স্বামী বিবেকানন্দের শিকাগো বক্তৃতার স্মৃতিতে পালিত হল দিগ্বিজয় দিবস
#SwamiVivekananda #DigvijayDiwas #ChicagoSpeech #SwadeshiJagranManch #SultanpurNews #VivekanandaJayanti
*সুলতানপুর:* স্বদেশী জাগরণ মঞ্চের উদ্যোগে স্বামী বিবেকানন্দের ১১ সেপ্টেম্বর ১৮৯৩ সালে আমেরিকার শিকাগোতে দেওয়া ঐতিহাসিক বক্তৃতার স্মৃতিতে শুক্রবার বিবেকানন্দ মূর্তিতে মাল্যদান করে ‘দিগ্বিজয় দিবস’ পালন করা হল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইনজীবী আশিস তিওয়ারি। এই উপলক্ষ্যে বহু পদাধিকারী, কর্মী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান চলাকালীন স্বদেশী জাগরণ মঞ্চের প্রান্ত সহ প্রচার প্রধান ধর্মেন্দ্র দ্বিবেদী *সর্বেশা রাজ*-কে সংগঠনের সদস্যপদ প্রদান করেন। সদস্যপদ গ্রহণের পর সর্বেশা রাজ স্বদেশী জাগরণ মঞ্চ এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, সংগঠনের দেশপ্রেম ও জাতি গঠনের ভাবনা সমাজের প্রতিটি মানুষকে অনুপ্রাণিত করে। তিনি বলেন, সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছেন। স্বামী বিবেকানন্দের বার্তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারতের সংস্কৃতি আমাদের এক পরিবারের অনুভূতিতে আবদ্ধ করে এবং জাতি গঠনের জন্যও আমাদের এই ভাবনা নিয়েই একসঙ্গে কাজ করা উচিত। তিনি বলেন, স্বাবলম্বী নাগরিক এবং স্বদেশী অর্থনীতিই ভারতকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী ও আত্মনির্ভর রাষ্ট্র গড়ে তোলার ভিত্তি।
প্রান্ত মহিলা সমন্বয়ক নীলম ত্রিপাঠী বলেন, স্বদেশী জাগরণ মঞ্চের ঘোষিত দিগ্বিজয় দিবসের বার্তা ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন। তিনি আহ্বান জানান, এই দিবসকে আরও ব্যাপক রূপ দিয়ে প্রতি বছর সমাজের বিভিন্ন স্তরের মধ্যে পালন করা হোক, যাতে নতুন প্রজন্ম স্বামী বিবেকানন্দের চিন্তাধারা ও ভারতের গৌরবময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হতে পারে।
বিভাগীয় মহিলা প্রধান শালিনী ত্রিপাঠী বলেন, ১১ সেপ্টেম্বর ১৮৯৩ ভারতীয় ইতিহাসে গৌরব ও আত্মবিশ্বাসের প্রতীক হয়ে উঠেছে। শিকাগোতে বিশ্ব ধর্ম মহাসভার মঞ্চ থেকে স্বামী বিবেকানন্দ ভারতের সনাতন সংস্কৃতি, আধ্যাত্মিক চিন্তা, সহিষ্ণুতা এবং বিশ্বভ্রাতৃত্বের বার্তা সারা বিশ্বে পৌঁছে দিয়েছিলেন। তাঁর বক্তৃতা ভারতের সংস্কৃতি ও দর্শনের প্রতি বিশ্ব সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্মান ও নতুন করে জানার আগ্রহ তৈরি করেছিল।
জেলা মহিলা প্রধান রশ্মি স্বামী বিবেকানন্দের জীবন ও সংগ্রামের ওপর আলোকপাত করে বলেন, কঠিন পরিস্থিতিতে শিকাগোতে পৌঁছে যে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তিনি ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন, তা আজও অনুপ্রেরণাদায়ক। তাঁর ভাষণ বিশ্বে ভারত সম্পর্কে তৈরি ধারণা বদলে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। তিনি ভারতকে জ্ঞান, দর্শন, আধ্যাত্ম, সহিষ্ণুতা ও মানবতার ভূমি হিসেবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছিলেন।
বিভাগীয় বিচার প্রধান ড. অশোক মিশ্র বলেন, শিকাগোর বার্তা কেবল একজন সন্ন্যাসীর ভাষণ ছিল না, বরং ঘুমন্ত ভারতীয় আত্মচেতনাকে জাগিয়ে তোলার শঙ্খনাদ ছিল। এটি ভারতীয়দের মধ্যে নিজেদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি গর্বের ভাব জাগিয়েছে এবং জাতীয় চেতনা ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণা দিয়েছে।
Sep 13 2026, 19:11
- Whatsapp
- Facebook
- Linkedin
- Google Plus
1- Whatsapp
- Facebook
- Linkedin
- Google Plus
0.5k