নতুন নিয়ম মেনেই এসএসি নিয়োগ, 'দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স' জানাল রাজ্য, ওবিসি সংরক্ষণ নিয়ে হাইকোর্টের নির্দেশ
*কলকাতা:* ২০২৫ সালে তৈরি হওয়া নতুন নিয়ম মেনেই স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে কলকাতা হাইকোর্টে জানাল রাজ্য সরকার। পাশাপাশি নিয়োগে 'দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স' নীতি বজায় রাখার কথাও স্পষ্ট করা হয়েছে।

শুক্রবার বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চে এসএলএসটি নিয়োগ সংক্রান্ত মামলার শুনানি ছিল। সেখানেই কমিশনের তরফে অবস্থান জানানো হয়। রাজ্যের সিনিয়র স্ট্যান্ডিং কাউন্সেল নীলাঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, "সরকারের একটাই অবস্থান, দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স। ২০২৫ সালের নিয়ম অনুযায়ীই দ্বিতীয় এসএলএসটি নিয়োগ হবে।"

তৃণমূল সরকারের আমলে এসএসসি নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। দুর্নীতির জেরে সুপ্রিম কোর্ট ২০১৬ সালের সম্পূর্ণ প্যানেল বাতিল করে দেয়। নতুন করে নিয়োগের নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত। সেই মতো ২০২৫ সালে নতুন নিয়ম তৈরি করে কমিশন এবং নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু হয়। কিন্তু অনেক চাকরিপ্রার্থী নতুন নিয়মকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে যান। তাঁদের বক্তব্য, ২০১৬ সালের নিয়োগ ২০১৬ সালের নিয়মেই করতে হবে।

বিচারপতি সিনহা বলেন, নতুন নিয়োগবিধিতে বয়সে ছাড়, শূন্যপদের সংখ্যা বৃদ্ধি ও নম্বর সংক্রান্ত একাধিক বিষয়ে আপত্তি রয়েছে। কমিশনকে সেই সব বিষয় মাথায় রাখতে হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে ওবিসি সংরক্ষণ। আগে অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির জন্য ১৭ শতাংশ আসন সংরক্ষিত ছিল। হাইকোর্ট ২০১০-এর পর দেওয়া প্রায় ৫ লক্ষ ওবিসি শংসাপত্র বাতিল করায় জটিলতা তৈরি হয়। নতুন নিয়মে ওবিসি সংরক্ষণ কমিয়ে ৭ শতাংশ করা হয়েছে।

এই প্রসঙ্গে আদালতের পর্যবেক্ষণ, ওবিসি সংক্রান্ত নীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্য এবং এসএসসিকে একসঙ্গে বসে সমন্বয়ের ভিত্তিতে বিষয়টি চূড়ান্ত করতে হবে। তা না হলে অহেতুক জটিলতা বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে আদালত।মামলার পরবর্তী শুনানি ২১ আগস্ট।
*খেলা* পঞ্চম জ্যাভেলিন ডে প্রতিযোগিতা ২০২৬-এ সেরা পারফর্মার হিসেবে উঠে এল নদীয়া ডি.এস.এ.;

বিভিন্ন বিভাগে মোহনবাগান এ.সি. ও ইস্ট বেঙ্গল ক্লাবের সাফল্য

*স্পোর্টস ডেস্ক:* কলকাতার সাই  স্পোর্টস কমপ্লেক্সে পশ্চিমবঙ্গ অ্যাথলেটিকস অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত পঞ্চম জ্যাভেলিন ডে প্রতিযোগিতা ২০২৬-এ পুরুষ ও মহিলাদের বিভিন্ন বয়সভিত্তিক বিভাগে প্রতিভার এক দুর্দান্ত প্রদর্শনী দেখা গেল। রাজ্যের বিভিন্ন জেলা ও ক্লাবের তরুণ অ্যাথলেটরা অত্যন্ত উদ্দীপনার সাথে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেন, যা রাজ্যে জ্যাভেলিন থ্রো-এর ক্রমবর্ধমান মানকে তুলে ধরে।

নদীয়া ডি.এস.এ.এই প্রতিযোগিতায় সবচেয়ে সফল জেলা হিসেবে উঠে এসেছে; তারা বিভিন্ন বয়সভিত্তিক বিভাগে তিনটি সোনা, দুটি রুপো এবং দুটি ব্রোঞ্জ পদক জয় করেছে। অনূর্ধ্ব-২০ বালক বিভাগে নারুগোপাল বিশ্বাস (৫৪.৭৪ মিটার) ও তন্ময় বৈদ্য (৫০.৫০ মিটার) যথাক্রমে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে জেলার আধিপত্য বজায় রাখে, এবং অনূর্ধ্ব-১৬ বালক বিভাগে শিরোপা জেতেন অনির্বাণ দাস (৪৮.৩৬ মিটার)। এছাড়া, অনূর্ধ্ব-১৬ বালিকা বিভাগে বিউটি ঘোষ (২৯.১১ মিটার) আরও একটি সোনা জয় করে নদীয়ার সাফল্যের মুকুটে নতুন পালক যোগ করেন।

ক্লাবগুলোর মধ্যে মোহনবাগান এ.সি. অসাধারণ পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছে; শুভেন্দু মণ্ডল সিনিয়র পুরুষ বিভাগে সোনা জিতেছেন এবং ৬৪.৯১ মিটারের থ্রো-এর মাধ্যমে প্রতিযোগিতার সেরা থ্রো-টি রেকর্ড করেছেন। পুরো প্রতিযোগিতায় সব বিভাগের মধ্যে তাঁর এই থ্রো-ই ছিল সর্বোচ্চ। জুনিয়র বিভাগেও মোহনবাগান উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে, যা বাংলার অ্যাথলেটিকস জগতে ক্লাবটির শক্তিশালী অবস্থানকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করেছে।

ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের পারফরম্যান্সও ছিল নজরকাড়া। দেবাশিস অধিকারী সিনিয়র পুরুষ বিভাগে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছেন এবং সোনালী দাস অনূর্ধ্ব-২০ মহিলা বিভাগে রুপো জয় করেছেন। পাশাপাশি, ক্লাবের আরও কয়েকজন অ্যাথলেট তাঁদের নিজ নিজ ইভেন্টে শীর্ষ প্রতিযোগীদের তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন। মহিলাদের বিভাগে পাইওনিয়ার এস.এ.-র কোয়েল ঘোষ ২৮.৭৬ মিটার দূরত্বে জ্যাভেলিন ছুঁড়ে সিনিয়র মহিলা বিভাগে স্বর্ণপদক জয় করে এক স্মরণীয় সাফল্য অর্জন করেন। দিনের অন্যতম হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে তিনি শিলিগুড়ি এম.কে.পি.-র পারমিতা লোধকে সামান্য ব্যবধানে পরাজিত করেন; পারমিতা ২৮.৭৩ মিটার দূরত্ব অতিক্রম করে রৌপ্যপদক জিতে নেন।

অন্যান্য উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্সের মধ্যে ছিল হুগলি ডি.এস.এ.-র অপূর্ব পালের সাফল্য, যিনি ৫২.৬৪ মিটার দূরত্বে জ্যাভেলিন ছুঁড়ে অনূর্ধ্ব-১৮ বালক বিভাগে শিরোপা জয় করেন। এছাড়া হুগলি ডি.এস.এ.-র রিনি পাখিরা অনূর্ধ্ব-১৮ বালিকা বিভাগে এবং বালি প্রতিভা ক্লাবের তৃপ্তি টুডু অনূর্ধ্ব-২০ মহিলা বিভাগে স্বর্ণপদক জয় করেন।

এই প্রতিযোগিতাটি আবারও প্রমাণ করল যে, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা ও ক্লাব থেকে জ্যাভেলিন খেলায় প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে আসছে। প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও খেলোয়াড়রা দুর্দান্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করেন; এই চ্যাম্পিয়নশিপ ভবিষ্যতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের জ্যাভেলিন থ্রোয়ার গড়ে তোলার ক্ষেত্রে রাজ্যের অঙ্গীকারকে আরও সুদৃঢ় করল। ছবি:সঞ্জয় হাজরা।
বসিরহাটে পথ নিরাপত্তা সপ্তাহের সূচনা, সচেতনতার বার্তা পুলিশের
বসিরহাট : পথ দুর্ঘটনা রোধে জনসচেতনতা বাড়াতে বসিরহাট পুলিশ জেলার উদ্যোগে বৃহস্পতিবার আয়োজিত হলো পথ নিরাপত্তা সপ্তাহের কর্মসূচি। অনুষ্ঠান উপলক্ষে বসিরহাট টাউন হলে স্বাস্থ্য ও চক্ষু পরীক্ষা শিবিরের আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি নিরাপদ সড়ক ব্যবহারের বার্তা পৌঁছে দিতে পুলিশ কর্মীদের নিয়ে একটি সচেতনতামূলক বাইক র‍্যালির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ‍্য পুলিশের এডিজি-আইজিপি দক্ষিণবঙ্গ ডঃ রাজেশ কুমার সিংহ, বারাসত রেঞ্জের ডিআইজি দীনেশ কুমার, বসিরহাট পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার অলকনন্দা ভাওয়াল, বসিরহাটের মহকুমা শাসক জসলীন কৌর ও বসিরহাট স্বাস্থ্য জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক রবিউল ইসলাম গায়েন সহ পুলিশ ও প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিকরা।
অনুষ্ঠানের সূচনায় পথ নিরাপত্তা সপ্তাহের তাৎপর্য তুলে ধরে উপস্থিত আধিকারিকরা বলেন, "সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি।" ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলা, নির্ধারিত গতিসীমা বজায় রাখা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি না চালানো এবং গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় মোটরসাইকেল আরোহীদের হেলমেট ব্যবহারের ওপর। পরে বসিরহাট টাউন হল প্রাঙ্গণ থেকে উপস্থিত অতিথিরা পতাকা নেড়ে পুলিশের বাইক র‍্যালির সূচনা করেন। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা পরিক্রমা করে র‍্যালিটি পথচারী ও যানবাহন চালকদের উদ্দেশে নিরাপদ সড়ক ব্যবহারের বার্তা পৌঁছে দেয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পথ নিরাপত্তা সপ্তাহ উপলক্ষে আগামী কয়েক দিন ধরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতামূলক প্রচার, ট্রাফিক বিধি সম্পর্কে প্রচারাভিযান এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে একাধিক কর্মসূচি নেওয়া হবে। প্রশাসনের আশা, এই উদ্যোগের মাধ্যমে পথ নিরাপত্তা সম্পর্কে মানুষের মধ্যে আরও বেশি সচেতনতা তৈরি হবে এবং সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা কমাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

ছবি: সৌমাভ মণ্ডল।
৭৮ বছর পরও পাকা রাস্তার অপেক্ষায় বাদুড়িয়ার মেদিয়া, দুর্ভোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষ
*সৌমাভ মণ্ডল,বসিরহাট* : স্বাধীনতার আটাত্তর বছর পরেও উন্নয়নের ছোঁয়া পৌঁছায়নি বসিরহাটের বাদুড়িয়া ব্লকের মেদিয়া গ্রামে। পাকা রাস্তার অভাবে প্রতিদিনই চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন গ্রামবাসীরা। গ্রীষ্মে ধুলোয় ঢেকে যায় রাস্তা, আর বর্ষা এলেই কাদায় ভরা খানা-খন্দে পরিণত হয় চলাচলের একমাত্র ভরসা। ফলে নিত্যদিন ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষ, স্কুল পড়ুয়া, সাইকেল ও মোটরসাইকেল আরোহীদের। স্থানীয়দের অভিযোগ, বহু বছর ধরে বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কাছে রাস্তা নির্মাণের দাবি জানানো হলেও বাস্তবে কোনও উদ্যোগ দেখা যায়নি। গ্রামবাসীদের দাবি, উন্নয়নের নানা প্রকল্পের কথা শোনা গেলেও মেদিয়া গ্রাম এখনও মৌলিক পরিকাঠামো থেকে বঞ্চিত।
মেদিয়া হাই স্কুলের শিক্ষক দীপক হালদার জানান, তিনি গত কুড়ি বছর ধরে ওই স্কুলে শিক্ষকতা করছেন। এই দীর্ঘ সময়েও গ্রামের রাস্তার কোনও উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়নি। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা কাদায় ভরে যায়। সেই কারণে বহু পড়ুয়া নিয়মিত স্কুলে আসতে পারে না। অসমান ও ভাঙাচোরা রাস্তায় চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই পড়ে গিয়ে চোট পাচ্ছে ছাত্রছাত্রীরা। তিনি আরও জানান, শহর থেকে আসা একাধিক শিক্ষক শুধুমাত্র যাতায়াতের দুর্ভোগের কারণে এই স্কুল ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। গ্রামের বাসিন্দা অজিত কুমার বৈদ্য বলেন, "অতীতে স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং তৎকালীন বিধায়ক কাজী আব্দুল রহিমের কাছেও একাধিকবার রাস্তা নির্মাণের আবেদন জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেই দাবি বাস্তবায়িত হয়নি।" স্থানীয় যুবক সুরজ গাইনের অভিযোগ, শুধু মেদিয়া গ্রামের রাস্তা নয়, ২০০২ সালে প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ সড়ক যোজনার আওতায় রামচন্দ্রপুর থেকে নয়াবস্তিয়া পর্যন্ত যে রাস্তা নির্মিত হয়েছিল, সেটিও দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে বেহাল হয়ে পড়ে রয়েছে। তার দাবি, প্রায় ২৪ বছর ধরে ওই রাস্তার কোনও বড় ধরনের সংস্কার হয়নি। ফলে রামচন্দ্রপুর, কুলিয়া, কাকড়াসূতি এবং মেদিয়া এই চারটি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ প্রতিদিন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। ভাঙাচোরা রাস্তায় নিয়মিত যাতায়াত করতে গিয়ে মোটরসাইকেলের টায়ার ও শকারসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। গ্রামবাসীদের দাবি, ২০০০ সালের ভয়াবহ বন্যায় এই এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেই বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বর্তমান রাজ্য সরকারের কাছে দ্রুত রাস্তা সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তারা। তাদের বিশ্বাস, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হলেই শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং প্রকৃত অর্থেই এই অঞ্চলের উন্নয়নের পথ সুগম হবে। বিষয়টি নিয়ে রামচন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান শফিকুল মন্ডল বলেন, "আমরা ইতিমধ্যে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি এবং রাস্তাটির টেন্ডার হয়ে গিয়েছে। ২লক্ষ ৭১ হাজার টাকার টেন্ডার হয়েছে ৬ কিলোমিটার রাস্তার জন্য। তবে কিছু প্রশাসনিক জটিলতার জন্য রাস্তার কাজ আপাতত থমকে রয়েছে। আমরা চাইবো যাতে দ্রুত এই রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু হোক।"
'টাকার পাহাড়' কাণ্ডে চর্চিত টুলু মণ্ডল এবার হাইকোর্টে, নিরাপত্তা চেয়ে মামলা

*কলকাতা:* সম্প্রতি 'টাকার পাহাড়' কাণ্ডে নাম জড়িয়ে রাজ্য রাজনীতি ও সংবাদ শিরোনামে থাকা টুলু মণ্ডল এবার আইনি সুরক্ষা চেয়ে দ্বারস্থ হলেন কলকাতা হাইকোর্টের।

বুধবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চে নিরাপত্তা বা 'রক্ষাকবচ' চেয়ে মামলা দায়ের করেন তিনি। মামলায় টুলু মণ্ডলের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁর ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। সেই আশঙ্কা থেকেই আদালতের কাছে পুলিশি নিরাপত্তা চাওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় বীরভূমের টুলু মণ্ডলের নাম সামনে আসার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে রাজ্যজুড়ে চর্চা শুরু হয়। সেই ঘটনার জেরেই এখন তিনি আদালতের শরণাপন্ন হলেন।

বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে মামলাটি দায়ের হয়েছে। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করবে বলে আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে।আপাতত আদালত কী নির্দেশ দেয় সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
অভিষেকের চোখের চিকিৎসায় বিদেশযাত্রার আর্জি খারিজ, এসএসকেএমে যেতে বলেছিল হাইকোর্ট
*কলকাতা* : চোখের চিকিৎসার জন্য অভিষেকের বিদেশ যাত্রায় না কলকাতা হাইকোর্টের। চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা মামলা খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট।

বুধবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ জানায়, চিকিৎসা সংক্রান্ত মতামতের জন্য বৃহস্পতিবার অভিষেককে এসএসকেএম হাসপাতালের চক্ষু বিভাগে যেতে হবে। সেখানকার অফথ্যালমলজিষ্ট বিভাগের প্রধান একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা খতিয়ে দেখবেন। তবে আদালতে অভিষেকের আইনজীবী জানিয়ে দেন, তাঁর মক্কেল এসএসকেএমে যাবেন না। তাকে তিন থেকে চার সপ্তাহের জন্য চিকিৎসা করতে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হোক।এরপরই পুরো মামলাটি খারিজ করেন বিচারপতি।

ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদের আর্জি নিয়ে সোমবার শুনানি হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টে। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ মামলাটি ৭ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়ে মামলা ফেরত পাঠায় কলকাতা হাইকোর্টে।

এদিনের শুনানিতে অভিষেকের আইনজীবী রেবেকা ম্যামেন জন বলেন, সুপ্রিম কোর্ট আগে ইডি মামলায় বিদেশযাত্রার অনুমতি মিলেছিল। রাজ্যের আইনজীবী রাজদীপ মজুমদার পাল্টা বলেন, ওই মামলায় অভিষেক অভিযুক্ত ছিলেন না। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন থাকায় বিদেশে গেলে তদন্তে সমস্যা হতে পারে বলেও আদালতে জানায় রাজ্য।
খেলা স্বপ্ন থেকে সাফল্যের পথে, CAB O-Level কোচিং কোর্সের শুভ সূচনা আজ
*কলকাতা:* তৃণমূল স্তর থেকে শক্তিশালী ক্রিকেট কাঠামো গড়তে কোচদের গুণগত মানকে প্রাধান্য দিচ্ছে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল। সেই লক্ষ্যেই আজ শুরু হল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল O-Level কোচিং কোর্স।

সেমিনার কমিটির সরাসরি তত্ত্বাবধানে কয়েক মাসব্যাপী এই নিবিড় প্রশিক্ষণ শিবিরের মাধ্যমে শুধুমাত্র উচ্চাকাঙ্ক্ষী কোচদের স্বপ্নই পূরণ হচ্ছে না, বরং বাংলা ক্রিকেটের দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের ভিতও মজবুত করছে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল।

BCCI অনুমোদিত পদ্ধতি এবং বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ দিয়ে ২৪০-এরও বেশি প্রার্থীকে তৈরি করছে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল। এর ফলে আগামী দিনে বাংলার ক্রিকেটাররা প্রত্যয়িত, দক্ষ ও আবেগী নেতৃত্বের হাত ধরেই এগোবেন।

আজ কোর্স শুরুর আগে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে কথা বলেন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার ও বাংলার সিনিয়র দলের বর্তমান প্রধান কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্লা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল-এর অ্যাপেক্স কাউন্সিলের সদস্য সুরজিৎ লাহিড়ী এবং সেমিনার কমিটির চেয়ারম্যান সৌগত চট্টোপাধ্যায়।

উৎসাহী ক্রিকেটপ্রেমী থেকে প্রত্যয়িত কোচ হয়ে ওঠার যাত্রা এখান থেকেই শুরু।
ছবি:সৌজন্যে সিএবি।
হাসপাতালের খাবারের বরাদ্দ বৃদ্ধি নিয়ে রাজ্যকে স্বস্তি, স্থগিতাদেশ খারিজ হাইকোর্টের

*কলকাতা:* সরকারি হাসপাতালগুলিতে রোগীদের খাবারের বরাদ্দ বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে আপাতত স্বস্তি পেল রাজ্য। সিঙ্গল বেঞ্চের স্থগিতাদেশ খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। মঙ্গলবার বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি অজয় গুপ্তের ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়।সম্প্রতি হাসপাতালগুলিতে উন্নতমানের খাবার দিতে মাথাপিছু বরাদ্দ ৫৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১০ টাকা করার সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য। এই নতুন রেটের টেন্ডারকে চ্যালেঞ্জ করে সরবরাহকারী সংস্থা বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের সিঙ্গল বেঞ্চে মামলা করে। তাদের বক্তব্য, বরাদ্দ নিয়ে মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় নতুন প্রাইস চার্ট কীভাবে তৈরি হয়। এরপর সিঙ্গল বেঞ্চ নতুন সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ দেয়।সিঙ্গল বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে যায় রাজ্য। শুনানিতে বিচারপতি শম্পা সরকার বলেন, প্রাইস ইনডেক্স বেড়েছে তা ঠিক। কিন্তু এভাবে চললে রাজ্য নতুন সিদ্ধান্ত নেবে কীভাবে। এরপরই ডিভিশন বেঞ্চ সিঙ্গল বেঞ্চের স্থগিতাদেশ খারিজ করে।আজ ৪ আগস্ট থেকে নতুন বরাদ্দ কার্যকর হওয়ার কথা। আদালতের এই নির্দেশের ফলে সেই প্রক্রিয়ায় আর বাধা থাকল না।
খেলা কমনওয়েলথে ৩৯ পদকের পর ক্রীড়াবিদদের উৎসাহ বাড়াতে পুরস্কারমূল্য বাড়াল কেন্দ্র
*নয়াদিল্লি*: কমনওয়েলথ গেমস শেষ। ১৩টি সোনা, ১৭টি রুপো ও ৯টি ব্রোঞ্জ নিয়ে মোট ৩৯টি পদক জিতে পদক তালিকায় চতুর্থ স্থানে শেষ করেছে ভারত। এবার দেশের ক্রীড়াবিদদের আরও উৎসাহ দিতে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় পদকজয়ীদের জন্য নগদ পুরস্কারের অঙ্ক বাড়াল কেন্দ্রীয় সরকার।

নতুন নীতি অনুযায়ী অলিম্পিক, প্যারালিম্পিক, এশিয়ান গেমস, কমনওয়েলথ গেমস, বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ, যুব ও প্যারা স্পোর্টস—সব ক্ষেত্রের জন্যই নতুন পুরস্কার তালিকা ঘোষণা করা হয়েছে।

সংশোধিত তালিকায় অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিকে সোনাজয়ী পাবেন ১ কোটি টাকা, রুপোজয়ী ৭৫ লক্ষ ও ব্রোঞ্জজয়ী ৫০ লক্ষ টাকা। ৪ বছর অন্তর আয়োজিত বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে সোনার জন্য ৮০ লক্ষ ও প্রতি বছর আয়োজিত বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে সোনার জন্য ৫০ লক্ষ টাকা।

এশিয়ান গেমসে সোনা ৫০ লক্ষ, রুপো ৩০ লক্ষ ও ব্রোঞ্জ ২৫ লক্ষ। কমনওয়েলথ গেমসে সোনা ২৫ লক্ষ, রুপো ১৫ লক্ষ ও ব্রোঞ্জ ১০ লক্ষ টাকা।

যুব অলিম্পিকের পদকজয়ীরা পাবেন ১৫ থেকে ২৫ লক্ষ। যুব এশিয়ান গেমস ও ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি গেমসে সর্বোচ্চ ১৫ লক্ষ। দাবায় গ্র্যান্ডমাস্টার হলে ১ কোটি ও আন্তর্জাতিক মাস্টার হলে ৭৫ লক্ষ। প্যারা অলিম্পিক, প্যারা এশিয়ান ও প্যারা কমনওয়েলথের পদকজয়ীদের জন্যও বড় অঙ্কের পুরস্কার। দৃষ্টিহীন ও শ্রবণহীন ক্রীড়াবিদরা পাবেন সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত।

কেন্দ্রের দাবি, এই নতুন পুরস্কার নীতি দেশের ক্রীড়াবিদদের আরও অনুপ্রাণিত করবে এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের সাফল্য বাড়াবে।

ছবি:সংগৃহীত।
জয়গাঁও স্থলবন্দর প্রকল্পে উচ্ছেদের মুখে ৮১ আদিবাসী পরিবার, মানবিক ব্যবস্থার রিপোর্ট  চাইল হাইকোর্ট
*কলকাতা*: আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পরিকাঠামো উন্নয়ন বনাম প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বসবাসকারী মানুষের জীবিকা—এই টানাপোড়েনে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালত বলল, আইন দেখার পাশাপাশি মানবিক দায়বদ্ধতার কথাও ভাবতে হবে।

সোমবার আলিপুরদুয়ারের তোর্সা চা-বাগান মৌজায় প্রস্তাবিত জয়গাঁও স্থলবন্দর নির্মাণ সংক্রান্ত জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ কেন্দ্র ও রাজ্যকে নির্দেশ দেয়, উচ্ছেদের মুখে থাকা পরিবারগুলির জন্য মানবিক ভিত্তিতে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায় তা জানিয়ে রিপোর্ট জমা দিতে। মামলাকারীকেও বিস্তারিত হলফনামা দিতে বলা হয়েছে।

অভিযোগ, প্রকল্পের জন্য ৮১টি আদিবাসী পরিবারকে এলাকা ছাড়তে হবে। তাঁদের দাবি, ১৯৪০ সাল থেকে সেখানে বসবাস, ভোটার কার্ড-আধারেও সেই ঠিকানা রয়েছে। মামলাকারীর আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, "উন্নয়ন হোক, কিন্তু মানুষের অস্তিত্ব মুছে দিয়ে নয়।"
রাজ্যের বক্তব্য, জমি সরকারি, বেআইনি দখল রয়েছে।

আদালত পুনর্বাসন বা বিকল্প ব্যবস্থার বিষয়ে বিবেচনার কথা বলেছে। আগামী ১৩ আগস্ট পরবর্তী শুনানি।