শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে অস্পষ্ট অভিযোগে ৪৯৮এ মামলা টিকবে না, বড় রায় হাইকোর্টের*

#CalcuttaHighCourt (Paul)

কলকাতা, ১১ সেপ্টেম্বর: বউয়ের সঙ্গে ঝগড়া হলেই শ্বশুরবাড়ির সবাইকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার দিন শেষ। এমনই কড়া বার্তা দিল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালত জানিয়ে দিল, শুধুমাত্র সাধারণ ও অস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ৪৯৮এ ধারায় শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা চলতে পারে না।বিচারপতি শম্পা দত্ত (পাল)-এর একক বেঞ্চ ডাঃ শৈবাল অধিকারী ও অন্যদের করা একটি মামলা খারিজ করতে গিয়ে এই পর্যবেক্ষণ দেন।

কী হয়েছিল?

এক মহিলা তাঁর স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির লোকেদের বিরুদ্ধে পণের জন্য অত্যাচারের অভিযোগে থানায় এফআইআর করেছিলেন। অভিযোগে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৮এ ধারাসহ একাধিক ধারা যুক্ত করা হয়।

শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের দাবি ছিল, তাঁরা আলাদা থাকেন। স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত ঝগড়ার সঙ্গে তাঁদের কোনও সম্পর্ক নেই। শুধু স্বামীর আত্মীয় হওয়ার কারণে তাঁদের জড়ানো হয়েছে। তাই তাঁরা হাইকোর্টে মামলা খারিজের আবেদন করেন।

স্ত্রীর পক্ষ কী বলেছিল?

স্ত্রীর পক্ষ থেকে বলা হয়, শ্বশুরবাড়ির লোকেরা সব জানতেন। ছেলে বউয়ের উপর অত্যাচার করছে জেনেও তাঁরা কোনও ব্যবস্থা নেননি। তাঁরা স্বামীকে প্ররোচনা দিয়েছেন।

হাইকোর্ট কী বলল? এই রায় কেন গুরুত্বপূর্ণ?

কেস ডায়েরি ও চার্জশিট খতিয়ে দেখে বিচারপতি পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন:

১. অভিযোগে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই: অভিযোগপত্রে কোথাও বলা নেই কবে, কোথায়, কীভাবে শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা অত্যাচার করেছেন। পুরো অভিযোগটাই খুব সাধারণ ভাবে লেখা।

২. চুপ থাকা মানেই অপরাধ নয়: আদালতের সবচেয়ে বড় পর্যবেক্ষণ, শুধু ছেলে বউকে অত্যাচার করছে জেনে চুপ থাকা বা বাধা না দেওয়াটা ৪৯৮এ ধারায় ‘নিষ্ঠুরতা’ হিসাবে ধরা হবে না।

৩. কোনও প্রমাণ নেই: পুলিশের কেস ডায়েরিতে এই সদস্যদের বিরুদ্ধে কোনও মেডিকেল রিপোর্ট, কোনও উদ্ধার হওয়া জিনিস বা কোনও নিরপেক্ষ সাক্ষীর বয়ান নেই।

৪. সুপ্রিম কোর্টের রায়: সুপ্রিম কোর্ট আগেও বহুবার বলেছে, বৈবাহিক বিরোধে পুরো পরিবারকে টেনে আনা যাবে না। হাইকোর্ট সেই ভজনলাল, প্রীতি গুপ্তা ও গীতা মেহরোত্রা মামলার রায়গুলির কথা উল্লেখ করে।

৫. আইনের অপব্যবহার: এই ধরনের অস্পষ্ট মামলা চলতে দেওয়া মানে আদালতের সময় নষ্ট এবং আইনের অপব্যবহার।

আদালতের নির্দেশ

আদালত শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে চলা মামলা সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছে। তবে স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা আগের মতোই চলবে।

এই রায়ের ফলে রাজ্যে ৪৯৮এ ধারার অপব্যবহার রুখতে একটি বড় নজির তৈরি হল বলে মনে করছেন আইনজীবীরা।

একতরফা বিচ্ছেদের পরেও প্রাক্তন স্ত্রীকে খোরপোশ দিতে হবে, জানাল হাইকোর্ট*

#CalcuttaHighCourt

কলকাতা: স্বামী একতরফা আদালত থেকে বিচ্ছেদের(ডিভোর্স )কাগজ নিয়ে এলেই খোরপোশের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। যদি প্রাক্তন স্ত্রী দ্বিতীয় বিয়ে না করেন এবং নিজে রোজগার করে চলতে না পারেন, তাহলে স্বামীকেই তাঁকে খোরপোশ দিতে হবে। এমনই গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল কলকাতা হাইকোর্ট।

একই সঙ্গে আদালত আরও জানিয়েছে, যে অবিবাহিত মেয়ে মামলা করার আগেই ১৮ বছর পেরিয়ে গেছে এবং সে শারীরিক বা মানসিক দিক থেকে অসুস্থ নয়, সে বাবার কাছে খোরপোশ চাইতে পারবে না।

কী হয়েছিল ঘটনাটা?

হাওড়ার উলুবেড়িয়া আদালতে এক মহিলা তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে খোরপোশের মামলা করেছিলেন। সেটা ২০১৯ সালের মামলা। পরে সেই খোরপোশের টাকা না দেওয়ায় টাকা আদায়ের জন্য আরেকটি মামলা হয় ২০২১ সালে।

এর মাঝে স্বামী একতরফা ভাবে বিচ্ছেদের(ডিভোর্স )ডিক্রি পেয়ে যান। তখন তিনি আদালতে গিয়ে বলেন, বিচ্ছেদ হয়ে গেছে তাই খোরপোশের মামলা আর চলতে পারে না। উলুবেড়িয়া আদালত তাঁর কথা মানেনি। তাঁকে খোরপোশ দিতে বলা হয় এবং টাকা না দেওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়।

সেই আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে স্বামী সমর পাল কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন,তাঁর স্ত্রী জ্যোৎস্না পালের বিরুদ্ধে এই মামলা।

হাইকোর্ট কী বলল?

বিচারপতি উদয় কুমার সমর পালের আবেদনটি আংশিক মঞ্জুর করেন। তিনি বলেন,

১. আইনে পরিষ্কার বলা আছে, ডিভোর্সী স্ত্রীও স্ত্রী হিসেবেই গণ্য হবেন, যদি তিনি দ্বিতীয় বিয়ে না করেন। তাই একতরফা বিচ্ছেদ (ডিভোর্স)হয়ে গেলেও খোরপোশের দায় শেষ হয় না।

২. এই খোরপোশের আইনের উদ্দেশ্য হলো, কোনো অসহায় মহিলা যাতে ভবঘুরে হয়ে না যান, সেটা দেখা। এটা সামাজিক ন্যায়বিচারের জন্য করা হয়েছে।

৩. তাই স্ত্রীর খোরপোশ বহাল থাকবে। স্বামীকে তা দিতেই হবে।

৪. কিন্তু মেয়ের ক্ষেত্রে আদালত বলে, মেয়ে মামলা করার আগেই প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে গেছে। সে সুস্থ। তাই আইন অনুযায়ী সে আর বাবার কাছে খোরপোশ পাবে না।

এই রায়ে আদালত স্ত্রীর খোরপোশ বহাল রাখলেও, প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের খোরপোশের দাবি খারিজ করে দিয়েছে।

কলকাতা হাইকোর্টের ৪৫তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন বিচারপতি রবীন্দ্র ভিট্টলরাও ঘুগে*

#CalcuttaHighCourt

কলকাতা: কলকাতা হাইকোর্টের নতুন প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন বিচারপতি রবীন্দ্র ভিট্টলরাও ঘুগে। বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির এজলাসে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

রাজ্যপাল আর. এন. রবি তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান। এর আগে ২০১৩ সালের ২১ জুন তিনি বোম্বে হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের জুন মাসে তিনি বোম্বে হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্টজনেরা:

এদিনের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্যের আইনমন্ত্রী বিরাজ বিশ্বাস, রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র সহ হাইকোর্টের একাধিক বিচারপতি ও আইনজীবীরা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ধীরাজ ত্রিবেদী, বার লাইব্রেরি ক্লাবের সভাপতি সুদীপ্ত সরকার, বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অশোক কুমার ধান্দানিয়া এবং ইনকর্পোরেটেড ল সোসাইটির সম্পাদক পরিতোষ সিংহ।

আইনজীবীদের বার্তা দিলেন প্রধান বিচারপতি:

আইনজীবীদের পক্ষ থেকে স্বাগত ভাষণের উত্তরে প্রধান বিচারপতি ঘুগে কলকাতা বার পরিবারের সদস্য হিসেবে তাঁকে গ্রহণ করার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "আমি সব সময় বারের জন্য উন্মুক্ত। বারের যে কোনও সমস্যা নিয়ে আপনারা আমার কাছে আসতে পারেন। অন্যান্য বিচারপতিদের সহযোগিতায় আমি সমস্যা সমাধানের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।"

জুনিয়র আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "পেশার প্রথম দিকে আমি সাইকেলে চড়ে বাড়ি থেকে আদালতে যাতায়াত করতাম। সততা এবং পেশার প্রতি ভালোবাসা থাকলে সাফল্য আসবেই।"

আবেগঘন প্রধান বিচারপতি:

নিজের বক্তব্যে আবেগঘন হয়ে পড়েন প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, "আমার শৈশবের কথা খুব মনে পড়ে। আমার কর্মজীবনে সাড়ে সাত বছর মোটরসাইকেলই ছিল আমার সঙ্গী। আমি কখনও হেলমেট পরতে ভুলিনি। আমার জীবন সংগ্রামে আমার স্ত্রী সব সময় আমার সঙ্গী। এই যাত্রা একা সম্ভব হতো না। আমার পরিবারের সমর্থন এবং আমার প্রয়াত মায়ের নীরব আত্মত্যাগের কথা মনে পড়ছে। এই মুহূর্তে আমার প্রয়াত মাকে খুব মনে পড়ছে। তিনি যেখানেই থাকুন, আমাকে আশীর্বাদ করছেন। আমি নিজেকে সব সময় একজন আইনজীবী বলেই মনে করি। আমার দরজা সবার জন্য খোলা।"

তিনি আরও বলেন, "আমার স্ত্রীর সমর্থনের জন্য আমি কৃতজ্ঞ। আমার দুই মেয়ে সহ আমার পরিবারের কাছে তিনি ঢালের মতো।" শেষে পশ্চিমবঙ্গের বিচার বিভাগের সকল সদস্যের মঙ্গল কামনা করেন প্রধান বিচারপতি।

ছবি:সৌজন্যে লাইভ ল।

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষ্যে এক মাসব্যাপী 'সেবা সংকল্প অভিযান' ব্যারাকপুরে সাংবাদিক বৈঠকে ঘোষণা*

#SevaSankalpAbhiyan

নিজস্ব প্রতিনিধি,বারাকপুর, উত্তর ২৪ পরগনা: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিনকে সামনে রেখে রাজ্যজুড়ে শুরু হচ্ছে 'সেবা সংকল্প অভিযান'। টানা এক মাস ধরে চলবে এই কর্মসূচি। বুধবার ব্যারাকপুর বিজেপির সাংগঠনিক জেলার উদ্যোগে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই ঘোষণা করা হয়।

এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তাপস ঘোষ, জগদ্দল বিধানসভার বিধায়ক ডক্টর রাজেশ কুমার এবং নোয়াপাড়া বিধানসভার বিধায়ক তথা রাজ্যের শ্রম ও পরিবহন দপ্তরের মন্ত্রী অর্জুন সিং।

কি বললেন মন্ত্রী অর্জুন সিং?

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী অর্জুন সিং বলেন, "দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীজির ২৫ বছরের বর্ণময় রাজনৈতিক জীবনকে সামনে রেখে এই সেবামূলক অভিযানের আয়োজন করা হয়েছে। এটি শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, এটি একটি সংকল্প।"

তিনি জানান, এই এক মাসে জেলার প্রতিটি ব্লক ও মণ্ডলে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড করা হবে। এর মধ্যে থাকবে -

- নারী ও শিশুদের সম্মাননা জ্ঞাপন।

- প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানো।

- স্বাস্থ্য শিবির ও রক্তদান শিবির।

- স্বচ্ছতা অভিযান।

গুজরাট মডেলে বাংলার উন্নয়নের বার্তা

মন্ত্রী বলেন, "গুজরাটে মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন মোদীজি যেভাবে রাজ্যকে দেশের মধ্যে শিল্প ও উন্নয়নের মডেল হিসেবে তুলে ধরেছিলেন, একইভাবে রাজ্যের বিজেপির সরকার পশ্চিমবঙ্গেও আধুনিকীকরণ করা হবে।"

"বিগত ৫০ বছরে কংগ্রেস, বামফ্রন্ট এবং তৃণমূল সরকার বাংলার শিল্প, সংস্কৃতি ও ইতিহাসকে ধ্বংস করে দিয়েছে। বিজেপি সরকার সব সময় সাধারণ মানুষের পাশে আছে। গুজরাট যেভাবে আধুনিক হয়েছে, ঠিক সেভাবেই আগামী দিনে বাংলাও আধুনিক বাংলায় পরিণত হবে," - মন্তব্য অর্জুন সিংয়ের।

ব্যারাকপুর বিজেপির জেলা সভাপতি তাপস ঘোষ জানান, প্রতিটি বিধানসভা ভিত্তিক আলাদা করে কর্মসূচি তৈরি করা হয়েছে এবং কর্মীদের ইতিমধ্যেই দায়িত্ব বন্টন করে দেওয়া হয়েছে।

ছবি:প্রবীর রায়।

উত্তর ২৪ পরগনায় খাদ্যে ভেজাল রুখতে জোরদার অভিযান, আতঙ্কে অসাধু ব্যবসায়ীরা*

#North24Parganas

বসিরহাট ও খড়দহ: সাধারণ মানুষের পাতে বিষ রুখতে কড়া পদক্ষেপ প্রশাসনের। উত্তর ২৪ পরগনার দুই প্রান্তে একযোগে চলল খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের অভিযান।

বাদুড়িয়ার দুই বাজারে হানা BDO-র

বসিরহাটের বাদুড়িয়া পৌর এলাকার বাজার এবং বাদুড়িয়া ব্লকের বাগজোলা বাজারে অভিযান চালালেন BDO শর্মিষ্ঠা কর্মকার। সঙ্গে ছিলেন খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিক ও বাদুড়িয়া থানার পুলিশ।

অভিযোগ ছিল, মিষ্টি ও খাবারে ক্ষতিকারক কেমিক্যাল রং মেশানো হচ্ছে এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি হচ্ছে। দোকানে দোকানে গিয়ে রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা, তৈরির পদ্ধতি, ব্যবহৃত উপকরণ ও সংরক্ষণ ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন আধিকারিকরা। মুদিখানা দোকানগুলিতেও প্যাকেটের মেয়াদ ও গুণমান পরীক্ষা করা হয়।

প্রশাসন জানিয়েছে, স্বাস্থ্যবিধি না মানলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই যৌথ অভিযানে ব্যবসায়ী মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আগামী দিনেও এই অভিযান চলবে।

খড়দহে ডাস্টবিনে গেল অসুরক্ষিত খাবার

অন্যদিকে, ১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া ক্রেতা সুরক্ষা সপ্তাহের শেষ দিনেও তৎপর খাদ্য দপ্তর। খড়দহ স্টেশন রোডের একটি হোটেলে হানা দেয় খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর, পৌরসভা ও পুলিশের যৌথ দল।

সেখানে একাধিক অনিয়ম ধরা পড়ে। আধিকারিকরা হোটেল মালিককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং সমস্ত অনিয়মযুক্ত ও অসুরক্ষিত খাবার ডাস্টবিনে ফেলে নষ্ট করে দেন। এই ঘটনায় স্টেশন রোড এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। ভিড় জমান স্থানীয় বাসিন্দারা। যদিও এ বিষয়ে আধিকারিকরা মুখ খোলেননি।

ছবি:সৌমাভ মণ্ডল ও উৎপল দাস।

প্রবীণদের জন্য ৫০% বাস ভাড়ায় ছাড় ও ব্যারাকপুর থেকে দূরপাল্লার বাসের দাবি, পরিবহণ মন্ত্রীর কাছে দরবার বিশিষ্টজনদের

#Barrackpore

প্রবীর রায়,ব্যারাকপুর: প্রবীণ নাগরিকদের জন্য সরকারি বাসে ৫০ শতাংশ ছাড় এবং ব্যারাকপুর থেকে সরাসরি তীর্থস্থান ও উত্তরবঙ্গ পর্যন্ত বাস চালুর দাবিতে রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রীর কাছে দরবার করলেন ব্যারাকপুরের বিশিষ্টজনেরা।

রবিবার ব্যারাকপুরের প্রবীণ নাগরিকদের প্রতিনিধি হিসেবে মন্ত্রীর কাছে এই আবেদন জানানো হয়। ব্যক্তিগত কোনও স্বার্থে নয়, সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা ভেবেই এই উদ্যোগ বলে জানানো হয়েছে।

তাদের মূল দুটি দাবি ছিল -

১. প্রবীণদের জন্য ভাড়ায় ছাড়: সিনিয়র সিটিজেন ও সুপার সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য পুরী, দিঘার মতো বিভিন্ন তীর্থস্থানে যাওয়ার ক্ষেত্রে সরকারি বাসে ৫০ শতাংশ কনসেশন চালুর আবেদন। পুজোর আগেই এই সুবিধা চালুর দাবি জানানো হয়েছে।

২. ব্যারাকপুর থেকে দূরপাল্লার বাস: ব্যারাকপুর থেকে সরাসরি পুরী, মথুরা, বৃন্দাবন পর্যন্ত বাস, উত্তরবঙ্গে বাস পরিষেবা এবং বিভিন্ন হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য বাস পরিষেবা চালুর দাবি।

প্রতিনিধি দলের তরফে জানানো হয়েছে, মন্ত্রী জানিয়েছেন এটি খুবই ন্যায্য দাবি এবং তিনি বিষয়টি ক্যাবিনেটে রাখবেন। তবে প্রতিশ্রুতি পালন হলেই প্রকৃত খুশি হবেন ব্যারাকপুরবাসী।

 ছবি ও লেখা: প্রবীর রায়

শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে অস্পষ্ট অভিযোগে ৪৯৮এ মামলা টিকবে না, বড় রায় হাইকোর্টের*

#CalcuttaHighCourt (Paul)

কলকাতা, ১১ সেপ্টেম্বর: বউয়ের সঙ্গে ঝগড়া হলেই শ্বশুরবাড়ির সবাইকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার দিন শেষ। এমনই কড়া বার্তা দিল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালত জানিয়ে দিল, শুধুমাত্র সাধারণ ও অস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ৪৯৮এ ধারায় শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা চলতে পারে না।বিচারপতি শম্পা দত্ত (পাল)-এর একক বেঞ্চ ডাঃ শৈবাল অধিকারী ও অন্যদের করা একটি মামলা খারিজ করতে গিয়ে এই পর্যবেক্ষণ দেন।

কী হয়েছিল?

এক মহিলা তাঁর স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির লোকেদের বিরুদ্ধে পণের জন্য অত্যাচারের অভিযোগে থানায় এফআইআর করেছিলেন। অভিযোগে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৮এ ধারাসহ একাধিক ধারা যুক্ত করা হয়।

শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের দাবি ছিল, তাঁরা আলাদা থাকেন। স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত ঝগড়ার সঙ্গে তাঁদের কোনও সম্পর্ক নেই। শুধু স্বামীর আত্মীয় হওয়ার কারণে তাঁদের জড়ানো হয়েছে। তাই তাঁরা হাইকোর্টে মামলা খারিজের আবেদন করেন।

স্ত্রীর পক্ষ কী বলেছিল?

স্ত্রীর পক্ষ থেকে বলা হয়, শ্বশুরবাড়ির লোকেরা সব জানতেন। ছেলে বউয়ের উপর অত্যাচার করছে জেনেও তাঁরা কোনও ব্যবস্থা নেননি। তাঁরা স্বামীকে প্ররোচনা দিয়েছেন।

হাইকোর্ট কী বলল? এই রায় কেন গুরুত্বপূর্ণ?

কেস ডায়েরি ও চার্জশিট খতিয়ে দেখে বিচারপতি পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন:

১. অভিযোগে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই: অভিযোগপত্রে কোথাও বলা নেই কবে, কোথায়, কীভাবে শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা অত্যাচার করেছেন। পুরো অভিযোগটাই খুব সাধারণ ভাবে লেখা।

২. চুপ থাকা মানেই অপরাধ নয়: আদালতের সবচেয়ে বড় পর্যবেক্ষণ, শুধু ছেলে বউকে অত্যাচার করছে জেনে চুপ থাকা বা বাধা না দেওয়াটা ৪৯৮এ ধারায় ‘নিষ্ঠুরতা’ হিসাবে ধরা হবে না।

৩. কোনও প্রমাণ নেই: পুলিশের কেস ডায়েরিতে এই সদস্যদের বিরুদ্ধে কোনও মেডিকেল রিপোর্ট, কোনও উদ্ধার হওয়া জিনিস বা কোনও নিরপেক্ষ সাক্ষীর বয়ান নেই।

৪. সুপ্রিম কোর্টের রায়: সুপ্রিম কোর্ট আগেও বহুবার বলেছে, বৈবাহিক বিরোধে পুরো পরিবারকে টেনে আনা যাবে না। হাইকোর্ট সেই ভজনলাল, প্রীতি গুপ্তা ও গীতা মেহরোত্রা মামলার রায়গুলির কথা উল্লেখ করে।

৫. আইনের অপব্যবহার: এই ধরনের অস্পষ্ট মামলা চলতে দেওয়া মানে আদালতের সময় নষ্ট এবং আইনের অপব্যবহার।

আদালতের নির্দেশ

আদালত শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে চলা মামলা সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছে। তবে স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা আগের মতোই চলবে।

এই রায়ের ফলে রাজ্যে ৪৯৮এ ধারার অপব্যবহার রুখতে একটি বড় নজির তৈরি হল বলে মনে করছেন আইনজীবীরা।

একতরফা বিচ্ছেদের পরেও প্রাক্তন স্ত্রীকে খোরপোশ দিতে হবে, জানাল হাইকোর্ট*

#CalcuttaHighCourt

কলকাতা: স্বামী একতরফা আদালত থেকে বিচ্ছেদের(ডিভোর্স )কাগজ নিয়ে এলেই খোরপোশের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। যদি প্রাক্তন স্ত্রী দ্বিতীয় বিয়ে না করেন এবং নিজে রোজগার করে চলতে না পারেন, তাহলে স্বামীকেই তাঁকে খোরপোশ দিতে হবে। এমনই গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল কলকাতা হাইকোর্ট।

একই সঙ্গে আদালত আরও জানিয়েছে, যে অবিবাহিত মেয়ে মামলা করার আগেই ১৮ বছর পেরিয়ে গেছে এবং সে শারীরিক বা মানসিক দিক থেকে অসুস্থ নয়, সে বাবার কাছে খোরপোশ চাইতে পারবে না।

কী হয়েছিল ঘটনাটা?

হাওড়ার উলুবেড়িয়া আদালতে এক মহিলা তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে খোরপোশের মামলা করেছিলেন। সেটা ২০১৯ সালের মামলা। পরে সেই খোরপোশের টাকা না দেওয়ায় টাকা আদায়ের জন্য আরেকটি মামলা হয় ২০২১ সালে।

এর মাঝে স্বামী একতরফা ভাবে বিচ্ছেদের(ডিভোর্স )ডিক্রি পেয়ে যান। তখন তিনি আদালতে গিয়ে বলেন, বিচ্ছেদ হয়ে গেছে তাই খোরপোশের মামলা আর চলতে পারে না। উলুবেড়িয়া আদালত তাঁর কথা মানেনি। তাঁকে খোরপোশ দিতে বলা হয় এবং টাকা না দেওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়।

সেই আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে স্বামী সমর পাল কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন,তাঁর স্ত্রী জ্যোৎস্না পালের বিরুদ্ধে এই মামলা।

হাইকোর্ট কী বলল?

বিচারপতি উদয় কুমার সমর পালের আবেদনটি আংশিক মঞ্জুর করেন। তিনি বলেন,

১. আইনে পরিষ্কার বলা আছে, ডিভোর্সী স্ত্রীও স্ত্রী হিসেবেই গণ্য হবেন, যদি তিনি দ্বিতীয় বিয়ে না করেন। তাই একতরফা বিচ্ছেদ (ডিভোর্স)হয়ে গেলেও খোরপোশের দায় শেষ হয় না।

২. এই খোরপোশের আইনের উদ্দেশ্য হলো, কোনো অসহায় মহিলা যাতে ভবঘুরে হয়ে না যান, সেটা দেখা। এটা সামাজিক ন্যায়বিচারের জন্য করা হয়েছে।

৩. তাই স্ত্রীর খোরপোশ বহাল থাকবে। স্বামীকে তা দিতেই হবে।

৪. কিন্তু মেয়ের ক্ষেত্রে আদালত বলে, মেয়ে মামলা করার আগেই প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে গেছে। সে সুস্থ। তাই আইন অনুযায়ী সে আর বাবার কাছে খোরপোশ পাবে না।

এই রায়ে আদালত স্ত্রীর খোরপোশ বহাল রাখলেও, প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের খোরপোশের দাবি খারিজ করে দিয়েছে।

কলকাতা হাইকোর্টের ৪৫তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন বিচারপতি রবীন্দ্র ভিট্টলরাও ঘুগে*

#CalcuttaHighCourt

কলকাতা: কলকাতা হাইকোর্টের নতুন প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন বিচারপতি রবীন্দ্র ভিট্টলরাও ঘুগে। বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির এজলাসে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

রাজ্যপাল আর. এন. রবি তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান। এর আগে ২০১৩ সালের ২১ জুন তিনি বোম্বে হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের জুন মাসে তিনি বোম্বে হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্টজনেরা:

এদিনের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্যের আইনমন্ত্রী বিরাজ বিশ্বাস, রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র সহ হাইকোর্টের একাধিক বিচারপতি ও আইনজীবীরা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ধীরাজ ত্রিবেদী, বার লাইব্রেরি ক্লাবের সভাপতি সুদীপ্ত সরকার, বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অশোক কুমার ধান্দানিয়া এবং ইনকর্পোরেটেড ল সোসাইটির সম্পাদক পরিতোষ সিংহ।

আইনজীবীদের বার্তা দিলেন প্রধান বিচারপতি:

আইনজীবীদের পক্ষ থেকে স্বাগত ভাষণের উত্তরে প্রধান বিচারপতি ঘুগে কলকাতা বার পরিবারের সদস্য হিসেবে তাঁকে গ্রহণ করার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "আমি সব সময় বারের জন্য উন্মুক্ত। বারের যে কোনও সমস্যা নিয়ে আপনারা আমার কাছে আসতে পারেন। অন্যান্য বিচারপতিদের সহযোগিতায় আমি সমস্যা সমাধানের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।"

জুনিয়র আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "পেশার প্রথম দিকে আমি সাইকেলে চড়ে বাড়ি থেকে আদালতে যাতায়াত করতাম। সততা এবং পেশার প্রতি ভালোবাসা থাকলে সাফল্য আসবেই।"

আবেগঘন প্রধান বিচারপতি:

নিজের বক্তব্যে আবেগঘন হয়ে পড়েন প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, "আমার শৈশবের কথা খুব মনে পড়ে। আমার কর্মজীবনে সাড়ে সাত বছর মোটরসাইকেলই ছিল আমার সঙ্গী। আমি কখনও হেলমেট পরতে ভুলিনি। আমার জীবন সংগ্রামে আমার স্ত্রী সব সময় আমার সঙ্গী। এই যাত্রা একা সম্ভব হতো না। আমার পরিবারের সমর্থন এবং আমার প্রয়াত মায়ের নীরব আত্মত্যাগের কথা মনে পড়ছে। এই মুহূর্তে আমার প্রয়াত মাকে খুব মনে পড়ছে। তিনি যেখানেই থাকুন, আমাকে আশীর্বাদ করছেন। আমি নিজেকে সব সময় একজন আইনজীবী বলেই মনে করি। আমার দরজা সবার জন্য খোলা।"

তিনি আরও বলেন, "আমার স্ত্রীর সমর্থনের জন্য আমি কৃতজ্ঞ। আমার দুই মেয়ে সহ আমার পরিবারের কাছে তিনি ঢালের মতো।" শেষে পশ্চিমবঙ্গের বিচার বিভাগের সকল সদস্যের মঙ্গল কামনা করেন প্রধান বিচারপতি।

ছবি:সৌজন্যে লাইভ ল।

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষ্যে এক মাসব্যাপী 'সেবা সংকল্প অভিযান' ব্যারাকপুরে সাংবাদিক বৈঠকে ঘোষণা*

#SevaSankalpAbhiyan

নিজস্ব প্রতিনিধি,বারাকপুর, উত্তর ২৪ পরগনা: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিনকে সামনে রেখে রাজ্যজুড়ে শুরু হচ্ছে 'সেবা সংকল্প অভিযান'। টানা এক মাস ধরে চলবে এই কর্মসূচি। বুধবার ব্যারাকপুর বিজেপির সাংগঠনিক জেলার উদ্যোগে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই ঘোষণা করা হয়।

এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তাপস ঘোষ, জগদ্দল বিধানসভার বিধায়ক ডক্টর রাজেশ কুমার এবং নোয়াপাড়া বিধানসভার বিধায়ক তথা রাজ্যের শ্রম ও পরিবহন দপ্তরের মন্ত্রী অর্জুন সিং।

কি বললেন মন্ত্রী অর্জুন সিং?

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী অর্জুন সিং বলেন, "দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীজির ২৫ বছরের বর্ণময় রাজনৈতিক জীবনকে সামনে রেখে এই সেবামূলক অভিযানের আয়োজন করা হয়েছে। এটি শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, এটি একটি সংকল্প।"

তিনি জানান, এই এক মাসে জেলার প্রতিটি ব্লক ও মণ্ডলে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড করা হবে। এর মধ্যে থাকবে -

- নারী ও শিশুদের সম্মাননা জ্ঞাপন।

- প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানো।

- স্বাস্থ্য শিবির ও রক্তদান শিবির।

- স্বচ্ছতা অভিযান।

গুজরাট মডেলে বাংলার উন্নয়নের বার্তা

মন্ত্রী বলেন, "গুজরাটে মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন মোদীজি যেভাবে রাজ্যকে দেশের মধ্যে শিল্প ও উন্নয়নের মডেল হিসেবে তুলে ধরেছিলেন, একইভাবে রাজ্যের বিজেপির সরকার পশ্চিমবঙ্গেও আধুনিকীকরণ করা হবে।"

"বিগত ৫০ বছরে কংগ্রেস, বামফ্রন্ট এবং তৃণমূল সরকার বাংলার শিল্প, সংস্কৃতি ও ইতিহাসকে ধ্বংস করে দিয়েছে। বিজেপি সরকার সব সময় সাধারণ মানুষের পাশে আছে। গুজরাট যেভাবে আধুনিক হয়েছে, ঠিক সেভাবেই আগামী দিনে বাংলাও আধুনিক বাংলায় পরিণত হবে," - মন্তব্য অর্জুন সিংয়ের।

ব্যারাকপুর বিজেপির জেলা সভাপতি তাপস ঘোষ জানান, প্রতিটি বিধানসভা ভিত্তিক আলাদা করে কর্মসূচি তৈরি করা হয়েছে এবং কর্মীদের ইতিমধ্যেই দায়িত্ব বন্টন করে দেওয়া হয়েছে।

ছবি:প্রবীর রায়।

উত্তর ২৪ পরগনায় খাদ্যে ভেজাল রুখতে জোরদার অভিযান, আতঙ্কে অসাধু ব্যবসায়ীরা*

#North24Parganas

বসিরহাট ও খড়দহ: সাধারণ মানুষের পাতে বিষ রুখতে কড়া পদক্ষেপ প্রশাসনের। উত্তর ২৪ পরগনার দুই প্রান্তে একযোগে চলল খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের অভিযান।

বাদুড়িয়ার দুই বাজারে হানা BDO-র

বসিরহাটের বাদুড়িয়া পৌর এলাকার বাজার এবং বাদুড়িয়া ব্লকের বাগজোলা বাজারে অভিযান চালালেন BDO শর্মিষ্ঠা কর্মকার। সঙ্গে ছিলেন খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিক ও বাদুড়িয়া থানার পুলিশ।

অভিযোগ ছিল, মিষ্টি ও খাবারে ক্ষতিকারক কেমিক্যাল রং মেশানো হচ্ছে এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি হচ্ছে। দোকানে দোকানে গিয়ে রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা, তৈরির পদ্ধতি, ব্যবহৃত উপকরণ ও সংরক্ষণ ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন আধিকারিকরা। মুদিখানা দোকানগুলিতেও প্যাকেটের মেয়াদ ও গুণমান পরীক্ষা করা হয়।

প্রশাসন জানিয়েছে, স্বাস্থ্যবিধি না মানলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই যৌথ অভিযানে ব্যবসায়ী মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আগামী দিনেও এই অভিযান চলবে।

খড়দহে ডাস্টবিনে গেল অসুরক্ষিত খাবার

অন্যদিকে, ১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া ক্রেতা সুরক্ষা সপ্তাহের শেষ দিনেও তৎপর খাদ্য দপ্তর। খড়দহ স্টেশন রোডের একটি হোটেলে হানা দেয় খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর, পৌরসভা ও পুলিশের যৌথ দল।

সেখানে একাধিক অনিয়ম ধরা পড়ে। আধিকারিকরা হোটেল মালিককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং সমস্ত অনিয়মযুক্ত ও অসুরক্ষিত খাবার ডাস্টবিনে ফেলে নষ্ট করে দেন। এই ঘটনায় স্টেশন রোড এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। ভিড় জমান স্থানীয় বাসিন্দারা। যদিও এ বিষয়ে আধিকারিকরা মুখ খোলেননি।

ছবি:সৌমাভ মণ্ডল ও উৎপল দাস।

প্রবীণদের জন্য ৫০% বাস ভাড়ায় ছাড় ও ব্যারাকপুর থেকে দূরপাল্লার বাসের দাবি, পরিবহণ মন্ত্রীর কাছে দরবার বিশিষ্টজনদের

#Barrackpore

প্রবীর রায়,ব্যারাকপুর: প্রবীণ নাগরিকদের জন্য সরকারি বাসে ৫০ শতাংশ ছাড় এবং ব্যারাকপুর থেকে সরাসরি তীর্থস্থান ও উত্তরবঙ্গ পর্যন্ত বাস চালুর দাবিতে রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রীর কাছে দরবার করলেন ব্যারাকপুরের বিশিষ্টজনেরা।

রবিবার ব্যারাকপুরের প্রবীণ নাগরিকদের প্রতিনিধি হিসেবে মন্ত্রীর কাছে এই আবেদন জানানো হয়। ব্যক্তিগত কোনও স্বার্থে নয়, সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা ভেবেই এই উদ্যোগ বলে জানানো হয়েছে।

তাদের মূল দুটি দাবি ছিল -

১. প্রবীণদের জন্য ভাড়ায় ছাড়: সিনিয়র সিটিজেন ও সুপার সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য পুরী, দিঘার মতো বিভিন্ন তীর্থস্থানে যাওয়ার ক্ষেত্রে সরকারি বাসে ৫০ শতাংশ কনসেশন চালুর আবেদন। পুজোর আগেই এই সুবিধা চালুর দাবি জানানো হয়েছে।

২. ব্যারাকপুর থেকে দূরপাল্লার বাস: ব্যারাকপুর থেকে সরাসরি পুরী, মথুরা, বৃন্দাবন পর্যন্ত বাস, উত্তরবঙ্গে বাস পরিষেবা এবং বিভিন্ন হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য বাস পরিষেবা চালুর দাবি।

প্রতিনিধি দলের তরফে জানানো হয়েছে, মন্ত্রী জানিয়েছেন এটি খুবই ন্যায্য দাবি এবং তিনি বিষয়টি ক্যাবিনেটে রাখবেন। তবে প্রতিশ্রুতি পালন হলেই প্রকৃত খুশি হবেন ব্যারাকপুরবাসী।

 ছবি ও লেখা: প্রবীর রায়