দীর্ঘ টালবাহানার অবসান, তৃণমূলে ফিরলেন হাসনাবাদের দাপুটে নেতা বাবু মাস্টার

বসিরহাট : হাসনাবাদের রাজনীতিতে ফের চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে ফিরোজ কামাল গাজী ওরফে বাবু মাস্টার। দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে তিনি পুনরায় তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করলেন, যা বসিরহাট মহকুমার রাজনৈতিক অন্দরে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
একসময় তৃণমূলের দাপুটে মুখ হিসেবে পরিচিত বাবু মাস্টার ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে রাজনৈতিক মঞ্চে বড়সড় সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কলকাতায় শুভেন্দু অধিকারীর সভা থেকে তিনি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেন। সেই সময় তার দলবদল স্থানীয় রাজনীতিতে যথেষ্ট প্রভাব ফেলেছিল। তবে বিজেপিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকার পর ধীরে ধীরে দূরত্ব বাড়তে থাকে এবং পরবর্তীতে তিনি ওই দল থেকেও নিজেকে সরিয়ে নেন। এরপর থেকেই তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা চলছিল। অবশেষে সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তিনি ফের তৃণমূলের পতাকা হাতে তুলে নিলেন। বসিরহাট সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তার এই ‘ঘর ওয়াপসি’ সম্পন্ন হয়। দলীয় নেতৃত্বের উপস্থিতিতে এই যোগদান পর্ব যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। তার হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার সভাপতি বুরহানুল মুকাদ্দিম লিটন। পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভার কো-অর্ডিনেটর তথা বসিরহাট দক্ষিণের তৃণমূল প্রার্থী সুরজিৎ মিত্র বাদল এবং সাংগঠনিক জেলার চেয়ারম্যান সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায় সহ একাধিক নেতৃত্ব। তাদের উপস্থিতি স্পষ্ট করে দেয়, এই প্রত্যাবর্তনকে দল কতটা গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, বাবু মাস্টারের প্রত্যাবর্তন তৃণমূলের সংগঠনকে নতুন করে চাঙ্গা করতে পারে, বিশেষ করে হিঙ্গলগঞ্জ এবং সংলগ্ন এলাকায়। স্থানীয় স্তরে তার প্রভাব এবং সংগঠনের ওপর দখল এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী বলেই মনে করা হয়। সেই কারণেই তাকে হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই দায়িত্ব পাওয়ার মাধ্যমে দল যে তার ওপর আস্থা রাখছে, তা স্পষ্ট। একইসঙ্গে, আসন্ন নির্বাচনের আগে সংগঠনকে আরও মজবুত করতে এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সব মিলিয়ে, বাবু মাস্টারের এই প্রত্যাবর্তন শুধু একজন নেতার দলবদল নয়, বরং বসিরহাট মহকুমার রাজনীতিতে নতুন করে শক্তির ভারসাম্য গড়ে ওঠার ইঙ্গিত বলেই মনে করা হচ্ছে। আগামী দিনে এই পরিবর্তনের প্রভাব কতটা গভীর হয়, এখন সেদিকেই নজর সকলের।
বাদুড়িয়ায় শাসক দলে বড়সড় ভাঙ্গন ধরালো জাতীয় কংগ্রেস
সৌমাভ মন্ডল,বসিরহাট : উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়া বিধানসভায় নির্বাচনী আবহ ক্রমশ তপ্ত হয়ে উঠছে, আর সেই আবহেই রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলল সোমবার সকালে। বাদুড়িয়া টাউন জামে মসজিদ সংলগ্ন একটি মাঠে জাতীয় কংগ্রেসের নির্বাচনী কার্যালয়ের উদ্বোধন ঘিরে তৈরি হয় জমজমাট পরিবেশ। তবে শুধুমাত্র কার্যালয় উদ্বোধনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি দিনটি। শাসক শিবিরে ভাঙন ধরিয়ে একাধিক তৃণমূল নেতৃত্বের কংগ্রেসে যোগদান ঘটনাটিকে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে। অনুষ্ঠান চলাকালীনই হঠাৎ করে দলবেঁধে উপস্থিত হন বাদুড়িয়ার একাধিক তৃণমূল নেতা। তারা কংগ্রেস প্রার্থী কাজী আব্দুল রহিম দিলুর হাত ধরে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় কংগ্রেসে যোগ দেন। এই যোগদানের ফলে এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের সংগঠনে ধাক্কা লাগতে পারে বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
যারা এদিন দলবদল করেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য যশাইকাটি আটঘরা গ্রাম পঞ্চায়েতের অঞ্চল সভাপতি সালাম সরদার, বাদুড়িয়া মেন ব্লক আইএনটিটিইউসি সভাপতি কাসেদ আলী মণ্ডল, জগন্নাথপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের যুব সভাপতি আব্দুল খালেক মণ্ডল, তৃণমূল নেতা জোবায়ের ভাষণ, বঙ্গীয় সংখ্যালঘু বুদ্ধিজীবী মঞ্চের বাদুড়িয়া টাউন সভাপতি ওয়ালিয়ার মণ্ডল রাহুল, তৃণমূল নেত্রী সাহাবা আখতারী এবং যদুরহাটী দক্ষিণ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রবীণ নেতা শাহাবুদ্দিন দফাদার। এদের নেতৃত্বে প্রায় ৩০০ কর্মী সমর্থকও কংগ্রেসে যোগদান করেন। দলত‍্যাগীরা জানান দীর্ঘদিন ধরে তারা তৃণমূল করে আসছেন। কিন্তু সেখানে পর্যাপ্ত সম্মান পাচ্ছিলেন না। পাশাপাশি বিগত পঞ্চায়েত ভোটে তাদের সাথে এক প্রকার বেইমানি করেছে শাসক দল। তাই তারা তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসের যোগদান করলেন। এই ঘটনাকে ঘিরে বাদুড়িয়া রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। নির্বাচনের মুখে এমন দলবদল কংগ্রেসের পক্ষে কতটা সংগঠন শক্তি বাড়াবে এবং তৃণমূলের ওপর তার কতটা প্রভাব পড়বে, এখন সেটাই দেখার।
ব্যারাকপুর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী রাজ চক্রবর্তী
*প্রচার*


নিজস্ব প্রতিনিধি: সোমবার সকাল  সকাল ভোট প্রচারে বেরোলেন তৃণমূল প্রার্থী রাজ চক্রবর্তী। এদিন ব্যারাকপুর পৌরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে জনসংযোগ করলেন।তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ব্যারাকপুর পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সম্রাট তপাদার সহ অন্যান্য স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। মহিলা ভোটারদের আবদার মতো তুললেন সেলফি ছবি। ছবি: প্রবীর রায়
অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের, বসিরহাট উত্তরে প্রার্থী পরিবর্তন করলো বিজেপি

সৌমাভ মন্ডল,বসিরহাট : বসিরহাট উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী বদলকে ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে বিজেপির অন্দরে। প্রথমে প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা হলেও শেষ মুহূর্তে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে নারায়ণচন্দ্র মণ্ডলের পরিবর্তে কৌশিক সিদ্ধার্থকে প্রার্থী করল দল। এই বদল রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, রাজ‍্য পার্টি অফিসে প্রার্থী হওয়ার জন্য আবেদন জানাতে গিয়েই নারায়ণচন্দ্র মণ্ডল জানতে পারেন যে তার নাম ইতিমধ্যেই প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তবে সেই ঘোষণার পর থেকেই দলের অভ্যন্তরে তা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। বিশেষত স্থানীয় নেতৃত্বের একাংশ এই সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন বলেই জানা যাচ্ছে।
পেশায় আইনজীবী নারায়ণচন্দ্র মণ্ডল দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির সঙ্গে যুক্ত এবং দলের পুরনো মুখ হিসেবে পরিচিত। তবে বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা আগের তুলনায় কিছুটা দুর্বল হওয়ায় নির্বাচনী লড়াইয়ে কতটা সক্রিয় থাকতে পারবেন, তা নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছিল। সত্তরোর্ধ্ব এই প্রবীণ নেতাকে আবার প্রার্থী করা নিয়ে বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার ভেতরেই প্রশ্ন ওঠে। উল্লেখ্য, গত বিধানসভা নির্বাচনেও তিনি বসিরহাট উত্তর কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন। কিন্তু সেই নির্বাচনে জয়ের মুখ দেখেননি, বরং তৃতীয় স্থানেই শেষ করতে হয়েছিল তাকে। ফলে এবার নতুন মুখ আনার দাবি জোরালো হচ্ছিল দলের ভেতরে। এই প্রেক্ষাপটেই শেষ পর্যন্ত প্রার্থী তালিকায় পরিবর্তন আনা হয়। কৌশিক সিদ্ধার্থকে সামনে এনে বিজেপি এই কেন্দ্রে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে চাইছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। সংগঠনকে চাঙ্গা করা এবং ভোটের লড়াইয়ে নতুন উদ্যম আনার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, বসিরহাট উত্তরে প্রার্থী বদল শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং দলের ভেতরের সমীকরণ, ভবিষ্যৎ কৌশল এবং নির্বাচনী বাস্তবতার প্রতিফলন বলেই মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার, নতুন প্রার্থীকে সামনে রেখে বিজেপি এই কেন্দ্রে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে।
ভাটপাড়া বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী পবন সিং
*প্রচার*


প্রবীর রায়: সোমবার সকাল সকাল প্রচারে বেরিয়ে পড়েছেন উত্তর ২৪ পরগনার ভাটপাড়া বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী পবন সিং । এদিন তিনি ভাটপাড়া পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ড নয়ানগর এলাকায় গীতা ও ক্যালেন্ডার নিয়ে বাড়ি বাড়ি জনসংযোগ করলেন। তাকে কাছে পেয়ে স্থানীয় এলাকার সাধারণ মানুষ এলাকার নানান সমস্যা কথা তুলে ধরেন।বিজেপি প্রার্থী পবন সিং অশ্বাস নির্বাচিত হলে সব সমস্যার সমাধান করতে চেষ্টা করবেন তিনি।
সীমান্তের গ্রামে ডিলিট ভোটারদের পাশে প্রধান, ল্যাপটপে চলবে রাতভর কাজ

সৌমাভ মন্ডল,বসিরহাট : বসিরহাট দক্ষিণ বিধানসভার সীমান্তঘেঁষা শাঁকচূড়া-বাগুন্ডি গ্রাম পঞ্চায়েত। ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধনে বাদ গিয়েছে প্রায় ১০০০ ভোটারের নাম। ভোটারদের সহায়তায় পাশে দাঁড়ালেন পঞ্চায়েত প্রধান গোলাম মোস্তফা। ল্যাপটপে প্রশিক্ষিত আইটি কর্মীরা রাতভর ট্রাইব্যুনালে আবেদনের কাজ চালাবে। ভোটার তালিকা সংশোধনকে ঘিরে শুরু হয়েছে নজিরবিহীন উদ্যোগ। প্রকৃত ভোটারদের নাম পুনরায় তালিকাভুক্ত করতে পঞ্চায়েত প্রধান গোলাম মোস্তফা নিজে রাতভর জেগে অনলাইন আবেদন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শুধু ঘোষণা নয়, সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ইতিমধ্যেই তিনি গড়ে তুলেছেন একটি ছোট কিন্তু দক্ষ টিম। ৬ জন প্রশিক্ষিত কর্মীকে নিয়ে সারারাত ধরে আবেদন প্রক্রিয়া চালানোর প্রস্তুতি সম্পূর্ণ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের তরফে সংশোধিত ভোটার তালিকায় এই অঞ্চলের প্রায় ১০০০ জনের নাম বাদ পড়েছে। অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রেই প্রকৃত ও বৈধ ভোটারদের নামই তালিকা থেকে মুছে দেওয়া হয়েছে। যার ফলে চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষ। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ মেনে দ্রুত পদক্ষেপের পথে হাঁটছে তৃণমূল নেতৃত্ব। বসিরহাট দক্ষিণের তৃণমূল প্রার্থী সুরজিৎ মিত্র বাদলের সমর্থনে আয়োজিত এক কর্মীসভা থেকেই গোলাম মোস্তফা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “মানুষের ভোটাধিকার রক্ষা করা আমাদের প্রথম দায়িত্ব। যাদের নাম অন্যায়ভাবে বাদ গিয়েছে, তাদের প্রত্যেককে ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে আবেদন জানাতে হবে। সেই কাজ যাতে দ্রুত সম্পন্ন হয়, তার জন্য আমরা রাতভর অনলাইন আবেদন করব।”

এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য সোলাদানা এলাকায় তৈরি করা হয়েছে অস্থায়ী ‘ওয়ার রুম’। সেখানে বসেই নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট পরিষেবা ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করে আবেদন জমা দেওয়ার কাজ চলবে। প্রতিটি আবেদনকারীর ভোটার আইডি, আধার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি স্ক্যান করে আপলোড করা হবে, যাতে কোনও কারিগরি ত্রুটি না থাকে।

পঞ্চায়েত প্রধান জানান, অনেক ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষ অনলাইন প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবগত নন বা প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সুবিধা পান না। সেই কারণেই পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে সরাসরি দায়িত্ব নিয়ে এই কাজ করা হচ্ছে। বিশেষ করে দিনমজুর ও সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের কথা মাথায় রেখে রাতের সময়টাকেই বেছে নেওয়া হয়েছে, যাতে দিনের কাজের ক্ষতি না করেই তারা আবেদন করতে পারেন। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্য। বিরোধীরা নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও তৃণমূলের দাবি, প্রশাসনিক ত্রুটির কারণে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার খর্ব হয়েছে এবং তা পুনরুদ্ধারে তারা সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে।

সব মিলিয়ে, ভোটার তালিকা সংশোধনকে ঘিরে শাঁকচূড়া-বাগুন্ডি গ্রাম পঞ্চায়েতে যে উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে, তা একদিকে যেমন প্রশাসনিক সক্রিয়তার উদাহরণ, তেমনি অন্যদিকে ভোটাধিকার রক্ষায় রাজনৈতিক সদিচ্ছারও প্রকাশ। এখন দেখার, রাতভর এই অনলাইন আবেদন কতটা দ্রুত ফল দেয় এবং বাদ পড়া মানুষরা কত দ্রুত তাদের নাম ফের ভোটার তালিকায় ফিরে পান।

নোয়াপাড়ার বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিং
প্রচার


প্রবীর রায়: বিধানসভার নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা চলছে।তার মধ্যেই চলছে প্রার্থীদের জোর কদমে প্রচার। কেউই এক মিনিট সময় নষ্ট করতে নারাজ। রবিবার সন্ধ্যা জনসংযোগ করলেন উত্তর ২৪ পরগনার নোয়াপাড়ার  বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিং। প্রচারে দেখা গেল মানুষের উচ্ছ্বাস। অনেকেই মালা পরিয়ে ফুল ছরিয়ে সম্বর্ধনা দিলেন তাকে। তবে তাদের একটি প্রশ্ন ভোট ঠিকঠাক দিতে পারব তো? এই বিষয়ে সাংবাদিকের মুখোমুখি হয়ে অর্জুন সিং বলেন," নিশ্চয়ই পারবেন"।
সমস্ত পদ থেকেই ইস্তফা দিলেন বারাসাতের প্রাক্তন বিজেপির সভাপতি তাপস মিত্র

নিজস্ব প্রতিনিধি: বিজেপির প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর থেকেই বারাসাতের বিজেপি প্রার্থী নিয়ে অসন্তোষ ছিল। বারাসতের সাংগঠনিক জেলার প্রাক্তন সভাপতি তথা রাজ্য কমিটির সদস্য তাপস মিত্র রবিবার সমস্ত পদ থেকে দিলেন।বারাসাতের প্রার্থী পরিবর্তন করতে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সভাপতির কাছে চিঠিও দিয়েছিলেন তিনি।কিন্তু সুরাহা কিছু না হওয়ায় শেষে দল পরিচালনায়  রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যর বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলে রবিবার বিজেপির সমস্ত পদ থেকে ইস্তফার কথা ঘোষণা করলেন তাপস মিত্র।শুধু তাই নয়,ইস্তফার পরেই এদিন রীতিমত সাংবাদিক সম্মেলন করে রাজ্য সভাপতির সর্বক্ষণের সঙ্গী বারাসাতের সুবীর শীলের বেহিসেবী অর্থ,গাড়ি ও সম্পত্তি নিয়ে সি বি আই ও ই ডি তদন্তের দাবিও করেছেন তাপস।এবারের বিধানসভা নির্বাচনে দলের অনেক প্রাক্তন সভাপতিদের টিকিট  দিয়েছে বিজেপি।সেই তালিকায় রয়েছে বনগাঁর দেবদাস মন্ডল, বারাসাতের শংকর চট্টোপাধ্যায়।শংকর ২০২১ এর নির্বাচনেও পরাজিত হয়েছিলেন।এবার বারাসাত কেন্দ্রের পদ্মফুলের প্রার্থীর দাবিদার ছিলেন তাপস মিত্র। ২০২১ এর ২৫ ডিসেম্বর বারাসাত সাংগঠনিক জেলার সভাপতিও হন তাপস।কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দল তাঁকে সরিয়ে দিয়েছিল।অপমানিত হয়েও আর এস এসের তাপস বিজেপির সঙ্গেই ছিলেন।কিন্তু এবার বারাসাত থেকে তাঁকে প্রার্থী না করায় বেজায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন দলের বিরুদ্ধেই।তবুও মধ্যমগ্রামের প্রার্থী দেওয়া পর্যন্ত অপেক্ষাতেই ছিলেন।সেখানে রাজু বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী হওয়ার পর রবিবার রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সভাপতির কাছে মেইল করে নিজের ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন তাপস।
তবে,এদিন অবশ্য বারাসাত থেকে নির্দল প্রার্থী হওয়ার কথা বলেন নি তিনি।তবে,বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গিয়েছে,তাপস ইতিমধ্যেই নমিনেশন পেপার তুলে রেখেছেন।আগামী দুদিন অনুরাগী ও বারাসাতের বিশিষ্ঠ জনের সঙ্গে আলোচনা করে নির্দল প্রার্থী হওয়ার বিষয়টির সিদ্ধান্ত নেবেন বলেই দাবী তাঁর।তবে, বারাসাত কেন্দ্রে দলের অফিসিয়াল প্রার্থীর হয়ে যে তাপস মিত্রর ঘনিষ্ঠরা নিষ্ক্রিয় থাকবেন,এটা বলার অপেক্ষা রাখে না।
।। লক্ষ্য সুষ্ঠু নির্বাচন, সুন্দরবনের দ্বীপে বুথ পরিদর্শন ও জনসংযোগ কর্মসূচিতে প্রশাসনিক আধিকারিকরা ।।
বসিরহাট : সুন্দরবনের দুর্গম দ্বীপাঞ্চলে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে ময়দানে নামল প্রশাসন। বসিরহাটের সুন্দরবনের হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভার ভবানীপুর ১ ও ভবানীপুর ২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার একাধিক বুথ পরিদর্শন করে প্রশাসনিক কর্তারা। সরেজমিনে খতিয়ে দেখলেন ভোটের প্রস্তুতি ও পরিকাঠামো। এই পরিদর্শন অভিযানে উপস্থিত ছিলেন বসিরহাটের মহকুমা শাসক জসলিন কৌর, বসিরহাট পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার অলকনন্দা ভাওয়াল ও হাসনাবাদের এসডিপিও ওমর ফারুক মোল্লা সহ একাধিক পুলিশ ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা। গোটা পরিদর্শন জুড়ে সঙ্গে ছিলেন আধা সামরিক বাহিনীর জওয়ানরাও। দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এই এলাকায় পৌঁছানো সহজ নয়। প্রশাসনিক দলকে ডাঁসা নদী পেরিয়ে নৌকায় করে ভবানীপুর এলাকায় পৌঁছাতে হয়। তারপর একে একে বিভিন্ন বুথ ঘুরে দেখা হয় এবং সেখানে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখা হয়।
শুধু পরিদর্শনেই সীমাবদ্ধ থাকেননি আধিকারিকরা। স্থানীয় বাসিন্দা ও ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাদের আস্থা বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়। ভোটের দিন যাতে কোনও রকম ভয় বা বাধা ছাড়াই মানুষ ভোটকেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেন, সেই বিষয়ে আশ্বাস দেন তারা। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক অধিকার হিসেবে ভোটদানের গুরুত্ব সম্পর্কেও সচেতন করা হয় সাধারণ মানুষকে। বিশেষভাবে নতুন ভোটারদের উৎসাহিত করার দিকেও জোর দেওয়া হয়। প্রথমবার ভোট দিতে যাওয়া যুবক-যুবতীদের কাছে ভোটদানের প্রক্রিয়া, নিরাপত্তা এবং গুরুত্ব সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়। প্রশাসনের এই উদ্যোগে এলাকায় ইতিবাচক সাড়া মিলেছে বলেই জানা গিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে সুন্দরবনের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও যাতে নির্বাচন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ এবং ভয়মুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন হয়, তার জন্য সব রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এই ধরনের নিয়মিত পরিদর্শন ও জনসংযোগ কর্মসূচি সেই লক্ষ্য পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলেই মনে করছে প্রশাসন।
বীজপুর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী সুদীপ্ত দাস
*প্রচার*


নিজস্ব প্রতিনিধি: রবিবার সকালে উত্তর ২৪ পরগনার হালিশহর পুরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ফাঁসিতলা মোড় থেকে  শুরু করে বিস্তীর্ন এলাকায় প্রচারের বেরিয়েছিলেন বীজপুর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী সুদীপ্ত দাস। এদিন তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বাংলার সংস্কৃতি ফেরানোর  কথাই প্রচারে তুলে ধরেন। তাকে কোথাও বাসিন্দারা ফুলমালা। আবার কোথাও মিষ্টি খাইয়ে বিজেপি প্রার্থীকে বরণ করে নেন। সুদীপ্ত দাস বলেন, "সাধারণ মানুষ বলছে এই দুর্নীতিগ্রস্থ সরকারকে তাড়াও। এটাই ভারতীয় জনতা পার্টির রসায়ন। এই দলের প্রতিষ্ঠাতা একজন বাঙালি। তাই বাঙালি সংস্কৃতিকে ফেরানোর লড়াইয়ে তিনি একজন সৈনিক মাত্র।" ছবি:  প্রবীর রায়।