কাটমানি ফেরৎ ও গ্রেপ্তারির দাবিতে মিনাখাঁয় বিক্ষোভ, তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে সরব গ্রামবাসীরা
বসিরহাট : বসিরহাটের মিনাখাঁর চাপালি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল। আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে কাটমানি আদায়, জলকরের জমির লিজ বাবদ অর্থ আত্মসাৎ এবং উন্নয়নের টাকা তছরুপের অভিযোগ তুলে রাস্তায় নামলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মঙ্গলবার নুরপুর হাটখোলা এলাকায় হাতে ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিক্ষোভে সামিল হন বহু মানুষ। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, চাপালি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের প্রতিনিধি বাকিবুল্লা মণ্ডল এবং তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি আজিজুল গাজী দীর্ঘদিন ধরে এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছেন। তাদের দাবি, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বহু মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, জলকরের জমির লিজ সংক্রান্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রেও লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে ওই দুই নেতার বিরুদ্ধে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য অনেকেই বাধ্য হয়ে টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সুবিধা না পেয়ে এখন তারা নিজেদের প্রতারিত মনে করছেন। তাদের অভিযোগ, এলাকার উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ অর্থের যথাযথ ব্যবহার না করে তা ব্যক্তিগত স্বার্থে কাজে লাগানো হয়েছে। ফলে বহু উন্নয়নমূলক কাজ এখনও অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এদিনের বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা স্লোগান তুলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তাদের বক্তব্য, শুধু তদন্ত নয়, যারা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কাটমানি নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের কাছ থেকে সেই অর্থ উদ্ধার করে ক্ষতিগ্রস্তদের ফেরত দিতে হবে। পাশাপাশি অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনারও দাবি তোলেন বিক্ষোভকারীরা।
বিক্ষোভের জেরে কিছু সময়ের জন্য এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় মিনাখাঁ থানার পুলিশ। পুলিশ আধিকারিকরা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দাবিদাওয়া শোনেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ হস্তক্ষেপ করলে বিক্ষোভকারীরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন। তবে বিক্ষোভ মিটে গেলেও ক্ষোভ যে এখনও প্রশমিত হয়নি, তা স্পষ্ট স্থানীয়দের বক্তব্যে। তাদের দাবি, প্রশাসন দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করুক এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। অন্যথায় আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিনাখাঁর রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা। সাধারণ মানুষের অভিযোগ কতটা সত্য এবং তদন্তে কী উঠে আসে, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের।
জল জমার স্থায়ী সমাধানের খোঁজে প্রশাসন, দ্বিতীয় দফায় সরেজমিন পরিদর্শন বসিরহাট উত্তরে
বসিরহাট : বছরের পর বছর ধরে জল জমার সমস্যায় ভুগছেন বসিরহাট উত্তর বিধানসভার চাঁপাপুকুর-রাজেন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ এলাকার বাসিন্দারা। বর্ষা এলেই রাস্তাঘাট, বসতবাড়ি এবং কৃষিজমি জলের তলায় চলে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। দীর্ঘদিনের এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে এবার আরও এক ধাপ এগোল প্রশাসন। বসিরহাট মহকুমা শাসকের দপ্তর ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এলাকার জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে দ্বিতীয় দফার সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়। পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন বসিরহাট উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক মহম্মদ তৌসিফুর রহমান ও রাজেন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সমীর বাছাড় সহ একাধিক সরকারি আধিকারিক এবং এলাকার বাসিন্দারা।
পরিদর্শনের সময় প্রশাসনিক কর্তারা এলাকার বিভিন্ন জলাবদ্ধ অঞ্চল ঘুরে দেখেন এবং জল নিষ্কাশনের বর্তমান ব্যবস্থার খুঁটিনাটি পর্যালোচনা করেন। কোথায় জল জমছে, কী কারণে দীর্ঘ সময় ধরে জল নেমে যাচ্ছে না এবং কীভাবে নিকাশি ব্যবস্থার উন্নতি ঘটানো যায়, সেই বিষয়গুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারাও তাদের দীর্ঘদিনের সমস্যার কথা তুলে ধরেন এবং দ্রুত সমাধানের দাবি জানান।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এলাকার বাস্তব পরিস্থিতি এবং প্রযুক্তিগত দিকগুলি বিবেচনা করে একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। জল নিকাশি ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ ও সংস্কারের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয়দের আশা, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য খুব শীঘ্রই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। প্রশাসনের এই উদ্যোগে আশার আলো দেখছেন এলাকাবাসী। তাদের বিশ্বাস, দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে ভবিষ্যতে বর্ষাকালে আর আগের মতো দুর্ভোগের শিকার হতে হবে না এবং চাঁপাপুকুর-রাজেন্দ্রপুর এলাকার দীর্ঘদিনের জল জমার সমস্যা অবশেষে সমাধান হবে।
।। হিঙ্গলগঞ্জে উদ্ধার বিলুপ্তপ্রায় তক্ষক, বন দফতরের হাতে তুলে দিল পুলিশ ।।

বসিরহাট : পুলিশের তৎপরতায় উদ্ধার হল একটি বিলুপ্তপ্রায় তক্ষক। বিরল প্রজাতির এই সরীসৃপটিকে নিরাপদে উদ্ধার করে বন দফতরের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
জানা গিয়েছে, বসিরহাটের হিঙ্গলগঞ্জ থানার উত্তর বোলতলা গ্রামের বাসিন্দা মহিউদ্দিন গাজীর বাড়িতে একটি তক্ষক দেখতে পান স্থানীয়রা। বিরল প্রজাতির এই প্রাণীটিকে ঘিরে এলাকায় কৌতূহল ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় হিঙ্গলগঞ্জ থানার পুলিশ। থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক রাহুল হালদারের নেতৃত্বে একটি পুলিশ দল তক্ষকটিকে উদ্ধার করে নিরাপদ হেফাজতে নেয়। পরে বন দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে রামপুর ফরেস্ট রেঞ্জের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশের পক্ষ থেকে উদ্ধার হওয়া তক্ষকটি বন দফতরের হাতে তুলে দেওয়া হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া তক্ষকটির দৈর্ঘ্য প্রায় এক থেকে দেড় ফুট। আন্তর্জাতিক অবৈধ বন্যপ্রাণী পাচার চক্রের কাছে এই প্রাণীর চাহিদা থাকায় এর কালোবাজারি মূল্য কয়েক লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে বলে দাবি স্থানীয়দের। উদ্ধার হওয়া তক্ষকটির ওজন আনুমানিক ২০০ থেকে ২৫০ গ্রাম।
রাজ্যের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ

নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজ্যের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ অনুষ্টিত হল  লোকভবনে। সোমবার তাদের শপথবাক্য পাঠ করালেন রাজ্যপাল আরএন রবি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, শান্তনু ঠাকুর সহ বিশিষ্ট জনেরা।আজই দপ্তর বণ্টনের সম্ভাবনাও রয়েছে। মোট ৩৫ জন শপথ নিলেন আজ। এর মধ্যে পূর্ণমন্ত্রী ১৩ জন, স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ৩ জন, প্রতিমন্ত্রী ১৯ জন।আগেই শপথ নিয়েছেন ৫ জন। পশ্চিমবঙ্গে মোট ৪১ জনের মন্ত্রিসভা গঠিত হল।

*আজ শপথ নিলেন যে পূর্ণমন্ত্রীরা*

১) তাপস রায়,২) দীপক বর্মন,৩)অর্জুন সিং ৪) শঙ্কর ঘোষ ৫) মনোজকুমার ওরাওঁ,৬)গৌরীশঙ্কর ঘোষ,৭) জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়,৮) স্বপন দাশগুপ্ত,৯) কল্যাণ চক্রবর্তী,১০) শারদ্বত মুখোপাধ্যায়,১১)অরূপকুমার দাস,১২) অজয়কুমার পোদ্দার১৩)দুধকুমার মণ্ডল

*স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর নামের তালিকা*

১. মালতী রাভা রায়

২. ইন্দ্রনীল খাঁ

৩. রাজেশ মাহাতা


*প্রতিমন্ত্রীর নামের তালিকা*

১. জুয়েল মুর্মু

২. হরেকৃষ্ণ বেরা

৩. আনন্দময় বর্মন

৪. অশোক দিন্দা

৫. নাদিয়ার চাঁদ বাউরি

৬. বিশাল লামা

৭. শান্তনু প্রামাণিক

৮. মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র

৯. উদয় উমেশ রাই

১০. পূর্ণিমা চক্রবর্তী

১১. কৌশিক চৌধুরী

১২. ভাস্কর ভট্টাচার্য

১৩. দিবাকর ঘরামি

১৪. অমিয় কিস্কু

১৫. কলিতা মাজি

১৬. গার্গী দাস ঘোষ

১৭. বিরাজ বিশ্বাস

১৮. দীপঙ্কর জানা

১৯. সুমনা সরকার