৭৮ বছর পরও পাকা রাস্তার অপেক্ষায় বাদুড়িয়ার মেদিয়া, দুর্ভোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষ
*সৌমাভ মণ্ডল,বসিরহাট* : স্বাধীনতার আটাত্তর বছর পরেও উন্নয়নের ছোঁয়া পৌঁছায়নি বসিরহাটের বাদুড়িয়া ব্লকের মেদিয়া গ্রামে। পাকা রাস্তার অভাবে প্রতিদিনই চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন গ্রামবাসীরা। গ্রীষ্মে ধুলোয় ঢেকে যায় রাস্তা, আর বর্ষা এলেই কাদায় ভরা খানা-খন্দে পরিণত হয় চলাচলের একমাত্র ভরসা। ফলে নিত্যদিন ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষ, স্কুল পড়ুয়া, সাইকেল ও মোটরসাইকেল আরোহীদের। স্থানীয়দের অভিযোগ, বহু বছর ধরে বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কাছে রাস্তা নির্মাণের দাবি জানানো হলেও বাস্তবে কোনও উদ্যোগ দেখা যায়নি। গ্রামবাসীদের দাবি, উন্নয়নের নানা প্রকল্পের কথা শোনা গেলেও মেদিয়া গ্রাম এখনও মৌলিক পরিকাঠামো থেকে বঞ্চিত।
মেদিয়া হাই স্কুলের শিক্ষক দীপক হালদার জানান, তিনি গত কুড়ি বছর ধরে ওই স্কুলে শিক্ষকতা করছেন। এই দীর্ঘ সময়েও গ্রামের রাস্তার কোনও উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়নি। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা কাদায় ভরে যায়। সেই কারণে বহু পড়ুয়া নিয়মিত স্কুলে আসতে পারে না। অসমান ও ভাঙাচোরা রাস্তায় চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই পড়ে গিয়ে চোট পাচ্ছে ছাত্রছাত্রীরা। তিনি আরও জানান, শহর থেকে আসা একাধিক শিক্ষক শুধুমাত্র যাতায়াতের দুর্ভোগের কারণে এই স্কুল ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। গ্রামের বাসিন্দা অজিত কুমার বৈদ্য বলেন, "অতীতে স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং তৎকালীন বিধায়ক কাজী আব্দুল রহিমের কাছেও একাধিকবার রাস্তা নির্মাণের আবেদন জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেই দাবি বাস্তবায়িত হয়নি।" স্থানীয় যুবক সুরজ গাইনের অভিযোগ, শুধু মেদিয়া গ্রামের রাস্তা নয়, ২০০২ সালে প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ সড়ক যোজনার আওতায় রামচন্দ্রপুর থেকে নয়াবস্তিয়া পর্যন্ত যে রাস্তা নির্মিত হয়েছিল, সেটিও দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে বেহাল হয়ে পড়ে রয়েছে। তার দাবি, প্রায় ২৪ বছর ধরে ওই রাস্তার কোনও বড় ধরনের সংস্কার হয়নি। ফলে রামচন্দ্রপুর, কুলিয়া, কাকড়াসূতি এবং মেদিয়া এই চারটি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ প্রতিদিন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। ভাঙাচোরা রাস্তায় নিয়মিত যাতায়াত করতে গিয়ে মোটরসাইকেলের টায়ার ও শকারসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। গ্রামবাসীদের দাবি, ২০০০ সালের ভয়াবহ বন্যায় এই এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেই বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বর্তমান রাজ্য সরকারের কাছে দ্রুত রাস্তা সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তারা। তাদের বিশ্বাস, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হলেই শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং প্রকৃত অর্থেই এই অঞ্চলের উন্নয়নের পথ সুগম হবে। বিষয়টি নিয়ে রামচন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান শফিকুল মন্ডল বলেন, "আমরা ইতিমধ্যে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি এবং রাস্তাটির টেন্ডার হয়ে গিয়েছে। ২লক্ষ ৭১ হাজার টাকার টেন্ডার হয়েছে ৬ কিলোমিটার রাস্তার জন্য। তবে কিছু প্রশাসনিক জটিলতার জন্য রাস্তার কাজ আপাতত থমকে রয়েছে। আমরা চাইবো যাতে দ্রুত এই রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু হোক।"
'টাকার পাহাড়' কাণ্ডে চর্চিত টুলু মণ্ডল এবার হাইকোর্টে, নিরাপত্তা চেয়ে মামলা

*কলকাতা:* সম্প্রতি 'টাকার পাহাড়' কাণ্ডে নাম জড়িয়ে রাজ্য রাজনীতি ও সংবাদ শিরোনামে থাকা টুলু মণ্ডল এবার আইনি সুরক্ষা চেয়ে দ্বারস্থ হলেন কলকাতা হাইকোর্টের।

বুধবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চে নিরাপত্তা বা 'রক্ষাকবচ' চেয়ে মামলা দায়ের করেন তিনি। মামলায় টুলু মণ্ডলের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁর ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। সেই আশঙ্কা থেকেই আদালতের কাছে পুলিশি নিরাপত্তা চাওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় বীরভূমের টুলু মণ্ডলের নাম সামনে আসার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে রাজ্যজুড়ে চর্চা শুরু হয়। সেই ঘটনার জেরেই এখন তিনি আদালতের শরণাপন্ন হলেন।

বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে মামলাটি দায়ের হয়েছে। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করবে বলে আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে।আপাতত আদালত কী নির্দেশ দেয় সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
অভিষেকের চোখের চিকিৎসায় বিদেশযাত্রার আর্জি খারিজ, এসএসকেএমে যেতে বলেছিল হাইকোর্ট
*কলকাতা* : চোখের চিকিৎসার জন্য অভিষেকের বিদেশ যাত্রায় না কলকাতা হাইকোর্টের। চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা মামলা খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট।

বুধবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ জানায়, চিকিৎসা সংক্রান্ত মতামতের জন্য বৃহস্পতিবার অভিষেককে এসএসকেএম হাসপাতালের চক্ষু বিভাগে যেতে হবে। সেখানকার অফথ্যালমলজিষ্ট বিভাগের প্রধান একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা খতিয়ে দেখবেন। তবে আদালতে অভিষেকের আইনজীবী জানিয়ে দেন, তাঁর মক্কেল এসএসকেএমে যাবেন না। তাকে তিন থেকে চার সপ্তাহের জন্য চিকিৎসা করতে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হোক।এরপরই পুরো মামলাটি খারিজ করেন বিচারপতি।

ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদের আর্জি নিয়ে সোমবার শুনানি হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টে। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ মামলাটি ৭ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়ে মামলা ফেরত পাঠায় কলকাতা হাইকোর্টে।

এদিনের শুনানিতে অভিষেকের আইনজীবী রেবেকা ম্যামেন জন বলেন, সুপ্রিম কোর্ট আগে ইডি মামলায় বিদেশযাত্রার অনুমতি মিলেছিল। রাজ্যের আইনজীবী রাজদীপ মজুমদার পাল্টা বলেন, ওই মামলায় অভিষেক অভিযুক্ত ছিলেন না। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন থাকায় বিদেশে গেলে তদন্তে সমস্যা হতে পারে বলেও আদালতে জানায় রাজ্য।
খেলা স্বপ্ন থেকে সাফল্যের পথে, CAB O-Level কোচিং কোর্সের শুভ সূচনা আজ
*কলকাতা:* তৃণমূল স্তর থেকে শক্তিশালী ক্রিকেট কাঠামো গড়তে কোচদের গুণগত মানকে প্রাধান্য দিচ্ছে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল। সেই লক্ষ্যেই আজ শুরু হল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল O-Level কোচিং কোর্স।

সেমিনার কমিটির সরাসরি তত্ত্বাবধানে কয়েক মাসব্যাপী এই নিবিড় প্রশিক্ষণ শিবিরের মাধ্যমে শুধুমাত্র উচ্চাকাঙ্ক্ষী কোচদের স্বপ্নই পূরণ হচ্ছে না, বরং বাংলা ক্রিকেটের দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের ভিতও মজবুত করছে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল।

BCCI অনুমোদিত পদ্ধতি এবং বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ দিয়ে ২৪০-এরও বেশি প্রার্থীকে তৈরি করছে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল। এর ফলে আগামী দিনে বাংলার ক্রিকেটাররা প্রত্যয়িত, দক্ষ ও আবেগী নেতৃত্বের হাত ধরেই এগোবেন।

আজ কোর্স শুরুর আগে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে কথা বলেন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার ও বাংলার সিনিয়র দলের বর্তমান প্রধান কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্লা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল-এর অ্যাপেক্স কাউন্সিলের সদস্য সুরজিৎ লাহিড়ী এবং সেমিনার কমিটির চেয়ারম্যান সৌগত চট্টোপাধ্যায়।

উৎসাহী ক্রিকেটপ্রেমী থেকে প্রত্যয়িত কোচ হয়ে ওঠার যাত্রা এখান থেকেই শুরু।
ছবি:সৌজন্যে সিএবি।
হাসপাতালের খাবারের বরাদ্দ বৃদ্ধি নিয়ে রাজ্যকে স্বস্তি, স্থগিতাদেশ খারিজ হাইকোর্টের

*কলকাতা:* সরকারি হাসপাতালগুলিতে রোগীদের খাবারের বরাদ্দ বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে আপাতত স্বস্তি পেল রাজ্য। সিঙ্গল বেঞ্চের স্থগিতাদেশ খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। মঙ্গলবার বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি অজয় গুপ্তের ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়।সম্প্রতি হাসপাতালগুলিতে উন্নতমানের খাবার দিতে মাথাপিছু বরাদ্দ ৫৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১০ টাকা করার সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য। এই নতুন রেটের টেন্ডারকে চ্যালেঞ্জ করে সরবরাহকারী সংস্থা বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের সিঙ্গল বেঞ্চে মামলা করে। তাদের বক্তব্য, বরাদ্দ নিয়ে মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় নতুন প্রাইস চার্ট কীভাবে তৈরি হয়। এরপর সিঙ্গল বেঞ্চ নতুন সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ দেয়।সিঙ্গল বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে যায় রাজ্য। শুনানিতে বিচারপতি শম্পা সরকার বলেন, প্রাইস ইনডেক্স বেড়েছে তা ঠিক। কিন্তু এভাবে চললে রাজ্য নতুন সিদ্ধান্ত নেবে কীভাবে। এরপরই ডিভিশন বেঞ্চ সিঙ্গল বেঞ্চের স্থগিতাদেশ খারিজ করে।আজ ৪ আগস্ট থেকে নতুন বরাদ্দ কার্যকর হওয়ার কথা। আদালতের এই নির্দেশের ফলে সেই প্রক্রিয়ায় আর বাধা থাকল না।
খেলা কমনওয়েলথে ৩৯ পদকের পর ক্রীড়াবিদদের উৎসাহ বাড়াতে পুরস্কারমূল্য বাড়াল কেন্দ্র
*নয়াদিল্লি*: কমনওয়েলথ গেমস শেষ। ১৩টি সোনা, ১৭টি রুপো ও ৯টি ব্রোঞ্জ নিয়ে মোট ৩৯টি পদক জিতে পদক তালিকায় চতুর্থ স্থানে শেষ করেছে ভারত। এবার দেশের ক্রীড়াবিদদের আরও উৎসাহ দিতে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় পদকজয়ীদের জন্য নগদ পুরস্কারের অঙ্ক বাড়াল কেন্দ্রীয় সরকার।

নতুন নীতি অনুযায়ী অলিম্পিক, প্যারালিম্পিক, এশিয়ান গেমস, কমনওয়েলথ গেমস, বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ, যুব ও প্যারা স্পোর্টস—সব ক্ষেত্রের জন্যই নতুন পুরস্কার তালিকা ঘোষণা করা হয়েছে।

সংশোধিত তালিকায় অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিকে সোনাজয়ী পাবেন ১ কোটি টাকা, রুপোজয়ী ৭৫ লক্ষ ও ব্রোঞ্জজয়ী ৫০ লক্ষ টাকা। ৪ বছর অন্তর আয়োজিত বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে সোনার জন্য ৮০ লক্ষ ও প্রতি বছর আয়োজিত বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে সোনার জন্য ৫০ লক্ষ টাকা।

এশিয়ান গেমসে সোনা ৫০ লক্ষ, রুপো ৩০ লক্ষ ও ব্রোঞ্জ ২৫ লক্ষ। কমনওয়েলথ গেমসে সোনা ২৫ লক্ষ, রুপো ১৫ লক্ষ ও ব্রোঞ্জ ১০ লক্ষ টাকা।

যুব অলিম্পিকের পদকজয়ীরা পাবেন ১৫ থেকে ২৫ লক্ষ। যুব এশিয়ান গেমস ও ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি গেমসে সর্বোচ্চ ১৫ লক্ষ। দাবায় গ্র্যান্ডমাস্টার হলে ১ কোটি ও আন্তর্জাতিক মাস্টার হলে ৭৫ লক্ষ। প্যারা অলিম্পিক, প্যারা এশিয়ান ও প্যারা কমনওয়েলথের পদকজয়ীদের জন্যও বড় অঙ্কের পুরস্কার। দৃষ্টিহীন ও শ্রবণহীন ক্রীড়াবিদরা পাবেন সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত।

কেন্দ্রের দাবি, এই নতুন পুরস্কার নীতি দেশের ক্রীড়াবিদদের আরও অনুপ্রাণিত করবে এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের সাফল্য বাড়াবে।

ছবি:সংগৃহীত।
জয়গাঁও স্থলবন্দর প্রকল্পে উচ্ছেদের মুখে ৮১ আদিবাসী পরিবার, মানবিক ব্যবস্থার রিপোর্ট  চাইল হাইকোর্ট
*কলকাতা*: আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পরিকাঠামো উন্নয়ন বনাম প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বসবাসকারী মানুষের জীবিকা—এই টানাপোড়েনে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালত বলল, আইন দেখার পাশাপাশি মানবিক দায়বদ্ধতার কথাও ভাবতে হবে।

সোমবার আলিপুরদুয়ারের তোর্সা চা-বাগান মৌজায় প্রস্তাবিত জয়গাঁও স্থলবন্দর নির্মাণ সংক্রান্ত জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ কেন্দ্র ও রাজ্যকে নির্দেশ দেয়, উচ্ছেদের মুখে থাকা পরিবারগুলির জন্য মানবিক ভিত্তিতে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায় তা জানিয়ে রিপোর্ট জমা দিতে। মামলাকারীকেও বিস্তারিত হলফনামা দিতে বলা হয়েছে।

অভিযোগ, প্রকল্পের জন্য ৮১টি আদিবাসী পরিবারকে এলাকা ছাড়তে হবে। তাঁদের দাবি, ১৯৪০ সাল থেকে সেখানে বসবাস, ভোটার কার্ড-আধারেও সেই ঠিকানা রয়েছে। মামলাকারীর আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, "উন্নয়ন হোক, কিন্তু মানুষের অস্তিত্ব মুছে দিয়ে নয়।"
রাজ্যের বক্তব্য, জমি সরকারি, বেআইনি দখল রয়েছে।

আদালত পুনর্বাসন বা বিকল্প ব্যবস্থার বিষয়ে বিবেচনার কথা বলেছে। আগামী ১৩ আগস্ট পরবর্তী শুনানি।
ভাড়াটে উচ্ছেদে বয়স্ক নাগরিক আইন প্রয়োগ যাবে না, রায় কলকাতা হাইকোর্টের

*কলকাতা*: মালিক-ভাড়াটে বিবাদে ভাড়াটেকে উচ্ছেদ করতে 'মা-বাবা ও বয়স্ক নাগরিকদের ভরণপোষণ ও কল্যাণ আইন, ২০০৭' প্রয়োগ করা যাবে না। কলকাতা হাইকোর্ট স্পষ্ট করল, এই ধরনের বিরোধ সংশ্লিষ্ট ভাড়াটে আইন অনুযায়ী উপযুক্ত দেওয়ানি আদালতেই নিষ্পত্তি করতে হবে।

বিচারপতি স্মিতা দাস দে শিলিগুড়ির সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেটের(এসডিএম)একটি নির্দেশ বাতিল করে দেন। ওই নির্দেশ এসডিএম বয়স্ক নাগরিক আইনের ২ ধারায় এক ভাড়াটেকে বাড়ি খালি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ, এসডিএম আইনের আওতার বাইরে গিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বয়স্ক জমির মালিক মানসিক অশান্তির অভিযোগ তুলে ২০০৭ সালের আইনে উচ্ছেদ চেয়েছিলেন। ভাড়াটের অভিযোগ, তাঁকে নোটিস দেওয়া হয়নি এবং শুনানির সুযোগও দেওয়া হয়নি। হাইকোর্ট জানায়, উচ্ছেদের মামলা ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ প্রিমিসেস টেন্যান্সি আইন অনুযায়ী দেওয়ানি আদালতেই করতে হবে।
খেলা জার্মানিতে আন্ডার-১৪ ডাবলস জিতলেন রাউন্ডগ্লাস টেনিস অ্যাকাডেমির পুনীত মনোহর
*স্পোর্টস ডেস্ক*: জার্মানির ডুরেনে অনুষ্ঠিত ৪৯তম ইন্টারন্যাশনাল ডয়েচে টেনিসমেইস্টারশাফটেন আন্ডার-১৪ প্রতিযোগিতার ডাবলস খেতাব জিতলেন রাউন্ডগ্লাস টেনিস অ্যাকাডেমির পুনীত মনোহর।

জিএসপিডিপি ট্যুরিং টিমের হয়ে খেলে দক্ষিণ কোরিয়ার মিংগিয়ন চোইয়ের সঙ্গে জুটি বেঁধে খেতাব জেতেন এই ভারতীয় তরুণ। টেনিস ইউরোপের সুপার ক্যাটেগরির পাঁচটি প্রতিযোগিতার অন্যতম এই টুর্নামেন্টে দু’জনে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখান।

প্রি-কোয়ার্টারে থাইল্যান্ড-দক্ষিণ কোরিয়া জুটি, কোয়ার্টারে কলম্বিয়া-আর্জেন্টিনা জুটি এবং সেমিতে ইতালির জুটিকে হারানোর পর ফাইনালে মেক্সিকো-ব্রাজিল জুটি চোটের কারণে নাম তুলে নিলে ভারত-কোরিয়া জুটি খেতাব পায়।

পুনীতের এই সাফল্য ভারতীয় টেনিসে উদীয়মান প্রতিভা তৈরিতে রাউন্ডগ্লাস অ্যাকাডেমির ভূমিকাকে আরও শক্তিশালী করল।

ছবি:সংগৃহীত।
জমি-দুর্নীতিতে আগাম জামিন খারিজ, গ্রেফতারিতে বাধা নেই অভিষেকের আপ্তসহায়কের
*কলকাতা*: জমি-দুর্নীতি মামলায় আগাম রক্ষাকবচের আবেদন খারিজ হয়ে গেল তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের। সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বেঞ্চে শুনানি শেষে হাইকোর্ট তাঁর আগাম জামিনের আবেদন নাকচ করে দেয়। ফলে ওই মামলায় সুমিতের গ্রেফতারিতে আপাতত আর কোনও বাধা রইল না।

পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে সরকারি জমি ভুয়ো নথি তৈরি করে দখল ও বিক্রির অভিযোগ ওঠে সুমিতের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, টাকার বিনিময়ে সরকারি জমি বিক্রি হত এবং সবটাই হত অভিষেকের আপ্তসহায়কের সম্মতিতে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে সুমিতের খোঁজ পায়নি পুলিশ। পরে মেদিনীপুরের মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

পরোয়ানা জারির দিনই আইনজীবীর মাধ্যমে আগাম জামিন চেয়ে হাইকোর্টে যান সুমিত। জরুরি শুনানি ও বেঞ্চ বদলের আবেদন খারিজ হওয়ার পর নিয়মিত বেঞ্চে শুনানি হয়। শুনানিতে আদালত আগাম জামিন দিতে অস্বীকার করে।

জমি মামলায় নাম জড়ানোর পর থেকেই ‘গা ঢাকা’ দিয়েছেন সুমিত। তাঁর খোঁজে শালবনি থানার পুলিশ প্রথমে কালীঘাটে অভিষেকের বাড়ি এবং পরে হুগলির শ্রীরামপুরে শ্বশুরবাড়িতে অভিযান চালায়। দু’জায়গাতেই তাঁর হদিস মেলেনি।


তবে,ডেবরার একটি চাকরি-দুর্নীতি মামলায় সুমিতের নাম জড়ানোয় তিনিও আগাম জামিন চান। সেই আবেদন শর্তসাপেক্ষে মঞ্জুর করেছেন বিচারপতি ঘোষ। আদালতের নির্দেশ, ১০ দিনের মধ্যে তদন্তকারী আধিকারিকের কাছে হাজিরা দিতে হবে। পরে ডাকলে ফের হাজিরা দিতে হবে তাঁকে।