।। গাছে রাখি বেঁধে পরিবেশ রক্ষার অঙ্গীকার বিজ্ঞান কর্মীদের ।।
বসিরহাট : গাছে রাখি বেঁধে পরিবেশ রক্ষার বার্তা বিজ্ঞান কর্মীদের। রাখিবন্ধন উৎসবকে পরিবেশ রক্ষার অঙ্গীকারে পরিণত করল পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের ইছামতী বিজ্ঞান কেন্দ্র। শুক্রবার কেন্দ্রের পাঁচটি বিজ্ঞান চক্র টাকী, হাসনাবাদ উত্তর, হাসনাবাদ দক্ষিণ, হিঙ্গলগঞ্জ এবং রূপমারী ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বিজ্ঞান চক্রের উদ্যোগে বিভিন্ন এলাকায় গাছকে রাখি পরানো, গাছকে জড়িয়ে ধরা এবং পরিবেশ সচেতনতা নিয়ে নানা কর্মসূচি হয়।
প্রায় ১৫০ জন বিজ্ঞান কর্মী এই অভিনব কর্মসূচিতে অংশ নেন। হিঙ্গলগঞ্জ ও টাকীর ইছামতী নদীর চরে গরান, গেওয়া, ক্যাওড়া, বাইন-সহ বিভিন্ন ম্যানগ্রোভ চারাতেও রাখি পরানো হয়। বিকেলে টাকীর সৈয়দপুর বিএসএফ ক্যাম্প সংলগ্ন নদীর ধারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিএসএফ জওয়ান, বিজ্ঞান কর্মী, পরিবেশ কর্মী ও ছাত্রছাত্রীরা অংশ নেন। খুদে বিজ্ঞান কর্মীরা জওয়ানদের হাতে রাখি পরিয়ে দেন। পাশাপাশি সকলে গাছ ও পরিবেশ রক্ষার শপথ নেন।
কেন্দ্রের সভাপতি পার্থ মুখোপাধ্যায় বলেন, "গাছের হাতে রাখি বেঁধে প্রকৃতির প্রতি অঙ্গীকারের বার্তা দেওয়া হয়েছে। সবুজ বাঁচলেই আগামী প্রজন্ম বাঁচবে।" কেন্দ্রের সম্পাদক প্রদীপ্ত সরকার বলেন, "জাতি, ধর্ম, বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় সকলকে একসঙ্গে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানোই এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।"
।। সীমান্তের গ্রামে রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে রাখিবন্ধনে সম্প্রীতির বার্তা, হিন্দু-মুসলিমের হাতে হাত মিলিয়ে ঐক্যের অঙ্গীকার ।।
বসিরহাট : সীমান্তের গ্রামে রাজনৈতিক ও ধর্মের ভেদাভেদ ভুলে সম্প্রীতির বার্তা দিল রাখিবন্ধন। বসিরহাট ১নং ব্লকের ইটিন্ডা-পানিতর গ্রাম পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে শুক্রবার সকালে পঞ্চায়েত কার্যালয়ের সামনে রাখিবন্ধন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে একে অপরের হাতে রাখি পরিয়ে সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা তুলে ধরা হয়। মহা সমারোহে পালিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইটিন্ডা-পানিতর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মেহেরুন্নেসা বিবি, উপপ্রধান চিন্ময় সরকার, বসিরহাট ১ পঞ্চায়েত সমিতির মৎস্য ও প্রাণী কর্মাধ্যক্ষ শরিফুল মণ্ডল সহ পঞ্চায়েতের সেক্রেটারি, আধিকারিক এবং গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্যান্য সদস্যরা। সীমান্তবর্তী নাকুয়াদহ এলাকায় রাজনৈতিক মতপার্থক্যকে সরিয়ে রেখে রাখিবন্ধনের মতো সামাজিক উৎসবকে সামনে রেখে এদিন সম্প্রীতির ছবি ধরা পড়ে। রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে একে অপরের হাতে রাখি পরিয়ে সৌভ্রাতৃত্ব, ঐক্য ও পারস্পরিক সম্প্রীতির বার্তা দেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলে। পঞ্চায়েতের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় বাসিন্দাদেরও উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিল চোখে পড়ার মতো। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ধর্ম-বর্ণ ও রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
।। বসিরহাটে রাখি বন্ধনে সম্প্রীতির সুর, ওয়ার্ড থেকে ঘোজাডাঙা সীমান্তে ঐক্যের বার্তা ।।
বসিরহাট : বসিরহাটে সম্প্রীতির বার্তা, প্রয়াত কংগ্রেস নেতা অসিত মজুমদারের স্মরণে রাখি বন্ধন উৎসব। প্রয়াত কংগ্রেস নেতা তথা বসিরহাট পৌরসভার কাউন্সিলর অসিত মজুমদারের স্মরণে সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে রাখি বন্ধন উৎসব পালন করলেন বসিরহাট পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। ৮নং ওয়ার্ড নাগরিক কমিটির উদ্যোগে দল, ধর্ম ও জাতির বিভেদ ভুলে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়। এদিন ৮নং ওয়ার্ডের এসএন মজুমদার রোড ও মার্টিন বার্ন রোডের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে স্থানীয় মহিলারা সাধারণ মানুষের হাতে রাখি পরিয়ে দেন। উৎসবের মধ্য দিয়ে পারস্পরিক সৌভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও ঐক্যের বার্তা তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট আইনজীবী অমিত মজুমদার ও সমাজসেবী মিত দে সহ সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
অন্যদিকে, ভারত-বাংলাদেশ ঘোজাডাঙা সীমান্তের আন্তর্জাতিক চেকপোস্টেও রাখি বন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বসিরহাট দক্ষিণের বিজেপি নেতা চিকিৎসক শৌর্য্য ব্যানার্জির উদ্যোগে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জওয়ানদের পাশাপাশি পথচলতি সাধারণ মানুষ ও ভবঘুরেদের হাতেও রাখি পরানো হয়। সীমান্তের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা জওয়ানদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার পাশাপাশি সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বার্তাই উঠে আসে এই কর্মসূচিতে।
।। রাখির বন্ধনে পথ নিরাপত্তার বার্তা, ট্রাফিক পুলিশদের বর্ষার সামগ্রী বিতরণ বসিরহাটে ।।
বসিরহাট : রাখি উৎসবের আবহেই বর্ষার সামগ্রী বিতরণ কর্মসূচি পালন করল বসিরহাট ট্রাফিক বিভাগ। শুক্রবার বসিরহাটের বোটঘাটে ট্রাফিক দপ্তরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ট্রাফিক পুলিশের হাতে ছাতা ও জুতো তুলে দেন বসিরহাট পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার অলকনন্দা ভওয়াল। উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও ডিএসপি ট্রাফিক সহ জেলা পুলিশের আধিকারিক ও কর্মীরা। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে ট্রাফিক পুলিশদের জন্য পাঠানো বর্ষার সামগ্রী বিতরণের উদ্দেশ্যেই এই কর্মসূচির আয়োজন বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়। অনুষ্ঠানে ট্রাফিক বিভাগের আধিকারিকরা পুলিশ সুপার সহ উপস্থিত পুলিশ আধিকারিকদের রাখি পরিয়ে শুভেচ্ছা জানান। পরে বোটঘাটের শহীদ দীনেশ মজুমদার রোডে পথচলতি বাইক চালক ও সাধারণ মানুষের হাতেও রাখি পরানো হয়। রাখিবন্ধনের এই কর্মসূচির পাশাপাশি হেলমেট ব্যবহার, ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং পথ নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হয় ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে।
ক্যামাক স্ট্রিট কাণ্ডে তৃণমূলকে স্বস্তি দিল না হাই কোর্ট, খারিজ অন্তর্বর্তী নির্দেশের আর্জি*

*শিরোনাম:* ক্যামাক স্ট্রিটে বিলবোর্ড বিতর্ক: হাইকোর্টের দ্বারস্থ তৃণমূল, মিলল না অন্তর্বর্তী স্বস্তি, গ্রেফতার ১৩

*কলকাতা, ২৮ আগস্ট:* কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয়ের সাইনবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। কলকাতা পুরসভার উচ্ছেদ অভিযানকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু আপাতত কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিল না আদালত।

শুক্রবার সকালে বিচারপতি রাজা বসুচৌধুরীর এজলাসে মামলাটির উল্লেখ করেন তৃণমূলের আইনজীবী কিশোর দত্ত। আদালত মামলা দায়ের করার অনুমতি দিয়েছে এবং আজই নম্বর নিয়ে আসলে শুনানির আশ্বাস দিয়েছে।

আইনজীবী জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪:৪৫ নাগাদ কলকাতা পুরসভার কর্মীরা তৃণমূল ভবনে ঢুকে বিলবোর্ড ভাঙচুর করেন।

এর প্রেক্ষিতে বিচারপতি বসুচৌধুরী বলেন, "মামলার নম্বর না পড়লে শুনানি সম্ভব নয়। নম্বর নিয়ে আসুন, আজকেই শুনব।" তবে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, "ইতিমধ্যেই হোর্ডিং খুলে দেওয়া হয়েছে, ফলে এখনই আদালতের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই।" তৃণমূলের হোর্ডিং পুনরায় লাগানোর আর্জিও খারিজ করে আদালত জানায়, মামলাটি এখনও অপরিণত পর্যায়ে রয়েছে। সব পক্ষকে হলফনামা জমা দিতে হবে, তারপরই পরবর্তী শুনানি।

জানা গেছে, ক্যামাক স্ট্রিটে প্রায় ৩০০০ বর্গফুট জায়গা জুড়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সেখানে 'অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস' লেখা সাইনবোর্ড খুলে দেয় পুরসভা।

তৃণমূলের অভিযোগ, তালা ভেঙে ছাদে উঠে সাইনবোর্ড উপড়ে ফেলা হয়। বাধা দিতে গিয়ে সিঁড়িতে শুয়ে পড়েন সাংসদ ডেরেক ও'ব্রায়েন সহ নেতা-কর্মীরা। পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক ধস্তাধস্তি হয়।

এই ঘটনায় শেক্সপিয়র সরণি থানায় ৩টি এফআইআর দায়ের হয়েছে এবং ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এফ আই আর-এ নাম রয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও'ব্রায়েন, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় ও হুমায়ুন কবীরের।

পুরসভা বোর্ড খুলে দিলেও, বৃহস্পতিবার রাতেই ওই স্থানে ফের তৃণমূলের ব্যানার ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। অভিষেকের দাবি, এটি বিজেপির প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনীতির ফল এবং ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে বেআইনি হস্তক্ষেপ।

*#Tags:* #CamacStreet #TMC #AbhishekBanerjee #KolkataHighCourt #KMC
উত্তর ২৪ পরগণায় প্রশাসনের উদ্যোগে রাখীবন্ধন উৎসব উদযাপন, সম্প্রীতির বার্তা

*নিজস্ব সংবাদদাতা, উত্তর ২৪ পরগণা:* সৌভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির উৎসব রাখীবন্ধন উপলক্ষ্যে উত্তর ২৪ পরগণা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল।

আজ জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে রাখীবন্ধন উৎসব উদযাপিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক, শিল্পা গৌরীসারিয়া,অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) সহ জেলা প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিক ও কর্মীবৃন্দ।

এদিন একে অপরের হাতে রাখি পরিয়ে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার অঙ্গীকার করেন উপস্থিত সকলে। জেলাশাসক তাঁর বক্তব্যে রাখীবন্ধনের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, এই উৎসব শুধু ভাই-বোনের বন্ধন নয়, এটি সমাজের সকল স্তরের মানুষের মধ্যে ঐক্য ও নিরাপত্তার প্রতীক।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের ব্যবস্থাপনায় এই অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে সম্পন্ন হয়।

অন্যদিকে,রাখি বন্ধন উৎসব এ মাতলেন জগদ্দল বিধায়ক ডক্টর রাজেশ কুমার। আজকের এই দিনে নারী সুরক্ষা থেকে শুরু সাধারণ মানুষের সুরক্ষার বিষয়ে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হলেন বলে জানালেন জগদ্দল বিধায়ক। এদিন শ্যামনগর ঝাউতলা তার বিধায়ক সেবা কেন্দ্রের সামনে রাখি উৎসবে সকলকে রাখি পরান জগদ্দল বিধায়ক।এছাড়াও তাকেও সকল মা-বোনেরা রাখি পরান।
শ্যামনগরে রাখী পূর্ণিমায় সম্প্রীতির বন্ধন বিজেপির, নেপালের ঘটনায় নীরবতা পালন

*নিজস্ব সংবাদদাতা, শ্যামনগর:* আজ শুভ রাখী পূর্ণিমা উপলক্ষ্যে উত্তর ২৪ পরগনার শ্যামনগরে এক মানবিক ও সম্প্রীতির উদ্যোগ নিল ভারতীয় জনতা পার্টি।

এদিন বিজেপির পক্ষ থেকে শ্যামনগরের বিভিন্ন এলাকায় পথচলতি মানুষ, স্থানীয় বাসিন্দা, দোকানদার ও পথযাত্রীদের হাতে রাখি বেঁধে মিষ্টিমুখ করানো হয়। রাখি বন্ধনের মাধ্যমে ভ্রাতৃত্ব, ঐক্য ও সৌহার্দ্যের বার্তা তুলে ধরেন দলীয় কর্মী ও নেতৃত্বরা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব ওকর্মী-সমর্থকরা। সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি এক উৎসবের রূপ নেয়।

অন্যদিকে, এই আনন্দঘন মুহূর্তের মাঝেও পার্শ্ববর্তী দেশ নেপালের বর্তমান বিধ্বংসী ও মর্মান্তিক পরিস্থিতির কথা স্মরণ করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় বিজেপির পক্ষ থেকে। নেপালের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রতি সমবেদনা ও সহমর্মিতা জানানো হয়। *ছবি: প্রবীর রায়।*
ক্যামাক স্ট্রিটে বিলবোর্ড বিতর্ক: হাইকোর্টের দ্বারস্থ তৃণমূল, আজই শুনানির সম্ভাবনা

*কলকাতা:* কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতরের বিলবোর্ড ও সাইনবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে এবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হল তৃণমূল কংগ্রেস।শুক্রবার সকালে বিচারপতি রাজা বসুচৌধুরীর এজলাসে বিষয়টির উল্লেখ করেন তৃণমূলের আইনজীবী কিশোর দত্ত। আদালত মামলা দায়ের করার অনুমতি দিয়েছে।

তৃণমূলের তরফে দ্রুত শুনানির আর্জি জানানো হয়। আইনজীবী আদালতে জানান, "বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টে ৪৫ মিনিট নাগাদ তৃণমূলের অফিসে গিয়ে কলকাতা পুরসভার কর্মীরা বিলবোর্ড ভেঙে দেওয়ার কাজ করেন। বৃহস্পতিবারই হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিকে জানানো হয়েছিল।"

শুনানিতে বিচারপতি বসুচৌধুরী বলেন, "মামলার নম্বর না পড়লে আমি শুনতে পারব না। মামলার নম্বর আসার পরেই শুনানি হবে। আপনি নম্বর নিয়ে আসুন, আজকেই শুনানি হবে।"।পাশাপাশি মামলার অন্য পক্ষকে বিষয়টি জানানোরও নির্দেশ দেন তিনি।

উল্লেখ্য, ক্যামাক স্ট্রিটে তিন হাজার বর্গফুটের বেশি জায়গা জুড়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয় রয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ওই কার্যালয়ের মাথায় থাকা 'অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস' লেখা সাইনবোর্ড খুলে দেয় কলকাতা পুরসভা।

তৃণমূলের অভিযোগ, প্রথমে বাধা দেওয়া হলেও পরে পুলিশ ও পুরসভার কর্মীরা তালা ভেঙে ছাদে উঠে সাইনবোর্ড উপড়ে ফেলেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ধস্তাধস্তি হয়। সিঁড়িতে শুয়ে পড়ে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও'ব্রায়েন সহ অন্যান্য নেতা-কর্মীরা। পুলিশকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

এই ঘটনায় পুলিশ-পুরসভার কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং শেক্সপিয়র সরণি থানায় তিনটি এফআইআর দায়ের হয়েছে। এফআইআরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও'ব্রায়েন, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়, হুমায়ুন কবীরদের নাম রয়েছে।

এদিকে, পুরসভা বিলবোর্ড খুলে দেওয়ার পর বৃহস্পতিবার রাতেই সেখানে ফের তৃণমূলের নামাঙ্কিত একটি ব্যানার ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, বিজেপির প্রতিহিংসাপরায়ণ মনোভাবের কারণে ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে অবৈধ হস্তক্ষেপ করা হয়েছে।
খিদিরপুরকে হারিয়ে লিগ খেতাবের দৌড়ে ইস্টবেঙ্গল*
*খেলা*

*কলকাতা ফুটবল লিগ*
*নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা:* কোচ হিসেবে ঘরের মাঠে ফেরা মেহতাব হোসেনের খিদিরপুরকে ২-০ গোলে হারিয়ে কলকাতা লিগের খেতাবি লড়াই জমিয়ে দিল ইস্টবেঙ্গল।বৃহস্পতিবার ইস্টবেঙ্গল মাঠে ২৭ মিনিটে বিজয় মুর্মু-উত্তম হাঁসদার যৌথ প্রয়াসে গোল করেন আকাশ হেমব্রম। ৬৮ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান মহম্মদ বিলাল। শেষ মুহূর্তে রবি দাসের পেনাল্টি বাঁচান খিদিরপুর গোলকিপার অর্নেন্দু।

এদিন শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলা খেলেছে ইস্টবেঙ্গল। গোলের আগেই তিনবার বল ফেরে পোস্ট ও বারে লেগে। অবশেষে ২৭ মিনিটে অচলাবস্থা ভাঙেন আকাশ। চাকু মান্ডির পাস থেকে ডান প্রান্ত ধরে বিজয় মুর্মুর দৌড়, উত্তম হাঁসদার ছোট্ট টোকা এবং বক্সের বাইরে থেকে আকাশের ডান পায়ের দুরন্ত সোয়ার্ভিং শট — গোল (১-০)।

অবনমন বাঁচিয়ে আই লিগের কথা মাথায় রেখে প্রথম একাদশের ছ'জনকে ছেড়ে দেওয়া খিদিরপুর এদিন ছন্দে ছিল না। মোহনবাগানের বিরুদ্ধে পয়েন্ট কাড়া মেহতাবের দল লাল-হলুদ আগ্রাসনের সামনে কার্যত নিষ্প্রভ দেখাল।

দ্বিতীয়ার্ধেও সুযোগ নষ্টের রোগ অব্যাহত। গ্যালারিতে এক সমর্থক অসুস্থও হয়ে পড়েন। অবশেষে ৬৮ মিনিটে স্বস্তি। বিজয়ের বাড়ানো বলে গোলরক্ষককে কাটিয়ে ঠান্ডা মাথায় জালে বল জড়ান বিলাল (২-০)। ইনজুরি টাইমে রবি দাসের পেনাল্টি দুরন্ত দক্ষতায় বাঁচান খিদিরপুর গোলকিপার অর্নেন্দু।এই জয়ে ৮ ম্যাচে ২০ পয়েন্ট ইস্টবেঙ্গলের। শীর্ষে ভবানীপুর ১০ ম্যাচে ২৪।

*ছবি: সৌজন্যে আই এফ এ।*
।। চাকরি দেওয়ার নামে আড়াই লক্ষ টাকা নেওয়ার অভিযোগ, বাদুড়িয়ায় গ্রেফতার তৃণমূল নেতা ।।
বসিরহাট : চাকরি দেওয়ার নাম করে এক ব্যক্তির কাছ থেকে নগদ ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগে বাদুড়িয়ায় গ্রেফতার হলেন এক তৃণমূল নেতা। ধৃতের নাম আশিক বিল্লাহ্। তিনি বাদুড়িয়া তৃণমূল সংখ্যালঘু সেলের সভাপতি বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে বসিরহাটের বাদুড়িয়া থানার পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। পুলিশ ও অভিযোগকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওই ব্যক্তির কাছ থেকে আশিক বিল্লাহ্ নগদ আড়াই লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। অভিযোগ, নিজের পাশাপাশি স্ত্রীর রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে এলাকার মানুষকে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিতেন তিনি। আশিক বিল্লাহর স্ত্রী মমতাজ বিবি উত্তর ২৪ পরগণা জেলা পরিষদের সদস্য। অভিযোগ, টাকা নেওয়ার পর দীর্ঘদিন কেটে গেলেও ওই ব্যক্তিকে চাকরি দেওয়া সম্ভব হয়নি। এমনকি টাকা ফেরত চাইলেও তা ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে কয়েকদিন আগে বাদুড়িয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন প্রতারিত ব্যক্তি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তের পর আশিক বিল্লাহকে গ্রেফতার করা হয়। বৃহস্পতিবার তাকে বসিরহাট আদালতে পেশ করা হবে। ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। চাকরি দেওয়ার নামে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগের তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।