, বকুলের মতো গাছকে পুজো করা হয়। পাঁচ ধরনের গাছ লাগিয়ে পঞ্চবটী তৈরির প্রাচীন রীতি রয়েছে। নিজের বাড়ির সামনে বা ছাদে অন্তত একটি-দুটি গাছ লাগিয়ে এলাকাকে দূষণমুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।

ছবি উৎপল দাস

মোহনবাগানকে আটকে দিল ইস্টবেঙ্গল,ডুরান্ডের বদলা নেওয়া হল না, ডার্বি ড্র ১-১*

খেলা 

 কলকাতা ফুটবল লিগ 

#KolkataDerby

নিজস্ব সংবাদদাতা, বারাসাত: তারকাখচিত দল নামিয়েও কাজ হল না। কলকাতা লিগের ডার্বিতে ইস্টবেঙ্গলের কাছে আটকে গেল মোহনবাগান। সোমবার বারাসাত স্টেডিয়ামে ম্যাচ শেষ হল ১-১ গোলে।

প্রথমার্ধে মনবীর সিংয়ের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল মোহনবাগান। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি মহম্মদ বিলালের গোলে সমতা ফেরায় ইস্টবেঙ্গল। শেষ দিকে সুযোগ পেয়েও জয় হাতছাড়া করে লাল-হলুদ ব্রিগেড।

সুপার সিক্সে প্রভাব নেই, তবুও প্রেস্টিজ ফাইট

গ্রুপ পর্বের পয়েন্ট সুপার সিক্সে যোগ হবে না, তাই এই ম্যাচ ছিল নিয়মরক্ষার। তবু ডুরান্ড কাপ ফাইনালে হারের বদলা নেওয়ার ম্যাচ হিসেবে দেখছিলেন সমর্থকরা। বিজয় মুর্মু, চাকু মান্ডি, জয় বাজদের লড়াইয়ে সেই বদলা অধরাই রইল সবুজ-মেরুনের।

এই ড্রয়ের ফলে ইস্টবেঙ্গল ১১ ম্যাচে ২৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ শীর্ষে থেকেই শেষ করল।মোহনবাগানের ১১ ম্যাচে ২৩ পয়েন্ট।

প্রথম একাদশে চমক

ইস্টবেঙ্গল পুরো জুনিয়র দল নামালেও, মোহনবাগান নামিয়েছিল ফার্স্ট টিমের ফুটবলারদের। মেহতাব সিং, রাহুল ভেকে, শুভাশিস বসু, আপুইয়া, সাহাল সামাদ, মনবীর সিংয়ের মতো তারকারা ছিলেন প্রথম একাদশে।

বৃষ্টিভেজা মাঠে শুরু থেকেই বলের দখল বেশি ছিল মোহনবাগানের। কিন্তু জমাট রক্ষণে আটকে দেয় ইস্টবেঙ্গল। ৮ মিনিটে বিজয়ের ফ্রিকিক অল্পের জন্য বাইরে যায়।

ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট

৩৮ মিনিটে ভুল থেকেই গোল খায় ইস্টবেঙ্গল। দূর থেকে ভেসে আসা বল অঙ্কন ভট্টাচার্য আটকাতে ব্যর্থ হন, গোলকিপার গৌরব এগিয়ে এলেও মনবীর ঠান্ডা মাথায় অঙ্কনের পায়ের ফাঁক দিয়ে বল জালে জড়ান (১-০)।

দ্বিতীয়ার্ধে খোলস ছেড়ে বেরোয় ইস্টবেঙ্গল এবং বিলালের গোলে ম্যাচে ফেরে।

 ছবি:সঞ্জয় হাজরা।

বসিরহাটে ৪১তম জাতীয় চক্ষুদান পক্ষ, ৪০ চক্ষুদাতার পরিবারকে সংবর্ধনা

বসিরহাট : বসিরহাটে পালিত হল ৪১তম জাতীয় চক্ষুদান পক্ষ। বসিরহাট টাউন হাই স্কুলের আলোকতীর্থ অডিটোরিয়ামে পশ্চিমবঙ্গ সরকার অনুমোদিত বসিরহাটের একটি চক্ষুদান কেন্দ্রের উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বসিরহাটের বিভিন্ন প্রান্তের প্রায় ৪০ জন চক্ষুদানকারীর পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা জানানো হয়। তাদের হাতে স্মারক ও শংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়। মৃত্যুর পর চক্ষুদানের মাধ্যমে অন্যের জীবনে আলো ফিরিয়ে দেওয়ার এই মহৎ উদ্যোগকে সম্মান জানাতেই এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন বলে উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন টাকি রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠের মহারাজ স্বামী পরিশুদ্ধানন্দজী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা চক্ষুদানের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন। তাদের বক্তব্যে উঠে আসে, একজন মানুষের মৃত্যুর পর তার চোখ অন্য একজন দৃষ্টিহীন মানুষের জীবনে নতুন করে আলো ফিরিয়ে দিতে পারে। তাই সমাজে চক্ষুদান নিয়ে সচেতনতা বাড়ানো এবং মানুষের মধ্যে এই মহৎ উদ্যোগের প্রতি আগ্রহ তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। চক্ষুদাতাদের পরিবারের সদস্যদের সম্মান জানানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও চক্ষুদান সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলার বার্তা দেওয়া হয় অনুষ্ঠানে। সংগঠনের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতেও চক্ষুদান নিয়ে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

ছবি:সৌমাভ মণ্ডল।

উত্তর ২৪ পরগনায় খাদ্যে ভেজাল রুখতে জোরদার অভিযান, আতঙ্কে অসাধু ব্যবসায়ীরা*

#North24Parganas

বসিরহাট ও খড়দহ: সাধারণ মানুষের পাতে বিষ রুখতে কড়া পদক্ষেপ প্রশাসনের। উত্তর ২৪ পরগনার দুই প্রান্তে একযোগে চলল খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের অভিযান।

বাদুড়িয়ার দুই বাজারে হানা BDO-র

বসিরহাটের বাদুড়িয়া পৌর এলাকার বাজার এবং বাদুড়িয়া ব্লকের বাগজোলা বাজারে অভিযান চালালেন BDO শর্মিষ্ঠা কর্মকার। সঙ্গে ছিলেন খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিক ও বাদুড়িয়া থানার পুলিশ।

অভিযোগ ছিল, মিষ্টি ও খাবারে ক্ষতিকারক কেমিক্যাল রং মেশানো হচ্ছে এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি হচ্ছে। দোকানে দোকানে গিয়ে রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা, তৈরির পদ্ধতি, ব্যবহৃত উপকরণ ও সংরক্ষণ ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন আধিকারিকরা। মুদিখানা দোকানগুলিতেও প্যাকেটের মেয়াদ ও গুণমান পরীক্ষা করা হয়।

প্রশাসন জানিয়েছে, স্বাস্থ্যবিধি না মানলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই যৌথ অভিযানে ব্যবসায়ী মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আগামী দিনেও এই অভিযান চলবে।

খড়দহে ডাস্টবিনে গেল অসুরক্ষিত খাবার

অন্যদিকে, ১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া ক্রেতা সুরক্ষা সপ্তাহের শেষ দিনেও তৎপর খাদ্য দপ্তর। খড়দহ স্টেশন রোডের একটি হোটেলে হানা দেয় খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর, পৌরসভা ও পুলিশের যৌথ দল।

সেখানে একাধিক অনিয়ম ধরা পড়ে। আধিকারিকরা হোটেল মালিককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং সমস্ত অনিয়মযুক্ত ও অসুরক্ষিত খাবার ডাস্টবিনে ফেলে নষ্ট করে দেন। এই ঘটনায় স্টেশন রোড এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। ভিড় জমান স্থানীয় বাসিন্দারা। যদিও এ বিষয়ে আধিকারিকরা মুখ খোলেননি।

ছবি:সৌমাভ মণ্ডল ও উৎপল দাস।

ঘোলা থানার ব্যবস্থাপনায় ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে সাইবার প্রতারণার সচেতন শিবির নাটাগড়ে*

উৎপল দাস,উত্তর ২৪ পরগনা : বর্তমান বিশ্বে বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে অনেক নতুন সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। একদিকে বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে যেমন সুবিধা পেয়েছে অন্যদিকে বিজ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে চলছে নানা ধরনের প্রতারণা। ডিজিটাল প্রতারণা থেকে মানুষকে বাঁচাতে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে একাধিক পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়েছে। রাজ্যের সমস্ত থানায় খোলা হয়েছে সাইবার প্রতারণার জন্য আলাদা বিভাগ। পাশাপাশি স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের সাইবার প্রতারণা সম্পর্কে সচেতন করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে উত্তর ২৪ পরগনার ঘোলা থানার সাইবার বিভাগের আধিকারিকেরা অঞ্চলের প্রত্যেকটি স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের সচেতন করার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। ঘোলা থানার পক্ষ থেকে এদিন নাটাগড় স্বামী বিবেকানন্দ সেবা সমিতি বিদ্যালয়ের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীদের ফাইবার ক্রাইম বিষয়ক সচেতনতার শিবির সংগঠিত হল। ঘোলা থানার পুলিশের পক্ষ থেকে সাইবার ক্রাইম থেকে কিভাবে রক্ষা পাওয়া যায় তার প্রশিক্ষণ দেওয়া হল ছাত্র-ছাত্রীদের।

ঘোলা থানা আয়োজিত সাইবার প্রশিক্ষণ শিবির প্রসঙ্গে স্কুলের প্রধান শিক্ষক আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায় বলেন, "ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে সাইবার প্রতারণা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ শিবির অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যেভাবে সাইবার প্রতারণার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ সেখান থেকেই ছাত্র-ছাত্রীদের সচেতন করার বিশেষ প্রয়োজন রয়েছে তারই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে ঘোলা থানা ও স্কুলের পক্ষ থেকে।