ইডেনে দেবীপক্ষের সূচনায় বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান, মাতৃপক্ষে পুজোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
![]()
*কলকাতা, ১০ অক্টোবর:* পিতৃপক্ষ পেরিয়ে মাতৃপক্ষে দেবীপক্ষের সূচনালগ্নে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এবারের দুর্গাপুজোর আনুষ্ঠানিক সূচনা করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সরকারি উদ্যোগে আয়োজিত এই মেগা ইভেন্টেই রাজ্যের পুজো অনুদান, পুজোর সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় মাহাত্ম্য নিয়ে বড় বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
বিকেল ৫ টায় ইডেনে প্রবেশ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি মাঠে পৌঁছতেই সমবেত শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে গোটা স্টেডিয়াম। রেড রোড থেকে হেঁটে তিনি অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যপাল আর এন রবি। এছাড়াও মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, শিল্প মন্ত্রী তাপস রায়,রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্যরা,মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সহ দলের একাধিক সাংসদ ও বিধায়ক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জমানায় কার্নিভালের মঞ্চ আলো করে থাকতেন টলি পাড়ার কুশিলবরা, মাইক থাকত তাঁরই হাতে। তুলনায় এদিনের আয়োজন ছিল অনেক বেশি পেশাদার। মঞ্চ সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন অভিনেত্রী সৌরসেনী মৈত্র।
ক্রিকেটের চেনা ইডেন এদিন সেজেছিল উৎসবের সাজে। মাঠের ঠিক মাঝখানে রাখা হয়েছিল দুটি বিশাল শঙ্খের প্রতিরূপ। মাঝের আলপনায় লেখা ছিল ‘দুর্গাপুজো ২০২৬, পশ্চিমবঙ্গ’। ঢাকের বাদ্যি, শঙ্খ ও উলুধ্বনিতে এক অন্য আবহ তৈরি হয়।
*মুখ্যমন্ত্রীর তিন বড় ঘোষণা:*
*১. ২০০-র বেশি পুজো কমিটি অনুদান নেয়নি:*
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনারা শুনলে খুশি হবেন, বিশেষ করে কলকাতাতে ২০০-র বেশি পুজো কমিটি, তারা আমার আবেদনে সাড়া দিয়ে বলেছেন যে এই অর্থ গ্রামীণ পুজো কমিটিগুলোকে দিন, মহিলা পুজো কমিটিগুলোকে দিন, এই অর্থ আমরা নেব না।”
*২. আগামিকাল থেকে পুজোর অনুদান দেওয়া শুরু:*
তিনি জানান, “আমরা দুর্গাপুজোর আয়োজনকারী ক্লাবগুলিকে, সংস্থাকে, গ্রামবাসী এবং ওয়ার্ডবাসী, নগরবাসীকে এক লক্ষ টাকা করে অর্থনৈতিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করেছিলাম যারা নিতে ইচ্ছুক। অনেকেই নিয়েছেন, আবেদন করেছেন, তারা আগামিকাল থেকে পাবেন।” সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, “আমরা বড় পুজোর বাজেটের কমিটিগুলিকে আবেদন করেছিলাম, তারা যদি চান অনুদান নাও নিতে পারেন। এর জন্য সরকার তাদের প্রতি কোনও বিরূপ মনোভাব প্রকাশ করবে না।”
*৩. পিতৃপক্ষে নয়, মাতৃপক্ষে সূচনা:*
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মাননীয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী অমিত শাহ ২০২৩ সালে ভিক্টোরিয়াতে এসে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করে দিয়ে গিয়েছিলেন, তার জন্য কৃতজ্ঞচিত্তে আজ শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করতে চাই। আমরা রাজ্য মন্ত্রিসভা, রাজ্য সরকার ঠিক করেছিলাম যে পিতৃপক্ষে দুর্গাপূজার সূচনা হতে পারে না। তাই আমরা আজ মাতৃপক্ষে, দেবীপক্ষে সূচনা করলাম।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা ঠিক করেছিলাম যে দুর্গাপূজার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য থাকবে, কিন্তু সঙ্গে তার যে ধর্মীয় মাহাত্ম্য, শাস্ত্র, তার যে পঞ্জিকা মতে সূচি, সেটা মেনে এবারের দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।”
সরকারের দাবি, দুনিয়া জুড়ে বাঙালির আবেগ ও দুর্গাপুজোর বিশ্বজনীন সংযোগ ঘটাতেই এই মেগা আয়োজন।
ছবি সৌজন্যে: তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর।


*অনুদান নিয়ে বড় ঘোষণা:*
*জাঁকজমকের মাঝে টিকিট বণ্টন নিয়ে প্রশ্ন:*
ইডেনের গ্যালারিতে কারা ছিলেন? তাঁরা কীভাবে স্টেডিয়ামে ঢোকার পাস পেলেন? ‘ফার্স্ট কাম ফার্স্ট সার্ভ’ ভিত্তিতে বিনামূল্যে পাস কোথা থেকে পাওয়া যাবে, সে ব্যাপারে সাধারণ মানুষের কাছে কোনও স্পষ্ট তথ্য ছিল না বলে অভিযোগ। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সরকারের দুই মন্ত্রীও টিকিট কোথা থেকে পাওয়া গিয়েছে বা কে বণ্টন করেছেন, তা নিয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারেননি।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্যেও সরকারের সর্বোচ্চ স্তরে সমন্বয়ের অভাব ধরা পড়েছে। এই অনুষ্ঠানের মূল দায়িত্বে ছিলেন তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর। ফলে অব্যবস্থার দায় নিয়ে প্রশ্ন উঠছে শীর্ষ আমলাদের ভূমিকা নিয়েও।
ছবি: অসীম পাল।
*ব্যারাকপুর, উত্তর ২৪ পরগনা:* বাংলা ও বাঙালির আবেগের দিন মহালয়া। এদিন থেকেই পিতৃপক্ষের অবসান এবং দেবীপক্ষের সূচনা হয়। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে জলদানের জন্য ভোর থেকেই গঙ্গার ঘাটে ঘাটে ভিড় করেন ধর্মপ্রাণ মানুষ। তর্পণের মাধ্যমে পিতৃপুরুষকে জলদান করেন তাঁরা। রাজ্যের অন্যান্য গঙ্গার ঘাটের মতো উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি বিধানসভা এলাকার বিভিন্ন ঘাটেও এদিন সকাল থেকেই চলছে পিতৃতর্পণ। নির্বিঘ্নে তর্পণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ঘাটগুলিতে মোতায়েন রয়েছে কঠোর পুলিশি নিরাপত্তা।একই ছবি ব্যারাকপুরেও। ভোর থেকেই ব্যারাকপুরের প্রতিটি ঘাটে পুণ্যার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তর্পণের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ করতে ভোররাত থেকেই নৌকায় করে গঙ্গার ঘাটগুলি পরিদর্শন করেন ব্যারাকপুরের বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী।
সংবর্ধিত দলগুলি হল,ব্যারাকপুর শিক্ষা জেলার শ্যামনগর বালিকা বিদ্যালয়, বারাসাত শিক্ষা জেলার গোপালনগর গিরিবালা বালিকা বিদ্যালয় এবং গণশিক্ষা সম্প্রসারণ ও গ্রন্থাগার পরিষেবা দপ্তরের অধীনস্থ রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ মিশন বধির, মূক ও দৃষ্টিহীন বালিকা বিদ্যালয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক শিল্পা গৌরিসারিয়া এবং অতিরিক্ত জেলাশাসক অহিংসা জৈন। জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগে খুশি পড়ুয়া ও শিক্ষক মহল।
বসিরহাট : বসিরহাটের হাসনাবাদ থানার ডাঁসা নদীর বাইনারা ফেরিঘাটের কাছে অবৈধভাবে সাদা বালি তোলার বিরুদ্ধে অভিযান চালালো পুলিশ। শুক্রবার সকালে চালানো এই অভিযানে সাদা বালি বোঝাই তিনটি নৌকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে ছ’জনকে।
1 hour and 57 min ago
- Whatsapp
- Facebook
- Linkedin
- Google Plus
2- Whatsapp
- Facebook
- Linkedin
- Google Plus
0.1k