হিঙ্গলগঞ্জে শান্তির বার্তা বিজেপির, বন্ধ বাজার খুলে স্বাভাবিকতা ফেরালো নেতৃত্ব
বসিরহাট : ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয়ের পর রাজ্যজুড়ে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন পর পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতার কেন্দ্রে বিজেপির আগমনকে ঘিরে যেমন উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে, তেমনই কিছু এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনার ছবিও সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই বসিরহাটের সুন্দরবনের হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকের লেবুখালী বাজারে শান্তি ও স্বাভাবিকতা ফেরানোর উদ্যোগ নিয়ে নজর কাড়ল বিজেপি নেতৃত্ব।
ভোট পরবর্তী সময়ে লেবুখালী বাজারের একাধিক দোকানপাট হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম সমস্যায় পড়েন স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষ। বাজার বন্ধ থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনাবেচা কার্যত থমকে যায়। বহু ছোট ব্যবসায়ীর রুজি-রোজগার বন্ধ হয়ে পড়ে। রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তৈরি হওয়া এই অস্বস্তিকর পরিবেশ কাটিয়ে তুলতেই মাঠে নামে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব।
এদিন বিজেপি নেতারা সরাসরি বাজারে পৌঁছে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের আশ্বস্ত করেন যে নতুন সরকার সাধারণ মানুষের পাশে রয়েছে। রাজনৈতিক পালাবদল মানেই আতঙ্ক বা অস্থিরতা নয়, বরং উন্নয়ন, নিরাপত্তা এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করাই বিজেপির মূল লক্ষ্য এমন বার্তাই তুলে ধরেন তারা। নেতৃত্বদের উপস্থিতিতে বন্ধ থাকা একাধিক দোকানের শাটার খুলে দেওয়া হয়। দোকান মালিকদের ব্যবসা পুনরায় শুরু করতে উৎসাহ দেওয়া হয়। বিজেপির তরফে স্পষ্ট জানানো হয়, “ভারতীয় জনতা পার্টি কারও ব্যবসা বা জীবিকা বন্ধ করতে আসেনি। আমরা চাই সকলেই শান্তিপূর্ণভাবে নিজের কাজ করুন এবং উন্নয়নের স্রোতে শামিল হোন।” স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক সন্ত্রাস, হুমকি এবং বাধার মুখে থাকতে হয়েছে তাদের। সেই আবহে রাজ্যের পরিবর্তন সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তবে ক্ষমতায় এসে প্রতিশোধ নয়, বরং শান্তি ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনাই দলের অগ্রাধিকার বলে দাবি বিজেপি নেতৃত্বের। এই উদ্যোগে বাজারে ফের স্বাভাবিকতা ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও। বহু দোকানদার বলেন, নেতৃত্বদের আশ্বাসে তারা আবার ব্যবসা শুরু করার সাহস পেয়েছেন। বাজারে সাধারণ মানুষের আনাগোনা বাড়তে শুরু করেছে এবং এলাকায় স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে হিঙ্গলগঞ্জের এই ছবি রাজ্যের জন্য এক ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। সংঘাত ও প্রতিহিংসার বদলে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইঙ্গিত দিল বিজেপি। এমনটাই মনে করছেন এলাকার একাংশের বাসিন্দারা।
বঙ্গে প্রথম বিজেপির সরকারের  মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হলেন শুভেন্দু অধিকারী

নিজস্ব প্রতিনিধি:২০২৬ এর রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বিজেপি।২৯৩ আসনে নির্বাচন হয়েছিল। তারমধ্যে ২০৭ আসনে জয়ী হয়ে নিরুঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বিজেপি। পশ্চিমবঙ্গে নতুন ইতিহাসে রাজ্যে প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী পদে শনিবার শপথ নিতে চলেছেন মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম ও কলকাতার ভবানীপুরের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার বিকেলে বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহর  উপস্থিতিতে বিজেপি পরিষদীয় দলের বৈঠক বসে। সেই বৈঠকেই সর্বসম্মতিতে নেতা নির্বাচিত করা হয় শুভেন্দুকে।

পর পর দুই বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাস্ত করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। এরাজ্যে অমিত শাহের অন্যতম আস্থাভাজন নেতা হলেন শুভেন্দু। শুক্রবার কলকাতা বিমানবন্দরে তিনি বিমান থেকে নামার পর যেভাবে শুভেন্দুর পিঠ চাপড়ে দেন, তাও যেন ছিল প্রতীকী।

আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করতে গিয়ে অমিত শাহ বলেন, ‘পরিষদীয় দলের নেতা হিসাবে প্রথমে শুভেন্দু অধিকারীর নাম প্রস্তাব করা হয়। সেই নাম প্রস্তাবের পর দ্বিতীয় নাম চাওয়া হয়। কিন্তু আর কোনও নামই আসেনি। শুভেন্দু অধিকারীকে সর্বসম্মতিতে পরিষদীয় দলের নেতা নির্বাচিত করা হয়েছে। শনিবার মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে তিনি শপথ গ্রহণ করবেন”।

ছবি:সঞ্জয় হাজরা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পুজো দিলেন দক্ষিণেশ্বরে
নিজস্ব প্রতিনিধি:বিমানবন্দর নেমে এদিন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সোজা চলে যান দক্ষিণেশ্বরে। সেখানে পুজো দেন।এখান থেকে যাবেন নিউ টাউনের একটি হোটেলে। বিজেপি সূত্রের , সেখানে আজ বিজেপি সরকারের পরিষদীয় দলের দলনেতা নির্বাচন করা হবে অমিত শাহর উপস্থিতিতে। নির্বাচিত সব বিজেপি বিধায়ক এই মিটিং এ উপস্থিত থাকবেন।
*ছবি: উৎপল দাস।*
৬৮৭ নম্বরে বসিরহাট সেরা অর্নিতা, ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন কৃতী ছাত্রীর
সৌমাভ মন্ডল, বসিরহাট: রাজ্যে মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ হতেই খুশির হাওয়া বইতে শুরু করেছে উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট জুড়ে। এবারের মাধ্যমিকে বসিরহাটে প্রথম স্থান অধিকার করে নজর কেড়েছে অর্নিতা মল্লিক। রাজ‍্যের মধ্যে তার স্থান একাদশ। তার এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত পরিবার, স্কুল এবং গোটা এলাকা। অর্নিতার প্রাপ্ত নম্বর ৬৮৭। মেধা, অধ্যবসায় এবং নিয়মিত পরিশ্রমের জোরেই এই সাফল্য এসেছে বলে মনে করছেন তার শিক্ষক-শিক্ষিকারা। অর্নিতা বসিরহাট পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের মুন্সেফপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তার বাবা অভিষেক মল্লিক এবং মা প্রণতি মল্লিক। পরিবারের একমাত্র মেয়ে অর্নিতা ছোট থেকেই পড়াশোনায় মনোযোগী। সে বসিরহাটের ঐতিহ্যবাহী বসিরহাট হরিমোহন দালাল গার্লস হাই স্কুলের ছাত্রী। স্কুলের তরফেও তার এই সাফল্যে গর্ব প্রকাশ করা হয়েছে।
ফল প্রকাশের পর অর্নিতা জানায়, "পড়াশোনার জন্য সে নির্দিষ্ট কোনও সময়সূচি বেঁধে রাখত না। যখনই পড়তে বসত, মন দিয়ে পড়ত এবং সেই অংশ সম্পূর্ণ শেষ না করে উঠত না। তার মতে, শুধুমাত্র ঘণ্টার হিসেব নয়, পড়ার গুণগত মানটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই ধারাবাহিকতা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণই তাকে সাফল্যের দিকে এগিয়ে দিয়েছে। ভবিষ্যৎ নিয়েও স্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে অর্নিতার। আগামী দিনে সে ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়। একাদশ শ্রেণিতে বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে পড়ার ইচ্ছা রয়েছে তার। পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, গণিতের পাশাপাশি কম্পিউটার সায়েন্স নিয়েও পড়াশোনা করতে চায় বলে জানিয়েছে সে। প্রযুক্তি এবং বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ থেকেই এই বিষয়গুলি বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত।
নিজের এই সাফল্যের পিছনে বাবা-মা এবং শিক্ষকদের অবদান সবচেয়ে বেশি বলে মনে করে অর্নিতা"। সে জানায়, পরিবারের নিরন্তর উৎসাহ এবং শিক্ষকদের সঠিক দিকনির্দেশনা ছাড়া এই ফল সম্ভব হতো না। পড়াশোনার চাপের মধ্যেও বাবা-মা সবসময় পাশে থেকেছেন এবং মানসিকভাবে তাকে শক্তি জুগিয়েছেন।
এদিন ফল প্রকাশের পর অর্নিতার বাড়িতে উৎসবের আবহ তৈরি হয়। আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী থেকে শুরু করে বন্ধু-বান্ধব সকলেই শুভেচ্ছা জানাতে ভিড় জমান। বাবা-মা মেয়েকে মিষ্টিমুখ করিয়ে আনন্দ ভাগ করে নেন।এলাকাবাসীরাও অর্নিতার সাফল্যে গর্বিত।
বসিরহাটের এই কৃতী ছাত্রীর সাফল্য নিঃসন্দেহে আগামী প্রজন্মের কাছে বড় অনুপ্রেরণা হয়ে উঠবে। কঠোর পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস এবং লক্ষ্য স্থির থাকলে সাফল্য যে ধরা দিতেই পারে, তা আরও একবার প্রমাণ করলো অর্নিতা মল্লিক।
রাজ্যের মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল ঘোষণা


ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় আজ।প্রায়  ৮৪ দিনের মাথায় এই ফল ঘোষণা করল মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। এবারের মাধ্যমিকের মেধাতালিকায়  ৯৯.৭১% পেয়ে প্রথম স্থানে রয়েছে সারদা বিদ্যামন্দিরের অভিরূপ ভদ্র। তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৯৮। এবারের মেধাতালিকায় স্থান করে নিয়েছে ১৩১ জন মেধাবী পড়ুয়া।

দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বীরভূমের প্রিয়তোষ মুখোপাধ্যায়, প্রাপ্ত নম্বর ৬৯৬। আর ৬৯৫ পেয়ে তৃতীয় স্থান পেয়েছে ৩ জন, দক্ষিণ ২৪ পরগনার সৌর জানা, পূর্ব মেদিনীপুরের অঙ্কন কুমার জানা এবং বাঁকুড়ার মৈনাক মণ্ডল।

এ বছর সবচেয়ে বেশি ভাল ফল করেছে কালিম্পং। দ্বিতীয় স্থানে পূর্ব মেদিনীপুর এবং তৃতীয় স্থান পেয়েছে কলকাতা। এবারের ফলাফলে আবারও প্রমাণিত হল যে, মেধার নিরিখে শহর কলকাতার চেয়ে কোনও অংশেই পিছিয়ে নেই জেলাগুলি। উত্তর দিনাজপুর থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, বীরভূম থেকে মেদিনীপুর - সর্বত্রই ছড়িয়ে রয়েছে কৃতিদের নাম।
নৈহাটী হাসপাতাল না নরক! ঘুরে দেখলেন নয়া বিজেপি বিধায়ক


প্রবীর রায়: বিপুল সংখ্যা গরিষ্ঠতা নিয়ে রাজ্য বিধানসভায় ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। আগামী ৯ মে শপথ নেবে মন্ত্রীরা।শপথ গ্রহণের আগেই বৃহস্পতিবার উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটী রাজ্য সাধারণ হাসপাতাল পরিদর্শন করলেন নব নির্বাচিত বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়। নির্বাচনে দাঁড়িয়ে তিনি অঙ্গীকার করেছিলেন এলাকার হাসপাতালের ভালো চিকিৎসা পরিষেবা ফিরিয়ে আনবেন। সেই মতো হাসপাতালের আনাচে কানাচে ঘুরে দেখলেন।গোটা বিল্ডিংয়ের চাঙর খসে পড়ছে। আগাছায় ভরেছে হাসপাতাল চত্বর।বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোগিদের দুর্দশার পাশাপাশি নার্সদের অভাব অভিযোগ শুনলেন। পরে এই হাপাতালে কাজের খতিয়ান সুপারের মুখ থেকে শুনলেন বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, "হাসপাতালের কিছু যন্ত্রাংশ অনত্র পাচার হয়েছে। সুপারকে ষ্টোরের হিসাব দিতে বলেছি। এছাড়াও স্মার্ট ওপিডি চালু না করে শুধু ফিতে কেটেছেন সাংসদ পার্থ ভৌমিক। ১৫ বছরে ওনারা মানুষকে শুধু ভাওতা দিয়েছেন তা আজ স্পষ্ট।"
“অত্যাচার আর তোষণের রাজনীতি চালিয়েছে তৃণমূল” ফল প্রকাশের পর তোপ আম জনতা উন্নয়ন পার্টির মুখপাত্রের
বসিরহাট : বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। সেই আবহেই সাংবাদিক সম্মেলন করে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির মুখপাত্র তথা নন্দীগ্রামের প্রার্থী ডক্টর শহিদুল হক মন্ডল। ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর এদিন তিনি রাজ্য সরকারের একাধিক নীতি, সংখ্যালঘু রাজনীতি এবং রাজনৈতিক হিংসার প্রসঙ্গ তুলে সরব হন।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ডক্টর শহিদুল হক মন্ডল অভিযোগ করেন, “গত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গে যেভাবে রাজনৈতিক সন্ত্রাস বেড়েছে, সাধারণ মানুষ তার জবাব ভোটের মাধ্যমে দিতে শুরু করেছে। তৃণমূল কংগ্রেস গণতন্ত্রের পরিবেশ নষ্ট করেছে। বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের উপর লাগাতার অত্যাচার, ভয় দেখানো এবং প্রশাসনকে ব্যবহার করার অভিযোগ আজ সর্বত্র শোনা যাচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংখ্যালঘু সমাজের উন্নয়নের কথা বললেও বাস্তবে মুসলিম সমাজকে শুধুমাত্র ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করেছেন। শিক্ষা, কর্মসংস্থান, শিল্প কিংবা স্বাস্থ্য কোনো ক্ষেত্রেই মুসলিম সমাজের প্রকৃত উন্নয়ন হয়নি। মুসলিম যুবকদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রাজ্য সরকারের নেই। শুধুমাত্র আবেগের রাজনীতি করে ভোট নেওয়া হয়েছে।”
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি তিনি। তার অভিযোগ, “রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে। বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করতে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। সাধারণ মানুষ এখন পরিবর্তনের পথ খুঁজছে।” রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোট পরবর্তী সময়ে এই ধরনের পাল্টা অভিযোগ ও রাজনৈতিক চাপানউতোর আগামী দিনে আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ককে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হওয়ার ইঙ্গিতও দেখা যাচ্ছে। নন্দীগ্রাম থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ডক্টর শহিদুল হক মন্ডলের এই বিস্ফোরক মন্তব্য ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।
ফের উত্তপ্ত সন্দেশখালি, দুই গোষ্ঠী সংঘর্ষের জেরে গুলিতে আহত ৩ পুলিশ কর্মী ও ২ কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান
নিজস্ব প্রতিনিধি: ফের উত্তপ্ত উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালি। মঙ্গলবার রাতে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে আহত ন্যাজাট থানার ওসি সহ কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান।সন্দেশখালি বিধানসভার অন্তর্গত ন্যাজাটের বামনঘেরি এলাকায় বেশ কয়েকটি বুথে এবারও বিজেপি হেরে যায়। বিজেপি এখানে হেরে যাওয়ার পর তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ হয় বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে  মঙ্গলবার বিকেল থেকেই উত্তপ্ত ছিল এলাকা। ঘটনার পর মঙ্গলবার রাতে ওই এলাকায় টহল দিতে আসে পুলিশ ও কেন্দ্র বাহিনী। তখন পুলিশ ও কেন্দ্র বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় তৃণমূলের কর্মীরা ‌। ঘটনায় ৩ পুলিশ কর্মী ও দুই কেন্দ্রীয় বাহিনী গুরুতর আহত হয়। ঘটনার পর বুধবার সকালে ঘটনাস্থল থেকে   আগ্নেয়াস্ত্র ও তাজা বোমা উদ্ধার করেছে পুলিশ। েখা ও ছবি: সৌমাভ মন্ডল।
ঝাল মুড়ি খাইয়ে বিজয় উৎসব পালন

ডিজে না বাজিয়ে ঝাল মুড়ি খাইয়ে বিজয় উৎসব পালন করছে উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দল বিধানসভার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা।
*ছবি: প্রবীর রায়*।
রাজ্যে পালাবদল হতেই ইস্তফা অ্যাডভোকেট জেনারেলের
নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজ্যে পালাবদল হতেই ইস্তফা অ্যাডভোকেট জেনারেলের। রাজ্যপাল এন রবির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিলেন কিশোর দত্ত। সোমবার বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা হয়েছে। এখনও একটি কেন্দ্রে ভোটগণনা চলছে। তবে ১৫ বছরের তৃণমূল সরকারকে হটিয়ে, বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় সরকার গড়তে চলেছে বিজেপি। সেই আবহেই অ্যাডভোকেট জেনারেল পদ থেকে ইস্তফা দিলেন কিশোর দত্ত।

২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল (এজি) পদ থেকে ইস্তফা দেন সৌমেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়। ওই বছরেরই ডিসেম্বর মাসে এজি পদে কিশোর দত্তকে নিয়োগ করা হয়। তারপর থেকে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল পদ সামলাচ্ছিলেন তিনি।

উল্লেখ্য, সোমবার ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে ২০৭টি আসন পেয়ে জয়ী হয়েছে বিজেপি। তৃণমূল থেমেছে মাত্র ৮০-তে। বামজোট পেয়েছে ২টি আসন। এদিকে কংগ্রেস ও আমজনতা উন্নয়ন পার্টি ২টি করে আসন পেয়েছে। এই ফল থেকে পরিষ্কার, একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। ১৫ বছরের তৃণমূল সরকারের পতন হয়েছে। সাধারণত অ্যাডভোকেট জেনারেল একটি সাংবিধানিক পদ। এই পদে থাকা ব্যক্তি রাজ্যের মুখ্য আইনি উপদেষ্টা। কিন্তু বর্তমানে নতুন সরকার গঠিত হলে তার দৃষ্টিভঙ্গি, নীতির বদল হয়। সেই অনুযায়ী কাজ করেন অ্যাডভোকেট জেনারেল। সেই কারণে সরকারের বদল হলে অ্যাডভোকেট জেনারেল ইস্তফা দেন।