বসিরহাট উত্তরে তৃণমূলে বড়সড় ভাঙ্গন, দেড় হাজার নেতা, কর্মী ও সমর্থকের আইএসএফে যোগদান 
বসিরহাট : বসিরহাট উত্তর বিধানসভায় রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলল। বহিরাগত প্রার্থী দেওয়ার অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেসে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ এবার প্রকাশ্যে ফেটে পড়ল। প্রায় দেড় হাজার তৃণমূল নেতা, কর্মী ও সমর্থক দল ছেড়ে যোগ দিলেন আইএসএফে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই এলাকায় রাজনৈতিক উত্তাপ বেড়েছে। বুধবার বসিরহাট উত্তর বিধানসভার মুরারীশাহ গ্রাম পঞ্চায়েতের মুরারিশাহ চৌমাথা এলাকায় একটি বড় যোগদান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সেখানে আইএসএফ প্রার্থী মুসা কারিমুল্লার হাত ধরে আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূল ছেড়ে আইএসএফে যোগ দেন ওই নেতা-কর্মীরা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, যোগদানকারীদের মধ্যে পঞ্চায়েত স্তরের একাধিক প্রভাবশালী মুখও রয়েছেন, যা আগামী নির্বাচনে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। দলত্যাগীদের একাংশের দাবি, বসিরহাট উত্তর বিধানসভা ছাড়াও বসিরহাট লোকসভা এলাকায় বারবার বহিরাগত প্রার্থী দেওয়ার ফলে স্থানীয় কর্মীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ জমে উঠছিল।
।। প্রিয় শিক্ষককে যেতে দিতে নারাজ, স্কুলে আটকে রেখে বিক্ষোভ কচিকাঁচাদের ।।

বসিরহাট : “স্যার না এলে ক্লাস নয়” বসিরহাটের স্কুলে তালা মেরে বিক্ষোভ কচিকাঁচাদের। বসিরহাট ১নং ব্লকের শাঁকচূড়া-বাগুন্ডি গ্রাম পঞ্চায়েতের ধলতিথা অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একদিকে আবেগ, অন্যদিকে উত্তেজনা। এই দুইয়ের মিশেলে তৈরি হল এক ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি। বিদ্যালয়ের শিক্ষক কৌশিক বিশ্বাসের বদলির নোটিশ আসতেই প্রিয় শিক্ষককে ঘিরে কাঁদতে দেখা গেল ছোট্ট পড়ুয়াদের, আর সেই আবেগই দ্রুত রূপ নেয় বিক্ষোভে। বুধবার সকাল থেকেই স্কুল প্রাঙ্গণে জড়ো হয় ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকরা। কেউ স্যারের হাত আঁকড়ে ধরে, কেউ আবার চোখের জলে ভাসিয়ে অনুরোধ জানায়—“স্যার, আপনি আমাদের ছেড়ে যাবেন না।” কিন্তু এই আবেগঘন দৃশ্যের মধ্যেই প্রতিবাদের সুরও চড়া হতে থাকে। শিক্ষকের বদলি রুখতে স্কুলের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। বিক্ষোভকারীদের স্পষ্ট দাবি, কৌশিক বিশ্বাসকে এই স্কুলেই রাখতে হবে। অভিভাবকদের একাংশ জানান, তিনি শুধু একজন শিক্ষক নন, ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। তাই তাকে সরানো হলে পড়াশোনার ক্ষতি অনিবার্য। পড়ুয়া থেকে অভিভাবক সকলেরই হুঁশিয়ারি, ওই শিক্ষক স্কুলে না এলে পঠনপাঠন সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হবে। এর ফলে দিনের একটি বড় অংশ জুড়ে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিষয়টি নিয়ে ওই স্কুলের শিক্ষক কৌশিক বিশ্বাস বলেন, "এসআই অফিস ও বারাসাত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তর থেকে আমার কাছে বদলির চিঠি এসেছে। যদিও আমি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি যে এখানকার ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকরা আমাকে যেতে দিতে চাইছে না। কিন্তু সরকারি নিয়ম মেনেই আমাকে কাজ করতে হবে।"
।। নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠ রূপ দিতে তৎপর জেলা প্রশাসন ।।
বসিরহাট : আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বসিরহাট পুলিশ জেলার পক্ষ থেকে প্রশাসনিক প্রস্তুতি জোরদার করতে এক গুরুত্বপূর্ণ পরিদর্শন কর্মসূচি সম্পন্ন হল। নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ রাখতে স্ট্রং রুম এবং ডিস্ট্রিবিউশন-রিসিভিং সেন্টার গুলির পরিকাঠামো ও নিরাপত্তা খতিয়ে দেখা হয়। ভ্যাবলা লেডি মুখার্জী গার্লস’ হাই স্কুল, ভ্যাবলা গভর্নমেন্ট পলিটেকনিক, বসিরহাট হাই স্কুল এবং বসিরহাট কলেজে পরিদর্শন করা হয়। প্রতিটি কেন্দ্রেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রবেশ ও প্রস্থান পথ, সিসিটিভি নজরদারি, ইভিএম সংরক্ষণের উপযুক্ত পরিবেশ এবং নির্বাচন কর্মীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা খতিয়ে দেখা হয়। পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন উত্তর ২৪ পরগণার জেলা শাসক শিল্পা গৌরিসারিয়া, বসিরহাট পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার অলকনন্দা ভওয়াল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (জোনাল) শেখ মোহাম্মদ আজিম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পার্থ ঘোষ এবং বসিরহাটের মহকুমা শাসক জসলিন কৌর। উচ্চপদস্থ এই প্রশাসনিক আধিকারিকরা প্রতিটি কেন্দ্র ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনকে সম্পূর্ণভাবে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ রাখতে সমস্ত রকম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্বাচন প্রক্রিয়াকে নির্বিঘ্ন রাখতে বসিরহাট পুলিশ জেলা সর্বদা তৎপর থাকবে।
এই পরিদর্শন কর্মসূচি থেকে স্পষ্ট, প্রশাসন আগাম প্রস্তুতির মাধ্যমে সম্ভাব্য সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে এবং ভোটারদের জন্য একটি নিরাপদ ও স্বচ্ছ পরিবেশ নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
।। সন্দেশখালিতে উলট-পুরান, প্রতিবাদীদের গ্রামে তৃণমূলের ঝান্ডা হাতে শয়ে শয়ে মহিলারা ।।
বসিরহাট : সন্দেশখালি একসময় দেশজুড়ে শিরোনামে উঠে এসেছিল মহিলাদের প্রতিবাদ আন্দোলনের জন্য। বিশেষ করে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে সেই আন্দোলনের ছবি জাতীয় রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলেছিল। যদিও পরবর্তী লোকসভা নির্বাচনে বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস জয়লাভ করে, কিন্তু সন্দেশখালি বিধানসভা কেন্দ্রে চিত্র ছিল ভিন্ন। সেখানে প্রায় সাড়ে সাত হাজার ভোটে বিজেপির কাছে পিছিয়ে পড়েছিল জোড়া ফুল শিবির। তবে সময়ের ব্যবধানে সেই ছবিতে বদল এসেছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। এবার সেই সন্দেশখালিতেই দেখা গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক দৃশ্য। মাঝেরপাড়া, পাত্রপাড়া ও সিংহপাড়া এলাকায় হাজার হাজার মহিলা তৃণমূলের পতাকা হাতে রাস্তায় নেমে মিছিল করলেন। এই মিছিল শুধু রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শন নয়, বরং সংগঠনের পুনরুজ্জীবনের বার্তা বলেও মনে করা হচ্ছে। মিছিলে অংশগ্রহণকারী মহিলাদের অধিকাংশই তপশিলি জাতি ও তপশিলি উপজাতি সম্প্রদায়ের। তাদের উপস্থিতি এই কর্মসূচিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে। ধামসা-মাদলের তালে তালে আদিবাসী নৃত্যের মধ্য দিয়ে মিছিল এগোয়‌‌। যা গোটা পরিবেশকে এক ভিন্ন আবহ দেয়। এই মিছিলে সামনের সারিতে ছিলেন তৃণমূল প্রার্থী ঝর্না সর্দার, যিনি মহিলাদের সঙ্গে পা মিলিয়ে পুরো কর্মসূচিতে অংশ নেন।
এদিনের এই মিছিলে নেতৃত্ব দেন সন্দেশখালি ২নং ব্লকের তৃণমূল সভাপতি দিলীপ মল্লিক। তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দলের একাধিক স্থানীয় নেতৃত্ব ও কর্মী-সমর্থকরা। তাদের বক্তব্যে উঠে আসে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার বার্তা এবং আগাম নির্বাচনের আগে জনসংযোগ বাড়ানোর ওপর জোর। রাজনৈতিক মহলের মতে, যে সন্দেশখালি একসময় আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল, সেখানে এই ধরনের বড় মাপের মহিলা মিছিল তৃণমূলের পক্ষে ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করছে। বিশেষ করে তপশিলি ও আদিবাসী মহিলাদের ব্যাপক অংশগ্রহণ আগামী নির্বাচনে সমীকরণ বদলাতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে সন্দেশখালির এই নতুন চিত্র বসিরহাটের রাজনীতিতে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে এবং আগামীর নির্বাচনী লড়াইয়ে এই এলাকা যে ফের গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
তৃণমূল কর্মীর বাড়ি থেকে তাজা বোমা উদ্ধার, এলাকায় চাঞ্চল্য
বসিরহাট : বসিরহাটের মিনাখাঁ বিধানসভার সোনাপুকুর-শংকরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ন'পাড়া এলাকায় চাঞ্চল্যকর ঘটনায় এক তৃণমূল কর্মীর বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ তাজা বোমা উদ্ধার করলো পুলিশ। অভিযুক্ত মুজিবর মোল্লা, সে স্থানীয়ভাবে তৃণমূলের সক্রিয় কর্মী বলেই পরিচিত।
পুলিশ সূত্রে খবর, গোপন সূত্রে তথ্য পেয়ে হাড়োয়া থানার পুলিশ মঙ্গলবার সকালে অভিযান চালায় মুজিবর মোল্লার বাড়িতে। তল্লাশি চালিয়ে সেখান থেকে মোট ২২টি তাজা বোমা উদ্ধার করা হয়। ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ওই বাড়িতেই বোমাগুলি মজুত করে রাখা হয়েছিল এবং সম্ভবত সেখানেই বোমা তৈরির কাজ চলছিল। বাড়ির ভিতর থেকে বোমা তৈরির উপকরণও থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে বোম স্কোয়াডকে খবর দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, বোম স্কোয়াডের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিস্তারিত তল্লাশি চালাবে এবং উদ্ধার হওয়া বোমাগুলি নিষ্ক্রিয় করার প্রক্রিয়া শুরু করবে। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ, পাশাপাশি এই ঘটনায় আর কারা জড়িত থাকতে পারে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
গভীর রাতে পুড়লো বিজেপি কর্মীর দোকান, পরিদর্শনে সন্দেশখালির বিজেপি প্রার্থী
বসিরহাট : বসিরহাটের সন্দেশখালি এলাকায় আগুনে পুড়ে যাওয়া এক বিজেপি কর্মীর দোকান ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়ালো। অভিযোগ, বসিরহাটের সন্দেশখালি বিধানসভার ন্যাজাট থানার পুটিমারি ফেরিঘাট সংলগ্ন এলাকায় সোমবার গভীর রাতে বিজেপি কর্মী নিরঞ্জন মণ্ডলের দোকানে আগুন লাগিয়ে দেয় দুষ্কৃতীরা। যার জন্য তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের দায়ী করছে বিজেপি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আগুন লাগার পর মুহূর্তের মধ্যেই দোকানটি দাউদাউ করে জ্বলতে শুরু করে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ছুটে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা, তবে ততক্ষণে সবকিছু শেষ হয়ে যায়।
ঘটনার পর এলাকায় পৌঁছন সনৎ সর্দার। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত বিজেপি কর্মী নিরঞ্জন মণ্ডলের সঙ্গে কথা বলেন এবং পুড়ে যাওয়া দোকানটি পরিদর্শন করেন। প্রার্থী জানান, এই ঘটনার পূর্ণ তদন্ত হওয়া উচিত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন।
উল্লেখ্য, নিরঞ্জন মণ্ডলের দাবি, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময়ও তার বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছিল। এবার ২০২৬ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে ফের তার সম্পত্তির ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
বিজেপি প্রার্থীর সংবর্ধনা সভা পরিণত হলো জনসভায়
*সৌমাভ মন্ডল,বসিরহাট* : উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট শহরে বিজেপির উদ্যোগে আয়োজিত একটি সংবর্ধনা সভা শেষ পর্যন্ত রূপ নিল কার্যত এক বড় জনসমাবেশে। বসিরহাট দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী ডাঃ শৌর্য্য ব্যানার্জিকে ঘিরে উচ্ছ্বাসে ভরপুর হয়ে ওঠে শহরের একটি অনুষ্ঠান গৃহ। দলীয় কর্মী-সমর্থকদের ভিড়ে উপচে পড়া এই সভায় প্রার্থীকে ফুলের তোড়া ও উত্তরীয় পরিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয়। উপস্থিত কর্মীদের উচ্ছ্বাস এবং স্লোগানে সভাস্থল বারবার মুখর হয়ে ওঠে, যা ধীরে ধীরে একটি পূর্ণাঙ্গ জনসভার আবহ তৈরি করে।সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শৌর্য্য ব্যানার্জি এলাকার উন্নয়ন, স্বাস্থ্য পরিষেবার মানোন্নয়ন এবং নাগরিক পরিকাঠামো নিয়ে তার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, বসিরহাট দক্ষিণের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করতে চান এবং তাদের আস্থা অর্জনই তার প্রধান লক্ষ্য। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুকল্যাণ বৈদ্য, বিভাগ কনভেনার সন্দীপ ব্যানার্জি, মন্ডল ২ সভাপতি পলাশ ঘোষ সহ একাধিক বিজেপি নেতৃত্ব। তাদের বক্তব্যেও উঠে আসে দলীয় ঐক্য, সংগঠন মজবুত করা এবং আসন্ন নির্বাচনে জয়ের লক্ষ্যে সক্রিয়ভাবে কাজ করার আহ্বান। সংবর্ধনা সভার পর প্রার্থী কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন। স্থানীয় মানুষের সমস্যার কথা শোনেন এবং সেগুলির সমাধানে উদ্যোগী হওয়ার আশ্বাস দেন। সব মিলিয়ে এই কর্মসূচি বসিরহাট দক্ষিণে বিজেপির নির্বাচনী প্রচারে নতুন মাত্রা যোগ করল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
বিজেপি প্রার্থীর সংবর্ধনা সভা পরিণত হলো জনসভায়
*সৌমাভ মন্ডল,বসিরহাট* : উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট শহরে বিজেপির উদ্যোগে আয়োজিত একটি সংবর্ধনা সভা শেষ পর্যন্ত রূপ নিল কার্যত এক বড় জনসমাবেশে। বসিরহাট দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী ডাঃ শৌর্য্য ব্যানার্জিকে ঘিরে উচ্ছ্বাসে ভরপুর হয়ে ওঠে শহরের একটি অনুষ্ঠান গৃহ। দলীয় কর্মী-সমর্থকদের ভিড়ে উপচে পড়া এই সভায় প্রার্থীকে ফুলের তোড়া ও উত্তরীয় পরিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয়। উপস্থিত কর্মীদের উচ্ছ্বাস এবং স্লোগানে সভাস্থল বারবার মুখর হয়ে ওঠে, যা ধীরে ধীরে একটি পূর্ণাঙ্গ জনসভার আবহ তৈরি করে।সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শৌর্য্য ব্যানার্জি এলাকার উন্নয়ন, স্বাস্থ্য পরিষেবার মানোন্নয়ন এবং নাগরিক পরিকাঠামো নিয়ে তার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, বসিরহাট দক্ষিণের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করতে চান এবং তাদের আস্থা অর্জনই তার প্রধান লক্ষ্য। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুকল্যাণ বৈদ্য, বিভাগ কনভেনার সন্দীপ ব্যানার্জি, মন্ডল ২ সভাপতি পলাশ ঘোষ সহ একাধিক বিজেপি নেতৃত্ব। তাদের বক্তব্যেও উঠে আসে দলীয় ঐক্য, সংগঠন মজবুত করা এবং আসন্ন নির্বাচনে জয়ের লক্ষ্যে সক্রিয়ভাবে কাজ করার আহ্বান। সংবর্ধনা সভার পর প্রার্থী কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন। স্থানীয় মানুষের সমস্যার কথা শোনেন এবং সেগুলির সমাধানে উদ্যোগী হওয়ার আশ্বাস দেন। সব মিলিয়ে এই কর্মসূচি বসিরহাট দক্ষিণে বিজেপির নির্বাচনী প্রচারে নতুন মাত্রা যোগ করল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
'ভোট যুদ্ধে বোল্ড আউট হবেন রেখা পাত্র' বললেন হিঙ্গলগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী আনন্দ সরকার
বসিরহাট : "ভোট যুদ্ধে বোল্ড আউট হবেন রেখা পাত্র" হিঙ্গলগঞ্জের বিজেপি প্রার্থী রেখা পাত্রর ক্রিকেট খেলা প্রসঙ্গে এমনই মন্তব্য করলেন হিমলগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী আনন্দ সরকার। প্রসঙ্গতঃ নির্বাচনী প্রচারে বেরিয়ে ব্যাট হাতে ক্রিকেট খেলতে নেমে পড়েছিলেন হিঙ্গলগঞ্জের বিজেপি প্রার্থী রেখা পাত্র। সেই ছবি ভাইরাল হয় বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে। সেই ক্রিকেট খেলা প্রসঙ্গে হিঙ্গলগঞ্জের কালীবাড়িতে একটি কর্মীসভায় এসে মুখ খুললেন হিঙ্গলগঞ্জের তৃণমূলের প্রার্থী আনন্দ সরকার। তিনি বলেন, "এটা নির্বাচনের যুদ্ধ। উনি ক্রিকেট ব্যাট হাতে নিয়ে মাঠে নামলে সেখানেও তিনি বোল্ড আউট হবেন।" পাশাপাশি তিনি এও বলেন, "এই কর্মীসভার মধ্য দিয়ে হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভার অন্তর্গত প্রত্যেকটি গ্রাম পঞ্চায়েতের অঞ্চল সভাপতি, প্রধান ও উপপ্রধানদের নির্বাচনী দায়িত্বভার বুঝিয়ে দেওয়া হলো। কিভাবে তারা মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ করবেন। পাশাপাশি কিভাবে দলকে জেতাবেন সেটা তাদের পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।" অপরদিকে দু'দিন রেখা পাত্রের বিরুদ্ধে সরব হন তার দলের নেতারাই। তাকে প্রার্থী হিসেবে নাপসন্দ হিঙ্গলগঞ্জের বিজেপি নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের। এই প্রসঙ্গে তৃণমূল প্রার্থী আনন্দ সরকার বলেন, "ওটা ওদের দলীয় ব্যাপার। তবে বিজেপির মধ্যে এই ধরনের কোন্দল লেগেই রয়েছে। তারা উন্নয়ন নিয়ে ভাবেনা।" এদিনের এই কর্মীসভায় উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার সভাপতি বুরহানুল মুকাদ্দীম লিটন, হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভার কো-অর্ডিনেটর সুরজিৎ মিত্র বাদল ও হিঙ্গলগঞ্জ ব্লক তৃণমূলের সভাপতি শহীদুল্লাহ্ গাজী সহ একধিক দলীয় নেতৃত্ব ও জনপ্রতিনিধিরা।
৪৭তম অল ইন্ডিয়া মেজর পোর্ট হকি চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬, কলকাতায় শুরু
*খেলা*
নিজস্ব প্রতিনিধি: ৪৭তম অল ইন্ডিয়া মেজর পোর্ট হকি চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬ মঙ্গলবার কলকাতার SAI কলকাতা হকি গ্রাউন্ডে সূচনা হলো। খেলা চলবে ২৭ মার্চ পর্যন্ত।

এই টুর্নামেন্টটি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি পোর্ট অথরিটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তাঁদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চেয়ারম্যান রথেন্দ্র রমন, সেক্রেটারি চন্দন চ্যাটার্জি, চিফ ইঞ্জিনিয়ার সান্তনু মিত্র,  প্রতীপ লালা এবং ডা. দীপক দত্ত প্রমুখ।

২৪ মার্চ থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই চ্যাম্পিয়নশিপে দেশের বিভিন্ন প্রধান বন্দর থেকে ৬ টি উল্লেখযোগ্য দল অংশ নিচ্ছে— SMP কলকাতা, MBPA মুম্বাই, PPA প্যারাদীপ, CHPA চেন্নাই, VOC তুতিকোরিন এবং VPA বিশাখাপত্তনম—যারা সেরা সম্মানের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। ছবি:সঞ্জয় হাজরা (খবর কলকাতা)।