বিশ্বকাপ ফুটবল,২০২৬
*রোনাল্ডোর শেষ নাচের সামনে স্পেনের অক্ষত ডিফেন্স, ২০০২-এর পর প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালের স্বপ্নে আমেরিকা*
স্পোর্টস ডেস্ক: মঙ্গলবার আরও দু'টি রাউন্ড অফ ১৬-এ যাওয়ার লড়াই। তারমধ্যে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর সম্ভবত শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলতে আর্লিংটনে মুখোমুখি হবে দুই ইউরোপীয় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পর্তুগাল ও স্পেন। অন্যদিকে, এবারের বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক আমেরিকা সিয়াটলে বেলজিয়ামকে আতিথ্য দেবে দুই দশকের বেশি সময় পর কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন নিয়ে। আর দু'টি দলই যারা শেষ মুহূর্তের নাটকের পর এখানে পৌঁছেছে।
*পর্তুগাল বনাম স্পেন*
*পুরনো প্রতিদ্বন্দ্বী, নতুন দাঁও*
পর্তুগাল ও স্পেনের মধ্যে সীমান্তও আছে, একশো বছরের বেশি পুরনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা। কিন্তু বিশ্বকাপে তাদের দেখা হয়েছে মাত্র দু'বার। ২০১০-এ রাউন্ড অফ ১৬-এর কাঁটায় কাঁটায় ম্যাচে জিতেছিল স্পেন। আর ২০১৮-তে দু'দল মিলে উপহার দিয়েছিল ক্লাসিক ৩-৩ ড্র, যা আজও আলোচনায়। সাম্প্রতিকতম সাক্ষাত আরও নাটকীয়। গত বছরের ইউইএফএ নেসন্স লিগ ফাইনালে টাইব্রেকারে স্পেনকে হারিয়ে ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে দু'বার ট্রফি জেতে পর্তুগাল। এবার স্পেনকে ফেভারিট ধরলেও এই ম্যাচের হিসেব সবসময় উল্টেপাল্টে যায়।
*যে কোনও ভাবেই হোক রোনাল্ডোর স্মরণীয় রাত*
৪১ বছর বয়সে এটাই খুব সম্ভবত ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর ষষ্ঠ এবং শেষ বিশ্বকাপ। আর তিনি নিশ্চিত করেছেন যে মানুষ তাঁকে নিয়েই কথা বলবে। এখনও পর্যন্ত ৩ টি গোল, যার মধ্যে উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে ৫-০ গোলের শুরুর ম্যাচে দু'টি গোল। আর রাউন্ড অফ ৩২-তে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে পেনাল্টি থেকে তাঁর প্রথম বিশ্বকাপ নকআউট গোল। মঙ্গলবার যা-ই হোক, তিনি ইতিমধ্যেই ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে ৬'টি আলাদা বিশ্বকাপে গোল করার নজির গড়েছেন। স্পেনের কাছেও নিজস্ব বক্স-অফিস নাম রয়েছে লামিন ইয়ামালের, চোটের পর পুরো ফিটনেসে ফিরছেন তিনি।
তবে স্পেন শিবিরে যে পরিসংখ্যান নিয়ে আলোচনা চলছে তা হল ৪ ম্যাচ, গোল হজম শূন্য। গ্রুপ পর্ব থেকে নকআউট পর্যন্ত নিখুঁত ডিফেন্সিভ রেকর্ড। রাউন্ড অফ ৩২-তে অস্ট্রিয়াকে ৩-০ উড়িয়ে দিয়ে তা আরও পাকা করেছে দলটি। অন্য দিকে, পর্তুগাল ৪ ম্যাচে ৮ গোল করেছে, তবে ডিফেন্সে কিছুটা নড়বড়ে। দু'টি গোল খেয়েছে, যার মধ্যে শুরুর ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর সঙ্গে স্নায়ুর চাপ বাড়ানো ড্রও ছিল। টুর্নামেন্টে এখনও পর্যন্ত যে ডিফেন্স ভাঙেনি, তার মুখোমুখি যখন গোল-মেশিন, তখন একটা কিছু ভাঙবেই।
স্পেন আসছে ডিফেন্ডিং ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে, আর ট্রফির অন্যতম ফেভারিট হিসেবে। বেশিরভাগ বুকমেকারের তালিকায় ফ্রান্সের ঠিক পরেই তাদের নাম। অন্যদিকে,পর্তুগাল ২০২-এর কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর কাছে হারের হিসেব মেটাতে চায়। এই ম্যাচ জিতলে সেমিফাইনালের পথে রোমাঞ্চকর লড়াই অপেক্ষা করছে। রোনাল্ডো ফ্যাক্টর ছাড়াও নিরপেক্ষ সমর্থকদের ম্যাচ দেখার জন্য এটাই যথেষ্ট কারণ।
এই বিশ্বকাপ টুর্নামেন্ট গোলের নিরিখে অবিশ্বাস্য। শুধু গ্রুপ পর্বেই হয়েছে ২১৫টি গোল, যা আগের যে কোনও বিশ্বকাপের গোটা টুর্নামেন্টের রেকর্ডকেও ছাপিয়ে গেছে। পুরনো রেকর্ড ছিল ২০২২ কাতারে ১৭২টি গোল। পর্তুগাল ও স্পেনও নিজেদের ভাগের কাজ করেছে, ইতিমধ্যেই দু'দলেরই ৮টি করে গোল। আর দু'দলকেই এখনও পর্যন্ত আক্রমণের গতি কমাতে দেখা যায়নি।
এদিনের খেলায় নজরে থাকবেন,পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো, ব্রুনো ফার্নান্ডেজ, নুনো মেন্ডেস এবং স্পেনের লামিন ইয়ামাল, মিকেল ওয়ার্জাবাল, পেদ্রি ।
ছবি: সংগৃহীত।
Jul 07 2026, 04:55
- Whatsapp
- Facebook
- Linkedin
- Google Plus
1- Whatsapp
- Facebook
- Linkedin
- Google Plus
3.6k