জব কার্ড ফেরতের দাবিতে তৃণমূল নেতার বাড়িতে বিক্ষোভ
বসিরহাট : জব কার্ড ফেরতের দাবিতে এবং একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে স্থানীয় তৃণমূল নেতার বাড়ির সামনে বিক্ষোভে সামিল হলেন গ্রামবাসীরা। বসিরহাটের মাটিয়া থানার খোলাপোতা গ্রাম পঞ্চায়েতের গোবিন্দপুর গ্রামে মঙ্গলবার এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয় যখন বহু মানুষ একত্রিত হয়ে জব কার্ড ফেরত দেওয়ার দাবি তোলেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় তৃণমূল নেতা প্রকাশ রায় বহু উপভোক্তার জব কার্ড নিজের কাছে রেখে দিয়েছেন। বারবার কার্ড ফেরত চাওয়া হলেও কখনও বলা হয়েছে কার্ড নষ্ট হয়ে গিয়েছে, কখনও আবার নতুন করে আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ফলে বহু শ্রমিক ১০০ দিনের কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন।
বিক্ষোভকারী চন্দনা মণ্ডল অভিযোগ করে বলেন, "আগামী জুলাই মাস থেকে ১০০ দিনের কাজ শুরু হওয়ার কথা। সেই কারণে দীর্ঘদিন ধরে আমি নিজের জব কার্ড ফেরত চেয়ে আসছি। কিন্তু প্রতিবারই নানা অজুহাত দেখিয়ে কার্ড ফেরত দেওয়া হচ্ছে না।" তার আরও দাবি, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজনৈতিক কারণে তাকে এবং তার পরিবারকে একঘরে করার চেষ্টা করা হয়েছিল। এমনকি কলতলা থেকে জল আনতেও বাধা দেওয়া হতো, বাড়িতে ইট-পাটকেল ছোড়া এবং বিভিন্ন ধরনের মানসিক নির্যাতনেরও অভিযোগ তোলেন তিনি।
স্থানীয় বিজেপি নেতা অমিত মণ্ডল অভিযোগ করেন, এলাকার বহু মানুষের জব কার্ড প্রকাশ রায় নিজের কাছে আটকে রেখেছেন। কার্ড ফেরতের দাবি জানালে কখনও বলা হচ্ছে সেগুলি পঞ্চায়েতে রয়েছে, আবার কখনও বলা হচ্ছে কার্ড নষ্ট হয়ে গিয়েছে। তার অভিযোগ, একাধিক উপভোক্তার জব কার্ড সংক্রান্ত অর্থও আত্মসাৎ করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ জানানো হলেও পুলিশের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা মেলেনি।
যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তৃণমূল নেতা প্রকাশ রায়। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে তাকে মাটিয়া থানায় ডাকা হয়েছিল এবং তিনি ইতিমধ্যেই সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের কাছেও বিষয়টি জানিয়েছেন। তার দাবি, আগামী মাসের এক তারিখে নতুন জব কার্ড আসার কথা রয়েছে। সেই কার্ডগুলি হাতে এলেই উপভোক্তাদের মধ্যে বণ্টনের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
প্রকাশ রায়ের বক্তব্য, তার ছেলে হরিয়ানায় দুর্ঘটনার শিকার হওয়ায় তিনি কিছুদিনের জন্য রাজ্যের বাইরে ছিলেন। সেই সময় তার অফিসে রাখা জব কার্ডগুলি বৃষ্টির জল ও উইপোকার আক্রমণে নষ্ট হয়ে যায়। জব কার্ডের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "এই অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই। কারণ ১০০ দিনের কাজের মজুরি সরাসরি উপভোক্তাদের নিজস্ব ব্যাংক বা পোস্ট অফিসের অ্যাকাউন্টে জমা হয়। ফলে কোনও ব্যক্তির পক্ষে সেই টাকা আত্মসাৎ করা সম্ভব নয়।"
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। গ্রামবাসীরা দ্রুত জব কার্ড ফেরত দেওয়া এবং অভিযোগগুলির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে তৃণমূল নেতৃত্ব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে। এখন প্রশাসন এই অভিযোগগুলির কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেদিকেই নজর রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।
Jun 17 2026, 19:46
- Whatsapp
- Facebook
- Linkedin
- Google Plus
1- Whatsapp
- Facebook
- Linkedin
- Google Plus
0.5k