বসিরহাট জেলা হাসপাতালের পরিষেবা উন্নয়নের দাবিতে সিপিএমের স্মারকলিপি, মহকুমা শাসকের আশ্বাস
বসিরহাট : বসিরহাট জেলা হাসপাতালের বিভিন্ন পরিষেবা সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানের দাবিতে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)-র বসিরহাট দক্ষিণ ১ এরিয়া কমিটির পক্ষ থেকে হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান তথা বসিরহাটের মহকুমা শাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। হাসপাতালের পরিকাঠামো ও পরিষেবা উন্নয়নের লক্ষ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরেন দলের প্রতিনিধিরা। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, হাসপাতালের রোগীদের পরিজনদের জন্য নির্মিত নাইট শেল্টার দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর না হওয়ায় সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের আত্মীয়স্বজনদের রাত কাটানোর জন্য নিরাপদ ও উপযুক্ত আশ্রয়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে দ্রুত নাইট শেল্টার চালুর দাবি জানানো হয়।
এছাড়াও হাসপাতাল চত্বরে চিকিৎসার জন্য আসা রোগী ও তাদের পরিজনদের জন্য বিশুদ্ধ পানীয় জলের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন বলে অভিযোগ তোলা হয়। দ্রুত এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করার দাবি জানানো হয়েছে।
প্রতিনিধি দল আরও জানায়, হাসপাতালের বিকল্প প্রবেশপথ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় সুন্দরবন-সহ বিস্তীর্ণ এলাকার রোগীদের হাসপাতালে পৌঁছাতে যথেষ্ট অসুবিধা হচ্ছে। এর ফলে হাসপাতালের মূল প্রবেশপথে অতিরিক্ত ভিড় ও যানজট তৈরি হচ্ছে, যা জরুরি পরিষেবা গ্রহণের ক্ষেত্রেও বাধা সৃষ্টি করছে। তাই অবিলম্বে বিকল্প প্রবেশপথটি সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়ার দাবি জানানো হয়। হাসপাতাল চত্বরে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, রোগী পরিষেবার মানোন্নয়ন এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য পরিষেবা আরও উন্নত করার দাবিও স্মারকলিপিতে তুলে ধরা হয়।
এই দাবিগুলি নিয়ে মহকুমা শাসকের সঙ্গে দেখা করেন সিপিএমের প্রতিনিধি দলের সদস্য আইনুল আরেফীন (রাজু আহমেদ), দীপেশ চৌধুরী, কিংকর কান্তি রায়, শুভঙ্কর সাহা এবং সুমিত ঘোষদের মতো নেতৃত্বরা। তারা দ্রুত সমস্যাগুলির সমাধানে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেন। সিপিএমের বসিরহাট দক্ষিণ ১ এরিয়া কমিটির সম্পাদক কিংকর কান্তি রায় জানান, মহকুমা শাসক অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তাদের বক্তব্য শুনেছেন এবং তাদের দাবিগুলি বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন। হাসপাতালের পরিষেবা ও পরিকাঠামোর উন্নয়নের স্বার্থে ভবিষ্যতেও তারা সাধারণ মানুষের দাবি নিয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হবেন বলেও জানান তিনি।
শাহানুরের ‘দুর্নীতি বিসর্জন’! কলা বউ সাজিয়ে ইছামতীতে প্রতীকী বিসর্জন বিজেপির

সৌমাভ মণ্ডল,বসিরহাট : বসিরহাটে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিনব প্রতিবাদে নামল বিজেপি। গ্রেফতার হওয়া তৃণমূল নেতা শাহানুর মণ্ডলের বিরুদ্ধে জমি কেলেঙ্কারি ও একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তাকে প্রতীকী ভাবে ‘কলা বউ’ সাজিয়ে মিছিল করেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। পরে শাহানুর মণ্ডলের ছবি লাগানো কলাগাছ ইছামতী নদীতে বিসর্জন দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার বসিরহাট শহরের ইটিন্ডা রোড থেকে বিজেপির এই প্রতিবাদ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি ইছামতী সেতুতে পৌঁছালে সেখানে দুর্নীতির প্রতীক হিসেবে কলাগাছটি নদীতে বিসর্জন দেওয়া হয়। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, রাজ্যে দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। সেই ক্ষোভেরই প্রতিফলন এই অভিনব কর্মসূচি।
সাংবাদিক সম্মেলনে বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার বিজেপি নেতারা বলেন, “ভয় আউট, ভরসা ইন, দুর্নীতিমুক্ত বাংলা গড়তে হবে।” পাশাপাশি তারা সাধারণ মানুষকে আইন নিজের হাতে না নেওয়ার বার্তা দিয়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার নেতা তরুণ কুমার ঘোষ, কুণাল ব্রহ্ম ও পলাশ ঘোষ সহ দলের অন্যান্য নেতা ও মহিলা মোর্চার কর্মীরা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক চর্চা তুঙ্গে উঠেছে।
বেঙ্গল টি২০ লিগের ফাইনালে আমন্ত্রণ রাজ্যের ক্রীড়া ও যুব- কল্যাণ মন্ত্রীকে
স্পোর্টস ডেস্ক: রবিবার কলকাতার ইডেনে অনুষ্ঠিত হবে বেঙ্গল টি২০ লিগের ফাইনাল খেলা।এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য শুক্রবার রাজ্যের ক্রীড়া ও যুব -কল্যাণ মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁকে। এদিন তাকে আমন্ত্রণ জানানোর দফতরে উপস্থিত হন সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। রাজ্যের ক্রীড়া ও ক্রীড়া পরিকাঠামোর উন্নয়ন ও বিকাশ নিয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথা হয় সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের।

ছবি সৌজন্যে: সিএবি।
খেলা বিশ্বকাপ জ্বরে কাঁপছে কলকাতা


*স্পোর্টস ডেস্ক* : বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনায় যখন মেতে উঠেছে গোটা বিশ্ব, তখন সেই উন্মাদনা থেকে বাদ নেই ফুটবলের মক্কা কলকাতাও। কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় এই ভাবেই ফুটবল সমর্থকরা তাদের প্রিয় দল এবং তারকাদের নানান পোস্টার দিয়ে নিজেদের এলাকাকে সাজিয়ে তুলেছে এভাবেই। এই উন্মাদনা থেকে বাদ যায়নি ৮ থেকে ৮০ বছরের বয়সের মানুষরা। বুধবার এমবাপে এবং মেসির গোলের সাফল্যে অনেকটাই খুশী তাঁদের সমর্থকরা। আজ অবশ্য বিশ্বকাপের আরেক তারকা রোনাল্ডোর সমর্থকরা মুখিয়ে আছে তাঁর সাফল্যকে ঘিরে। উত্তর কলকাতার ফকির চক্রবর্তী লেন এবং ফরিয়া পুকুর অঞ্চলের বিশ্বকাপের এই নানানচিত্র ধরা পরল আমাদের প্রতিনিধি। *ছবি : সঞ্জয় হাজরা।*
জমি দখল ও রাজনৈতিক সন্ত্রাসের অভিযোগে গ্রেফতার তৃণমূল নেতা শাহানুর মণ্ডল
সৌমাভ মণ্ডল,বসিরহাট : বসিরহাটের রাজনৈতিক মহলে ফের চাঞ্চল্য। জমি দখল, হুমকি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো এবং নির্বাচন-পরবর্তী হিংসা ছড়ানোর একাধিক অভিযোগে গ্রেফতার হলেন বসিরহাট ১নং ব্লকের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা তথা উত্তর ২৪ পরগণা জেলা পরিষদের খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ শাহানুর মণ্ডল। বুধবার ভোররাতে বিশেষ অভিযানে তাকে গ্রেফতার করে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ (এসওজি)। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই শাহানুর মণ্ডলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা পড়ছিল। বিশেষ করে টাকি ও সংলগ্ন এলাকার কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী জমিদার পরিবারের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক জমি দখলের অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগ, বিঘার পর বিঘা জমি বেআইনিভাবে দখল করার পাশাপাশি প্রতিবাদী স্থানীয় বাসিন্দাদের ভয়ভীতি দেখানো হত।
এছাড়াও ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২২ সালের পুরসভা নির্বাচনের পর বসিরহাট ও টাকি এলাকার বিভিন্ন প্রান্তে সন্ত্রাস ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরির অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে। পুলিশ সূত্রে দাবি, এই সংক্রান্ত একাধিক লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছিল তদন্তকারী সংস্থার কাছে।
অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকদের ভোট প্রচারে বাধা দেওয়া, হুমকি দেওয়া এবং এলাকায় রাজনৈতিক আধিপত্য বজায় রাখার ক্ষেত্রেও তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল। এই সমস্ত অভিযোগের ভিত্তিতে দীর্ঘদিন ধরে তার ওপর নজরদারি চালাচ্ছিল পুলিশ।
বুধবার ভোরে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে এসওজির একটি বিশেষ দল টাকি রোড (রাজ‍্য সড়ক ২) এর শাঁকচূড়া বাজার এলাকায় অভিযান চালায়। সেখানেই তার বাড়ির অদূরে রাস্তার ধারে থেকে শাহানুর মণ্ডলকে আটক করা হয়। পরে তাকে হাসনাবাদ থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।
এই গ্রেফতারির খবর ছড়িয়ে পড়তেই বসিরহাট জুড়ে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। বিজেপি নেতা শৌর্য্য বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার সাধারণ মানুষ শাহানুর মণ্ডলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ পোষণ করছিলেন। তার অভিযোগ, জমি দখল থেকে শুরু করে রাজনৈতিক সন্ত্রাস বিভিন্ন ঘটনার সঙ্গে শাহানুরের নাম জড়িয়ে ছিল। অন্যদিকে, তৃণমূল নেতার গ্রেফতারিকে ঘিরে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনাও তৈরি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগগুলির সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে। শাহানুর মণ্ডলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ভিত্তিতে আরও তথ্য সংগ্রহের কাজও শুরু করেছে তদন্তকারী দল।
"বাংলায় স্পোর্টস ইউনিভার্সিটি শুরু হতে চলেছে-" জানালেন ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ক্যালকাটা স্পোর্টস জার্নালিস্ট ক্লাবে মিট দ্য প্রেস এ ক্রীড়া সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন ক্রীড়া মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ। এদিন সংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি জানান , "তাঁদের সরকার গঠন বা ভোটের আগে ক্রীড়া বিষয়ক যে সংস্কার সূচী প্রকাশ করেছিলেন সে বিষয়ে তিনি এবং তাঁর সরকার যথেষ্ট অবগত আছেন। তাই আগামীদিনে বাংলায় স্পোর্টস ইউনিভার্সিটি শুরু হওয়া থেকে শুরু করে ক্রীড়া ক্ষেত্রের সর্বত্র নজর দেওয়া হবে। শুধুমাত্র ক্রিকেট, ফুটবল নয় ক্রীড়া ক্ষেত্রের অন্যান্য বিভাগেও যেমন অ্যাথলিট, টেবিল টেনিস, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার সহ বিভিন্ন বিষয়ে উন্নতির জন্যে সম পরিমাণ নজর দেওয়া হবে"। বাংলার ফুটবল, ক্রিকেটে বাঙালি খেলোয়াড়দের বেশী করে অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও এদিন তিনি আলোকপাত করেন। তবে সবার আগে সব ক্ষেত্রে ক্রীড়া পরিকাঠামোর উন্নতির দিকে নজর দেওয়া এবং প্রাক্তন বাংলার অর্জুন বা সমতুল্য সম্মানে সম্মানিত কৃতী খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর কথাও উল্লেখ করেন।

ছবি: সঞ্জয় হাজরা

জব কার্ড ফেরতের দাবিতে তৃণমূল নেতার বাড়িতে বিক্ষোভ
বসিরহাট : জব কার্ড ফেরতের দাবিতে এবং একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে স্থানীয় তৃণমূল নেতার বাড়ির সামনে বিক্ষোভে সামিল হলেন গ্রামবাসীরা। বসিরহাটের মাটিয়া থানার খোলাপোতা গ্রাম পঞ্চায়েতের গোবিন্দপুর গ্রামে মঙ্গলবার এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয় যখন বহু মানুষ একত্রিত হয়ে জব কার্ড ফেরত দেওয়ার দাবি তোলেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় তৃণমূল নেতা প্রকাশ রায় বহু উপভোক্তার জব কার্ড নিজের কাছে রেখে দিয়েছেন। বারবার কার্ড ফেরত চাওয়া হলেও কখনও বলা হয়েছে কার্ড নষ্ট হয়ে গিয়েছে, কখনও আবার নতুন করে আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ফলে বহু শ্রমিক ১০০ দিনের কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন।
বিক্ষোভকারী চন্দনা মণ্ডল অভিযোগ করে বলেন, "আগামী জুলাই মাস থেকে ১০০ দিনের কাজ শুরু হওয়ার কথা। সেই কারণে দীর্ঘদিন ধরে আমি নিজের জব কার্ড ফেরত চেয়ে আসছি। কিন্তু প্রতিবারই নানা অজুহাত দেখিয়ে কার্ড ফেরত দেওয়া হচ্ছে না।" তার আরও দাবি, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজনৈতিক কারণে তাকে এবং তার পরিবারকে একঘরে করার চেষ্টা করা হয়েছিল। এমনকি কলতলা থেকে জল আনতেও বাধা দেওয়া হতো, বাড়িতে ইট-পাটকেল ছোড়া এবং বিভিন্ন ধরনের মানসিক নির্যাতনেরও অভিযোগ তোলেন তিনি।
স্থানীয় বিজেপি নেতা অমিত মণ্ডল অভিযোগ করেন, এলাকার বহু মানুষের জব কার্ড প্রকাশ রায় নিজের কাছে আটকে রেখেছেন। কার্ড ফেরতের দাবি জানালে কখনও বলা হচ্ছে সেগুলি পঞ্চায়েতে রয়েছে, আবার কখনও বলা হচ্ছে কার্ড নষ্ট হয়ে গিয়েছে। তার অভিযোগ, একাধিক উপভোক্তার জব কার্ড সংক্রান্ত অর্থও আত্মসাৎ করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ জানানো হলেও পুলিশের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা মেলেনি।
যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তৃণমূল নেতা প্রকাশ রায়। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে তাকে মাটিয়া থানায় ডাকা হয়েছিল এবং তিনি ইতিমধ্যেই সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের কাছেও বিষয়টি জানিয়েছেন। তার দাবি, আগামী মাসের এক তারিখে নতুন জব কার্ড আসার কথা রয়েছে। সেই কার্ডগুলি হাতে এলেই উপভোক্তাদের মধ্যে বণ্টনের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
প্রকাশ রায়ের বক্তব্য, তার ছেলে হরিয়ানায় দুর্ঘটনার শিকার হওয়ায় তিনি কিছুদিনের জন্য রাজ্যের বাইরে ছিলেন। সেই সময় তার অফিসে রাখা জব কার্ডগুলি বৃষ্টির জল ও উইপোকার আক্রমণে নষ্ট হয়ে যায়। জব কার্ডের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "এই অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই। কারণ ১০০ দিনের কাজের মজুরি সরাসরি উপভোক্তাদের নিজস্ব ব্যাংক বা পোস্ট অফিসের অ্যাকাউন্টে জমা হয়। ফলে কোনও ব্যক্তির পক্ষে সেই টাকা আত্মসাৎ করা সম্ভব নয়।"
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। গ্রামবাসীরা দ্রুত জব কার্ড ফেরত দেওয়া এবং অভিযোগগুলির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে তৃণমূল নেতৃত্ব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে। এখন প্রশাসন এই অভিযোগগুলির কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেদিকেই নজর রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।
মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবে নতুন বোর্ড গঠন
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা:
ক্লাব সভাপতি হুমায়ুন কবীরের আহ্বানে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের মাধ্যমে মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নতুন প্রশাসনিক মেয়াদ শুরু হল আজ।

বোর্ড অব ট্রাস্টিজের উপস্থিতিতে নতুন সাধারণ সম্পাদক নিয়োগের দায়িত্ব হুমায়ুন কবীরের ওপর অর্পণ করা হয়। পরবর্তীতে তিনি  এস কে ওয়াসিম আক্রম-কে ক্লাবের নতুন সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিয়োগ করেন।

আজ এক আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই দায়িত্ব হস্তান্তর সম্পন্ন হয়। সম্মানীয় সভাপতির উপস্থিতিতে এস কে ওয়াসিম আক্রম শপথ গ্রহণ করেন। বিদায়ী কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে সকল দায়িত্ব নতুন নেতৃত্বের হাতে তুলে দেয়, যার ফলে নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।

ক্লাবের নতুন অধ্যায়ের সূচনার বার্তা দিতে পরবর্তীতে নেতৃত্ব প্যানেল একটি সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে।

ছবি:- মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের সৌজন্যে।
এশিয়ান রৌপ্যজয়ী হারমিলানকে আজ কলকাতার সাই এর ট্র্যাকে রৌপ্যেই সন্তুষ্ট থাকতে হল, ইন্ডিয়ান অ্যাথলেটিক্স সিরিজ–১১-তে বাংলার দাপট
*খেলা*

স্পোর্টস ডেস্ক,কলকাতা: ইন্ডিয়ান অ্যাথলেটিক্স সিরিজ নং–১১-এ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের অ্যাথলিটদের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখা গেল। তবে দিনের শেষে অন্যতম সেরা সাফল্য অর্জন করল পশ্চিমবঙ্গ, যারা মোট আটটি স্বর্ণপদক-সহ বিপুল সংখ্যক পদক জিতে নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিল।

প্রতিযোগিতার অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের রৌপ্যপদকজয়ী হারমিলান বেইন্স। মহিলাদের ৫০০০ মিটার দৌড়ে তিনি ছিলেন অন্যতম ফেভারিট। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সকলের নজর কেড়ে নেন মহারাষ্ট্রের সঞ্জীবনী বাবুরাও জাধব, যিনি দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে স্বর্ণপদক জয় করেন।

সঞ্জীবনী ১৬:৪৭.১৬ সময় নিয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেন। অন্যদিকে, উচ্চ প্রত্যাশা নিয়ে নামলেও হারমিলানকে রৌপ্যপদকেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়।

যদিও এই প্রতিযোগিতায় দেশের একাধিক তারকা অ্যাথলিট অংশ নিয়েছিলেন, তবুও ট্র্যাক ও ফিল্ড—উভয় বিভাগেই পশ্চিমবঙ্গের অ্যাথলিটরা নিজেদের প্রতিভা ও ধারাবাহিকতা দিয়ে বিশেষ ছাপ রেখে যান।

বাংলার পদকজয়ীরা
মহিলাদের জ্যাভলিন থ্রো
তনুশ্রী মাহালদার – স্বর্ণপদক

পুরুষদের ২০০ মিটার
পিয়ূষ ঘোষ – ব্রোঞ্জপদক

পুরুষদের অনূর্ধ্ব-২০ লং জাম্প
সঞ্জয় মণ্ডল – রৌপ্যপদক

সোহান কুমার বিশ্বাস – ব্রোঞ্জপদক

মহিলাদের অনূর্ধ্ব-২০ লং জাম্প
জেনিয়া মণ্ডল – রৌপ্যপদক

পুরুষদের ৮০০ মিটার
সায়ন কর্মকার – স্বর্ণপদক

অর্ঘ্য ঘরামি – রৌপ্যপদক

মহঃ মহাসিন আওয়াল – ব্রোঞ্জপদক

সুভজিৎ মণ্ডল – ব্রোঞ্জপদক

পুরুষদের অনূর্ধ্ব-২০ ৮০০ মিটার
মহঃ রাহুল – ব্রোঞ্জপদক

পুরুষদের অনূর্ধ্ব-২০ ৫০০০ মিটার
বলরাম মণ্ডল – রৌপ্যপদক

মহিলাদের অনূর্ধ্ব-২০ ১০০ মিটার
অর্চিতা ব্যানার্জী – স্বর্ণপদক

অনুষ্কা কর – রৌপ্যপদক

রিয়া রায় – ব্রোঞ্জপদক

পুরুষদের অনূর্ধ্ব-২০ ১০০ মিটার
মোহিত মিস্ত্রি – স্বর্ণপদক (রেস ‘এ’)

ট্রিপন দাস – স্বর্ণপদক (রেস ‘বি’)

মহিলাদের ১০০ মিটার
তমশ্রী মিশ্র – স্বর্ণপদক

পুরুষদের অনূর্ধ্ব-২০ জ্যাভলিন থ্রো
দেবাশিস – স্বর্ণপদক

নরুগোপাল বিশ্বাস – ব্রোঞ্জপদক

পুরুষদের ৪০০ মিটার
সামির রহমান – স্বর্ণপদক (রেস ‘এ’)

বুদ্ধদেব বারুই – স্বর্ণপদক (রেস ‘বি’)

মহিলাদের ৪০০ মিটার
অদিতি ব্যানার্জী – রৌপ্যপদক

মহিলাদের লং জাম্প
বিদিশা কুণ্ডু – ব্রোঞ্জপদক

পশ্চিমবঙ্গের অ্যাথলিটদের এই অসাধারণ সাফল্য আবারও প্রমাণ করল যে ভারতীয় অ্যাথলেটিক্সে রাজ্যটির শক্তিশালী ভিত্তি ও প্রতিভার ভাণ্ডার কতটা সমৃদ্ধ। বিভিন্ন ইভেন্ট ও বয়সভিত্তিক বিভাগে পদক জয়ের মাধ্যমে বাংলার ক্রীড়াবিদরা ভবিষ্যতের জন্য উজ্জ্বল সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

ইন্ডিয়ান অ্যাথলেটিক্স সিরিজ নং–১১ দেশের সেরা অ্যাথলিটদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে কাজ করে চলেছে, যেখানে তাঁরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার প্রস্তুতির পাশাপাশি নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের সুযোগ পাচ্ছেন।

আজ কলকাতার স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার ( সাই ) প্রাঙ্গণে দেশের বিভিন্ন রাজ্যের অ্যাথলিটদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন আমাদের রাজ্যের রাজ্য অ্যাথলিট সংস্থার সাধারণ সম্পাদক কমল কুমার মৈত্র, আই এফ এ - র সভাপতি অজিত বন্দ্যোপাধ্যায় , পদ্মশ্রী এবং অর্জুন সম্মানে সম্মানিত ক্রীড়াবিদ জ্যোতির্ময়ী শিকদার সহ গুণী মানুষজন। বি:সঞ্জয় হাজরা।
জনকল্যাণ শিবিরের সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
ডেস্ক: আজ থেকে সারা রাজ্য জুড়ে শুরু হল জনকল্যাণ শিবিরের। এদিন নন্দীগ্রাম থেকে এই কর্মসূচির সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন,রাজ্য জন কল্যাণ-শিবির থেকে ৫৪ টি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যাবে।বিগত সরকার বিধবা ভাতা, লক্ষীর ভান্ডার, স্টুডেন্ট স্কলারশিপ, নয় ছয় করেছে।আমরা চাইনা প্রকৃত প্রাপক বঞ্চিত হন।দরকার হলে সরকারি কর্মীরা আপনাদের বাড়ি যাবে।আমাদের সরকারের ৫ সপ্তাহ হল। তার মধ্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ আমরা করেছি।১০০দিনের কাজ ১২৫দিন হবে । ইতিমধ্যেই ৭৯ লক্ষ মানুষকে অন্নপূর্ণা যোজনা দেওয়া হয়েছে।সরকারি প্রকল্প থেকে বঞ্চিত হলে টোল ফ্রি নম্বরে যোগাযোগ করুন।
ইতিমধ্যে আমরা কেন্দ্রীয় সাহায্য পেয়েছি। তার দ্বারা বাংলার রাস্তাঘাট থেকে জল সহ পরিষেবা দেব।রাজ্যে কর্মসংস্থান ত্রিমুখী তিনটা ভাবনা করেছি। পরীক্ষার ওয়েমার্ক বাড়িতে আনতে পারবেন।
কেন্দ্রীয় সুযোগ সুবিধা দেব।মুদ্রালোন সহ নানা ছোট ব্যাবসায়ী সাহায্য করবো।মঠ মন্দির সাজানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।শিল্পের জোয়ার ও কর্মসংস্থান হবে।যারা প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বিদ্যুৎ বিল দিতে পারছেন না। তারা সৌর প্লেট লাগান বিদ্যুৎ বিল আর আসবে না।
নন্দীগ্রামকে বিশেষ ভাবে সাজানো হবে। নন্দীগ্রামের মানুষকে রেলে চড়ানোর ব্যবস্থা করব আগামী মার্চ মাসের মধ্যে।নন্দীগ্রামে হবে ফোল্ডার সেতু। যাতে জাহাজ চলাচল করতে পারে।আমি নন্দীগ্রামের ক্ষেত্রে বিশেষ ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ।নন্দীগ্রামের মানুষের নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা হবে।