৭৮ বছর পরও পাকা রাস্তার অপেক্ষায় বাদুড়িয়ার মেদিয়া, দুর্ভোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষ
*সৌমাভ মণ্ডল,বসিরহাট* : স্বাধীনতার আটাত্তর বছর পরেও উন্নয়নের ছোঁয়া পৌঁছায়নি বসিরহাটের বাদুড়িয়া ব্লকের মেদিয়া গ্রামে। পাকা রাস্তার অভাবে প্রতিদিনই চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন গ্রামবাসীরা। গ্রীষ্মে ধুলোয় ঢেকে যায় রাস্তা, আর বর্ষা এলেই কাদায় ভরা খানা-খন্দে পরিণত হয় চলাচলের একমাত্র ভরসা। ফলে নিত্যদিন ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষ, স্কুল পড়ুয়া, সাইকেল ও মোটরসাইকেল আরোহীদের। স্থানীয়দের অভিযোগ, বহু বছর ধরে বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কাছে রাস্তা নির্মাণের দাবি জানানো হলেও বাস্তবে কোনও উদ্যোগ দেখা যায়নি। গ্রামবাসীদের দাবি, উন্নয়নের নানা প্রকল্পের কথা শোনা গেলেও মেদিয়া গ্রাম এখনও মৌলিক পরিকাঠামো থেকে বঞ্চিত।
মেদিয়া হাই স্কুলের শিক্ষক দীপক হালদার জানান, তিনি গত কুড়ি বছর ধরে ওই স্কুলে শিক্ষকতা করছেন। এই দীর্ঘ সময়েও গ্রামের রাস্তার কোনও উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়নি। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা কাদায় ভরে যায়। সেই কারণে বহু পড়ুয়া নিয়মিত স্কুলে আসতে পারে না। অসমান ও ভাঙাচোরা রাস্তায় চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই পড়ে গিয়ে চোট পাচ্ছে ছাত্রছাত্রীরা। তিনি আরও জানান, শহর থেকে আসা একাধিক শিক্ষক শুধুমাত্র যাতায়াতের দুর্ভোগের কারণে এই স্কুল ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। গ্রামের বাসিন্দা অজিত কুমার বৈদ্য বলেন, "অতীতে স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং তৎকালীন বিধায়ক কাজী আব্দুল রহিমের কাছেও একাধিকবার রাস্তা নির্মাণের আবেদন জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেই দাবি বাস্তবায়িত হয়নি।" স্থানীয় যুবক সুরজ গাইনের অভিযোগ, শুধু মেদিয়া গ্রামের রাস্তা নয়, ২০০২ সালে প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ সড়ক যোজনার আওতায় রামচন্দ্রপুর থেকে নয়াবস্তিয়া পর্যন্ত যে রাস্তা নির্মিত হয়েছিল, সেটিও দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে বেহাল হয়ে পড়ে রয়েছে। তার দাবি, প্রায় ২৪ বছর ধরে ওই রাস্তার কোনও বড় ধরনের সংস্কার হয়নি। ফলে রামচন্দ্রপুর, কুলিয়া, কাকড়াসূতি এবং মেদিয়া এই চারটি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ প্রতিদিন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। ভাঙাচোরা রাস্তায় নিয়মিত যাতায়াত করতে গিয়ে মোটরসাইকেলের টায়ার ও শকারসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। গ্রামবাসীদের দাবি, ২০০০ সালের ভয়াবহ বন্যায় এই এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেই বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বর্তমান রাজ্য সরকারের কাছে দ্রুত রাস্তা সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তারা। তাদের বিশ্বাস, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হলেই শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং প্রকৃত অর্থেই এই অঞ্চলের উন্নয়নের পথ সুগম হবে। বিষয়টি নিয়ে রামচন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান শফিকুল মন্ডল বলেন, "আমরা ইতিমধ্যে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি এবং রাস্তাটির টেন্ডার হয়ে গিয়েছে। ২লক্ষ ৭১ হাজার টাকার টেন্ডার হয়েছে ৬ কিলোমিটার রাস্তার জন্য। তবে কিছু প্রশাসনিক জটিলতার জন্য রাস্তার কাজ আপাতত থমকে রয়েছে। আমরা চাইবো যাতে দ্রুত এই রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু হোক।"
Aug 07 2026, 18:22
- Whatsapp
- Facebook
- Linkedin
- Google Plus
1- Whatsapp
- Facebook
- Linkedin
- Google Plus
0.1k