হালিশহরে তুলকালাম:  ‘ভণ্ড সাধু’ গ্রেপ্তার


প্রবীর রায়: অভিযোগ টা ছিল অনেক দিনের। কিন্তু ওনার সঙ্গে শাসক নেতাদের যোগাযোগ থাকায় এতোদিন ছিলেন জেলের বাইরে।ধর্মের আড়ালে অসামাজিক ক্রিয়াকলাপের স্বর্গরাজ্য হয়ে  উঠে ছিল হালিশহরের ঐতিহ্যবাহী সংকরমঠ আশ্রম। ওখান থেকে আজ  এক ‘ভণ্ড সাধু’কে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ধৃতের নাম লিটন (আশ্রমে সাধুবেশে পরিচিত)। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বিরুদ্ধে জমা হওয়া ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটল বুধবার। উত্তেজিত এলাকাবাসী ওই ভণ্ড সাধুর গেরুয়া বস্ত্র টেনে ছিঁড়ে ফেলে এবং গণধোলাই দিয়ে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সাধুর ছদ্মবেশে দীর্ঘদিন ধরে ওই আশ্রমে নানান অনৈতিক কাজ চালাচ্ছিল লিটন। এলাকাবাসীদের মূল অভিযোগ হল,আশ্রমের পবিত্রতা নষ্ট করে প্রতিদিন সেখানে জুয়া, মদ এবং গাঁজার আসর বসানো হতো। স্থানীয়দের দাবি, রাত্রি ৮ টার পর মহিলাদের আশ্রমে ডেকে পাঠানো হতো এবং জোরপূর্বক বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হতে বাধ্য করা হতো।
এছাড়াও সাধারণ মানুষকে বন্দুকের নল দেখিয়ে ভয় দেখানো এবং প্রভাব খাটিয়ে জমি ও সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার একাধিক অভিযোগ রয়েছে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

এলাকাবাসীরা জানান, কেউ এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গেলে তাকে রাজনৈতিক ক্ষমতার ভয় দেখানো হতো। অভিযুক্ত লিটন বুক ফুলিয়ে দাবি করত, বীজপুরের তৃণমূল বিধায়ক সুবোধ অধিকারী এবং হালিশহর পৌরসভার চেয়ারম্যান কমল অধিকারী নাকি তার হাতের পুতুল।এই প্রভাবশালীদের নাম ভাঙিয়েই এতোদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করে রেখেছিল সে।

ধৈর্যের বাঁধ ভাঙায় এদিন শঙ্করমঠ আশ্রমে চড়াও হন উত্তেজিত এলাকাবাসী। অভিযুক্ত লিটনকে টেনে হিঁচড়ে বাইরে বের করে আনা হয়। ক্ষুব্ধ জনতা তার গা থেকে গেরুয়া পোশাক টেনে খুলে নেয়। উত্তম-মধ্যম দেওয়ার পর খবর দেওয়া হয় হালিশহর থানায়। পুলিশ এসে অভিযুক্ত ‘ভণ্ড সাধু’কে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে গ্রেপ্তার করে।
রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল নিয়োগ
নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজ্যে পালা বদলের সঙ্গে সঙ্গে বদল হচ্ছে সব কিছুতেই। এবার রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল হলেন কলকাতা হাইকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী রাজদীপ মজুমদার। এ ছাড়াও, পাবলিক প্রসিকিউটর হিসাবে আইনজীবী কল্লোল মণ্ডল ও নীলাঞ্জন ভট্টাচার্য সিনিয়র স্টাডিং কাউন্সিল কে নিয়োগ করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। যদিও এখনও পর্যন্ত রাজ্যের পরবর্তী অ্যাডভোকেট জেনারেল কে হবেন, তা চূড়ান্ত হয়নি। আগের সরকারের আমলে উচ্চপদে কর্মরত অনেকে পদত্যাগও করেছেন। শুরু হয়েছে নতুন নিয়োগও। সেই ধারা বজায় রেখেই নিয়োগ হল রাজ্যের নতুন অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল। অতীতে তিনি কেন্দ্রের ডেপুটি সলিসিটর ছিলেন। ইডি, সিবিআইয়ের মতো কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হয়ে আদালতে সওয়াল করেছেন। এ বার থেকে রাজ্যের হয়ে আদালতে সওয়াল করবেন রাজদীপ।
হাসনাবাদে রমরমিয়ে অবৈধ মাটি পাচার, বেহাল রাস্তা ও দুর্ঘটনার আশঙ্কায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা

বসিরহাট : উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের হাসনাবাদ জুড়ে বেআইনিভাবে চাষযোগ্য জমি ও মেছোভেড়ি থেকে দেদার মাটি কাটার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। বসিরহাটের হাসনাবাদ থানার মুরারীশাহ, মাখালগাছা-সহ একাধিক পঞ্চায়েত এলাকায় দিনের পর দিন জেসিবি মেশিন দিয়ে মাটি কেটে ট্রলিতে করে বিভিন্ন এলাকায় পাচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অথচ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ মানুষ। তাদের দাবি, প্রকাশ্যে এই অবৈধ কারবার চললেও কার্যত কোনও কড়া পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গভীর রাত থেকে শুরু করে দিনের বিভিন্ন সময়ে একের পর এক ট্রলি ভর্তি মাটি এলাকা ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। এত পরিমাণে মাটি বহন করা হচ্ছে যে ট্রলি থেকে মাটি পড়ে রাস্তায় পুরু স্তর জমে গিয়েছে। ফলে রাস্তাঘাটের অবস্থা ক্রমশই বেহাল হয়ে পড়ছে। কোথাও ধুলোর দাপট, কোথাও আবার সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে। মুরারীশাহ এলাকার এক বাসিন্দার কথায়, “দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ মাটি কাটা চলছে। রাস্তায় হাঁটা দায় হয়ে গিয়েছে। সারাক্ষণ ধুলো উড়ছে, চোখ-মুখ জ্বালা করছে। বাচ্চাদের স্কুলে যেতে সমস্যা হচ্ছে।” অন্য এক স্থানীয়ের দাবি, “অন্তঃসত্ত্বা মহিলা বা অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যেতে গিয়ে চরম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ যে অ্যাম্বুল্যান্স পর্যন্ত ঠিকমতো চলতে পারে না।”
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, দিনরাত পুলিশ টহল দিলেও কীভাবে প্রকাশ্যে এই মাটি পাচারের ব্যবসা চলছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তাদের বক্তব্য, প্রশাসনের একাংশ সব জেনেও নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। ফলে অবৈধ কারবারিদের দৌরাত্ম্য দিনদিন বেড়েই চলেছে।
মাখালগাছা এলাকার এক প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, “চাষের জমি নষ্ট করে মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এতে পরিবেশেরও ক্ষতি হচ্ছে। বর্ষার সময় জল জমার সমস্যাও বাড়বে। আমরা বহুবার অভিযোগ করেছি, কিন্তু স্থায়ী সমাধান কিছুই হয়নি।” এই ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকার মানুষ। অবিলম্বে অবৈধ মাটি কাটা ও পাচার বন্ধের দাবিতে সরব হয়েছেন তারা। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলন ও বিক্ষোভে নামার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
খেলা *মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব সিএবি মহিলা ক্লাব ওয়ান-ডে লিগ চ্যাম্পিয়ন*
*স্পোর্টস ডেস্ক* : মঙ্গলবার ২২ ইয়ার্ডস স্পোর্টস স্কুল গ্রাউন্ডে ফাইনালে মোহনবাগান এ.সি-কে ৫২ রানে হারিয়ে সিএবি মহিলা ক্লাব ক্রিকেট লিগ ওয়ান-ডে টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন হল মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব।
এদিনের খেলায় মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ৪৩.২ ওভারে ১০ উইকেটে ১৫৩ রান করে। মহামেডান স্পোর্টিং এর
প্রীতি মণ্ডল ২৭ (৪৫), মিতা পাল ২৬ (৪২) রান করে।এর পর
মোহনবাগান এ.সি. ব্যাট করতে নেমে ৩১ ওভারে ১০ উইকেট হারিয়ে ১০১ রানে শেষ হয়ে যায় তাদের ইনিংস।সাইকা ইসহাক ৩৩ (৩০), রূপাল তিওয়ারি ২৩ (৩৮) ।
রেমন্ডিনা খাতুন ২৩ রানে ৩ উইকেট, পাপড়িয়া দাস ১৬ রানে ৩ উইকেট ও  মিতা পাল ২৭ রানে ৩ উইকেট নেয়।
মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ৫২ রানে জয়ী হয়।

ছবি সৌজন্যে: সিএবি।
রাজ্যে পালাবদলের পর হাড়োয়ায় মেছোভেঁড়ি দখলের অভিযোগ, বিজেপি নেতা রাজেন্দ্র সাহাকে ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে
বসিরহাট : উত্তর ২৪ পরগনার হাড়োয়ার রাজনীতিতে ফের সামনে এলো মেছোভেঁড়ি দখলের রাজনীতির পুরনো ছবি। এক সময় বাম আমল থেকে শুরু করে তৃণমূল জমানাতেও ভেঁড়ি ও জলকর দখলকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত থেকেছে হাড়োয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা। রাজনৈতিক পালাবদলের পর আবারও সেই একই অভিযোগকে ঘিরে সরগরম গোপালপুর অঞ্চল। এবার অভিযোগের কেন্দ্রে বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার বিজেপির সহ-সভাপতি রাজেন্দ্র সাহা।
স্থানীয় মৎস্যজীবী ও ভেঁড়ি মালিকদের অভিযোগ, রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের আবহ তৈরি হওয়ার পর থেকেই বসিরহাটের হাড়োয়া বিধানসভার গোপালপুর ১নং গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় একাধিক মেছোভেঁড়ি ও জলকর জোর করে দখল করা হচ্ছে। অভিযোগ, বিজেপি নেতা রাজেন্দ্র সাহা তার অনুগামীদের নিয়ে বিভিন্ন ভেঁড়ির আলা ঘরে বিজেপির দলীয় পতাকা টাঙিয়ে কার্যত দখলের বার্তা দেন। এরপর জমির মালিক ও ভেঁড়ি ব্যবসায়ীদের উপর শুরু হয় চাপ সৃষ্টি, হুমকি ও ভয় দেখানোর রাজনীতি। ভুক্তভোগীদের দাবি, বহু বছরের লিজে পরিচালিত এই জলকরগুলিতে রাতারাতি দখল বসিয়ে মাছ বিক্রির পুরো নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেন অভিযুক্তরা। ভেড়ি মালিকদের অভিযোগ, মাছ বিক্রির টাকা বা জমির লিজ বাবদ পাওনা অর্থ দেওয়া তো দূরের কথা, উল্টে টাকা চাইতে গেলে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে এলাকা ছাড়া করারও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। স্থানীয় সূত্রের দাবি, নতুন সরকার গঠনের পর থেকে গোপালপুর এলাকার বিভিন্ন ভেড়ি থেকে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার মাছ বিক্রি হয়েছে। কিন্তু সেই টাকার এক টাকাও প্রকৃত জমি বা ভেঁড়ির মালিকদের হাতে পৌঁছায়নি। অভিযোগ, পুরো অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। এর ফলে আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন বহু ছোট ও মাঝারি মৎস্যচাষি। তাদের অনেকেরই সংসার এই ভেড়ির আয়ের উপর নির্ভরশীল। এলাকার একাধিক মৎস্যজীবীর বক্তব্য, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ভেঁড়ি দখলের এই সংস্কৃতি নতুন নয়, তবে এবার তা আরও প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। দখলের পাশাপাশি এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ। অনেকে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছেন।
যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিজেপি নেতা রাজেন্দ্র সাহা। তার দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল কংগ্রেস বেআইনিভাবে বিভিন্ন ভেঁড়ি ও জলকর দখল করে রেখেছিল। এখন সেগুলি প্রকৃত মালিকদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার কাজ চলছে। তার বিরুদ্ধে ওঠা টাকা আত্মসাৎ, দখল ও হুমকির অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন তিনি। রাজেন্দ্র সাহার বক্তব্য, কয়েকজন ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে তার ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছেন।
তবে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মাঝেই প্রশ্ন উঠছে, রাজনৈতিক পালাবদল হলেই কেন হাড়োয়ার জলকর, ভেঁড়ি ও জমিকে কেন্দ্র করে নতুন করে দখলদারির লড়াই শুরু হয়? প্রকৃত মালিকানা, লিজ এবং ব্যবসায়িক স্বার্থের আড়ালে রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রদর্শন কতটা প্রভাব ফেলছে এলাকার সাধারণ মানুষের জীবনে, তা নিয়েই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে হাড়োয়ার রাজনৈতিক মহলে। গোপালপুরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। ভুক্তভোগীরা প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
খেলা আই এস এল
*অবনমিত মহামেডান স্পোর্টিং নর্থইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে সম্মানের লড়াই খেলতে নামবে আজ**

স্পোর্টস ডেস্ক:এই মরশুমে আই এস এল এ অবনমন নিশ্চিত হয়েছে গত ম্যাচেই। তবুও মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব সম্মানের লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে নর্থইস্ট ইউনাইটেড এফসি-র বিরুদ্ধে। কোচের আশা শেষ ম্যাচ জিতে ইতিবাচকভাবে শেষ হোক ।ইন্ডিয়ান সুপার লিগ ২০২৫-২৬-এর নিজেদের শেষ ম্যাচে মঙ্গলবার ইন্দিরা গান্ধী অ্যাথলেটিক স্টেডিয়ামে দু’দল মুখোমুখি হবে।ম্যাচটি শুরু হবে বিকেল ৫:০০ টায়।

কলকাতায় আগের ম্যাচে মুম্বই সিটি এফসি-র কাছে ০-৪ গোলে হারের পর মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ইন্ডিয়ান সুপার লিগ থেকে অবনমিত হওয়া প্রথম দল হয়। পুরো মরশুম শুধু ভারতীয় খেলোয়াড়দের নিয়ে খেলা সাদা-কালো ব্রিগেড ১২ ম্যাচে মাত্র তিন পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তলানিতে রয়েছে, পুরো লিগে একটিও জয় পায়নি তারা। তারা মাথা উঁচু করে একটি জয় দিয়ে মরশুম শেষ করতে চাইবে।

অন্যদিকে, ডুরান্ড কাপের খেতাব সফলভাবে ধরে রেখে ভারতীয় ফুটবল মরশুম শুরু করা নর্থইস্ট ইউনাইটেড এফসি সেই ধারাবাহিকতা আইএসএল অভিযানে বজায় রাখতে পারেনি। হাইল্যান্ডাররা বর্তমানে ৩ টি জয়, ৪ টি ড্র ও ৫ টি হার নিয়ে ১৩ পয়েন্টে দশম স্থানে রয়েছে।এবং একটি জয় দিয়ে মরশুম ইতিবাচকভাবে শেষ করতে চাইবে।

২০২৩-২৪ আই-লিগ খেতাব জিতে আইএসএল-এ প্রমোশন পাওয়া মহামেডান এসসি শীর্ষ স্তরে মাত্র দুই মরশুম টিকে থাকতে পারল। কলকাতার এই ঐতিহ্যবাহী ক্লাব এখন ২০২৬-২৭ ইন্ডিয়ান ফুটবল লিগ অভিযানে খেলবে এবং আইএসএল-এ দ্রুত ফিরে আসার আশা করবে।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এই একই ভেন্যুতে দু’দলের শেষ সাক্ষাৎ গোলশূন্য ড্রয়ে শেষ হয়েছিল। আর কলকাতায় ফিরতি ম্যাচে আলাউদ্দিন আজারাইয়ের গোলে নর্থইস্ট ইউনাইটেড এফসি ১-০ ব্যবধানে মহামেডান এসসি-কে হারিয়েছিল।

মোহামেডান এসসি-র হেড কোচ মেহরাজউদ্দিন ওয়াডু খেলোয়াড়দের মরশুমের শেষ বার্তা দিলেন, “সেরাটা দাও!”

তিনি আরও বলেন, “সীমিত সম্পদ থাকা সত্ত্বেও ওরা ট্রেনিং সেশনে ও সব ম্যাচে খুব কঠোর পরিশ্রম করেছে। আমি আশা করি পরের ম্যাচেও ওরা সেরাটা দেবে।”

নর্থইস্ট সম্পর্কে ওয়াডু বলেন, “ওরা ঘরের মাঠে খুব ভালো। আমাদের জন্য এটা কঠিন চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে। কিন্তু হ্যাঁ, এই ম্যাচটা শেষ ম্যাচ এবং আমরা সেরাটা দিয়ে জয় নিয়ে লিগ শেষ করতে চাই।” ছবি সৌজন্যে: আই এস এল
খেলা* ইন্ডিয়ান উইমেন্স লীগ জয় ইস্টবেঙ্গলের
নিজস্ব প্রতিনিধি: সোমবার কলকাতার ইস্ট বেঙ্গল মাঠে ইন্ডিয়ান উইমেন্স লীগের ম্যাচে ইস্ট বেঙ্গল মুখোমুখি হয়েছিল শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের বিরুদ্ধে। পয়েন্টে নিরিক্ষে ইস্টবেঙ্গল লীগের শীর্ষে থাকায় এদিন তাঁরা লিগ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ট্রফি তুলে নিল। ইস্টবেঙ্গল ২-০ গোলে জয় পায়। ছবি: সঞ্জয় হাজরা।
হাড়োয়ায় তৃণমূল কার্যালয়ে তাণ্ডব, আইএসএফের বিরুদ্ধে ভাঙচুরের অভিযোগে চড়ল রাজনৈতিক পারদ
বসিরহাট : হাড়োয়ার অটো স্ট্যান্ড এলাকায় রবিবার রাতে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার সকাল থেকেই থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বসিরহাটের হাড়োয়া থানার সোনাপুকুর-শংকরপুর অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয়ের এই ঘটনায় নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে আইএসএফ কর্মী-সমর্থকেরা গভীর রাতে দলীয় কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাতের অন্ধকারে দলীয় কার্যালয়ের বাইরে লাগানো একাধিক ব্যানার ও ফ্লেক্স ছিঁড়ে ফেলা হয়। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি থাকা ব্যানারও নষ্ট করা হয়েছে বলে অভিযোগ। শুধু বাইরের অংশ নয়, কার্যালয়ের ভিতরে ঢুকে চেয়ার, টেবিল, এসি মেশিন সহ একাধিক আসবাবপত্র ও সামগ্রী ভাঙচুর করা হয়। অভিযোগ, ঘটনার পর হামলাকারীরা কার্যালয়ে তালা মেরে এলাকা ছেড়ে চলে যায়।
সোমবার সকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তৃণমূল নেতৃত্ব ও কর্মীরা ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখে ক্ষোভ উগরে দেন। তৃণমূলের হাড়োয়া ব্লক ২ সভাপতি ফরিদ জমাদারের বক্তব্য, রাজনৈতিকভাবে হাড়োয়া এলাকায় নিজেদের জমি শক্ত করতে না পেরে আইএসএফ ভয় ও সন্ত্রাসের রাজনীতি করছে। ভোট-পরবর্তী সময়ে এলাকায় অশান্তি তৈরির উদ্দেশ্যেই এই হামলা বলে দাবি তৃণমূলের। তৃণমূলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই ঘটনায় বিজেপির কোনও ভূমিকা নেই এবং সম্পূর্ণভাবে আইএসএফ এই ভাঙচুরের সঙ্গে যুক্ত। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এলাকায় মানুষের সমর্থন হারিয়ে আইএসএফ এখন রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডে নেমেছে।
অন্যদিকে আইএসএফের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট দলীয় কার্যালয়টি পিডব্লিউডির জমিতে অবৈধভাবে তৈরি করা হয়েছে। তাদের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সরকারি জমি দখল করে এই কার্যালয় গড়ে তোলা হয়েছে এবং সেখান থেকে বিভিন্ন বেআইনি কর্মকাণ্ড পরিচালিত হত। যদিও তৃণমূল নেতৃত্ব পাল্টা দাবি করেছে, প্রশাসনিক বিষয়কে সামনে এনে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই আইএসএফ এই ধরনের নাশকতা চালিয়েছে। ঘটনার পর সোমবার সকাল থেকেই হাড়োয়া অটো স্ট্যান্ড এলাকায় চাপা উত্তেজনা ছিল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাড়োয়ায় ফের রাজনৈতিক সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, আইএসএফের নেতা-কর্মীরা সংগঠনের জোরে এগিয়ে চলা দলকে আটকাতেই অশান্তির পথ বেছে নিচ্ছে।
নৈহাটী পুরসভায় পুনরায় মা ক্যান্টিন চালু করলেন বিধায়ক
নিজস্ব প্রতিনিধি: উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটী পুরসভায় পুনরায় "মা ক্যান্টিন" চালু করলেন বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়। গত ৪ ঠা মে তৃণমূল সরকারের পতনের পরদিন থেকে গরীব মানুষদের জন্য দুপুরের খাবার পুরসভা বন্ধ করে দেয়। পৌর চেয়ারম্যান থেকে কাউন্সিলররা পুরসভায় আসা বন্ধ করে দেন। এই খবরে বিধায়ক পুরসভায় এসে এক্সিকিউটিভ অফিসারের সাথে কথা বলেন। এরপরই আজ থেকে মা ক্যান্টিনের সূচনা করলেন বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, "রাজ্য সরকারের পরিবর্তন হয়েছে। পৌর সভাগুলোতে আগের অবস্থাতেই আছে। কিন্তু জানতে পারলাম চেয়ারম্যান, কাউন্সিলররা কেউ আসছেন না। শেষে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে পৌরসভার সমস্ত সরকারি পরিষেবা চালু রাখতে উদ্যোগ নিতে হলো।"

ছবি: প্রবীর রায়।
কলকাতার ডার্বি ম্যাচ ড্র,
খেলা

আই এস এল


ইস্টবেঙ্গল -১
মোহনবাগান -১ নিজস্ব প্রতিনিধি,কলকাতা: রবিবার কলকাতার বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে অনুষ্ঠিত আই এস এল মেগা ডার্বি ম্যাচ ড্র হল। এদিন দ্বিতীয়ার্ধের ৮৫ মিনিট মাথায় গোল করে এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল।এডমুন্ডের গোলে এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। ইস্টবেঙ্গল গ্যালারি উৎসব মুখরিত হয়ে উঠে। গোল করে জার্সি খুলে সেলিব্রেট করায় হলুদ কার্ড দেখলেন এডমুন্ডকে।
ইউসুফ এজ়েজারি বলটা বাড়ান মিগুয়েলকে। তিনি এডমুন্ডকে পাস বাড়ান। আর এডমুন্ড গোলকিপারকে ফাস্ট পোস্টে ফেলে গোল করে বেরিয়ে যান।
অবশেষে ৮৯ মিনিটের মাথায় কর্নার থেকে বল পেয়ে ব্যাক হেডে গোল করলেন জেসন কামিংস।।

এদিন ইস্টবেঙ্গল প্রথমার্ধে কিছুটা ধীরে শুরু করলেও পরে দারুণ কামব্যাক করে। নিশ্চিত ৩ টে সুযোগ মিস করে। আন্তন সয়বার্গ, বিপিন সিং ও পিভি বিষ্ণু সুযোগ মিস করেন। অন্যদিকে মোহনবাগানের মনবীর সিং, সাহল আব্দুল সামাদ কয়েকটা সুযোগ তৈরি করলেও গোল হয়নি।প্রথমার্ধে পরিসংখ্যানের দিক থেকে মোহনবাগান এগিয়ে থাকলেও ইমপ্যাক্ট ইস্টবেঙ্গলের বেশি।

দ্বিতীয়ার্ধের ৬৬ মিনিটে বিপক্ষের দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দুর্দান্ত শট নিয়েছিলেন মিগুয়েল।মোহনবাগানের ডিফেন্সের মাঝে ফাঁক খুঁজে শট নেন তিনি। কিন্তু বলটা ব্লক করে দেন বিশাল কাইথ।

এই নিয়ে আই এস এল-এর ডার্বিতে ১১ বার মুখোমুখি হলো দুই দল। যেখানে মোহনবাগান জিতেছে ৯ টিতে এবং ম্যাচ ড্র হল ২টো। অর্থাৎ, আই এস এল ডার্বিতে অপ্রতিরোধ্য মোহনবাগান। বি: সঞ্জয় হাজরা