নৈহাটির ঘটনায় ক্ষোভ, 'জনরোষের শিকার সনৎ দে' - মন্তব্য মন্ত্রী অর্জুন সিং এর

*প্রবীর রায়* : উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটির প্রাক্তন তৃণমূল  বিধায়ক সনৎ দে-র ওপর হামলার ঘটনায় সরব হলেন বিজেপি নেতৃত্ব। এক সাংবাদিক বৈঠকে মন্ত্রী অর্জুন সিং অভিযোগ করেন, "যা অত্যাচার সনৎ দে করেছে, মানুষ যা করেছে আমি মনে করি তা কম হয়েছে।"

মন্ত্রীর দাবি করেন, সনৎ দে-র বিরুদ্ধে "মেয়েদের ওপরে অত্যাচার, মহিলা মোর্চা কর্মীদের বাড়িতে বোম মারা, ভাঙচুর"-এর অভিযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, "তাদের মা, বিধবা বাবাকে মেরেছে। আমাদের কর্মী জিনিয়ার বাড়িতে কী কাণ্ড করেছে, ভাবতে পারবে না।"

তাঁর কথায়, "এরকম তাণ্ডব করেছিল যে তাণ্ডব কোনো কল্পনা করা যায় না। ওকে মানুষ যেভাবে মানুষের ওপর অত্যাচার করেছে, আমি তো মনে করি এটা খুব কম শাস্তি।"

বক্তব্যে তিনি বিষ্ণু অধিকারীর নামও তোলেন। অভিযোগ, "একজনের বাড়ি জমি নিয়েছে, আবার পয়সাও দেয় নি। লোকটা বাড়িতে মারা গেল।"

তিনি বলেন, "এরা আবার ভাবছে জেগে উঠবে। কালকে দেখলাম ওই ক্রিমিনাল মিস্টু কোর্টে হাজিরা দিয়েছে।তিনটে-চারটে-পাঁচটা কেস আছে। ভাবছে এই ফিরে এলাম। মূর্খের স্বর্গে বাস করছে।"

তাঁর মতে, "বাংলার মানুষ কোনোভাবেই এদের ফিরে আসার জায়গা দেবে না। আজকে সনাতনীরা বুঝে গেছে দুর্গাপূজা, কালীপূজা, সরস্বতী পূজা, জগদ্ধাত্রী পূজা, ঠাকুরের মন্দির ক্ষণ বাঁচতে পারে।"
তিনি আরও বলেন, "মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে মাইক্রো লেভেলে মনিটরিং করছেন, আমাদের প্রতিদিন জবাব দিতে হয়।" তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "ব্যারাকপুরের মাটি তো রিঅ্যাকশনেরই মাটি। রিঅ্যাকশন হবে। যারা অত্যাচার করেছে, সাধারণ মানুষ কেন চুপ করবে? সাধারণ মানুষের বিক্ষোভ, প্রতিবাদ, জনরোষ সবটাই এদের বরদাস্ত করতে হবে।"
উল্লেখ্য,আজ সকালে নৈহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সনৎ দে  পুলিশ এলাকায় নিয়ে গেলে প্রবল বিক্ষোভ দেখায় সাধারণ মানুষ। নৈহাটির ৬ নং বিজয়নগরে ঘটনা।চোর চোর স্লোগান উঠে। ছবি ও লেখা: প্রবীর রায়।
তৃণমূল আমলে জারি হওয়া সমস্ত ওবিসি শংসাপত্র বাতিলের নির্দেশ হাইকোর্টের, ‘সাধারণ’ হিসেবে বিবেচিত হবেন আবেদনকারীরা

*নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা:* তৃণমূল সরকারের আমলে নতুন নিয়মে জারি হওয়া সমস্ত ওবিসি শংসাপত্র বাতিল করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বুধবার বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা ও বিচারপতি অনুজ সিংয়ের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, ওবিসি-এ এবং ওবিসি-বি বিভাজন এখন আর নেই। ফলে এই ধরনের শংসাপত্রের কোনও বৈধতা নেই। যাঁদের কাছে এই শংসাপত্র রয়েছে, তাঁরা এখন থেকে ‘সাধারণ শ্রেণি’ হিসেবেই গণ্য হবেন।

২০১০ সালের পর রাজ্যের ওবিসি সম্প্রদায়কে ওবিসি-এ ও ওবিসি-বি — দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছিল। তৃণমূলের আমলে শংসাপত্র দেওয়া নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। ২০২৪ সালে এই মামলায় হাইকোর্ট নতুন ৬৬টি সম্প্রদায়কে ওবিসি তালিকা থেকে বাদ দেয় এবং নতুন করে সমীক্ষার নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টেও বহাল থাকে।

এরপর রাজ্য সরকার নতুন সমীক্ষা করে ওবিসি-এ ও ওবিসি-বি তালিকায় বদল আনে। মাত্র আড়াই হাজার নমুনার ভিত্তিতে সমীক্ষা হয়েছে এবং ১৪২টি জনগোষ্ঠীকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলে হাইকোর্ট। রাজ্য ফের সুপ্রিম কোর্টে গেলেও স্থগিতাদেশ মেলেনি। ফলে নতুন নিয়মেই শংসাপত্র দেওয়া চলছিল। বুধবার সেই নতুন শংসাপত্রগুলিও বাতিল করল আদালত।

পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের পর বিজেপি ওবিসি-এ ও ওবিসি-বি তুলে দিয়ে একটিই সংরক্ষণের কথা বলে। হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্যের করা মামলাও পরে তুলে নেওয়া হয়।

আদালতের এই রায়ের ফলে নতুন করে শংসাপত্র পাওয়া আবেদনকারীরা সমস্যায় পড়লেন। বিভিন্ন নিয়োগ নিয়ে যে জটিলতা ছিল, তা কাটবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
গ্রেফতারি এড়াতে ফের হাইকোর্টে সুমিত রায়, জরুরি শুনানির আবেদন খারিজ
*নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা:* গ্রেফতারি এড়াতে ফের কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত-সহায়ক সুমিত রায়। বুধবার তাঁর আইনজীবী জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদন জানান।

বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের সিঙ্গল বেঞ্চ ওই আবেদন খারিজ করে দেয়। বিচারপতি জানান, দ্রুত শুনানির জন্য মামলাগুলি তালিকার শীর্ষে নিয়ে আসা সম্ভব নয়।

আদালতের এই মন্তব্যের পর সুমিতের আইনজীবী বলেন, "এর মধ্যে সুমিত রায়কে গ্রেফতার করা হলে ফের আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করব আমরা"।

সিআইডি সুমিতের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রুজু করেছে। এর মধ্যে দু’টি মামলায় সুপ্রিম কোর্ট থেকে রক্ষাকবচ পেয়েছেন তিনি। এরপর ভবানী ভবনে গিয়ে সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হন।

এরই মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে আরও ৪টি মামলা হয়েছে। সেই মামলাগুলিতে গ্রেফতারি এড়াতে রক্ষাকবচ চেয়েই হাইকোর্টে জরুরি শুনানির আবেদন করেছিলেন সুমিত রায়।
খেলা ডুরান্ড কাপ: গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ইন্ডিয়ান আর্মি এফটি-র বিরুদ্ধে জয়ের লক্ষ্যে মহমেডান স্পোর্টিং*
*কলকাতা, ১১ অগস্ট ২০২৬:* ডুরান্ড কাপ ২০২৬-এর গ্রুপ বি-র শেষ ম্যাচে বুধবার, ১২ আগস্ট কিশোর ভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ইন্ডিয়ান আর্মি এফটি-র মুখোমুখি হবে মহমেডান স্পোর্টিং ক্লাব। খেলা শুরু হবে সন্ধ্যা ৭টায়।

গ্রুপ পর্বে এটি মহমেডানের শেষ লড়াই। পরের রাউন্ডে যাওয়ার সম্ভাবনা ধরে রাখতে ৩ পয়েন্টই লক্ষ্য সাদা-কালো ব্রিগেডের। তাই জয় দিয়েই গ্রুপ পর্ব শেষ করতে মরিয়া দল।

টুর্নামেন্টের শুরুটা ভালো করেছিল মহমেডান। প্রথম ম্যাচে এফসি বনারস বাগপতকে বড় ব্যবধানে হারায় তারা। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে সমলেশ্বরী এসসি-র কাছে অল্পের জন্য হেরে যায়।

আগের ম্যাচের ধাক্কা কাটিয়ে ইন্ডিয়ান আর্মি এফটি ম্যাচের জন্য পুরোদমে প্রস্তুতি নিয়েছে দল। ফুটবলাররা আত্মবিশ্বাসী এবং মাঠে সেই মনোভাব ফুটিয়ে তুলতে চান তাঁরা।

পরের রাউন্ডে জায়গা পাকা করতে শৃঙ্খলাবদ্ধ ও লড়াকু ফুটবলই ভরসা মহমেডানের। জয় ছাড়া বিকল্প কিছু ভাবছে না কোচ ও ফুটবলাররা। *ছবি:সঞ্জয় হাজরা।*
*"হর ঘর তিরঙ্গা" পৌঁছে গেল প্রতিটি দ্বীপে*

সুন্দরবনের নদীবেষ্টিত দ্বীপগুলিতে "হর ঘর তিরঙ্গা"র বার্তা পৌঁছে দিল উত্তর ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন।প্রতিটি, প্রতিটি ঘর, একটাই তিরঙ্গা।

 ছবি: সৌজন্যে জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগ।

খেলা* *ডুরান্ডে দাপট মোহনবাগানের, সিআইএসএফকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে কোয়ার্টারে সবুজ-মেরুন*

*স্পোর্টস ডেস্ক*: ডুরান্ড কাপের গ্রুপ পর্বে ৩ ম্যাচে ১৫ গোল করে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করল মোহনবাগান। সোমবার কিশোর ভারতী স্টেডিয়ামে সিআইএসএফ প্রোটেক্টর্সকে ৬-০ গোলে হারাল তারা। এর আগে ইস্টবেঙ্গলকে ১-০ এবং সাউথ ইউনাইটেডকে ৮-০ গোলে হারিয়েছিল জোসে মোলিনার দল।

এদিন শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড় তোলে মোহনবাগান। ১৭ মিনিটে দেজান দ্রাজিচের বাড়ানো বলে অভিষেক সিং এর পাস থেকে প্রথম গোল করেন সাহাল সামাদ। ২ মিনিট পর ফের দ্রাজিচের অ্যাসিস্টে ফাঁকা গোলে ব্যবধান বাড়ান তিনি। ২৪ মিনিটে অভিষেকের ক্রস থেকে গোল করেন মনবীর সিং। ৩৭ মিনিটে রক্ষণের ভুলের সুযোগে দু’বার ড্রিবল করে মহম্মদ খালিদকে কাটিয়ে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন সাহাল।

দ্বিতীয়ার্ধে ৪ জন ফুটবলার বদল করেন কোচ পানাজিয়োটিস দিমপেরিস। ৭০ মিনিটে মাঠে নেমেই সাহালের পাস থেকে জোরালো শটে গোল করেন জেমি ম্যাকলারেন। ম্যাচের ৮৩ মিনিটে লিস্টন কোলাসোর পাস থেকে বাঁ দিক কেটে দলের শেষ গোলটি করেন অভিষেক সিং।

গোটা ম্যাচে সিআইএসএফ কোনও প্রতিরোধই গড়তে পারেনি। আরও কয়েকটি সহজ সুযোগ নষ্ট না করলে ব্যবধান আরও বাড়তে পারত মোহনবাগানের।

*ছবি: সঞ্জয় হাজরা।*
রেখা পাত্রের বিরুদ্ধে বাড়ি দখল করে রাখার অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবারে অভিযোগ

*সৌমাভ মণ্ডল,বসিরহাট :* হিঙ্গলগঞ্জের বিজেপি বিধায়িকা রেখা পাত্রের বিরুদ্ধে বাড়ি দখল করে রাখার অভিযোগ উঠলো। অভিযোগকারী স্বামী কেশবানন্দ মহারাজের দাবি, দু’মাসের জন্য ভাড়া নেওয়া একটি বাড়ি নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও খালি করছেন না বিধায়িকা। এমনকি বাড়ির ভাড়া চাইতে গেলে তাকে হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জনতার দরবারে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন কেশবানন্দ মহারাজ। তার অভিযোগ, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বসিরহাটের হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকের লেবুখালি এলাকায় তার একটি বাড়ি দু’মাসের জন্য ভাড়া নিয়েছিলেন রেখা পাত্র। কিন্তু সেই সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরও বাড়িটি ছাড়েননি তিনি। অভিযোগ, মাত্র দু’মাসের ভাড়া দেওয়ার পর গত কয়েক মাস ধরে ওই বাড়িতেই বসবাস করছেন বিধায়িকা।
কেশবানন্দ মহারাজের আরও অভিযোগ, বকেয়া ভাড়া চাইতে গেলে রেখা পাত্র ভাড়া দিচ্ছেন না, পাশাপাশি বাড়িও খালি করছেন না। বাড়ি ভাড়া দেওয়া কিংবা বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার কথা বললে তাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। পুরো বিষয়টি জানিয়ে লিখিতভাবে হস্তক্ষেপের আবেদন করেছেন কেশবানন্দ মহারাজ।

বিষয়টি নিয়ে হিঙ্গলগঞ্জের বিধায়িকা রেখা পাত্র বলেন, "আমার পা ভেঙে যাওয়ার জন্য আমি বেশ কয়েক মাস বিধানসভায় যেতে পারিনি। তাই কাগজপত্র জমা করতে পারিনি, সেই কারণে আমার মাইনে ঢোকেনি। আমি ওই মহারাজকে বলেছিলাম সঠিক সময় আপনি টাকা পেয়ে যাবেন। আমার মাইনে চালু হলেই আমি সেখান থেকে আপনাকে টাকা দিয়ে দেবো। কিন্তু তা সত্বেও উনি আমাকে অপমানিত করার জন্য এই ধরনের মিথ্যা কথা রটিয়েছেন।"
' *হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচি পালন শুরু রাজ্যজুড়ে


*নিজস্ব প্রতিনিধি,কলকাতা:* স্বাধীনতা দিবসের আগে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচিতে সামিল হল রাজ্য সরকার। সোমবার কলকাতার ময়দান থেকে জাতীয় পতাকা হাতে তিরঙ্গা যাত্রার সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং, স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়-সহ তৃণমূলের একাধিক বিধায়ক।

মেয়ো রোড থেকে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল পর্যন্ত মিছিল হয়। পদযাত্রার শেষে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের সামনে থেকে বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এই প্রথম সরকারিভাবে হর ঘর তিরঙ্গা যাত্রা পালন করা হল। রাজ্য সরকার ৭০ লক্ষ জাতীয় পতাকা বিলি করছে। সবাই নিজের বাড়িতে তেরঙ্গা উত্তোলন করুন।”

অনুষ্ঠান থেকেই রাখী বন্ধন উৎসবকে সরকারিভাবে পালনের ঘোষণাও করেন শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এবার রাখী বন্ধন উৎসবকে সরকারিভাবে পালন করার ঘোষণা করলাম। যাতে এই উৎসব শুধু ধর্মীয় মাহাত্ম্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং আমাদের সকলের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে। আমরা যাতে এই পশ্চিমবঙ্গকে নবনির্মাণ করতে পারি, ভারতসেরা করতে পারি।”

অন্যদিকে, উত্তর ২৪ পরগনার শ্যামনগরে চৌরঙ্গী কালীবাড়ি মোড় থেকে মেঘনা মোড় পর্যন্ত ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ যাত্রার কর্মসূচি পালন করেন জগদ্দলের বিধায়ক রাজেশ কুমার। তাঁর সঙ্গে ছিলেন প্রিয়াঙ্কু পান্ডে-সহ বিজেপি কর্মীরা। *ছবি: সৌজন্যে ফেসবুক,প্রবীর রায় ও জেলা তথ্য-সংস্কৃতি দফতর।*
হালিশহরে হেফাজতে মৃত্যু, আইও সাসপেন্ড, পরিবারকে চাকরি ও ১০ লক্ষ টাকা


*নিজস্ব প্রতিনিধি,হালিশহর, উত্তর ২৪ পরগনা, ১০ আগস্ট ২০২৬:* পুলিশি হেফাজতে তৃণমূলকর্মী বিরজু কেওটের মৃত্যুর ঘটনায় সোমবার উত্তর ২৪ পরগনার হালিশহরে মৃতের বাড়িতে যান মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর তিনি পুলিশের গাফিলতি স্বীকার করে কড়া পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেন। ঘটনার তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিককে সাসপেন্ড এবং হালিশহর থানার আইসি-কে ‘ক্লোজ’ করে পুলিশ লাইনে পাঠানোর নির্দেশ দেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘প্রোটোকল মেনে’ ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্ত হবে। এই তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক শিল্পা গৌরীসারিয়াকে। তদন্তের অগ্রগতি নিয়মিত ভাবে তাঁকে এবং মৃতের পরিবারকে জানানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে মৃতের পরিবারের জন্য আর্থিক ও চাকরির ঘোষণা করেন শুভেন্দু। পরিবারের আর্থিক অবস্থার কথা ভেবে ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। মৃতের স্ত্রীকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘অ্যাটেনডেন্ট’ পদে নিয়োগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, "আপাতত এক বছর প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে, এরপর তাঁকে গ্রুপ-ডি পদে স্থায়ী চাকরি দেওয়া হবে। বাড়িতে থাকা দুই শিশুর ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী"।

সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পরিবার সরকার এবং প্রশাসনের উপর আস্থা রেখেছেন। “মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি করার সুযোগ কাউকে দেননি। এটা আমাদের কাছে বড় পাওনা,” বলেন তিনি। তিনি জানান, মৃতের স্ত্রী চিঠি দিয়ে জানান , পুলিশের হেফাজতে তার স্বামীর উপর শারীরিক অত্যাচার হয়েছে।মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ,হাতে এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে এবং পুলিশের ভূমিকা খতিয়ে দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, তোলাবাজি-সহ একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে কাঁচরাপাড়া পুরসভার তৃণমূলের পদত্যাগী কাউন্সিলর জেনি শর্মা কেওটের স্বামী বিরজু কেওটকে গ্রেফতার করে হালিশহর থানার পুলিশ। শুক্রবার আদালত তাঁকে ৫ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয়। শনিবার খবর আসে, পুলিশি হেফাজতেই মৃত্যু হয়েছে বিরজুর। জেনির অভিযোগ, লকআপের ভিতরে মারধরের কারণেই তাঁর স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। ছবি: প্রবীর রায়।
*তিলোত্তমা মৃত্যুর ২ বছর, পানিহাটিতে গিয়ে নতুন তদন্তের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর*
*নিজস্ব প্রতিনিধি,পানিহাটি, উত্তর ২৪ পরগনা:* অভিশপ্ত ৯ আগস্টের ২ বছর পূর্তি। তিলোত্তমার মৃত্যুবার্ষিকীতে রবিবার উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটিতে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে গিয়ে তিলোত্তমার মৃত্যু-রহস্য উদঘাটনে নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “লম্বা ২ বছরের লড়াই। দীর্ঘ লড়াই। তবে আমি বলছি, নিশ্চিতভাবে এই লড়াইয়ে তিলোত্তমা জিতবে।”

ক্ষমতার পালাবদলের পর শুভেন্দু প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে নতুন আশার আলো হিসাবে দেখছেন তিলোত্তমার মা-বাবা। তাঁরা বলেন, “২ বছর আগে এই দিনটার কথা আমাদের সকলের মধ্যে জাগ্রত হলে বা স্মরণ করলে বিচলিত হই। আমাদের হৃদয় ব্যথাতুর হয়ে পড়ে। চোখ থেকে জল পড়তে শুরু করে। কোনও সভ্য সমাজে বর্বরোচিত ঘটনা ঘটতে পারে, একটা সুরক্ষিত জায়গায় সভ্য ভারতবর্ষে কেউ ভাবতে পারিনি।”

তিলোত্তমাকাণ্ডের সময়ের নবান্ন অভিযান প্রসঙ্গেও মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “রাখিপূর্ণিমায় অরাজনৈতিক নবান্ন অভিযান ছিল সেই সময়। আমাদের ‘দিদি’, ডাক্তার বোনের মায়ের মাথায় পুলিশের লাঠি, এত বড় ফোলা আমি অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। কী ভয়ংকর অত্যাচারী শাসকের হাতে ছিল বাংলা। ভর্তি করাতে দেয়নি। হাসপাতালের এমার্জেন্সিতে ফেলে রেখেছিল। আমি ভুলি না। যা করণীয় কাজ করছি, আগামিদিনেও করব। এর শেষ আমাকে দেখতেই হবে।”

ছবি: উৎপল দাস।