বসিরহাট উত্তরে রেলমন্ত্রীর রোডশোয়ে জনস্রোত, টাকি রোডে শক্তি প্রদর্শন বিজেপির

বসিরহাট : বসিরহাট উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচনী প্রচারে নতুন গতি এল কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীর উপস্থিতিতে। বিজেপি প্রার্থী কৌশিক সিদ্ধার্থের সমর্থনে আয়োজিত এক বিশাল মিছিলে অংশ নিয়ে প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়েন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। তার উপস্থিতিকে ঘিরে এলাকাজুড়ে উৎসাহ ও ভিড় লক্ষ্য করা যায়। মিছিলটি শুরু হয় মাটিয়া বাজার এলাকা থেকে এবং শেষ হয় খোলাপোতায়। রাজ্য সড়ক ২, অর্থাৎ টাকি রোড ধরে দীর্ঘ এই শোভাযাত্রায় হাজার হাজার দলীয় কর্মী, সমর্থক এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। রাস্তার দু’ধারে দাঁড়িয়ে বহু মানুষ মিছিলকে স্বাগত জানান, ফলে পুরো এলাকা কার্যত জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
মিছিলে অংশ নিয়ে অশ্বিনী বৈষ্ণব কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন এবং বিজেপি প্রার্থী কৌশিক সিদ্ধার্থের পক্ষে ভোট চেয়ে আবেদন জানান। তার বক্তব্যে উঠে আসে রেল ও পরিকাঠামো উন্নয়নের প্রসঙ্গও। তিনি দাবি করেন, দেশের রেলব্যবস্থার আধুনিকীকরণ ও যাত্রী পরিষেবার মানোন্নয়নে একাধিক প্রকল্প ইতিমধ্যেই বাস্তবায়িত হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। অন্যদিকে, বিজেপি প্রার্থী কৌশিক সিদ্ধার্থও মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে এলাকার বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, নির্বাচিত হলে স্থানীয় পরিকাঠামো উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির দিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এই মিছিলকে কেন্দ্র করে বসিরহাট উত্তর এলাকায় নির্বাচনী আবহ আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের এই ধরনের উপস্থিতি ভোটের আগে সংগঠনকে চাঙ্গা করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রভাব বিস্তার করার কৌশলেরই অংশ।
সব মিলিয়ে, বসিরহাট উত্তরে এই বৃহৎ মিছিল বিজেপির নির্বাচনী প্রচারে নতুন মাত্রা যোগ করল এবং ভোটের আগে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আরও জমিয়ে তুলল।
বসিরহাটে সুকান্তের আগুনঝরা মন্তব্য, “টহল নয়, কড়া অ্যাকশন নিক সেন্ট্রাল ফোর্স” ,চড়ল রাজনৈতিক উত্তাপ
সৌমাভ মন্ডল,বসিরহাট : দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের আগে প্রচারের শেষ দিনে বসিরহাটে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে পৌঁছাল। কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার সোমবার বসিরহাটে এসে দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে প্রচারে অংশ নিয়ে একাধিক বিতর্কিত ও তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন, যা ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বসিরহাট দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী ডাঃ শৌর্য্য ব্যানার্জির সমর্থনে টাকি এলাকায় একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় অংশ নেন তিনি। শোভাযাত্রায় দলীয় কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রচার শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নির্বাচন এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য রাখেন।
তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করে সুকান্ত মজুমদার অভিযোগ করেন, ভোটের সময় হামলা ও সন্ত্রাসের রাজনীতি নতুন কিছু নয়। তার দাবি, বিজেপি ক্ষমতায় এলে এই ধরনের পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে তারা সক্ষম এবং কড়া হাতে দমন করা হবে। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে ভয়মুক্ত নির্বাচন অত্যন্ত জরুরি।
কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন প্রসঙ্গে তিনি জানান, এবারের নির্বাচনে আগের তুলনায় হিংসার ঘটনা কিছুটা কমেছে বলে তার ধারণা। প্রথম দফার ভোটে বড় ধরনের অশান্তির ঘটনা সামনে আসেনি বলেও দাবি করেন তিনি। তবে দ্বিতীয় দফায় হিংসার আশঙ্কা বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেন এবং নির্বাচন কমিশন সেই পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত বলেও মন্তব্য করেন।
উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণার কিছু এলাকায় দুষ্কৃতীদের সক্রিয়তা বেড়েছে বলে অভিযোগ তুলে তিনি বিশেষভাবে সীমান্তবর্তী অঞ্চলের প্রসঙ্গ টানেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় মাঝে মধ্যেই বাইরের লোক ঢুকে অশান্তি তৈরির চেষ্টা করে। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে আরও সতর্ক ও কঠোর হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে মত তার। সবচেয়ে বেশি বিতর্কের সৃষ্টি করেছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে তার মন্তব্য। তিনি বলেন, শুধুমাত্র মোতায়েন করলেই হবে না, বাহিনীকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। তার কথায়, “সেন্ট্রাল ফোর্স শুধু ঘুরে বেড়ালে হবে না, ক্যালানিও দিতে হবে।” এই মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে, বসিরহাটে প্রচারের শেষ দিনে সুকান্ত মজুমদারের এই সফর ও বক্তব্য নির্বাচনী লড়াইকে আরও তীব্র করে তুলেছে। ভোটের আগে আইনশৃঙ্খলা, নিরাপত্তা এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা আগামী দিনে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে থাকতেই পারে।
সোমবার থেকেই বাইক মিছিল ও একাধিক বাইক নিয়ে চলাফেরার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি হাইকোর্টের

নিজস্ব প্রতিনিধি:দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে বাইকের বিধিনিষেধ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চের নির্দেশে সামান্য পরিবর্তন আনল ডিভিশন বেঞ্চ। সোমবার থেকেই বাইক মিছিল ও একাধিক বাইক নিয়ে চলাফেরার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করল বিচারপতি শম্পা সরকারের ডিভিশন বেঞ্চ। গ্রুপ রাইডিং চলবে না বলেই জানিয়ে দিল আদালত। আদালতের মন্তব্য, একজন নাগরিকের অধিকার খর্ব করতে পারেন না কমিশন। বিহার এবং আসামের ক্ষেত্রেও কি একই বিধি-নিষেধ আরোপ করেছিলেন। যদি সেখানে করে থাকেন তাহলে আমি এখানেও করার অনুমতি দেব বলে মন্তব্য করে আদালত। ডিভিশন বেঞ্চের প্রশ্ন গাড়ির ক্ষেত্রে কেন বিধি নিষেধ প্রযোজ্য হবে না। বাইক নিয়ে সিঙ্গেল বেঞ্চের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে যায় নির্বাচন কমিশন। সেই মামলায় এই নির্দেশ দিল আদালত। মূলত, রাজনৈতিক দলের বাইক দাপট রুখতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কমিশন।ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে বাইকে ‘গ্রুপ রাইডিং’ নিষিদ্ধ থাকবে। দল বেঁধে বাইক চালানো যাবে না। তবে কারও ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা যাবে না। বিচারপতি সরকারের মন্তব্য, কারও ব্যক্তি স্বাধীনতায় আমরা হস্তক্ষেপ করতে পারি না। কারও যদি ইচ্ছে হয় বাইকে করে মুক্ত বাতাস নিতে যাবেন, তাতে বাধা কোথায়। সেখানে আমরা বাধা দিতে পারি না। অন্য কোনও রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ক্ষেত্রে কমিশন এমন কোনও পদক্ষেপ করেছে বলেও প্রমাণ দেখাতে পারেনি কমিশন। আদালত জানিয়েছে, নজির হিসাবে অন্য রাজ্যের উদাহরণ দেখালে তা বিবেচনা করা হত। তবে ‘গ্রুপ রাইডিং’ করা যাবে না।
প্রচার

*বিধানসভা কেন্দ্র: বারাসাত।*

*নিজস্ব প্রতিনিধি* : রাজ্যে দ্বিতীয় দফার ভোট গ্রহণের আগে আজ শেষ রবিবার। ভোট গ্রহণ ২৯ এপ্রিল। এদিন প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী থেকে অমিত শাহ সকলেই প্রচারে ঝড় তুলেছেন। এদিক দিয়ে উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাত বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সব্যসাচী দত্ত ও পিছিয়ে নেই এই রবিবাসরীয় প্রচার পর্বে। বসিরহাটের প্রাক্তন সাংসদ তথা অভিনেত্রী নূসরাত জাহান কে এনে রোড শো আয়োজন করেছিলেন। রাস্তার দু'ধারে উপস্থিত জনগণ উদ্দেশ্যে হাত নাড়তেও দেখা গেল নূসরাত কে।
"সকল শরণার্থী পরিবারের দায়িত্ব আমাদের', ঠাকুরনগরের সভায় মতুয়াদের বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

 নিজস্ব প্রতিনিধি : রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোট আগামী ২৯ এপ্রিল । ওইদিন ৭ টি জেলার ১৪২ টি আসনে ভোট গ্রহণ হবে।আর আজ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের শেষ হাইভোল্টেজ রবিবার। বিজেপির পক্ষে এই দিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রথম সভা ছিল উত্তর ২৪ পরগনার ঠাকুরনগরে । মতুয়া ধর্মের পীঠস্থান ঠাকুরবাড়ির কামনা সাগরের পার্বতীর মাঠে ছিল সেই সভা ।মোদি এই জনসভায় জানান,

'সব শরণার্থী নাগরিকত্ব পাবেন'।

আমি স্পষ্ট করে বলছি, আপনাদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। স্থায়ী ঠিকানা পাবেন, প্রত্যেক কাগজ পাবেন যা আপনাদের জন্য দরকারি। সবাই অধিকার পাবেন যা প্রত্যেক ভারতবাসী পান। এটা মোদীর গ্যারেন্টি। কিন্তু তৃণমূলের মিথ্যে থেকে আপনাদের সতর্ক থাকতে হবে।

শরণার্থীদের মোদীর বার্তা ,

জনসংঘ পূর্ব বাংলা থেকে বিতাড়িত শরণার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছিল। তখন তাদের কোনও সরকার ছিল না, কিন্তু শরণার্থীদের কথা তারাই প্রথম তুলেছিল। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে শরণার্থীদের প্রবক্তা মানা হত। ওঁর সংস্কারই আমাদের মধ্যে রয়েছে। আজ আমরা সকল শরণার্থী পরিবারের সুরক্ষা নিজেদের দায়িত্ব হিসেবে মনে করি। আপনাদের সুখ-দুঃখের চিন্তা করা আমাদের দায়িত্ব। তাই আমি সিএএ আইন লাগু করেছি।

এদিন তার ভাষণে, সন্দেশখালি' প্রসঙ্গ উঠে আসে। তিনি বলেন,

রাজ্যের জঙ্গলরাজে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন মহিলারাই, আর তাঁদের চোখে ক্ষোভ স্পষ্ট। সন্দেশখালিতে মহিলাদের উপর অত্যাচার হয়েছে এবং সেই ঘটনায় শাসকদল অভিযুক্তদের সমর্থন করেছে। মহিলাদের অপমান করা হয়েছে, গালিগালাজ করা হয়েছে এবং এই ধরনের ঘটনা মানুষ ভুলে যাননি। বর্তমান সরকারের আমলে মেয়েরা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাও ঘটছে, অথচ মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের কোনও চিন্তা নেই।

১৫ বছর আগে তৃণমূল মা-মাটি-মানুষের কথা বলে ক্ষমতায় এসেছিল। এখন ওদের মুখ থেকে আর সে সব কথা শোনা যায় না। কারণ এসব কথা বললে ওদের পাপ প্রকাশ্যে চলে আসবে। তাই আপনাদের বলি, ৪ তারিখ বাজনা বাজিয়ে তৃণমূলকে বিদায় দিন।

আপনাদের একটা ভোট দরকার। তারপরই বাংলাকে আজাদি দেব তৃণমূলের কাটমানি, দুর্নীতি, নারী অত্যাচার, সিন্ডিকেটরাজ থেকে। নেতাজি বলেছিলেন, রক্তের বদলে স্বাধীনতার কথা, আমি আপনাদের থেকে একটা করে ভোট চাইছি।

এরাজ্যে একটাই দোকান চলছে, সেটা হল তৃণমূলের

সিন্ডিকেট-কাটমানির। এমন সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতেই হবে, তাদের রাজ্য থেকে তাড়াতেই হবে। তাই গোটা বাংলা একই স্লোগান তুলছে - পাল্টানো দরকার, চাই বিজেপি সরকার।প্রথম দফায় ভাঙল তৃণমূলের অহঙ্কার, দ্বিতীয় দফায় হবে বিজেপি সরকার। তৃণমূলের নির্মমতা মা-কে কাঁদিয়েছে, মাটিকে অনুপ্রবেশকারীদের হাতে তুলে দিয়েছে আর মানুষকে নিজের রাজ্য থেকে পালাতে বাধ্য করেছে।

তার ভাষণে স্পষ্ট বলেন,প্রথম দফার ভোটে কামাল করেছে বাংলা। যে হারে ভোট হয়েছে তাতে স্পষ্ট, বিজেপি সরকার আসছে। এমনভাবে চিৎকার করুন যাতে গোটা বাংলা জানতে পারে যে, কার সরকার হচ্ছে।

জগদ্দল বিধানসভা পূর্ব বিদ্যাধরপুর এলাকায় বিজেপি কর্মীর বাড়িতে বোমাবাজি

নিজস্ব প্রতিনিধি: রবিবার ভোর রাতে উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দল বিধানসভার অন্তর্গত মন্ডল পাড়ার বিদ্যাধরপুর এলাকায় বিজেপি কর্মী, শিবু রায়ের বাড়িতে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা দুটি বোমা ছোড়ে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাড়ির জালনার কাঁচ। এই ঘটনায় ভয়ের আতঙ্কিত এলাকাবাসী। ঘটনার পর থেকে শিবু রায় বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে প্রাণভয়ে অন্যত্র আশ্রয় নেয়। এদিন তার বাড়িতে যান জগদ্দলের বিজেপি প্রার্থী রাজেশ কুমার। তিনি এলাকাবাসী কে শান্ত থাকার আর্জি জানিয়েছেন। ছবি: প্রবীর রায়।
মোদী দিল্লিতে যা করছেন, পশ্চিমবঙ্গে তাই করছেন মমতা: রাহুল
*প্রচার*

*রাহুল গান্ধী*

*নিজস্ব প্রতিনিধি:* শনিবার বিকেলে কলকাতার শহিদ মিনারে রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা কংগ্রেসের ৫৫ জন প্রার্থীর সমর্থনে জনসভা করেন রাহুল গান্ধী। এই সভা থেকে মোদী ও মমতাকে এক আসনে বসিয়ে আক্রমণ করেন। পাশাপাশি, ঘুরপথে পরস্পরের বিরুদ্ধে আঁতাতের অভিযোগও করেন তিনি। *ছবি:  সঞ্জয় হাজরা* ।
ভোটের আগে বাইক চালানো নিয়ে হাইকোর্টের নির্দেশ
নিজস্ব প্রতিনিধি: ভোটের তিন দিন আগে থেকে বাইক চালানো নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তি আংশিক সংশোধন করার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালত জানিয়েছে, ৭২ ঘণ্টা আগে থেকে নয়, ভোটের মাত্র ১২ ঘণ্টা আগে জরুরী প্রয়োজন ছাড়া বাইকে কাউকে চাপিয়ে রাস্তায় যাওয়া চলবে না। তবে ভোটের দিনে ভোর ৬ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত পরিবারের সদস্যদের ভোট দিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাইকে চাপানো যাবে। তবে ওলা, উবের, সুইগির মতো যাতায়াত বা খাবার পৌঁছিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে যারা কাজ করেন তারা এর আওতায় আসবে না। অফিসেও যাতায়াতের ক্ষেত্রে সঠিক পরিচয়পত্র সঙ্গে নিয়ে যাতায়াত করা যাবে। তবে রালী করার ক্ষেত্রে কিছুটা কড়া মনোভাব রেখেছে আদালত। সেক্ষেত্রে কমিশনার নির্দেশ মেনে ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে রেলি করা যাবে না।
ব্যারাকপুরের জগদ্দলে অমিত শাহ রোড শো
নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজ্যে প্রথম দফা ভোটের পর শুক্রবারও রাজ্যে ছিল হেভিওয়েট জনসভা। এদিন অমিত শাহের শেষ কর্মসূচি ছিল উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুরে জগদ্দলে৷ এক সুবিশাল রোড-শোতে অংশগ্রহণ করেছিলেন তিনি।কখনও তিনি হাত নেড়ে, আবার কখনও হাতজোড় করে রাস্তার দু'ধারে সাধারণ মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ করলেন। বি: প্রবীর রায়।
বাইক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা, ‘কোন আইনে এই বিজ্ঞপ্তি?’ কমিশনকে প্রশ্ন হাইকোর্টের

*নিজস্ব প্রতিনিধি* : বাইক রালি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত সঙ্গে একমত হলেও কোন আইনে ব্যক্তিগত বাইক ব্যবহারকারীদের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা হল, কলকাতা হাইকোর্টে তার কোনো সদুত্তর উ
দিতে পারল না কমিশন। শুক্রবার বিচারপতি কৃষ্ণা রাও একাধিকবার কমিশনের কাছে, আইনের কোন ধারায় এই ৭২ ঘণ্টার নিষেধাজ্ঞা তার ব্যাখ্যা চান।তিনি জানতে চান, এই অপব্যবহার নিয়েও কত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। কিন্তু তার উত্তর দিতে পারেনি কমিশন। শুক্রবার মামলার শুনানি শেষে রায়দান স্থগিত রাখল আদালত। এদিনের শুনানিতে কমিশনের আইনজীবি জিষ্ণু সেনগুপ্ত বলেন, আমাদের কাছে অনবরত অভিযোগ আসছে যে বাইক চড়ে এসে হুমকি দিয়ে গেছে। বাইকে করে পালিয়ে যাওয়া সহজ। তার দাবি, বাইকে করে নাকা তল্লাশির এলাকা এড়িয়ে যাওয়া সহজ। কমিশনের যুক্তি, যে ব্যক্তি বাইকের পিছনে বসে থাকে সেই অপরাধ বেশি করে থাকে। পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী একযোগে আইন রক্ষায় কাজ করছেন বলে সওয়াল করেন জীষ্ণু। সেটা শুনে বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, আইনের কোন ধারায় আপনারা এই বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। তাঁর মন্তব্য, বাইক মিছিলের ক্ষেত্রে আপনারা ১১০ ভাগ সঠিক। পাল্টা কমিশন জানায়, যারা কাজে যাচ্ছেন, অফিসে যাচ্ছেন তাদের ছাড় দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিচারপতি বলেন, যারা মজদুর, যারা কোচিং সেন্টার চালান, যারা সাধারণ শ্রমিক তারা আইডি কার্ড কোথায় পাবেন। আইডি না দেখালে তো আপনারা ছাড় দেবেন না বলে মন্তব্য করেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। তাঁর প্রশ্ন, নির্বাচনের দিন এই বিধিনিষেধ আরোপ করলে বোঝা যায়, কিন্তু এতো তাড়াতাড়ি কেন।
বিচারপতি মন্তব্য করেন, আপনার কাছে রাজ্য পুলিশ আছে, কেন্দ্রীয় বাহিনী আছে। আপনারা তাদের ব্যবহার করুন। কেউ যেন বাইক নিয়ে বুথের কাছে যেতে না পারেন সেটা দেখুন। কমিশনের আইনজীবী ডিএস নাইডু বলেন, এই রাজ্যে ভোটে হিংসার ইতিহাস আছে। আমার সব তথ্য খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে অস্বাভাবিক কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। তিনি বলেন, রাজ্য সহযোগিতা না করলে আমরা নিয়ম লাগু করতে পারব না, আর এখানে রাজ্য বলছে যে আমরা বেআইনি কাজ করছি।তাঁর সওয়াল, এই বিধিনিষেধ নতুন কিছু নয়, প্রতিবার ২৪ ঘণ্টা আগে থেকে করা হয়, এবার আরও আগে থেকে করা হচ্ছে। বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, যান নিয়ন্ত্রণের জন্য শুধু বাইক-কেই কেন বাছলেন।
কমিশন বলে, নিজের অভিজ্ঞতা এবং জ্ঞান থেকে এই কাজ করা হয়েছে। সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য আমরা এই পদক্ষেপ নিয়েছি। রাজ্য বলে, এই নির্দেশিকা জারি করার ক্ষমতার উৎস কোথায় সেটা কমিশন জানাতে পারেনি। আইন তৈরির ক্ষমতা কমিশনের নেই।
আইনের কোন ধারায় বাইক নিষিদ্ধ করা হল জানাতে পারেনি কমিশন বলে জানায় রাজ্য। মামলাকারীর আইনজীবী শামীম আহমেদ বলেন, কমিশনের একই ধরনের বিজ্ঞপ্তি মাদ্রাজ ও গুজরাট হাইকোর্ট খারিজ করে দিয়েছিল। এদিন মামলার শুনানি শেষে রায়দান স্থগিত রেখেছেন বিচারপতি।