৬৮৭ নম্বরে বসিরহাট সেরা অর্নিতা, ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন কৃতী ছাত্রীর
সৌমাভ মন্ডল, বসিরহাট: রাজ্যে মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ হতেই খুশির হাওয়া বইতে শুরু করেছে উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট জুড়ে। এবারের মাধ্যমিকে বসিরহাটে প্রথম স্থান অধিকার করে নজর কেড়েছে অর্নিতা মল্লিক। রাজ্যের মধ্যে তার স্থান একাদশ। তার এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত পরিবার, স্কুল এবং গোটা এলাকা। অর্নিতার প্রাপ্ত নম্বর ৬৮৭। মেধা, অধ্যবসায় এবং নিয়মিত পরিশ্রমের জোরেই এই সাফল্য এসেছে বলে মনে করছেন তার শিক্ষক-শিক্ষিকারা। অর্নিতা বসিরহাট পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের মুন্সেফপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তার বাবা অভিষেক মল্লিক এবং মা প্রণতি মল্লিক। পরিবারের একমাত্র মেয়ে অর্নিতা ছোট থেকেই পড়াশোনায় মনোযোগী। সে বসিরহাটের ঐতিহ্যবাহী বসিরহাট হরিমোহন দালাল গার্লস হাই স্কুলের ছাত্রী। স্কুলের তরফেও তার এই সাফল্যে গর্ব প্রকাশ করা হয়েছে।
ফল প্রকাশের পর অর্নিতা জানায়, "পড়াশোনার জন্য সে নির্দিষ্ট কোনও সময়সূচি বেঁধে রাখত না। যখনই পড়তে বসত, মন দিয়ে পড়ত এবং সেই অংশ সম্পূর্ণ শেষ না করে উঠত না। তার মতে, শুধুমাত্র ঘণ্টার হিসেব নয়, পড়ার গুণগত মানটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই ধারাবাহিকতা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণই তাকে সাফল্যের দিকে এগিয়ে দিয়েছে। ভবিষ্যৎ নিয়েও স্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে অর্নিতার। আগামী দিনে সে ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়। একাদশ শ্রেণিতে বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে পড়ার ইচ্ছা রয়েছে তার। পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, গণিতের পাশাপাশি কম্পিউটার সায়েন্স নিয়েও পড়াশোনা করতে চায় বলে জানিয়েছে সে। প্রযুক্তি এবং বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ থেকেই এই বিষয়গুলি বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত।
নিজের এই সাফল্যের পিছনে বাবা-মা এবং শিক্ষকদের অবদান সবচেয়ে বেশি বলে মনে করে অর্নিতা"। সে জানায়, পরিবারের নিরন্তর উৎসাহ এবং শিক্ষকদের সঠিক দিকনির্দেশনা ছাড়া এই ফল সম্ভব হতো না। পড়াশোনার চাপের মধ্যেও বাবা-মা সবসময় পাশে থেকেছেন এবং মানসিকভাবে তাকে শক্তি জুগিয়েছেন।
এদিন ফল প্রকাশের পর অর্নিতার বাড়িতে উৎসবের আবহ তৈরি হয়। আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী থেকে শুরু করে বন্ধু-বান্ধব সকলেই শুভেচ্ছা জানাতে ভিড় জমান। বাবা-মা মেয়েকে মিষ্টিমুখ করিয়ে আনন্দ ভাগ করে নেন।এলাকাবাসীরাও অর্নিতার সাফল্যে গর্বিত।
বসিরহাটের এই কৃতী ছাত্রীর সাফল্য নিঃসন্দেহে আগামী প্রজন্মের কাছে বড় অনুপ্রেরণা হয়ে উঠবে। কঠোর পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস এবং লক্ষ্য স্থির থাকলে সাফল্য যে ধরা দিতেই পারে, তা আরও একবার প্রমাণ করলো অর্নিতা মল্লিক।
59 min ago
- Whatsapp
- Facebook
- Linkedin
- Google Plus
4- Whatsapp
- Facebook
- Linkedin
- Google Plus
0.3k