বসিরহাটে মানবসেবায় এগিয়ে এলো মেডিক্যাল ও সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভদের সংগঠন
বসিরহাট : সামাজিক দায়বদ্ধতার অঙ্গ হিসেবে স্বেচ্ছায় রক্তদানের বার্তা ছড়িয়ে দিতে এবং প্রয়োজনে রক্তের অভাবে যাতে কোনও রোগীকে সমস্যায় পড়তে না হয়, সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে এক স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবিরের আয়োজন করলো বসিরহাটের মেডিক‍্যাল ও সেলস্ রিপ্রেজেন্টেটিভরা। অল ওয়েস্ট বেঙ্গল সেলস্ রিপ্রেজেন্টেটিভস ইউনিয়নের বসিরহাট আঞ্চলিক শাখার উদ্যোগে মঙ্গলবার এই রক্তদান শিবির অনুষ্ঠিত হয় বসিরহাট জেলা হাসপাতালে। ব্যানার, পোস্টার এবং সদস্যদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে রক্তদানের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। কর্মসূচিতে ইউনিয়নের সদস্যদের পাশাপাশি এলাকার সাধারণ মানুষকেও স্বেচ্ছায় রক্তদানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
বর্তমান সময়ে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশু, প্রসূতি, দুর্ঘটনাগ্রস্ত রোগী, অস্ত্রোপচার-সহ বিভিন্ন জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে নিয়মিত রক্তের প্রয়োজন হয়। কিন্তু বহু সময়ই রক্তের সংকট দেখা দেয়। সেই পরিস্থিতিতে স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এক ইউনিট রক্ত একাধিক রোগীর জীবন বাঁচাতে সাহায্য করতে পারে। এই কারণেই বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এবং শ্রমিক সংগঠন নিয়মিত রক্তদান শিবিরের আয়োজন করে থাকে।
আয়োজক সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রক্তদান একটি সম্পূর্ণ নিরাপদ ও মানবিক উদ্যোগ। সুস্থ ও প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ নিয়ম মেনে রক্তদান করলে তার শরীরে কোনও ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে না। বরং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং সামাজিক দায়িত্ব পালনের সুযোগ তৈরি হয়। রক্তদানকে কেন্দ্র করে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিই এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।
বসিরহাট জুড়ে বিভিন্ন সময়ে রক্তের চাহিদা মেটাতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই এই শিবিরে বিপুল সংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণের আশাবাদী আয়োজকরা। তাদের মতে, সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ এগিয়ে এলে রক্তের অভাবে কোনও রোগীর চিকিৎসা যাতে ব্যাহত না হয়, সেই লক্ষ্য অনেকটাই সফল হবে। মানবিক এই উদ্যোগের মাধ্যমে রক্তদানের গুরুত্ব আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি সমাজে স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডের প্রতি আগ্রহও বাড়বে বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা।
অভিযোগের পরও গ্রেপ্তার নয় তৃণমূল কাউন্সিলর! হাসনাবাদ থানায় বিক্ষোভে বিজেপি

বসিরহাট : তৃণমূল নেতাদের গ্রেপ্তারের দাবিতে হাসনাবাদ থানায় বিজেপির বিক্ষোভ, জমা পড়ল ডেপুটেশন। বসিরহাটের হাসনাবাদ থানার সামনে তৃণমূলের একাধিক কাউন্সিলর ও নেতার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তারির দাবিতে বিক্ষোভে সামিল হলেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা। বিক্ষোভের পাশাপাশি থানায় একটি ডেপুটেশনও জমা দেওয়া হয়। অভিযোগ, একাধিক লিখিত অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনও পদক্ষেপ করেনি। বিজেপির অভিযোগ, টাকি টাউন তৃণমূল সভাপতি তথা ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর চিন্ময় মণ্ডল, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রদ্যুৎ দাস এবং টাকির তৎকালীন তৃণমূল নেত্রী তথা বর্তমান বিজেপি নেত্রী প্রিয়াঙ্কা ব্যানার্জি সহ আরও কয়েকজন তৃণমূল নেতা-নেত্রীর বিরুদ্ধে হাসনাবাদ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু অভিযোগ জমা পড়ার পরও পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করেনি বলে দাবি বিজেপির। এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা থানার সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। তাদের দাবি, আইনের চোখে সকলেই সমান। তাই অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে সাধারণ মানুষের আইন-ব্যবস্থার উপর আস্থা নষ্ট হবে। অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত করে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে হবে বলেও দাবি জানান বিক্ষোভকারীরা। বিক্ষোভ শেষে একটি প্রতিনিধি দল হাসনাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিকের কাছে স্মারকলিপি তুলে দেয়। সেখানে দ্রুত তদন্ত সম্পূর্ণ করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
বিজেপি নেতৃত্ব হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, দাবি পূরণ না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর গণআন্দোলনের পথে হাঁটবে তারা। অন্যদিকে, এই অভিযোগের বিষয়ে তৃণমূলের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
দিল্লির যন্তর মন্তরে ছাত্র-যুবদের উপর পুলিশি লাঠিচার্জের ঘটনায়  কলকাতা হাইকোর্টে ধিক্কার মিছিল আইনজীবীদের

নিজস্ব প্রতিনিধি:দিল্লির যন্তর মন্তরে ছাত্র-যুবদের উপর পুলিশি লাঠিচার্জের ঘটনায় শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টে ধিক্কার মিছিল বের করলেন আইনজীবীরা । আর সেই মিছিল থেকেই এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে দেশের প্রধান বিচারপতির মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য ৷

এদিন তিনি বলেন, "সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট মানুষের শেষ ভরসার জায়গা । সেই ভরসার জায়গাটা ওরা নষ্ট করছে । এখন প্রধান বিচারপতি বলছেন, সময় নষ্ট করবেন না । কতটা নির্মম হলে...। আপনাদের মনে থাকতে পারে, কোভিডের সময় বিরক্তি প্রকাশ করেছিল সুপ্রিম কোর্ট, বলেছিল মাথা ব্যাথা । পরে অবশ্য ভুল সংশোধন করে এ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করেছিল । আমি জানি, মাঝরাতে কোর্ট বসানো যায় পুঁজিপতিদের স্বার্থে, ক্ষমতাবানদের স্বার্থে ৷ আর ছাত্র-যুবদের উপর আক্রমণ হলে বিবেচনার জায়গা নেই । এই ভাবেই গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে । এর বিরুদ্ধেই আমাদের প্রতিবাদ ৷"

উল্লেখ্য, দিন দুয়েক আগে সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবীরা যন্তর মন্তরে ছাত্র-যুবদের উপর পুলিশি লাঠিচার্জের ভিডিয়ো দেখাতে চাইলে প্রধান বিচারপতি বলেন, "আমরা এই ভিডিয়ো দেখতে আগ্রহী নই ৷ আমাদের কাছে সময় নেই ৷ আমরা ভিডিয়ো দেখতে চাই না ৷"

প্রসঙ্গত, দিল্লিতে ছাত্র ও যুবদের উপর 'পুলিশি আক্রমণের' বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিলে এদিন যোগ দেন বাম, তৃণমূল ও কংগ্রেসপন্থী আইনজীবীরা । আন্দোলনের কর্মসূচি হিসেবে, আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে ভারতীয় সংবিধানের প্রস্তাবনা পাঠ করা হয় কলকাতা হাইকোর্টের বি গেটের সামনে । সেখান থেকেই ধিক্কার মিছিলে অংশ নেন আইনজীবীরা ।
রাতভর বৃষ্টিতে জলমগ্ন সন্দেশখালি গ্রামীণ হাসপাতাল, চরম ভোগান্তিতে রোগী ও পরিজনরা
বসিরহাট : রাতভর মুষলধারে বৃষ্টিতে জলমগ্ন সন্দেশখালি গ্রামীণ হাসপাতাল। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, করিডর এবং ওষুধ সংরক্ষণের ঘরে বৃষ্টির জল ঢুকে পড়ায় চরম ভোগান্তির মুখে পড়লেন রোগী, তাদের পরিজন এবং হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীরা। ভোর থেকেই চিকিৎসা পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে এলাকা জুড়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে টানা ভারী বৃষ্টির জেরে হাসপাতাল চত্বর এবং ভবনের একাধিক অংশে জল জমে যায়। শুক্রবার সকালে চিকিৎসার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে হাসপাতালে এসে রোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা দেখেন, হাসপাতালের ভিতরে হাঁটুসমান জল জমে রয়েছে। করিডর দিয়ে ঢেউ খেলিয়ে জল প্রবাহিত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে রোগীদের যাতায়াত যেমন কঠিন হয়ে পড়ে, তেমনি চিকিৎসা পরিষেবাও স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে যাওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, হাসপাতালের মেডিসিন সংরক্ষণের ঘরেও জল ঢুকে পড়েছে। ফলে বিপুল পরিমাণ ওষুধ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হাসপাতালের বিভিন্ন ঘর এবং পরিষেবা বিভাগের কাজও জল জমে যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ। রোগীদের পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদেরও প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে পরিষেবা দিতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই হাসপাতালের নিকাশি ব্যবস্থার বেহাল অবস্থা। বৃষ্টির সময় সামান্য জল পড়লেই হাসপাতাল চত্বরে জল জমে যায়। তাদের দাবি, গত ১৫ বছরে হাসপাতালের স্থায়ী জলনিকাশি ব্যবস্থার উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতি বর্ষাতেই একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে এবং তার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
স্থানীয়দের দাবি, সন্দেশখালি ও আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের চিকিৎসার অন্যতম প্রধান ভরসা এই গ্রামীণ হাসপাতাল। তাই হাসপাতালের এমন দূরবস্থা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দ্রুত স্থায়ী জলনিকাশি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, হাসপাতাল চত্বর থেকে জল সরানো এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিকাঠামোর সংস্কারের দাবি তুলেছেন তারা। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে চিকিৎসা পরিষেবা আরও ব্যাহত হবে এবং সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের মুখে পড়বেন। তবে এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের বক্তব্য, অতীতের সরকারের আমলে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। বর্তমানে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মাত্র কয়েক মাস হয়েছে। তাই তারা আশা করছেন, প্রশাসন দ্রুত বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবে এবং হাসপাতালের নিকাশি ও পরিকাঠামোর উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, যাতে ভবিষ্যতে বর্ষার সময় আর এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়।
এবিষয়ে সন্দেশখালির বিধায়ক সনৎ সর্দার বলেন, "শুধু খুলনা হাসপাতাল নয়, গোটা এলাকাই জলমগ্ন হয়ে রয়েছে। বিগত সরকার কাজ না করার ফল আজ সাধারণ মানুষকে ভুগতে হচ্ছে। তবে আমি কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছি, সাধারণ মানুষ যাতে সঠিক পরিষেবা পায়। যাতে অতি দ্রুত জল নিকাশ হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।"
ব্যারাকপুর থেকে বাবুঘাট চালু হচ্ছে ওয়াটার ট্যাক্সি
নিজস্ব প্রতিনিধি: সড়ক পথের চাপ কমাতেও যান জট এড়াতে উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুর থেকে বাবুঘাট চালু হতে চলেছে ওয়াটার ট্যাক্সি। এছাড়াও চলবে দূরপাল্লার ভেসেলও। শুক্রবার ভাটপাড়ার গোলঘর পার্কে খুটি পুজোর অনুষ্ঠানে এসে এই বার্তা দিলেন রাজ্যের পরিবহন মন্ত্রী অর্জুন সিং।এবার ব্যারাকপুর থেকে বাবুঘাট এবং মেটিয়াবুরুজ অবধি চালু হচ্ছে ওয়াটার ট্যাক্সি।সড়ক পথে যানজট এবং যাত্রি সাচ্ছন্দ্যকে প্রাধান্য দিতে পরিবহণ মন্ত্রী অর্জুন সিং এর ঘোষণা। তবে ওয়াটার ট্যাক্সির সাথে সাথে চালানো হবে দূরপাল্লার ভেসেলও।স্থল পথের পর জল পথের ও গুরুত্ব বাড়াতে চান পরিবহণ মন্ত্রী। এদিন তিনি ভাটপাড়ার গোলঘর পার্কে খুটি পুজোর মধ্যে দিয়ে দুর্গোৎসবের সূচনা করলেন।

ছবি: প্রবীর রায়।
খেলা কলকাতা ফুটবল লিগ: মহামেডান স্পোর্টিংয়ের সঙ্গে ১-১ ড্র ওয়ারির

*নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা:* ২০২৬ এর কলকাতা ফুটবল লিগের  তৃতীয় ম্যাচে ওয়ারি অ্যাথলেটিক ক্লাবের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করল মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। বৃহস্পতিবার মহামেডান স্পোর্টিং গ্রাউন্ডে ম্যাচটি হয়।

প্রথমার্ধে গোলশূন্য ছিল খেলা। উভয় দলই সুযোগ তৈরি করলেও গোলের মুখ খুলতে পারেনি।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই এগিয়ে যায় মহামেডান। পেনাল্টি থেকে নিখুঁত শটে গোল করেন ইসরাফিল দেওয়ান।

তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই গোল শোধ করে ওয়ারি। ফলে ম্যাচ ১-১ গোলে শেষ হয়।

এই ড্রয়ের ফলে ৩ ম্যাচে মহামেডানের পয়েন্ট হল ৭। প্রথম দুটি ম্যাচ জিতে অপরাজিত অভিযান শুরু করেছিল তারা। এবার কলকাতা ফুটবল লিগের পরের চ্যালেঞ্জের দিকে নজর সাদা-কালো শিবিরের। ছবি:সঞ্জয় হাজরা।
এখনই কলকাতা হাইকোর্ট থেকে স্বস্তি পেলেন না অভিষেক
নিজস্ব প্রতিনিধি: এখনই কলকাতা হাইকোর্ট থেকে স্বস্তি পেলেন না তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের নানান থানায় তাঁর বিরূদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলি থেকে রক্ষা কবচ চেয়ে আবেদন করেছিলেন তিনি। কিন্তু বৃহস্পতিবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য এখনই ওই আবেদনে সাড়া দিলেন না। আগামী বৃহস্পতিবার মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। তবে তাঁর নির্দেশ ততদিনে এই মামলাগুলির ক্ষেত্রে রাজ্য কোন সিদ্ধান্ত নিলে আগাম আদালতকে জানিয়ে নিতে হবে। আবেদন শুনে বিচারপতি জানতে চান, অভিষেককে তো আদালত রক্ষাকবচ তো দিয়েছে। তবে আবার কিসের এবার এই আবেদন, সেই নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য।অভিষেকের আইনজীবী কপিল সিব্বল বলেন, রক্ষা কবচ আছে একটি মামলার ক্ষেত্রে। ডিজে মন্তব্যের জেরে মামলায় রক্ষাকবচ রয়েছে তার। তিনি এবার সার্বিক রক্ষা কবচ চাইছেন। শুভেন্দু অধিকারীর যখন বিরোধী দলনেতা ছিলেন তখন তিনি কীভাবে এই ব্ল্যাঙ্কেট প্রোটেকশন পেয়েছেন এদিন সেই প্রশ্ন তোলেন সিব্বাল। বিচারপতি বলেন, এক একটা অভিযোগ এক এক রকম সিদ্ধান্ত হয়। সব ক্ষেত্রে একই ভাবে রক্ষাকবচ কীভাবে দেওয়া যায়। এতে তদন্তে ক্ষতি হতে পারে। শিলিগুড়ির অভিযোগ আলাদা, ভবানীপুরের অভিযোগ ভিন্ন।তিনি বলেন, শুভেন্দু অধিকারীর সব মামলার ক্ষেত্রে ব্ল্যাঙ্কেট প্রোডাকশন ছিল না। কিছু মামলায় এককভাবে অন্তর্বর্তী রক্ষা কবচ অথবা আগাম জামিন পেয়েছিলেন। রাজ্যের আইনজীবী এস ভি রাজু জানিয়ে দেন, এর সওয়াল করতে সময় লাগবে। এরপরই বিচারপতি মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন আগামী ৩০ জুলাই।
*এশিয়ান ক্যারাটে ফেডারেশনের "কাতা ও কুমি"তে জাজ পরীক্ষায় ঐতিহাসিক সাফল্য খড়দহের শিহান অনিল কুমার রামের*

স্পোর্টস ডেস্ক : এশিয়ান ক্যারাটে ফেডারেশনের "কাতা ও কুমিতে জাজ" পরীক্ষায় একসঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করলেন পশ্চিমবঙ্গের খড়দহের শিহান অনিল কুমার রাম।

৬ থেকে ১২ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষায় এশিয়া থেকে প্রায় ১০০ জন অংশ নেন। ভারত থেকে ছিলেন মাত্র ১০ জন। প্রথমবারের প্রচেষ্টাতেই দুটি বিভাগেই পাস করে নজির গড়েছেন খড়দহের এই ক্যারাটে প্রশিক্ষক।

উচ্চমানের এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি শুধু নিজের প্রযুক্তিগত দক্ষতাই প্রমাণ করেননি, এশিয়ার সিনিয়র কর্তাদের কাছ থেকে বিচার সংক্রান্ত প্রশিক্ষণও লাভ করেছেন।

এই সাফল্যের কৃতিত্ব গুরুজন, পরিবার ও ছাত্রছাত্রীদের দিয়েছেন শিহান অনিল। তিনি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ক্যারাটে ইন্ডিয়া অর্গানাইজেশনের সভাপতি হানশি ভারত শর্মা, আর সি-এর চেয়ারম্যান হানশি প্রেমজিৎ সেন, কেএএইচপি-এর চেয়ারম্যান হানশি জনক রাজ জামওয়াল এবং জেনারেল সেক্রেটারি সেনসেই দামন জামওয়ালকে।

তিনি বলেন, "এটি আমার যাত্রার শেষ নয়, বরং নতুন সূচনা। ভবিষ্যতে আরও কঠোর পরিশ্রম করে ভারতীয় এবং পশ্চিমবঙ্গের কারাতে উন্নয়নে অবদান রাখব।"

অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা, ভারতীয় মহিলা দালাল সহ গ্রেফতার বাংলাদেশী মহিলা
বসিরহাট : বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে দালাল সহ গ্রেফতার মহিলা। বসিরহাটের স্বরূপনগর থানার হাকিমপুর সীমান্তে অবৈধভাবে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত পার হওয়ার সময় এক বাংলাদেশি মহিলা ও তার ভারতীয় সহযোগীকে আটক করে ১৪৩ ব্যাটালিয়নের বিএসএফ জওয়ানরা। পরে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের স্বরূপনগর থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত বাংলাদেশি মহিলার নাম শারমিন আক্তার সুমি। তার বাড়ি বাংলাদেশের যশোহর জেলায়। অভিযোগ, হাবড়া এলাকার বাসিন্দা রহিমা বিবির সহায়তায় মোটা টাকার বিনিময়ে তিনি অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন। সেই সময় সীমান্তে তাদের আটক করে বিএসএফ। পরে স্বরূপনগর থানার পুলিশ দু'জনকেই গ্রেফতার করে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য বসিরহাট আদালতে পাঠায়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
একুশে জুলাইকে ঘিরে বিজেপি-কংগ্রেস সংঘর্ষ, আহত দু'পক্ষের ৫
বসিরহাট : বসিরহাটের হাড়োয়া থানার মাঝেরআইট এলাকায় ২১শে জুলাইকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস ও বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। মঙ্গলবার সকালে এই ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে হাড়োয়া গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। খবর পেয়ে হাড়োয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার জেরে এলাকায় কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২১ জুলাই উপলক্ষে জাতীয় কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকদের একটি দল হাড়োয়া থেকে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। সেই সময় মাঝেরআইট এলাকায় বিজেপি ও কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে বচসা শুরু হয়। অভিযোগ, সেই বচসা থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটে। আক্রান্ত বিজেপি কর্মীদের দাবি, কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকরা যাওয়ার সময় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে অশ্লীল ভাষায় স্লোগান দেন এবং বিজেপির দলীয় ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলেন। এর প্রতিবাদ করতেই তাদের উপর হামলা চালানো হয়। ঘটনায় বিজেপির একাধিক কর্মী আহত হন বলে অভিযোগ।
অন্যদিকে, কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিজেপির সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। কংগ্রেস নেতাদের দাবি, তাদের শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার পথে বিজেপি কর্মীরাই প্রথমে উস্কানি দেন এবং পথ আটকানোর চেষ্টা করেন। এরপর বিজেপির তরফ থেকেই হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ কংগ্রেসের।
জাতীয় কংগ্রেস যুবর রাজ্য সাধারণ সম্পাদক শাহিদ মোল্লা  বলেন, "আমরা গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে কলকাতায় যাচ্ছিলাম। কোনো রকম উস্কানি না দিয়েই বিজেপি কর্মীরা আমাদের পথ আটকায় এবং অকারণে হামলা চালায়। আমাদের কর্মীরাও আহত হয়েছেন। যারা দোষী, তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ যেন নিরপেক্ষভাবে ব্যবস্থা নেয়।" সংঘর্ষে আহতদের হাড়োয়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা করানো হয়। ঘটনার খবর পেয়ে হাড়োয়া থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।