বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬
বিশ্বকাপ তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ,আজ ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে মহারণ
স্পোর্টস ডেস্ক: ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনালের আগে শেষ লড়াই। ট্রফি না থাকলেও সম্মানের লড়াইটা কোনও অংশে কম নয়। শনিবার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে বিশ্ব ফুটবলের দুই শক্তি ফ্রান্স এবং ইংল্যান্ড।
ভারতীয় জাতীয় দলের সিনিয়র গোলরক্ষক গুরপ্রীত সিং সান্ধুর চোখে এই ম্যাচের সবচেয়ে বড় টার্নিং পয়েন্ট হতে পারেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেন।
গুরপ্রীত বলেন, "যদি হ্যারি কেন শুর একাদশে থাকেন, তিনি নিঃসন্দেহে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় হুমকি। তাঁর সবচেয়ে বড় গুণ হল মাঝমাঠে নেমে এসে খেলা তৈরি করা। তিনি শুধু গোলই করেন না, সতীর্থদের জন্য জায়গা তৈরি করে দেন।"
সেমিফাইনালেও ইংল্যান্ড এই কৌশলেই প্রতিপক্ষকে সমস্যায় ফেলেছিল বলে মনে করেন তিনি। তার মতে,"ফ্রান্সের সেন্টার-ব্যাকদের এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে—তারা কেনকে অনুসরণ করবে, নাকি নিজেদের ডিফেন্সিভ শেপ ধরে রাখবে। এই ভারসাম্যটা ঠিক রাখতে না পারলেই সমস্যা। এটাই ম্যাচের সবচেয়ে বড় কৌশলগত লড়াই হতে চলেছে।"
সেমিফাইনালে হারের পর দুই দলের কোচের সামনেই বড় চ্যালেঞ্জ—দলের মনোবল ধরে রাখা। গুরপ্রীতের মতে, "ফাইনালে উঠতে না পারার পর অনুপ্রেরণা ধরে রাখা স্বাভাবিকভাবেই কঠিন। কিন্তু বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে দেশের জার্সি গায়ে নামাটাই সবচেয়ে বড় প্রেরণা।" তিনি আভাস দেন, একাদশে কিছু বদল আসতে পারে। তবে কিলিয়ান এমবাপের মতো তারকাকে তিনি বেঞ্চে দেখছেন না। "গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এমবাপে এখনও রয়েছেন। ওর মতো খেলোয়াড় সবসময় মাঠে থাকতে চায়। ব্যক্তিগত মাইলস্টোনও দল নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে।"
ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের সমস্যা দু’রকম। সেটা হল,"ফ্রান্সের গোল খাওয়া শুধু ব্যক্তিগত ভুল ছিল না। দ্বিতীয় গোলের সময় দুই ডিফেন্ডার একই খেলোয়াড়ের দিকে ছুটে গিয়েছিল, আর মাঝমাঠ থেকে আসা রানারদের কেউ মার্ক করেনি। এটা ট্যাকটিক্যাল ভুল।অন্যদিকে, ইংল্যান্ডের সমস্যা ছিল মানসিকতা। "এগিয়ে যাওয়ার পর তারা খুব বেশি রক্ষণাত্মক হয়ে পড়েছিল। অভিজাত দলের বিরুদ্ধে অনেকক্ষণ ধরে ডিপ ডিফেন্স করলে ক্লান্তি আসবেই, আর তখনই ভুল হয়।"
তৃতীয় স্থানের ম্যাচ হার-জিতের বাইরেও দুই দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। গুরপ্রীত মনে করেন, ফলাফল যাই হোক, ফ্রান্স এবং ইংল্যান্ড এখনও বিশ্বের সেরা দলগুলোর মধ্যে থাকবে। তবে,"দুই দলই অভিজ্ঞ এবং তরুণ ফুটবলারের দারুণ মিশ্রণ তৈরি করেছে। বড় টুর্নামেন্টের শেষ পর্যায়ে নিয়মিত পৌঁছানো কাকতালীয় নয়। এই বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা ওদের আরও শক্তিশালী করবে। আমি অবাক হব না যদি আগামী দিনে এই দুই দেশ আবার বিশ্বকাপ ফাইনালে মুখোমুখি হয়।"
শনিবারের লড়াই তাই শুধু ব্রোঞ্জের জন্য নয়। এটা আত্মসম্মান, কৌশল এবং ভবিষ্যতের প্রস্তুতির লড়াই।
ছবি:সংগৃহীত।
Jul 18 2026, 17:27
- Whatsapp
- Facebook
- Linkedin
- Google Plus
1- Whatsapp
- Facebook
- Linkedin
- Google Plus
1.7k