সীমান্তের গ্রামে ডিলিট ভোটারদের পাশে প্রধান, ল্যাপটপে চলবে রাতভর কাজ
সৌমাভ মন্ডল,বসিরহাট : বসিরহাট দক্ষিণ বিধানসভার সীমান্তঘেঁষা শাঁকচূড়া-বাগুন্ডি গ্রাম পঞ্চায়েত। ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধনে বাদ গিয়েছে প্রায় ১০০০ ভোটারের নাম। ভোটারদের সহায়তায় পাশে দাঁড়ালেন পঞ্চায়েত প্রধান গোলাম মোস্তফা। ল্যাপটপে প্রশিক্ষিত আইটি কর্মীরা রাতভর ট্রাইব্যুনালে আবেদনের কাজ চালাবে। ভোটার তালিকা সংশোধনকে ঘিরে শুরু হয়েছে নজিরবিহীন উদ্যোগ। প্রকৃত ভোটারদের নাম পুনরায় তালিকাভুক্ত করতে পঞ্চায়েত প্রধান গোলাম মোস্তফা নিজে রাতভর জেগে অনলাইন আবেদন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শুধু ঘোষণা নয়, সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ইতিমধ্যেই তিনি গড়ে তুলেছেন একটি ছোট কিন্তু দক্ষ টিম। ৬ জন প্রশিক্ষিত কর্মীকে নিয়ে সারারাত ধরে আবেদন প্রক্রিয়া চালানোর প্রস্তুতি সম্পূর্ণ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের তরফে সংশোধিত ভোটার তালিকায় এই অঞ্চলের প্রায় ১০০০ জনের নাম বাদ পড়েছে। অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রেই প্রকৃত ও বৈধ ভোটারদের নামই তালিকা থেকে মুছে দেওয়া হয়েছে। যার ফলে চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষ। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ মেনে দ্রুত পদক্ষেপের পথে হাঁটছে তৃণমূল নেতৃত্ব। বসিরহাট দক্ষিণের তৃণমূল প্রার্থী সুরজিৎ মিত্র বাদলের সমর্থনে আয়োজিত এক কর্মীসভা থেকেই গোলাম মোস্তফা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “মানুষের ভোটাধিকার রক্ষা করা আমাদের প্রথম দায়িত্ব। যাদের নাম অন্যায়ভাবে বাদ গিয়েছে, তাদের প্রত্যেককে ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে আবেদন জানাতে হবে। সেই কাজ যাতে দ্রুত সম্পন্ন হয়, তার জন্য আমরা রাতভর অনলাইন আবেদন করব।”
এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য সোলাদানা এলাকায় তৈরি করা হয়েছে অস্থায়ী ‘ওয়ার রুম’। সেখানে বসেই নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট পরিষেবা ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করে আবেদন জমা দেওয়ার কাজ চলবে। প্রতিটি আবেদনকারীর ভোটার আইডি, আধার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি স্ক্যান করে আপলোড করা হবে, যাতে কোনও কারিগরি ত্রুটি না থাকে।
পঞ্চায়েত প্রধান জানান, অনেক ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষ অনলাইন প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবগত নন বা প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সুবিধা পান না। সেই কারণেই পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে সরাসরি দায়িত্ব নিয়ে এই কাজ করা হচ্ছে। বিশেষ করে দিনমজুর ও সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের কথা মাথায় রেখে রাতের সময়টাকেই বেছে নেওয়া হয়েছে, যাতে দিনের কাজের ক্ষতি না করেই তারা আবেদন করতে পারেন। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্য। বিরোধীরা নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও তৃণমূলের দাবি, প্রশাসনিক ত্রুটির কারণে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার খর্ব হয়েছে এবং তা পুনরুদ্ধারে তারা সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ভোটার তালিকা সংশোধনকে ঘিরে শাঁকচূড়া-বাগুন্ডি গ্রাম পঞ্চায়েতে যে উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে, তা একদিকে যেমন প্রশাসনিক সক্রিয়তার উদাহরণ, তেমনি অন্যদিকে ভোটাধিকার রক্ষায় রাজনৈতিক সদিচ্ছারও প্রকাশ। এখন দেখার, রাতভর এই অনলাইন আবেদন কতটা দ্রুত ফল দেয় এবং বাদ পড়া মানুষরা কত দ্রুত তাদের নাম ফের ভোটার তালিকায় ফিরে পান।
3 hours ago
- Whatsapp
- Facebook
- Linkedin
- Google Plus
2- Whatsapp
- Facebook
- Linkedin
- Google Plus
0.6k