রেখা পাত্রের বিরুদ্ধে বাড়ি দখল করে রাখার অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবারে অভিযোগ

*সৌমাভ মণ্ডল,বসিরহাট :* হিঙ্গলগঞ্জের বিজেপি বিধায়িকা রেখা পাত্রের বিরুদ্ধে বাড়ি দখল করে রাখার অভিযোগ উঠলো। অভিযোগকারী স্বামী কেশবানন্দ মহারাজের দাবি, দু’মাসের জন্য ভাড়া নেওয়া একটি বাড়ি নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও খালি করছেন না বিধায়িকা। এমনকি বাড়ির ভাড়া চাইতে গেলে তাকে হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জনতার দরবারে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন কেশবানন্দ মহারাজ। তার অভিযোগ, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বসিরহাটের হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকের লেবুখালি এলাকায় তার একটি বাড়ি দু’মাসের জন্য ভাড়া নিয়েছিলেন রেখা পাত্র। কিন্তু সেই সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরও বাড়িটি ছাড়েননি তিনি। অভিযোগ, মাত্র দু’মাসের ভাড়া দেওয়ার পর গত কয়েক মাস ধরে ওই বাড়িতেই বসবাস করছেন বিধায়িকা।
কেশবানন্দ মহারাজের আরও অভিযোগ, বকেয়া ভাড়া চাইতে গেলে রেখা পাত্র ভাড়া দিচ্ছেন না, পাশাপাশি বাড়িও খালি করছেন না। বাড়ি ভাড়া দেওয়া কিংবা বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার কথা বললে তাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। পুরো বিষয়টি জানিয়ে লিখিতভাবে হস্তক্ষেপের আবেদন করেছেন কেশবানন্দ মহারাজ।

বিষয়টি নিয়ে হিঙ্গলগঞ্জের বিধায়িকা রেখা পাত্র বলেন, "আমার পা ভেঙে যাওয়ার জন্য আমি বেশ কয়েক মাস বিধানসভায় যেতে পারিনি। তাই কাগজপত্র জমা করতে পারিনি, সেই কারণে আমার মাইনে ঢোকেনি। আমি ওই মহারাজকে বলেছিলাম সঠিক সময় আপনি টাকা পেয়ে যাবেন। আমার মাইনে চালু হলেই আমি সেখান থেকে আপনাকে টাকা দিয়ে দেবো। কিন্তু তা সত্বেও উনি আমাকে অপমানিত করার জন্য এই ধরনের মিথ্যা কথা রটিয়েছেন।"
' *হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচি পালন শুরু রাজ্যজুড়ে


*নিজস্ব প্রতিনিধি,কলকাতা:* স্বাধীনতা দিবসের আগে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচিতে সামিল হল রাজ্য সরকার। সোমবার কলকাতার ময়দান থেকে জাতীয় পতাকা হাতে তিরঙ্গা যাত্রার সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং, স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়-সহ তৃণমূলের একাধিক বিধায়ক।

মেয়ো রোড থেকে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল পর্যন্ত মিছিল হয়। পদযাত্রার শেষে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের সামনে থেকে বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এই প্রথম সরকারিভাবে হর ঘর তিরঙ্গা যাত্রা পালন করা হল। রাজ্য সরকার ৭০ লক্ষ জাতীয় পতাকা বিলি করছে। সবাই নিজের বাড়িতে তেরঙ্গা উত্তোলন করুন।”

অনুষ্ঠান থেকেই রাখী বন্ধন উৎসবকে সরকারিভাবে পালনের ঘোষণাও করেন শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এবার রাখী বন্ধন উৎসবকে সরকারিভাবে পালন করার ঘোষণা করলাম। যাতে এই উৎসব শুধু ধর্মীয় মাহাত্ম্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং আমাদের সকলের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে। আমরা যাতে এই পশ্চিমবঙ্গকে নবনির্মাণ করতে পারি, ভারতসেরা করতে পারি।”

অন্যদিকে, উত্তর ২৪ পরগনার শ্যামনগরে চৌরঙ্গী কালীবাড়ি মোড় থেকে মেঘনা মোড় পর্যন্ত ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ যাত্রার কর্মসূচি পালন করেন জগদ্দলের বিধায়ক রাজেশ কুমার। তাঁর সঙ্গে ছিলেন প্রিয়াঙ্কু পান্ডে-সহ বিজেপি কর্মীরা। *ছবি: সৌজন্যে ফেসবুক,প্রবীর রায় ও জেলা তথ্য-সংস্কৃতি দফতর।*
হালিশহরে হেফাজতে মৃত্যু, আইও সাসপেন্ড, পরিবারকে চাকরি ও ১০ লক্ষ টাকা


*নিজস্ব প্রতিনিধি,হালিশহর, উত্তর ২৪ পরগনা, ১০ আগস্ট ২০২৬:* পুলিশি হেফাজতে তৃণমূলকর্মী বিরজু কেওটের মৃত্যুর ঘটনায় সোমবার উত্তর ২৪ পরগনার হালিশহরে মৃতের বাড়িতে যান মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর তিনি পুলিশের গাফিলতি স্বীকার করে কড়া পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেন। ঘটনার তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিককে সাসপেন্ড এবং হালিশহর থানার আইসি-কে ‘ক্লোজ’ করে পুলিশ লাইনে পাঠানোর নির্দেশ দেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘প্রোটোকল মেনে’ ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্ত হবে। এই তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক শিল্পা গৌরীসারিয়াকে। তদন্তের অগ্রগতি নিয়মিত ভাবে তাঁকে এবং মৃতের পরিবারকে জানানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে মৃতের পরিবারের জন্য আর্থিক ও চাকরির ঘোষণা করেন শুভেন্দু। পরিবারের আর্থিক অবস্থার কথা ভেবে ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। মৃতের স্ত্রীকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘অ্যাটেনডেন্ট’ পদে নিয়োগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, "আপাতত এক বছর প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে, এরপর তাঁকে গ্রুপ-ডি পদে স্থায়ী চাকরি দেওয়া হবে। বাড়িতে থাকা দুই শিশুর ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী"।

সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পরিবার সরকার এবং প্রশাসনের উপর আস্থা রেখেছেন। “মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি করার সুযোগ কাউকে দেননি। এটা আমাদের কাছে বড় পাওনা,” বলেন তিনি। তিনি জানান, মৃতের স্ত্রী চিঠি দিয়ে জানান , পুলিশের হেফাজতে তার স্বামীর উপর শারীরিক অত্যাচার হয়েছে।মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ,হাতে এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে এবং পুলিশের ভূমিকা খতিয়ে দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, তোলাবাজি-সহ একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে কাঁচরাপাড়া পুরসভার তৃণমূলের পদত্যাগী কাউন্সিলর জেনি শর্মা কেওটের স্বামী বিরজু কেওটকে গ্রেফতার করে হালিশহর থানার পুলিশ। শুক্রবার আদালত তাঁকে ৫ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয়। শনিবার খবর আসে, পুলিশি হেফাজতেই মৃত্যু হয়েছে বিরজুর। জেনির অভিযোগ, লকআপের ভিতরে মারধরের কারণেই তাঁর স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। ছবি: প্রবীর রায়।
*তিলোত্তমা মৃত্যুর ২ বছর, পানিহাটিতে গিয়ে নতুন তদন্তের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর*
*নিজস্ব প্রতিনিধি,পানিহাটি, উত্তর ২৪ পরগনা:* অভিশপ্ত ৯ আগস্টের ২ বছর পূর্তি। তিলোত্তমার মৃত্যুবার্ষিকীতে রবিবার উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটিতে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে গিয়ে তিলোত্তমার মৃত্যু-রহস্য উদঘাটনে নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “লম্বা ২ বছরের লড়াই। দীর্ঘ লড়াই। তবে আমি বলছি, নিশ্চিতভাবে এই লড়াইয়ে তিলোত্তমা জিতবে।”

ক্ষমতার পালাবদলের পর শুভেন্দু প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে নতুন আশার আলো হিসাবে দেখছেন তিলোত্তমার মা-বাবা। তাঁরা বলেন, “২ বছর আগে এই দিনটার কথা আমাদের সকলের মধ্যে জাগ্রত হলে বা স্মরণ করলে বিচলিত হই। আমাদের হৃদয় ব্যথাতুর হয়ে পড়ে। চোখ থেকে জল পড়তে শুরু করে। কোনও সভ্য সমাজে বর্বরোচিত ঘটনা ঘটতে পারে, একটা সুরক্ষিত জায়গায় সভ্য ভারতবর্ষে কেউ ভাবতে পারিনি।”

তিলোত্তমাকাণ্ডের সময়ের নবান্ন অভিযান প্রসঙ্গেও মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “রাখিপূর্ণিমায় অরাজনৈতিক নবান্ন অভিযান ছিল সেই সময়। আমাদের ‘দিদি’, ডাক্তার বোনের মায়ের মাথায় পুলিশের লাঠি, এত বড় ফোলা আমি অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। কী ভয়ংকর অত্যাচারী শাসকের হাতে ছিল বাংলা। ভর্তি করাতে দেয়নি। হাসপাতালের এমার্জেন্সিতে ফেলে রেখেছিল। আমি ভুলি না। যা করণীয় কাজ করছি, আগামিদিনেও করব। এর শেষ আমাকে দেখতেই হবে।”

ছবি: উৎপল দাস।
খেলা* *আইএসএল লিগ নিয়ে সমীক্ষা*

*স্পোর্টস ডেস্ক*: ২০২৬-২৭ মরশুম শুরুর আগে সমর্থকদের মতামত জানতে নতুন ফ্যান সমীক্ষা চালু করল ইন্ডিয়ান সুপার লিগ(আইএসএল) কর্তৃপক্ষ। প্রিয় ক্লাব, ম্যাচ দেখার অভ্যাস, স্টেডিয়ামে অভিজ্ঞতা, রেফারিং এবং ডিজিটাল কনটেন্ট সহ একাধিক বিষয়ে ভক্তদের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হচ্ছে।

লিগ সূত্রে জানা গিয়েছে, সমীক্ষাটি পূরণ করতে প্রায় পাঁচ মিনিট সময় লাগবে। সমর্থকদের কাছে জানতে চাওয়া হচ্ছে তারা কোন ক্লাবকে সমর্থন করেন, কীভাবে ম্যাচ দেখেন এবং লিগ নিয়ে তাঁদের সামগ্রিক অভিজ্ঞতা কেমন। পাশাপাশি ফ্যান্টাসি ফুটবল ও সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট নিয়েও মতামত চাওয়া হয়েছে।আইএসএল-এর অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলি থেকেই এই সমীক্ষায় অংশ নেওয়া যাচ্ছে।

এই উদ্যোগ এমন সময়ে এল যখন আইএসএল নতুন ক্লাব-নেতৃত্বাধীন কাঠামোয় প্রবেশ করতে চলেছে। পাশাপাশি জামশেদপুর এফসি-কে ঘিরে অনিশ্চয়তাও আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। লিগ কর্তৃপক্ষের দাবি, সমর্থকদের দেওয়া তথ্য ক্লাবগুলির পরিকল্পনা এবং লিগের ভবিষ্যৎ কাঠামো তৈরিতে সাহায্য করবে।
হালিশহরে মমতার গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ, ‘চোর চোর’ স্লোগান, উত্তেজনা সামলাতে বিশাল পুলিশ বাহিনী
*সংবাদদাতা,হালিশহর:* পুলিশ লকআপে তৃণমূল নেতা বিরজু কেউটের মৃত্যুর ঘটনায় উত্তপ্ত উত্তর ২৪ পরগনার হালিশহরে। রবিবার দুপুরে মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়লেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

ঘটনার পরের দিন মৃত তৃণমূল নেতার বাড়ি যাওয়ার পথে স্থানীয় কিছু মানুষ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখান। এদিন বিক্ষোভকারীদের মুখে ‘চোর চোর’ স্লোগান ওঠে। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ঘটনাস্থলে মোতায়েন বিশাল পুলিশ বাহিনী তৎপর হয়ে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশের হস্তক্ষেপে কোনওরকমে উত্তেজনা প্রশমিত হয়।বিক্ষোভের আবহের মধ্যেই মমতাকে ঘটনাস্থল ছাড়তে হয়।

উল্লেখ্য, পুলিশ লকআপে বিরজু কেউটের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতি সরগরম। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্তের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সফরের সময় বিক্ষোভের ঘটনায় হালিশহরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ছবি:প্রবীর রায়।
খেলা* *আই লিগ* *মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের অপরাজিত দৌড় অব্যাহত, কলকাতা পুলিশ ক্লাবকে ২-০ গোলে হারাল*
*নিজস্ব প্রতিনিধি:* শনিবার বারাসাত স্টেডিয়ামে কলকাতা ফুটবল লিগের ষষ্ঠ ম্যাচে কলকাতা পুলিশ ক্লাবের বিরুদ্ধে ২-০ গোলের দাপুটে জয় তুলে নিয়ে অপরাজিত থাকার ধারা বজায় রাখল মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। এদিন ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলতে দেখা যায় দলকে। একের পর এক সুযোগ তৈরি করে প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করে তারা। সেই প্রচেষ্টার ফলও মেলে। প্রথমার্ধে ফারদিন আলি মোল্লা জালে বল জড়িয়ে দলকে এগিয়ে দেন।প্রথমার্ধ শেষ হয় মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের ১-০ গোলের লিড নিয়ে। দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের ধারা অব্যাহত রাখে দল। প্রতিপক্ষের শেষ তৃতীয়াংশে তীব্র চাপ এবং দ্রুত গতির ফুটবল উপহার দেয় তারা। দ্বিতীয় গোলের জন্য ক্রমাগত চেষ্টা চালিয়ে যায় এবং অবশেষে সাফল্য আসে।গোলরক্ষককে কাটিয়ে দারুণ দক্ষতায় বল জালে জড়ান লালথানকিমা। তাঁর শান্ত মাথার ফিনিশে মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের ব্যবধান ২-০ হয়। এরপর আর কোন গোল না হওয়ায় ২-০ গোলেই ম্যাচ শেষ হয়। এই জয়ের ফলে আরও ৩ পয়েন্টের সঙ্গে অপরাজিত থাকার রেকর্ডও বাড়িয়ে নিল মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। ছবি: সঞ্জয় হাজরা।
২২ শে শ্রাবণ স্মরণে

উত্তর ২৪ পরগনা জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সভাকক্ষে কথায়-গানে কবিগুরুর তিরোধান দিবস পালন। বি: সৌজন্যে জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগ।
তোলাবাজি ও জমি দখলের অভিযোগে গ্রেফতার নৈহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সনৎ দে, আদালতে পেশ আজ
*নৈহাটি:* দীর্ঘদিনের অভিযোগের ভিত্তিতে অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন নৈহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সনৎ দে। তোলাবাজি, ভয় দেখিয়ে অন্যের জমি দখলের অভিযোগে শনিবার সকালে দত্তপুকুর থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আজ তাঁকে ব্যারাকপুর আদালতে পেশ করা হবে।

পুলিশ সূত্রে খবর, সনৎ দে-র বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও একাধিক জমি দখলের অভিযোগ জমা পড়েছিল। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগেও তাঁর নাম ছিল। সেই মামলাতেই নৈহাটি থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছে।

২০২৪ সালের উপনির্বাচনে নৈহাটি কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন সনৎ দে। রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই জনরোষের মুখে পড়েন তিনি। গত জুনে নৈহাটির পার্টি অফিসে যাওয়ার সময় তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয় এবং "চোর চোর" স্লোগান দেওয়া হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, নৈহাটি জুড়ে সনৎ দে সন্ত্রাস চালাতেন।

কয়েকদিন আগেই পুলিশ তাঁর বাড়ি ওষুধের দোকানে তল্লাশি চালায়। তখন তাঁর খোঁজ মেলেনি। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে শনিবার দত্তপুকুরে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাঁকে নৈহাটি থানায় নিয়ে আসা হয়।

গ্রেফতারির পর রাজ্যের পরিবহণ ও শ্রম মন্ত্রী তথা নোয়াপাড়া বিধানসভার বিধায়ক অর্জুন সিং বলেন, "অ্যাম্বুলেন্সের খালাসি থেকে আজ সনৎ দে হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক। অভিষেক ব্যানার্জির মতো ইনভেস্ট ছাড়াই ব্যবসা করতো।"

তিনি আরও বলেন, "ওকে কোমরে দড়ি বেঁধে ঘোরালেই হবে না। আরও কড়া শাস্তি দিতে হবে। যা অত্যাচার করেছে, নৈহাটির মানুষ ওকে ক্ষমা করবে না। ওর অবৈধ সম্পত্তি সিজ করা হবে। তোলাবাজি, গুন্ডাগিরির পাশাপাশি ও জাল ওষুধের ব্যবসাও করতো।" ছবি ও লেখা: প্রবীর রায়।
*"গদ্দার" আখ্যা দিয়ে নৈহাটি-ভাটপাড়ায় পার্থ ভৌমিকের বিরুদ্ধে পোস্টারে ছয়লাপ*

সংবাদদাতা, ব্যারাকপুর: তৃণমূল সাংসদ পার্থ ভৌমিককে "গদ্দার" আখ্যা দিয়ে শুক্রবার নৈহাটি জুড়ে ছয়লাপ হল পোস্টারে।ভাটপাড়ার একাংশেও একই ধরনের পোস্টার পড়েছে। পার্থ ভৌমিকের ছবি দিয়ে পোস্টারে বড় করে লেখা "এই গদ্দার থেকে সাবধান"। পোস্টারের নিচে উল্লেখ রয়েছে, "সৌজন্যে: ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের নাগরিকবৃন্দ"।কে বা কারা এই পোস্টার লাগিয়েছে তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। যদিও ঘটনার দায় কেউ স্বীকার করেনি।

পোস্টার ইস্যুতে শুক্রবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন বীজপুরের বিজেপির বিধায়ক সুদীপ্ত দাস।সুদীপ্ত দাস বলেন, "২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি দলের শোচনীয় পরাজয় হয়। চারিদিকে কর্মীরা আক্রান্ত হয়েছেন, মার খেয়েছেন। তবুও অর্জুন সিং এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাননি। উল্টে তাঁর বাড়িতে কর্মীদের আশ্রয় দিয়েছেন। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও ফের দলের পরাজয় ঘটে। তথাপি এলাকায় থেকে দলীয় নেতা অর্জুন সিং আক্রান্তদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এটাই দলের প্রতি ভালোবাসা।"

পোস্টার প্রসঙ্গে তাঁর সাফ জবাব, "অন্য দলের নেতারা কেমন, সেটা আমার জানা নেই। তবে কে বেইমান, কেন বেইমান, যারা পোস্টার মেরেছেন তারাই ভালো বলতে পারবেন।"

পোস্টারকে ঘিরে ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের রাজনীতিতে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে।

ছবি ও লেখা: প্রবীর রায়।